Transcription
সূরা আল ইয়াসিন পাঁচ নাম্বার আয়াত। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। তজিলাল আজিজ রহিম। কোরআন পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর তরফ থেকে অবতীর্ণ। সূরার শুরুতেই আমরা দেখেছি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা শপথ করেছেন কোরআনুল হাকিম। যে যে কোরআন হচ্ছে প্রজ্ঞাময়, যেটাতে কোন ধরনের খুদ নেই এবং যেখানে হচ্ছে আমাদের জন্য সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। এবং তারপরে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে তিনি হচ্ছেন মুরসালিনদের অন্তর্ভুক্ত, মেসেঞ্জারদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি সঠিক সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে রয়েছেন।
তারপরে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলা হচ্ছে যে এটা হচ্ছে সেই রাস্তা, সিরাতে মুস্তাকিম যে এটা নতুন না। এ পথে প্রথম আপনি হাঁটছেন না। এর আগেও অনেকেই হেঁটে গিয়েছেন যারা অলরেডি জানেন এ রাস্তাটা কেমন এবং এ রাস্তায় নেভিগেট করতে হলে, এ রাস্তায় সফলকাম হতে হলে কি করতে হবে সেটাও আমরা তাদের জীবনী থেকে দেখি। এবং আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনের মধ্যে নবীদের গল্পগুলো বারবার সামনে তুলে ধরেছেন। এই সামনের গল্পগুলো আনার একটা কারণ হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সান্ত্বনা দেওয়া। যে পূর্বের ইতিহাস যদি দেখা হয় নবী রাসূলদের জীবনী আমরা যদি দেখি তাহলে দেখব কারো জীবনী আসলে সহজ ছিল না। সবাইকে স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতে পারেন যে অন্য নবী রাসূলদের কি হয়েছিল এবং সেখান থেকে কি শিক্ষা নিতে হবে সে কারণেই কিন্তু এই গল্পগুলো আমাদের সামনে এসেছে। কোরআন মাজিদের মাঝে যত নবীদের ঘটনা এসেছে প্রত্যেকটা আমরা দেখি যে অত্যন্ত শিক্ষণীয় এবং সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার যে সুযোগ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়ে দিয়েছেন। এখানে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যে পরিস্থিতিতে ছিলেন সেই পরিস্থিতিতে নবীদের সেই ঘটনাগুলো তার সামনে এসেছে যেন তিনি একা মনে না করেন নিজেকে, যেন নিজেকে পথ হারা মনে না করেন, যেন এটার জন্য তিনি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে না যান। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বারবার তাকে গাইড করেছেন এবং তার মাধ্যমে আমাদেরকেও গাইড করছেন যে এর মধ্যে আমাদের জন্য রয়েছে পরম শিক্ষণীয় জিনিস।
এবং এই পর্যায়ে এসে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন তানজিলুল আজিজ রাহিম। যে এই যে কোরআন তোমার সামনে উপস্থিত আছে, এই যে কোরআন তোমরা পড়ছো এই কোরআনটা আসছে কার কাছ থেকে? কোরআনটা আসছে আল আজিজ আর রাহিমের কাছ থেকে। স আমরা যদি প্রথমে এই তানজিলা শব্দটা দেখি তাহলে দেখব যে এটার মধ্যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যে হিকমা, তার যে বিশেষ জ্ঞান সেই জ্ঞানের ছোঁয়া আমরা এখানে পেতে পারি। তানজিলা একটা এর অর্থ হচ্ছে ড্রিভলিয়েশন অর্থাৎ যেই জিনিসটা উপর থেকে চলে আসে। তা আমরা যদি এই তানজিল শব্দটা দেখে তাকাই তাহলে দেখব যে এই তানজিল শব্দ দিয়ে বুঝানো হয় এটা আসছে নাজ্জালা থেকে যেটা শব্দ শব্দ অর্থ হচ্ছে কোন জিনিস উপর থেকে নিচে পাঠানো। স আমরা জানি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই আল কোরআনকে তার কাছ থেকে এই দুনিয়ার বুকে পাঠিয়েছেন এবং সে কারণে এই তানজিল শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে যে জিনিসটা উপর থেকে এসেছে কোন জিনিস নেমে এসেছে উপর থেকে। আবার কোরআনের আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আরেকটা শব্দ ইউজ করেছেন কোরআনের জন্য সেটা হচ্ছে আনজালা। তানজিল শব্দটা এটা আসছে নাজালা থেকে আর আমরা যদি আনজালা এ দুইটা শব্দ বুঝি তাহলে দেখতে পাবো যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনকে যে আমাদের সামনে উপস্থিত করেছেন সেটা কিভাবে উপস্থিত হয়েছে সেটা বুঝতে পারবো আমরা। যখন এই নাজ্জালা থেকে তানজিল শব্দটা আসছে তখন সেই শব্দটার অর্থ হচ্ছে উপর থেকে কোন জিনিসকে নামানো গ্রেজুয়েল ইন গ্রেজুয়াল ম্যানার যে একটু একটু করে অল্প অল্প করে লিটল বাই লিটল কোন জিনিস যখন উপর থেকে নিচে নেমে আসছে তখন সেটাকে বলা হচ্ছে তানজিল। আর আমরা যখন দেখি আনজালা শব্দটা ব্যবহার করা হয় আনজালা শব্দটার অর্থ হচ্ছে যেটা একবারে নেমে আসা। সুবহানাল্লাহ। আমরা যদি কোরআনের দিকে তাকাই কোরআনে এই কোরআনের কথাই বলা হয়েছে কোথাও আনজালা শব্দ বলা হয়েছে কোথাও আবার এই নাজ্জালা শব্দ বা তানজিল শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। নিশ্চয়ই আমাদের এখন প্রশ্ন জাগে যে তাহলে একটা জিনিস অল্প অল্প করে আসলো আবার একটা জিনিস একবারে চলে আসলো দুটি এখানে কোরআনের জন্য বুঝানো হয় কিভাবে?
সো আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যখন কোরআনের কথা বলছেন অথবা অন্যান্য স্ক্রিপচারের কথা বলছেন তাওরাত ইনজিল এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোর কথা বলছেন সেখানে আনজালা শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে কারণ আমরা জানি যে এর আগে নবী রাসূলদের কাছে যেই ডিভাইন স্ক্রিপচারগুলো এসেছে তাওরাত ইঞ্জিলের মতো সেগুলো হচ্ছে একবারে তাদের কাছে চলে এসেছে এবং তারা সে অনুযায়ী মানুষকে গাইড করেছে। কিন্তু কোরআনের কথা আমরা যদি দেখি তাহলে আমরা জানি যে কোরআন 23 বছর ধরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপরে একটু একটু করে নাযিল হয়েছে। কিন্তু আমরা যখন সূরা আল কদর পড়ি সেখানে আমরা দেখি যে ইন্নাহু লাইলাতুল কদর। আবার সূরা বাকারাতে বলা হচ্ছে শাহরু রামাদান আল্লাজিলাফল কোরআন। এই যে আনজালা শব্দটা এই দুইটা সূরাতে ব্যবহার করা হয়েছে কোরআনের জন্য। সো এখানে আমরা দেখি যেটা বুঝানো হয়েছে যে আনজালা শব্দের অর্থ একবারে কোন জিনিস নিয়ে আসা। তো আমরা এই যখন এই সূরাগুলোর ব্যাখ্যা পড়ি তখন দেখতে পেয়েছি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনকে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত করে রেখেছেন এবং সেখান থেকে কোরআনকে আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী যে আসমান সেখানে তিনি পাঠিয়ে দিয়েছেন একবারে এবং সেখান থেকে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে একটু একটু করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এসেছেন। তো যখন আনজালা শব্দটা দিয়ে কোরআনের কথা বুঝানো হয়েছে তার মানে হচ্ছে সেই লাইলাতুল কদরে লাওহে মাহফুজ থেকে নিকটতম আসমানে কোরআনের আশাকে বুঝানো হয়েছে। আর যখন তানজিল শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে অথবা নাযিলা শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে তখন একটু একটু করে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম যে আল্লাহর নির্দেশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোরআনের কথাগুলো নিয়ে এসেছেন সেটাকে বুঝানো হয়েছে। এখানে আমরা দেখি তানজিল শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত আমরা এখান থেকে দেখি যে কোরআন যে একটা ডিভাইন অরিজিন এবং এর যে অথেন্টিসিটি সেটারও একটা প্রমাণ হচ্ছে এটা যে এটা এসেছে উপর থেকে। উপর বলতে কি বোঝানো হয়? সেটা বুঝানো হয় একজন অথরিটি। যিনি হচ্ছেন সবার উপরে ক্ষমতাবান সেরকম কারো কাছ থেকে একটু একটু করে 23 বছর ধরে কোরআনটা নাযিল হয়েছে। তো এই তানজিল থেকেই আমরা দেখি যেই ধীরে ধীরে অবতীর্ণ হওয়ার কথাটা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে।
এখন এই ধীরে ধীরে আসার কারণটা কি? আমরা যদি সেটা বুঝার চেষ্টা করি তাহলে দেখব যে ধীরে ধীরে এসেছে তার কয়েকটা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য এটা সহজ ছিল। আমরা জানি যে যখন কোরআন নাজিল হয় ওহী নাযিল হতো তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরে শারীরিক এবং মানসিকভাবে অনেক বেশি প্রেসার পড়তো। ইভেন যখন অন্য কেউ কাছে থাকতো তারা দেখতে পেত যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার মধ্যে পরিবর্তন তিনি ঘরমাক্ত হয়ে গিয়েছেন এবং কোথাও এসেছে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরে যে নাযিল হচ্ছে সেটা প্রেসারটা ঠিক যে সাহাবারা ছিলেন তারাও অনুভব করেছেন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীরের উপরে এটা এত বেশি চাপ সৃষ্টি করত। সো এটা হচ্ছে একটা দিক যে একটু একটু করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য যাতে সহজ হয় সে কারণে অল্প অল্প করে নাযিল হয়েছে।
আবার আমরা দেখি কোরআন নাযিল হয়েছে যখন যে সিচুয়েশনে কোরআন যে কথাগুলো প্রযোজ্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ঠিক সেইভাবে হচ্ছে কোরআনকে নাযিল করেছেন যাতে হচ্ছে আমরা কোরআনকে আমাদের জীবনের সাথে রিলেট করতে পারি। জীবনের কোন সমস্যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখন এই কোরআনের আয়াতগুলো থেকে কি অর্থ বের করেছেন এটা যখন আমরা জানবো তখন দেখব যে কোরআন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে আমাদেরকে আসলে শিখিয়ে দিচ্ছেন প্র্যাক্টিক্যালি কোরআনকে কোরআনের যে শিক্ষা এটা আমাদেরকে এবজর্ব করতে হবে লিটল বাই লিটল। একবারে কোরআন বসে খতম দিয়ে ফেললাম। এটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের কাছে চান না। আমাদের কাছে তিনি চান। আমরা অল্প অল্প করে কোরআনকে পড়বো, বুঝবো এবং সে অনুযায়ী আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করব। কারণ কোরআন এসেছে আমাদের জীবনের পরিবর্তনের জন্য। শুধুমাত্র সওয়াব হাসিলের জন্য না। তাহলে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই যে একটু একটু করে কোরআনকে দিয়েছেন তার কারণ হচ্ছে যে তিনি চান আমরা একটু একটু করে কোরআনকে নিজের মধ্যে আয়ত্ত করি। নিজের জীবনকে সাজাই। নিজের জীবনের মধ্যে পরিবর্তন আনি। সো কোরআনের যে শিক্ষা সে শিক্ষাকে আমরা যদি খেয়াল করি তাহলে দেখি যে এটা হচ্ছে অল্প অল্প করে আমাদের ডাইজেস্ট করতে হবে অল্প অল্প করে কোরআনের কাছে আমাদেরকে যেতে হবে বুঝতে হবে এবং সেটাকে ইন্টারনালাইজ করতে হবে। একবারে পুরাটা আমরা আসলে কখনো এটাকে দখলে নিতে পারবো না। আমাদের পুরা কোরআনটা সামনে আছে কিন্তু আমাদের যেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছ থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমাদেরকে কোরআন একটু একটু করে আত্মস্থ করার জন্য চেষ্টা করতে হবে এবং কোরআন এসছে ডিরেক্টলি ফ্রম আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এবং এজন্য কোরআনকে বলা হয়েছে আল্লাহর রশি যেটা হচ্ছে এই রোপ বা রশিটা হচ্ছে উপর থেকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার বান্দার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সাথে আমরা কানেক্টেড।
এখানে তানজিলা শব্দটা বলা হয়েছে আমরা দেখি লা এর উপরে হচ্ছে ফাতাহা অথবা জবর দেওয়া হয়েছে। যখন এভাবে কদ শব্দগুলো বলা হয় তখন সেই কথাটার মধ্যে একটি স্ট্রংনেস থাকে, একটা স্ট্রেন্থ আমরা ফিল করি। তানজিলা রেভিলেশন যেটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে এবং আর এখান থেকে আমরা বুঝি যে এটা কি বুঝাচ্ছে কেন তানজিলা শব্দটা এভাবে বলা হয়েছে যেটা আল্লাহ পাঠিয়েছে। সো সে জিনিসটার মধ্যে একটা স্ট্রং একটা ভাইব আমাদের কথার মধ্যে বা পড়ার মধ্যে থাকবে। এবং এই শব্দটা তানজিল শব্দটা দিয়ে কোন কোন কিরাতে এটাকে তানজিলু পড়া হয়ে থাকে। যে শেষে হচ্ছে দাম্মা অথবা পেশ দিয়ে তখন এটার অর্থ অনেকটা এরকম হতে পারে যে কোরআন যেটা হচ্ছে কোরআনকে সরাসরি এটা বুঝানো হতে পারে যে তানজিলুল আজিজ রাহিম যে কোরআন আজ রাহিমের কাছ থেকে এসেছে। একটা হচ্ছে আল্লাহ পাঠিয়েছেন বুঝানো। আরেকটা হচ্ছে কোরআনকে নিজে নিজে এখানে বুঝানো হতে পারে। সো এখানে আমরা দেখি যে এই তানজিলা শব্দটা দিয়েই বুঝানো হচ্ছে যে এটা গ্রেজুয়াল এবং এটা হচ্ছে একটু একটু করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছে এবং কোত্থেকে এসেছে এটা উপর থেকে এসেছে আউট অফ আওয়ার রিচ যে এটা বিয়ন্ড আওয়ার রিচ এটা আমাদের ধরাঝোয়ার বাইরের জগত থেকে এসেছে স এটার গুরুত্ব বা এটার যে তাৎপর্য সেটা অবশ্যই অনেক অনেক বেশি।
এবং এখানে আমরা দেখি যে এই কোরআনকে যে অল্প অল্প করে আত্মস্থ করার যে সুন্নাহ সেটা আমরা দেখতে পাই সাহাবাদের জীবনের মধ্যে। সাহাবারা কিন্তু একবারে বসে কোরআন হেফজ করে ফেলেছেন। এরকম না। ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে আমরা দেখি যেমন একটা বর্ণনায় এসেছে যে সাহাবারা হচ্ছে 10 টা করে আয়াত পড়তেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে তারা 10 টা আয়াত শিখতেন। তারপরে তারা এরপরের 10 টা আয়াতে যেতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এই আয়াতগুলো বুঝেছেন এবং সেগুলো তারা আমল করতে পেরেছেন এবং তারা বলতেন যে আমরা এই যে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা জ্ঞান সেটাকে আমরা শিখেছি এবং সেটাকে আমরা একসাথে কাজেও লাগিয়েছি। সুবহানাল্লাহ। যে সুন্নাহ হচ্ছে আমরা অল্প অল্প করে শিখবো সেটাকে বুঝবো সেটা আমাদের জীবনে জীবনের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করব। তাফসিরল কুরতুবিতে এসেছে যে বলা হয়েছে যে যারা হচ্ছে আমাদেরকে তাবেঈদের মধ্য থেকে বলা হয়েছে যারা আমাদেরকে কোরআন শিক্ষা দিতেন তারা বলেছেন যে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এটা শিখতেন তারা যখন 10 টা আয়াত শিখে ফেলতেন তারা হচ্ছে পরবর্তীতে মুভ করতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা তাদের প্র্যাকটিসে চলে আসতো। এখানে আমরা দেখি যে কিভাবে কোরআনকে শিখতে হয় যে শুধু শুধু মুখস্ত গড়গড় করে মুখস্ত করে যাওয়া না কোরআন শিখার সাথে সাথে সেটাকে বুঝা এবং সেটা নিজের জীবনে নিয়ে আসাটা হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা বলা হয়েছে যে তিনি সূরা আল বাকারা শিখেছেন আট বছরে। সুবহানাল্লাহ। আমরা চিন্তা করতে পারি যে আট বছর ধরে তিনি সূরা আল বাকারা শিখেছেন এবং কোথাও কোথাও এটাকে চার বছরও বলা হয়েছে। ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে আমরা যারা হচ্ছে সূরা বাকারা এবং সূরা আল ইমরান শিখে ফেলেছে তাদের প্রতি হচ্ছে তাদের স্পেশাল একটা সম্মান থাকতো এবং সূরা আল বাকারা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা বলা হয়েছে যে তিনি সূরা আল বাকারা শিখেছেন 12 বছরে। তার মানে কি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হিফস করার শক্তি কম ছিল তিনি দ্রুত হিফস করতে পারতেন না সেটা কিন্তু না বরং বলা হয়েছে যে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সূরা আল বাকারা মুখস্ত করা শেষ করেছেন 12 বছরে কারণ তিনি যা পড়তেন সাথে সাথে সেটাকে আমলে পরিণত করতেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সেটা না হতো ততক্ষণ পর্যন্ত পরবর্তী পড়ায় তিনি যেতেন না এবং সেই খুশিতে যে 12 বছর পরে তিনি সূরা আল বাকারা শেষ করতে পেরেছেন মেমোরাইজ করা সেটাকে জীবনে পরিণত করা এবং সেই খুশিতে তিনি হচ্ছেন একটা উট স্যাক্রিফাইস করেছিলেন। সো এখানে আমরা দেখি যে আমরা যখন এই ভালো কিছু এচিভ করতে পারি তখন সেটার জন্য আসলে আমাদের সেলিব্রেট করা উচিত আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য।
তারপরে আমরা দেখি যে আরেকটা ঘটনা এসেছে যে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন আমাদের জন্য হচ্ছে কোরআনের আয়াত যে কথাগুলো সেগুলোকে মুখস্ত করা। কঠিন ছিল বাট সহজ ছিল হচ্ছে সেগুলো পালন করা। এবং আমাদের পরে যারা আসবে তাদের জন্য হচ্ছে মুখস্ত করাটা সহজ হবে কিন্তু সেগুলোকে পালন করাটা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। আমরা ঠিক সেই অবস্থার মধ্যে আছি আমরা দেখি যে মাশআল্লাহ অনেক হাফেজ আছে আমাদের। কিন্তু তারা কতটুকু কোরআনকে বুঝে কতটুকু কোরআনকে আমল করার জন্য চেষ্টা করে সেটার ব্যাপারে আমরা দেখি যে তাদের সেটাকে তারা অনেক কঠিনভাবে নিয়ে থাকে এবং সেটা আয়ত্ত করার চেষ্টা করে না। সো আমাদের সবার চেষ্টা হওয়া উচিত যে আমরা এই যে সূরা ইয়াসিনটাও যদি আমরা মেমোরাইজ করার জন্য চেষ্টা করি অল্প অল্প করে মেমোরাইজ করব কিন্তু তার সাথে এটাকে বুঝার জন্য এবং নিজের আমলে নিজের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য আমরা চেষ্টা করব।
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে যারা হচ্ছে সর্বোত্তম সাহাবা ছিলেন এবং আমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী ছিলেন তারা হচ্ছে কোরআনের একটা চ্যাপ্টার মুখস্ত করতেন এবং তাদের জন্য কোরআন হচ্ছে অনেক ওজনদার ছিল এবং তারা সে অনুযায়ী যা শিখতেন সে অনুযায়ী তারা আমল করতেন কিন্তু উম্মার মুসলিম উম্মাহর শেষের অংশে দেখা যাবে যে কোরআনকে তারা অনেক সহজভাবে নিয়ে নিয়েছে যেযে যে কেউ হচ্ছে এই কোরআনকে পড়তে পারবে কিন্তু সেটার উপরে তাদের কোন আমল থাকবে না। তো সুবহানাল্লাহ আমার কাছে মনে হচ্ছে যে আমরা ঠিক সেই পর্যায়ের মধ্যে রয়েছি যে আমরা কোরআন মেমোরাইজ করার জন্য যত আগ্রহী থাকি কোরআনকে বুঝার জন্য সেটাকে নিজের আমলে আনার জন্য সেটা আমাদের জন্য মনে হয় যেন এক পাহাড় সমান জিনিস আমাদের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হলো। তাহলে এখান থেকে আমরা দেখি সাহাবা এবং তাদের পরে তাবে তাবিয়েনদের জীবন থেকে আমরা যদি শিক্ষা নেই তাহলে দেখতে পাব যে কোরআনকে বুঝা এবং সেটাকে ইমপ্লিমেন্ট করা আমাদের জীবনে যার মাধ্যমে আমাদের রিয়েল ট্রান্সফরমেশন হতে পারে সেটাকে আমাদের সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত।
আমরা দেখি সাহাবারা হচ্ছে একেকজন একেকভাবে মেমোরাইজ করতেন। কেউ খুব তাড়াতাড়ি করতে পারতেন। কেউ স্লো করতেন কিন্তু খুব দ্রুত কোরআন মেমোরাইজ করার চেয়ে আস্তে আস্তে বুঝে বুঝে কোরআন মেমোরাইজ করাটাই হচ্ছে তাদের কাছে বিরাট প্রায়োরিটি। এবং তারা ইয়াং অথবা ওল্ড যেকোনো সময়ে কোরআনকে শিখেছেন সেটা কোন বয়স তাদের কাছে কোন ব্যাপার ছিল না এবং সাহাবাদের মধ্যে অনেকেই হচ্ছে পুরা কোরআনটা মেমোরাইজ করেছিলেন এবং তারা হচ্ছে সেই কোরআন অনুযায়ী নিজেদেরকে পরিচালিত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে একটা মেমোরাইজেশনের একটা রুল ছিল রুল অফ থ্রি অথবা রুল অফ ফাইভ অথবা রুল অফট বলা হয় অর্থাৎ একবারে তারা তিনটা আয়াত মেমোরাইজ করতেন বুঝতেন আমল করতেন অথবা একবারে পাঁচটা আয়াত মেমোরাইজ করতেন বুঝতেন আমল করতেন তারপরে পরের পাঁচটায় যেতেন অথবা 10টা আয়াত একবারে মুখস্ত করতেন তারপরে বুঝতেন আমল করতেন তারপরের 10টা আয়াতের মধ্যে যেতেন স রুল অফ থ্র ফাইভট একেকজন একেকভাবে সেটাকে নিয়েছেন কিন্তু সবার জন্যই যেটা ছিল যে শুধু মুখস্ত করা না বুঝা এবং আমল করা নিজের জীবনকে পরিবর্তন করা সেটা ছিল তাদের টার্গেট।
তো এখানে আমরা দেখি এই যে কোরআন অল্প অল্প করে নাযিল হয়েছে। সাহাবারাও সেটাকে অল্প অল্প করে নিজেদের মধ্যে আত্মস্থ করেছে। এবং যে কারণে আমরা দেখি যে মুসলিম সমাজের মধ্যে যে একটা বিরাট পরিবর্তন হয়েছিল যে জাহেলিয়াতের যুগ থেকে একটা এমন একটা জাতি তৈরি হয়েছিল যারা হচ্ছে সবার জন্য আদর্শ হিসাবে রয়ে গিয়েছে এখন পর্যন্ত। কোন কোন তাফসীরকারগণ বলেছেন এখানে তানজিলা বলতে আল্লাহ আল কোরআনের যে নাম রয়েছে তানজিলা হচ্ছে আল কোরআনের একটি নাম এবং সে কারণে এটাকে কোরআনকেই বুঝানো হয়েছে। স আমরা দেখি যে আল কোরআনের অনেকগুলো নাম রয়েছে এবং প্রত্যেকটা নাম দিয়েই তার যে বিশেষত্ব বুঝানো হয়ে থাকে। তানজিল হচ্ছে একটা নাম যেখানে বুঝানো হয় যেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে।
সূরা আশুরায় আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলেছেন এমনিভাবে আমি আপনার কাছে এক ফেরেশতা প্রেরণ করেছি আমার আদেশক্রমে। আপনি জানতেন না কিতাব কি এবং ঈমান কি। কিন্তু আমি কি করেছি নূর যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি। নিশ্চয়ই আপনি সরল পথ প্রদর্শন করেন। সরল পথ হচ্ছে আল্লাহর পথ। নবমন্ডল ও ভূমন্ডল যা কিছু আছে সব তারই। শুনে রাখো আল্লাহ তাআালার কাছেই সব বিষয়ে পৌঁছে। তো আমরা আগের আয়াতের সাথে যদি এটাকে মিলাই তাহলে দেখি যে সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হয়েছে যে আপনি মুরসালিনদের অন্তর্ভুক্ত যারা হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকিমে ছিল। আর এখানে আমরা দেখি বলা হচ্ছে যে সিরাতাল মুস্তাকিম দ্বারা হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকিম এর মধ্যে রয়েছে এবং এই সিরাতুল মুস্তাকিমা হচ্ছে কি? এই ইলা সিরাতি মুস্তাকিম এন্ড সিরাতিল্লাহ। এই সিরাতুল মুস্তাকিমটাই হচ্ছে আল্লাহর পথ। তো এখানে এই পথটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কিভাবে আমাদেরকে এই পথটা প্রদর্শন করেছেন এটাকে পথ প্রদর্শন করেছেন নূর দিয়ে। এবং নূরটা কি? সে নূরটা হচ্ছে আল কোরআন। তো এখান থেকে আমরা দেখি যে এই কোরআন কোত থেকে এসেছে? কোরআন এসেছে হচ্ছে হাই অথরিটি থেকে। এবং সে হাই অথরিটিকে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে ইন্ট্রোডিউস করছেন নিজেকে এভাবে যে একদিকে হচ্ছে তিনি এর মাধ্যমে এস্টাবলিশ করছেন যে কোরআন যে সত্য সেটা প্রমাণিত এবং কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আল্লাহর রাসূল সেটার ভ্যালিডিটি প্রুভ করছেন এবং তার মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে এই যে কোরআন সে কোরআন এসেছে কার কাছ থেকে এই কোরআন এসেছে তানজিলাল আজিজে রহিম। এটি এসেছে আল আজিজের কাছ থেকে এবং আর রাহিমের কাছ থেকে।