Transcription
সূরা আল কদরের শেষ আয়াত যেখানে বলা হচ্ছে সালামুন হিয়াত মাতলাইল ফজর এটা হচ্ছে নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহিত থাকে।
তাহলে এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা লাইলাতুল কদরের যে নিয়ামতগুলো বর্ণনা করেছেন এখানে বলছেন যে এটা হচ্ছে এমন একটা পাওয়ারফুল নাইট যে নাইটটা হচ্ছে কতক্ষণ পর্যন্ত থাকে এবং কি আছে এখানে? তো আল্লাহ বলছেন যে এটাতে রয়েছে সালাম শান্তি এবং এটা হচ্ছে ফজরের উদয় হওয়া পর্যন্ত থাকে।
এই যে সালাম বলা হয়েছে সালাম শব্দের অর্থ হচ্ছে যে শান্তি। সো এখানে এই সালাম শব্দটা আল্লাহ তাফসীরগণ বলেছেন এটা নিজেই একটা কমপ্লিট সেন্টেন্স হতে পারে। যে এটা বলা হচ্ছে যে এটাই হচ্ছে সালাম। এটাই হচ্ছে শান্তি। এখানেই হচ্ছে কমপ্লিট গুডনেস। সব ভালো কিছু রয়েছে। এর মধ্যে এর মধ্যে কোন কিছু খারাপ নেই। কুরতুবির রহমাতুল্লাহ আলাইহ এভাবেই রাতটাকে বর্ণনা করেছেন।
এবং কেউ কেউ বলেছেন যে এই সালাম শব্দটা হচ্ছে এর আগে যে মিন কুল্লি আমর বলা হয়েছে সেটার সাথে কানেক্টেড। যদি সেইটার সাথে কানেক্টেড হয় তাহলে সেটার অর্থ হবে যে ফেরেশতারা প্রত্যেকটা আল্লাহর প্রত্যেকটা নির্দেশে নিয়ে আসে এখানে যার মধ্যে রয়েছে শান্তি। যার মধ্যে রয়েছে সমস্ত ভালো জিনিস। তাহলে এখানে আমরা দেখি যেই সালাম দিয়ে একদিকে শান্তি বুঝানো হচ্ছে। আরেকদিকে হচ্ছে আর আল্লাহ সুবহানা তাআালার যে নির্দেশগুলো আমাদের কাছে ফেরেশতারা নিয়ে আসছেন সেগুলোর মধ্যেও শান্তি রয়েছে। কোন খারাপ কোন কিছু এখানে নেই।
সো এখানে আমরা এই পুরা রাতটার ব্যাপারেই দেখতে পাই যে পুরো রাতটাই হচ্ছে প্রশান্তির। এই পুরা রাতটার মধ্যেই হচ্ছে শান্তি বিরাজমান থাকবে। কারণ হচ্ছে এখানে শয়তানের কোন ইন্টারভেনশন নাই। শয়তানকে অলরেডি বন্দি করে রেখেছেন আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এবং সে কারণে হচ্ছে এবং ফেরেশতারা সবাই চলে এসেছেন সে কারণে এখানে আমরা সে প্রশান্তিটা অনুভব করতে পারি।
সো আরেকটা কারণ বলেছেন মুফাসসিরগণ সেটা হচ্ছে যে এই রাতটা হচ্ছে সেই রাত যে রাতে হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ফেরেশতারা আসছেন এবং প্রত্যেক ফেরেশতা হচ্ছে এই মুমিন বান্দাদের কাছে যারা হচ্ছে এই রাতটা হচ্ছে তার ইবাদতে মশগুল হয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে তাদের জন্য কনস্ট্যান্টলি তারা সালাম দিচ্ছে তারা প্রত্যেক মুমিনের পাশ দিয়ে যায় আর বলতে থাকে পিস বিপনীয় তোমার জন্য প্রশান্তি তোমার জন্য শান্তি স এখানে আমরা দেখি যে ফেরেশতারা নিজেরা সে শান্তি বার্তা আমাদের জন্য নিয়ে আসছে এবং সুবহানাল্লাহ ফেরেশতারা যে কথাই বলেন সেটি আল্লাহ সুবহানা তায়ালা কবুল করে নেন। স এ ব্যাপারেও হচ্ছে আমাদেরকে নিশ্চিন্ত হতে হবে যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা ফেরেশতাদেরকে যে সুযোগটা এখানে দিয়ে দিয়েছেন আমাদের জন্য সেটা আমাদের জন্য কত সৌভাগ্যের কারণ হচ্ছে।
স কাতাদা এবং ইবনে জায়েদ বলেছেন যে সালামুন হিয়া বলতেই বুঝানো হচ্ছে যে এ পুরোটা রাতই হচ্ছে ভালো এবং এর মধ্যে কোন খারাপ কিছু নাই যতক্ষণ পর্যন্ত না ফজর হচ্ছে।
সো এখানে আরেকটা জিনিস আমরা দেখি সেটা হচ্ছে বলা হচ্ছে মাতলাইল ফজর। সো মাতলাইল ফজরের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে ফজর পর্যন্ত অর্থাৎ সূর্য উদয়ের আগ পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত ফজরের সময়টা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত হচ্ছে লাইলাতুল কদরের বিস্তৃতি। আমরা অনেক সময় চিন্তা করে থাকি যে ফজরের আযান দিল সাথে সাথেই হয়তোবা লাইলাতুল কদর শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মাতলায়েল ফজর বলতে বুঝানো হচ্ছে যে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত ফজরের টাইম থাকে সেই সময়টা এর মধ্যে ইনক্লুডেড।
কাদাদা রহমাতুল্লাহ এবং অন্যরা বলেছেন যে যেই বিষয়গুলো এই রাতে ডিটারমাইন করা হয়, নির্দিষ্ট করা হয় এবং যে এর মধ্যে রয়েছে হচ্ছে আমাদের মৃত্যু, আমাদের যে রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা করে রেখেছেন এ সমস্ত কিছুর মধ্যেই সে রাতে সালাম বিরাজমান। এবং মুজাহিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি বলছেন যে সালামুন মিন কুল্লি আমর সালাম এটা বুঝানোর জন্য যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে এখানেই শান্তি রয়েছে এবং এটা হচ্ছে আমাদের জন্য নিরাপত্তা যখন শয়তান আমাদের কোন ক্ষতি বা খারাপ কিছু করতে পারে না।
আরেকটা ঘটনায় বলা হয়েছে যে সেখানে আশরাবি আল্লাহ সুবহানা তায়ালার এই আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন যে প্রত্যেকটা নির্দেশে সেখানে শান্তি রয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত না ভোরের শুরু হচ্ছে এবং সে রাতে হচ্ছে ফেরেশতারা গ্রিটিংস করতে থাকে সালাম দিতে থাকে যারা হচ্ছে মসজিদে অথবা ইবাদতে মশগুল রয়েছে সূরা ইসরাতে আমরা দেখি বলা হয়েছে যে সূর্যঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও নিশ্চয়ই ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখী হয়। ফজরের কোরআন পাঠটা আমাদের জন্য হচ্ছে সাক্ষী হয়ে যায়।
তো সুবহানাল্লাহ। এটা হচ্ছে এমন একটা রাত যে সারারাত ধরে এসে ফজর পর্যন্ত সূর্য অস্ত যাওয়া থেকে শুরু করে অর্থাৎ মাগরিবের সময় থেকে শুরু করে ফজরের শেষ পর্যন্ত সময় হচ্ছে এই শান্তির সময় বিরাজমান এবং সেই সময়ে আমরা যে কোরআন পাঠ করছি, নামাজ পড়ছি এ সমস্ত কিছুই সেদিন আমাদের জন্য সাক্ষী হয়ে যাবে।
সো আমরা জানি যে মেজরিটি তাফসিকার মুফাসসিরগণের মতে এটা হচ্ছে একটি মাক্কী সূরা এবং আমরা যখন এই রাতের যে গুরুত্ব সেই রাতে ইবাদতের যে গুরুত্ব এটা আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখান থেকে আমরা দেখি যে শুধুমাত্র ঈমানদারগণে এটা থেকে বেনিফিট পেতে পারি এত মহিমান্নতি একটা রাত সেটা শুধুমাত্র ঈমানদারদের জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়ে দিয়েছেন এবং অবিশ্বাসীরা এটাকে এপ্রিশিয়েটও করতে পারবে না অবিশ্বাসীরা এটা থেকে কোন সুযোগ পাবে না।
স এখান থেকে আমরা দেখি যে এই মাক্কান যে পরিবেশে এই সূরাটা নাযিল হয়েছিল যে সময় হচ্ছে অবিশ্বাসীদের সামনে এই সূরাটাকে পড়া হচ্ছিল এবং সেখানেই বলা হচ্ছে যে যারা ঈমানদার তাদেরকে তোমরা যত ক্ষুদ্র মনে করো যত দুস্থ মনে করো যে তাদের কোন সহায় নাই তাদের কোন সম্বল নাই। আল্লাহ সুবহানা তাআলা যেন এখানে বলে দিচ্ছেন যে তাদের কাছেই হচ্ছে মহামূল্যবান জিনিসটা রয়েছে যে তোমাদের কাছে এই রাত আসছে কিন্তু তোমরা এটা থেকে কোন ধরনের বেনিফিট পেতে পারছো না কিন্তু যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের অনুসারী যারাই হচ্ছে এই রাতটাকে ঈমান এবং এতে সাবের সাথে কাটাবে তাদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বিশেষ নেয়ামত দিয়ে দিচ্ছেন যে নেয়ামত তোমরা হাজার মাস চেষ্টা করেও পাবে না তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই স্পেশাল একটা রাত ঈমানদারদের দের জন্য পুরস্কার হিসেবে এখানে দিয়ে দিয়েছেন যে রাতটা সঠিকভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা হচ্ছে সফল হতে পারি।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে হে আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম আমরা যদি জানি যে কোন রাতটা হচ্ছে লাইলাতুল কদর তখন সেখানে আমার কি বলা উচিত কি করা উচিত? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তাকে উপদেশ দিলেন যে সে যাতে তুমি বেশি তোমরা বেশি বেশি করে বলবে আল্লাহুম্মা ইন্নাকা যে আল্লাহ তুমি ক্ষমা করতে তুমি হচ্ছ ক্ষমাশীল আফ শব্দটার হচ্ছে একটা স্পেশালিটি রয়েছে যদিও আমরা বাংলাতে ক্ষমা বলি কিন্তু এই ক্ষমাটা হচ্ছে গাফফুর থেকে ডিফারেন্ট সিততির থেকে ডিফারেন্ট এই ক্ষমাটা হচ্ছে একদমই মুছে দেওয়া যেমন মরুভূমিতে যখন কেউ হেঁটে যায় তারপরে বাতাস এসে সে পায়ের চিহ্নটাকে এমনভাবে মুছে দিয়ে যায় যে কেউ আর বলতে পারবে না যে এখানে ফুট স্টেপস আগে ছিল আফু শব্দটা দিয়ে সেরকম বুঝায় যে এটা এমনভাবে রিমুভ করে দেওয়া আমাদের আমলনামায় যে সেটা কখনো আমার আমলে ছিল সেটার অস্তিত্বই সেখানে থাকে না কোন ধরনের ট্রেস সেখানে থাকে না সুবহানাল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আমাদেরকে এমন একটা দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন যে আল্লাহ হচ্ছেন আফু তিনি এরকম ক্ষমা করতে পছন্দ করেন সো আমাকে ক্ষমা করে দেন।
সো এই রাতের বিশেষ যে রিওয়ার্ড বিশেষ যে সুযোগ সেটা হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে আমরা এভাবে ভাবেই আল্লাহ সুবহানা তাআলার ক্ষমা প্রার্থনা করব এই রাতে এবং সে ক্ষমা প্রার্থনা সাক্ষী হয়ে যাবে আমাদের ইবাদত সে ক্ষমা প্রার্থনা সাক্ষী হয়ে যাবে জিবরীল আলাইহিস সালাম এবং সমস্ত ফেরেশতাগণ এবং যারা হচ্ছে আমাদের জন্য শান্তির দোয়া করতে থাকবে এবং তাদের সে দোয়া অবশ্যই আল্লাহ সুবহানা তায়ালা কবুল করে নিবেন।
আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের সুযোগ লাভ করার তৌফিক দেন এবং সেই রাতটাকে আমরা যেন হেলায় ফেলায় নষ্ট না করি। প্রত্যেকটা মুহূর্তকে যেন আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য কাজে লাগাতে পারি এবং আমাদের সে লাইলাতুল কদর আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে একসেপ্টেড হয়ে যায় সেভাবে আমরা আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে দোয়া করব।