Transcription
সবাই সবকিছু পেয়ে যায় বলেই পৃথিবী সুন্দর হয়েছে এমনটা নয়। পৃথিবী সুন্দর হয়েছে সবার আলাদা আলাদা স্বপ্ন দেখাতে।
পৃথিবী সুন্দর হয়েছে সবার আলাদা পথে হাঁটাতে। পৃথিবী সুন্দর হয়েছে সবাই আলাদা থেকেও মিলে মিশে থাকাতে।
পৃথিবীর সবাই ক্ষমতা চায় না, টাকা পয়সা চায় না, সুন্দর হতে চায় না। বড় বাড়ি বা দামি গাড়িও চায় না। আর মানুষের এই ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা আর ভিন্ন চিন্তাধারাই পৃথিবীকে এত সুন্দর করে তুলেছে।
ভাবুন তো যদি সবাই একই জিনিস চাইতো, একইভাবে ভাবতো, একই স্বপ্ন দেখতো। তাহলে পৃথিবীটা হতো একঘে, যান্ত্রিক আর ভীষণ ক্লান্তিকর।
নেতৃত্ব দেয়ার মূল কাজই হলো বুঝে নেয়া। কার জন্য কি প্রয়োজন? কতটুকু প্রয়োজন। সবাই গাড়ি চাইলে পৃথিবী ভরে যেত লোহার পাহাড়ে। তাই কোথাও গাড়ি দরকার, কোথাও ট্রেন দরকার, আবার কোথাও শুধুই হেঁটে যাওয়া দরকার।
পৃথিবীর সব মহৎ জিনিসগুলো জন্মায় আনন্দে নয় বেদনার ভেতর থেকে। যেমন সোনা আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়। হীরা অন্ধকার খনি থেকে উঠে আসে রুক্ষ রূপে। তারপর কাটাকুটি আর ঘসামাজার যন্ত্রণার পর জ্বলে ওঠে সবচেয়ে উজ্জ্বল আলোয়ে। কোহিনূরকে যত দূরেই নিয়ে যাওয়া হোক তার উজ্জ্বলতা কখনো কমে না।
তেমনি মানুষ কষ্ট, ব্যর্থতা, যন্ত্রণা আর অক্ষমতার মাঝেও নিজেকে গড়ে তুলতে পারে সবচেয়ে সুন্দর রূপে। যার গাড়ি নেই, বাড়ি নেই, ক্ষমতাও নেই। তাও সে শ্রেষ্ঠ মানুষ হতে পারে। কারণ সম্পদ কখনো মানুষকে বড় করে তোলে না। মানুষের সংগ্রাম আর শক্তির জয়ই তাকে সবচেয়ে বড় করে তোলে। আর এজন্যই মানুষকে বলা হয়েছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব।