Transcription
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। আল্লাহ সুবহানাতালা বলেন, "আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরণী।"
33 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহাতালা বলছেন যে তার যে নিদর্শন গুলো সেগুলো তিনি দিয়ে দিয়েছেন যাতে আমরা সেগুলো নিয়ে চিন্তা করি এবং সেই নিদর্শনগুলো কি সেটাই 34 নাম্বার আয়াতেও আলোচনা করছেন। সেখানে আল্লাহ বলেছেন যে কিভাবে বৃষ্টির মাধ্যমে একটা বন্ধা নির্জীব মাটি থেকে তিনি জীবনের সঞ্চার করেন এবং সেখানে মানুষ ফল ফসল শস্য উৎপাদন করে এবং সেই খাবার হচ্ছে তার জীবিকা নির্বহ করে তার জীবন ধারণের জন্য কাজে লাগে।
যেই বীজের কথা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা শুরু করেছেন বলা 33 নাম্বার আয়াতে সেই বীজগুলো থেকেই আমরা দেখি যে অনেক গাছ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সে গাছগুলো থেকেই মেনি মেনি গার্ডেনস আমরা দেখতে পাই এই পৃথিবীর বুকে যে অনেক বাগান এখানে জুড়ে থাকে কোনটা হয়তোবা পরিকল্পিতভাবে বানানো কোথাও হয়তোবা পরিকল্পনাহীন ভাবেই বাগানের সমাবেশ আমরা দেখতে পাই এই পৃথিবীর বুকে গাছে গাছে ভরে যায় এই পৃথিবী যে কোন ধরনের পরিচর্যা ছাড়াই এবং সেখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে উদাহরণ দিচ্ছেন দুইটা বিষয়ের একটা হচ্ছে খেজুর আরেকটা হচ্ছে আঙ্গুরের বাগান এবং সেখানে তিনি প্রবাহিত করেন নির্ঝরণী অর্থাৎ নদী লেক আমরা যাই বলি না কেন এই সবকিছুই হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের জন্য রিজিক দিয়ে দিয়েছেন এই পৃথিবীর বুকে এবং আমরা জানি আরবদের কাছে এই নাহখিল এবং হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার ছিল তখনকার সময়ে যে এটাই ছিল তাদের জীবনধারণের প্রধান উপকরণ এবং আঙ্গুর ছিল তাদের জন্য একটা লাক্সজারি যে একটা বিলাসিতা যে সবার কাছে সবাই এই আঙ্গুর কিন্তু পেত না এবং তায়েফে আঙ্গুরের বাগান ছিল কিন্তু অন্য জায়গার জন্য এটা একটা স্বপ্নের মত বিষয় খুব কাঙ্খিত একটা বিষয় ছিল।
সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে শুধুমাত্র আমাদের জীবিকা নির্বাহের জন্যই খাবার সরবরাহ করে থাকেন প্রডিউস করে থাকেন তাই না বরং আমাদের বিলাসিতার জন্য তিনি দেন যেগুলা মুখরোচক খাবার খেয়ে আমরা নিজেদেরকে পরিতৃপ্ত করি এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে এখান থেকে নদী বের হয়ে আসে ঝরণা বের হয়ে আসে মাটি ভেদ করি। সো ফাস্ট আয়াতে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন 33 নাম্বার আয়াতে যে এই মাটিটা ছিল ব্যারেন যেখানে কোন প্রাণের চিহ্ন ছিল না কোন কিছুই সেখানে ছিল না আল্লাহ শুধুমাত্র যে এটাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন তাই না বরং সেখানে আমাদের প্রয়োজনীয় খাবার ফ্রুট বিলাসিতার উপকরণ সমস্ত কিছুই তিনি দিয়েছেন এবং সেখানেই শেষ না এর মাঝে আমরা দেখি যে ঝরণা প্রবাহিত হচ্ছে সেই মাটির মধ্য থেকে।
তো এখানে আল্লাহ যে কথাগুলো বলেছেন ওয়াজলনাফিহা যে আমরা এর মধ্যে মানে পৃথিবীর মধ্যে বানাই জান্নাতিন জান্না শব্দটার অর্থ হচ্ছে বাগান জান্নাতিন মানে হচ্ছে অনেকগুলো বাগান প্লুরাল বুঝানোর জন্য জান্নাতিন বলা হয়ে থাকে এবং তার মানে হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতালা সেই অসংখ্য বাগানের কথা এখানে বলছেন যে এগুলো হচ্ছে লিমিটেড না আমাদের জন্য আলা অনেক অনেক বাগান আমাদের জন্য তৈরি করেছেন এবং কিসের বাগান এটা বলছেন যে মিন নাখিল নাখিল হচ্ছেযে খেজুর গাছ এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনে বারবার যখন বলেন তখন খেজুরের কথা কিন্তু বলছেন না তিনি বলছেন নাখিল অর্থাৎ খেজুর গাছের কথা তিনি বলছেন।
এর আগের আয়াতে গ্রেন অর্থাৎ ফসলের কথা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলেছেন। আর এখন হচ্ছে ফলের কথা বলছেন, বাগানের কথা বলছেন। সো আমাদের নেসেসারি ফুড যেগুলো সেগুলো যেমন স্ট্যাপলস ফুড যেগুলোকে বলা হয় যেগুলো প্রয়োজনীয় সেটা যেমন আছে তেমনিভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য অন্য জিনিসও দিয়ে দিয়েছেন। শস্যের পাশাপাশি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন খেজুর গাছের কথা।
সো আল্লাহ সুবহানা তাআলার যে উদাহরণ সেখানে আমরা দেখতে পাই যে এই খেজুর গাছের কথা কোরআনে বারবার আমাদের সামনে তিনি তুলে ধরেছেন এবং আমরা যদি কোরআন পড়তে থাকি তাহলে দেখব যে এই খেজুর গাছের উদাহরণ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যখনই দিয়েছেন তখনই তিনি তার নেয়ামতের কথা রিজিকের কথা সেখানে তিনি বলেছেন যে কোন জিনিসের উপরে রেজিলিয়ান্ট অর্থাৎ টিকে থাকা ঈমানের যে মজবুতি সেই কথাগুলো তিনি নিয়ে এসেছেন এই ডেট পাম এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে। সো এই ডেট পাম বা খেজুর গাছ হচ্ছে আমাদের জন্য ইন্স্পিরেশন আমাদের ঈমানের মজবুতির জন্য। আমাদের উৎসাহ বা মোটিভেশন চালানোর জন্য আমাদের ভালো কাজ করার জন্য। এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই কথাগুলো বারবারই কোরআনের মধ্যে নিয়ে এসেছেন ডেট ফার্ম যখন উল্লেখ করা হয়েছে নাখিল যখন উল্লেখ করা হয়েছে সেটার জন্য।
সো সিম্বলিক যে মিনিংগুলো আমরা দেখি কোরআনের মধ্যে একটা হচ্ছে যে আমাদের রিজিকের জন্য বলা হয়েছে যে আমরা জানি যে মরুচারীদের জন্য খেজুর হচ্ছে একটা গুরুত্বপূর্ণ খাবার তাদের জন্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর সময়ে বলা হয়েছে যে হাদিস আছে যে আমরা আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেছেন যে আমরা দুইটা কালো জিনিসের উপরে জীবন ধারণ করেছি। একটা হচ্ছে খেজুর আরেকটা হচ্ছে পানি। অর্থাৎ তাদের পানিও কিন্তু একদম বিশুদ্ধ। পানি যেটা আমরা খাচ্ছি ট্রিটেড পানি বা সুস্বাদু পানি সেরকম ছিল না। তো খেজুর এবং পানি এই দুইটা ছিল তাদের মূল খাবার। তো তাদের সাস্টেইনেন্স তাদের বেঁচে থাকার জন্য যা দরকার সেটা হচ্ছে এই খেজুরের মধ্যে এবং খেজুরের মধ্যে আমরা যদি দেখি যে এর যে নিউট্রিশনাল ভ্যালু খেজুরের মধ্যে আমাদের যা যা প্রয়োজন মোটামুটি সবকিছুই এখানে রয়েছে। এটা থেকে এনার্জি পাই আমরা। কারণ এটা হচ্ছে ন্যাচারাল সুগার। এবং এটাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যেটা আমাদের ডাইজেশনে হেল্প করে এবং এটাতে মিনারেলস থাকে এসেনশিয়াল মিনারেলস যেগুলো আমাদের জন্য দরকার যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, কপার, এন্টিঅক্সিডেন্ট। সো যার কারণে হচ্ছে ফুল অফ এনার্জি হচ্ছে খেজুর এবং এটা আমাদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের জন্য, আমাদের বোন সাপোর্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং আমরা যদি এর ফুড ভ্যালু দেখি তাহলে দেখব যে মাল্টিপল ইনগ্রেডিয়েন্টস এটার মধ্যে রয়েছে এবং সেটা আমাদের জন্য খুবই উপকারী এবং সে কারণেই তারা হচ্ছে এটা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতে পারতো।
সেকেন্ড যে সিম্বলিক মিনিংটা আমরা দেখতে পাই ডেট পাম যখন কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে সেটা হচ্ছে ফেইথ এন্ড রেজিলিয়েন্স। যে একটা ভালো কথা হচ্ছে একটা খেজুর গাছের মত বলা হয়েছে। যেটার ডিপ রুটস যে মূলগুলো হচ্ছে শিকরগুলো হচ্ছে অনেক গভীর এবং উপরের দিকেও হচ্ছে অনেকগুলা শাখা প্রশাখায় এটা প্রসারিত হয়ে থাকে। স দুনিয়াবী যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলোর এগেন্স্টে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য মুসলমানদের যে ধরনের ঈমানি মজবুতি দরকার আমরা দেখি যে খেজুর গাছ হচ্ছে ন্যাচারাল যে কোন ডিজাস্টারেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।
থার্ড যে সিম্বলিক মিনিং সেটা হচ্ছে যে ডিভাইন সাইন্স। সো আমরা যদি দেখি এই খেজুর গাছের স্ট্রাকচারের দিকে এবং এটা বেনিফিটের দিকে তাহলে আমরা আল্লাহ সুবহানাতালার সৃষ্টি নিয়ে আমরা আসলে চিন্তা করতে বাধ্য হই। খেজুর গাছের প্রত্যেকটা জিনিস আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়। খেজুর যেমন আমরা খাওয়ার জন্য লাগাই। খেজুরের বীজ গাছ এই খেজুর গাছের যে কান্ড তারপরে হচ্ছে এর যে শাখাপশাখা এর প্রত্যেকটা জিনিস হচ্ছে মানুষের উপকারে লাগে। তো খেজুর গাছ হচ্ছে এমন একটা জিনিস যার কোন অংশই ফেলনা না। প্রত্যেকটা জিনিস হচ্ছে মানুষের উপকারে লাগে। তেমনি হচ্ছে একজন মুমিনের জীবন। সে মুমিনের জীবনেও প্রতিটা মুহূর্ত হচ্ছে তার জন্য বেনিফিশিয়াল। তার আশেপাশে যারা রয়েছে বেনিফিশিয়াল সবার জন্য সে উপকারী ভূমিকা পালন করে।
আরেকটা সিম্বলিক মিনিং যেটা সেটা হচ্ছে তাওয়াক্কুল। যে আমাদের তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপরে ভরসার একটা নির্ভর নিশ্চয়তা হচ্ছে এই খেজুর গাছগুলো। যেটা আমরা মরিয়াম আলাইহিস সালামের জন্য আল্লাহ সুবহানা তাআলার যে নির্দেশ ছিল তার মাধ্যমে দেখতে পাই।
তো এখানে আমরা দেখি যে এই খেজুর গাছের কথা বলা হয়েছে এবং খেজুর গাছের পরেই যে জিনিসটার কথা বলা হয়েছে কোরআনে বারবার এই আয়নাব। আয়নাব মানে হচ্ছে আঙ্গুর এবং এটা হচ্ছে বহুবচনে এসেছে। সো কোরআনে আমরা দেখি আঙ্গুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এবং যেখানেই কোরআনে আঙ্গুলের আঙ্গুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে আসলে আল্লাহর যে নিয়ামত সে নিয়ামতের সাথে সাথে আল্লাহর যে ক্রিয়েটিভ পাওয়ার সেটা এবং তার রহমার কথা সেখানে বুঝানো হয়েছে এবং সেখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা মানুষের জীবনে মানুষের জন্য যে নেয়ামতগুলো রেখে দিয়েছেন সেই নেয়ামতের একটা এক্সাম্পল হিসাবে এই গ্রেপস বা আঙ্গুরের কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা দেখি যে আল্লাহর যে সৃষ্টির যে নিদর্শন তার মধ্যে আঙ্গুর হচ্ছে একটা যে একটা সিঙ্গল সোর্স থেকে একসাথে আমরা থোকায় থোকার আঙ্গুর পাচ্ছি এখানে এবং এখান থেকে আমরা আল্লাহর যে ক্ষমতা আল্লাহর যে শক্তি আল্লাহ যে কত বিশালভাবে তার প্রডিউস করার ক্ষমতা রয়েছে সেটা আমরা দেখতে পাই যে একটা অরিজিন থেকে কতগুলো আঙ্গুর একসাথে তৈরি হচ্ছে।
সেকেন্ড যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে যে দুনিয়াবী রিজিক আমরা এখান থেকে পাচ্ছি যে এখান থেকে হচ্ছে আমরা দেখি যে এই গ্রেপস থেকেই হচ্ছে আমাদের পুষ্টির জন্য কাজে লাগে এটাতে প্রচুর পরিমাণে সুগার রয়েছে প্রচুর এনার্জি দিয়ে থাকে আবার এখান থেকে দেখা যায় যে এটাকে মানুষ হচ্ছে ওয়াইন বানানোর ক্ষেত্রেও কাজে লাগিয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে সিম্বল অফ প্যারাডাইস জানার একটি উদাহরণ হিসেবে বা নেয়ামত হিসেবেই গ্রেপসের কথা বলা হয়েছে যে সেখানে আল্লাহ সুবহানাতালা এরকম নেয়ামতপূর্ণ খাবার মানুষকে দিবেন। স এভাবে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই আঙ্গুরের কথাবের কথা কোরআনের মধ্যে বলেছেন যাতে আমরা আল্লাহর নিয়ামতগুলো স্মরণ করতে পারি। যখন আমরা আঙ্গুর খাই যে খুব মজা খেয়ে ফেলছি সেটুকুই যাতে আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়। আমরা যাতে চিন্তা করি এটা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে? কে সৃষ্টি করেছে? কে এর মধ্যে এরকম ইউনিক টেস্ট দিয়ে দিয়েছে। সো আমরা যখন এটা নিয়ে চিন্তা করব তখনই দেখব যে আল্লাহ সুবহানা তাআলার এই নেয়ামতগুলো তার নিদর্শনগুলো নিয়ে আমরা আরো বেশি গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারছি। এবং কোরআনে আমরা দেখি যে 11 জায়গায় আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এটার কথা উল্লেখ করেছেন বিভিন্ন সিগনিফিক্যান্স বা গুরুত্বগুলো তুলে ধরে।
তারপরে বলা হচ্ছে এখানে এবং ফাজনাফজ শব্দটার অর্থ হচ্ছে বারস্ট আউট কোন জিনিস হচ্ছে ফেটে বের হয়ে আসা ফজর শব্দটা আমরা সবাই জানি ফজরের নামাজ হচ্ছে যখন রাতের অন্ধকার কে দীর্ণ করে আলো একটু করে বের হয়ে আসছে সেটাই হচ্ছে ফজরের সময়। সো এই দীর্ণ করে বিদীর্ণ করে গাস আউট হওয়া প্রচুর পরিমাণে বের হয়ে আসা এটাকে হচ্ছে ফাজ্জারা বলা হয়ে থাকে সফজ না যে আমরাই এটাকে এ প্রচুর পরিমাণে বের করে আনি এই পৃথিবীর বুক থেকে মিনালন কোত থেকে উন মানে হচ্ছে আইন মানে হচ্ছে স্প্রিং বা ঝরণা তো সেখান থেকে হচ্ছে অনেক ঝরণা থেকে আমরা সেগুলা অনেক ঝরণা এই মাটির বুক থেকে আমরা বের করে নিয়ে আসি।
সূরা বাকারাতে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলেছেন যে, "আর হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন যার পাদদেশে নহর সমূহ প্রভাবমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে তখনই তারা বলবে, এতো বিকল সেই ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুত তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধ চারাইনে রবণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।"
তো আমরা যখনই হচ্ছে এই ফসলের কথা শুনছি, ফসলের কথা শুনছি, নদী প্রবাহিত হওয়ার কথা শুনছি, মৃত মাটি জেগে ওঠার কথা শুনছি। এই বর্ণনাগুলো যখন শুনি, এই বর্ণনাগুলোর সাথে আরেকটা বর্ণনার খুব মিল পাই আমরা। সেটা হচ্ছে যখনই জান্নাতের কথা বলা হচ্ছে, তখনই বলা হচ্ছে আমাদেরকে অসংখ্য নেয়ামত দেওয়া হবে। আমাদেরকে প্রচুর পরিমাণে ফল দেওয়া হবে, খাবার দেওয়া হবে এবং সেখানে নদী প্রবাহিত হতে থাকবে।
সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই দুনিয়ার বুকে এই এক্সাম্পল গুলো আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। আমরা যাতে সৌন্দর্যটা বুঝতে পারি। আমরা যাতে স্বাদটা বুঝতে পারি। আখেরাত আখেরাতে যেয়েও আমাদেরকে এমন জিনিস দেওয়া হবে। কিন্তু ওটা স্বাদ দেখতে একই রকম হলেও ওটা স্বাদ। ওটা গুণাবলী হবে কমপ্লিটলি ডিফারেন্ট। একটু আগে আমি আনাবের কথা বললাম যেটা থেকে ওয়াইন তৈরি করা হয়। যে ওয়াইন আমরা খেতে পারি না। আমাদের জন্য এটা নিষিদ্ধ। সেই ওয়াইনেরই একটা অংশ আল্লাহ সুবহানা তায়ালা জান্নাতে দিবেন। যে ওয়াইন আমাদের জন্য ধ্বংসকারী হবে না। যে ওয়াইন আমাদেরকে হচ্ছে এডিক্টেড করবে না।
সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দুনিয়াতে কিছু জিনিস দিয়ে দিয়েছেন। সিমিলার টাইপের জিনিস আখেরাতে জান্নাতে দিবেন। কিন্তু সেগুলোর স্বাদ হবে টোটালি ডিফারেন্ট। এটা এজন্য যে আমরা যে জান্নাত চাইবো, কেন চাইবো? আমরা যেন বুঝতে পারি যে এই যে নেয়ামতগুলো আমি দুনিয়াতে দেখছি, এগুলো সবকিছু নিয়েই হচ্ছে সেই জান্নাত। কিন্তু সেই স্বাদ তার যে গুণাবলী সেটা আমি এই দুনিয়ার সাথে কম্পেয়ার করতে পারবো না। দুনিয়াতে আমরা একই জিনিস যখন বারবার খেতে থাকি তখন সেটাতে আমরা বিরক্ত হয়ে যাই। যেটা আমরা দেখি মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গী যারা ছিল মান্না সালোয়া তাদেরকে দেওয়া হয়েছে এবং দেওয়ার পরে তারা কিছুদিন পরে একদম বিরক্ত হয়ে গেল যে একই রকম খাবার তারা আর খেতে চায় না যত নেয়ামত পূর্ণই হোক না কেন এবং যত অনায়াসেই তারা সেটা পাক না কেন তো মানুষের মধ্যে এই একই জিনিস বারবার খেতে খেতে বিরক্তি চলে আসে কিন্তু আখিরাতে যেই জিনিসটা আমরা দেখবো সেটা হচ্ছে যে একই জিনিস আমাদেরকে দেওয়া হলেও আমরা কখনো সেটাতে বিরক্ত হবো না একেকদিন এটা একেক সাথ একেক রূপে আমাদের সামনে আসবে এবং কখনোই আমরা মনে করবো না যে আগের দিন যা খেয়েছি সেম জিনিসই খেয়েছি।
তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এত নেয়ামত পূর্ণ করে সে জান্নাতকে আমাদের জন্য তৈরি করেছেন এবং তারই কিছু উদাহরণ এই পৃথিবীর বুকে দিয়েছেন যাতে আমরা সে জান্নাতের জন্য কাঙ্খিত হতে পারি। সেটার জন্য এফোর্ট দিতে পারি।