📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

ইয়াজুজ-মাজুজ কোন প্রাচীরের আড়ালে বন্দী? | ইয়াজুজ মাজুজ | Yajuj Majuj in Quran | Gog Magog | NEWS24

NEWS248:15

Transcription

[মিউজিক] ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায় ইয়াজুজ ও মাজুজ। তাদেরকে অবরুদ্ধ রাখার প্রাচীর নির্মাণের ইতিহাস কোরআনে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কোথায় সেই প্রাচীর? কেন এখনো সেই প্রাচীরের সন্ধান পাওয়া যায় না? বাদশাহ জুলকারনাইনের নির্মিত সেই দেয়াল কি কাশপিয়ান সাগরের তীরে নাকি ককেশাস পর্বতমালায়? নাকি তা অনেক আগেই মাটি চাপা পড়ে গেছে।

দর্শক, আজকের ভিডিওতে আমরা জানবো কোরআন, হাদিস এবং ইতিহাসের আলোকে ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর ঘিরে প্রচলিত মতামত ও রহস্যময় কিছু তথ্য। সঙ্গেই থাকুন।

কোরআনুল কারীমে ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর নির্মাণের ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে সূরা কাহফের 93 থেকে 98 নম্বর আয়াতে। আর এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে বাদশাহ জুলকার নাইনের নাম। এরশাদ হচ্ছে, "হাততাহমা [মিউজিক] লায়াকদুনাহলাইজ [মিউজিক] মুফসনাফ হলনাজলুলাকাজলাজলাবাইনাবাইনাহুম সদাফনবিত [মিউজিক] আজবাইনাকুমবাইনাহুমদমাতুনিবার [মিউজিক] হাদি হাততা সাওবাইনা সদাফাইনি [মিউজিক] হাততাজলাহনারবা [মিউজিক] কলা হা রহমাতুমর রব্বি জজলাহ।"

"ওব অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যস্থলে পৌঁছলেন তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। তারা তারা বলল, 'হে জুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্য কিছু কর ধার্য করবো এ শর্তে যে আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দিবেন।' তিনি বললেন, 'আমার রব আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন তাই যথেষ্ট। অতএব তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য করো। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দিব। তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও।' অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল তখন তিনি বললেন, 'তোমরা হাঁ পড়ে ফুঁক দিতে থাকো।' অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হলো তখন তিনি বললেন, 'তোমরা গলিত তামা নিয়ে আসো, আমি তা এর উপর ঢেলে দেই।' অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজের দল তার উপরে আরোহণ করতে পারলো না এবং তা ভেদ করতেও সক্ষম হলো না। জুলকারনাইন বললেন, 'এটা আমার রবের অনুগ্রহ। যখন আমার রবের প্রতিশ্রুত সময় আসবে তখন তিনি একে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিবেন এবং আমার রবের প্রতিশ্রুতি সত্য।'"

এখন প্রশ্ন হলো, বাদশাহ জুলকারনাইনের নির্মিত সেই প্রাচীরটি পৃথিবীর কোথায় বা কোন এলাকায়? এ সম্পর্কে নানা মতবাদ প্রচলিত। একটি মতবাদ অনুসারে, কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী অরুণাচলে। যেখান থেকে সূর্য উদিত হয় সেখানে ইয়াজুদ মাজুজের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন জুলকারনাইন। আর সেই স্থানটি পাহাড়ের প্রাচীরের মাঝখানে। এই বর্ণনার সাথে মিলে যায় এমন একটি দেয়াল রয়েছে কাশপিয়ান সাগর উপকূলে।

[মিউজিক] ইতিহাসবিদ্দের মতে, এ দেয়াল তৈরি করেছিলেন সম্রাট আলেকজান্ডার। যা তৈরি করতে লোহা ও তামা ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে একটি তরুণ রয়েছে যেটি কাশপিয়ান গেট বা আলেকজান্ডারের গেট নামে পরিচিত। দারিয়াল এবং দারবেন্ত নামে দুটি শহরে এর ব্যাপ্তি। দারিয়াল রাশিয়া এবং জর্জিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। এটিকে বলা হয় কাসবেক পাহাড়ের পূর্ব প্রান্ত। দারবেন্ত রাশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত একটি শহর। কাশপিয়ান সাগরের দক্ষিণপূর্ব উপকূলে নির্মিত এ দেয়ালটি তোলা হয়েছে দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে। এ পাহাড় দুটিকে বলা হয় পৃথিবীর উঠান। আলেকজান্ডার নির্মিত এ দেয়ালের উচ্চতা 20 মিটার এবং এর পূত্ব তিন মিটার।

অন্যদিকে, আল্লামা হিফজুর রহমান সিউহারী রহমতুল্লাহ আলাইহি তার কাসাসুল কুরআন বইতে লিখেছেন, ইয়াজুজ মাজুজের দৌড়াত্ব বিশাল ভূখণ্ডব্যাপী বিস্তৃত ছিল। তাই যুগে যুগে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি রক্ষাপ্রাচীর নির্মাণের কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়। যেমন চীনের মহাপ্রাচীর, যা চীনের জনৈক রাজা তৈরি করেছেন। দাগস্তানে অবস্থিত আরেকটি প্রাচীর রয়েছে। আরেকটি প্রাচীর ককেশাস পর্বতমালার উচ্চভূমিতে অবস্থিত। এই তিনটি প্রাচীরের মধ্যে শেষ দুটির ব্যাপারে অনেকের ধারণা যে এর কোন একটি জুলকারনাইনের তৈরীকৃত হতে পারে।

কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, জুলকারনাইনের প্রাচীরের যদি সত্যি অস্তিত্ব থাকে, তাহলে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যখন দুনিয়া হাতের মুঠোয়, আমরা তার সন্ধান পাই না কেন? এর জবাবে ইসলামিক স্কলারগণ বলেন, কারো খুঁজে না পাওয়া অস্তিত্বে না থাকার প্রমাণ নয়। কেননা এই আধুনিক যুগেও এখনো বিভিন্ন পাহাড়ী ভূখণডে বা সামুদ্রিক দ্বীপাঞ্চল থেকে নিত্যনতুন এলাকা ও মানব গোত্রের আবিষ্কার হয়, যার খবর পৃথিবী এতদিন জানতোই না। তাই হয়তোবা জুলকারনাইনের প্রাচীরটি কোন পর্বতমালার নিচে মাটিচাপা পড়ে গেছে। অথবা তাদের ভূখণ্ড বিশাল কোন জলরাশি বা বরফ অঞ্চলের আড়ালে হওয়ায় আমরা তার খবর পাচ্ছি না। কেয়ামতের আগে আল্লাহর নির্ধারিত সময়ে তাদের আবির্ভাব হবে। আর এটি অসম্ভব কিছু নয়।

প্রিয় দর্শক, এবার অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, সেই দেয়ালটি কবে ধুলোইয় মিশে যাবে? কেয়ামতের ঠিক আগ মুহূর্তে নাকি তারও অনেক আগে? এ বিষয়েও কোরআন হাদিসের কোথাও স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। কোরআনে শুধু বলা হয়েছে, "হাতফত কুল্লি হাল, যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।" এ কারণে আল্লামা কাশ্মীরী সহ অনেকের মত হলো, জুলকান্নাইন নির্মিত সে দেয়াল অনেক আগেই ধসে গেছে। ইয়াজুদ মাজুদ গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। কেয়ামতের পূর্বে তারা হিংস্র রূপ নিয়ে আবির্ভূত হবে।

ইয়াজুজ মাজুজের ঘটনা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন, যার পূর্ণ সত্য আমরা জানি না। কিন্তু বিশ্বাস করি কোরআনের প্রতিটি বাক্যে। একদিন আল্লাহর নির্ধারিত সময়ে তারা আবার আবির্ভূত হবে। আর তখনই প্রকাশ পাবে এই রহস্যের আসল চিত্র। তাই আসুন, এ রহস্য নিয়ে অযথা তর্কে না জড়িয়ে আল্লাহর ওয়াদায় বিশ্বাস রাখি এবং কেয়ামতের জন্য প্রস্তুতি নেই।

তালহা ইবনে রেজা, নিউজ 24ফ। [মিউজিক]