📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Al Qadr || Ayah 3,4: Virtue of Laylatul Qadr|| Part 5

Straight Path16:21

Transcription

সূরা আল কদরের তিন নাম্বার আয়াত। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। লাইলাতুল কদর خیرুম মিন আলফিশার। শবে কদর হল 1000 মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

সূরা আল কদরে আমরা লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেভাবে সূরাটি শুরু করেছেন যে এই রাতটা হচ্ছে সেই রাত যে রাতে কোরআন নাযিল হয়েছে। কোরআন নাযিলের মাধ্যমে এই রাতটাকে আল্লাহ সুবহানা তাআলা মহিমান্বিত করেছেন এবং তারপরে তিনি বলছেন যে কোন জিনিস কিভাবে তোমরা এর গুরুত্বটা বুঝতে পারবে।

"ওমা আদরাকামা লাইলাতুল কদর।" যে কিভাবে তোমরা এর সম্পর্কে জানবে। কি কি বললে এর গুরুত্বটা তোমরা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবে। এর গুরুত্ব হিসেবে এখন আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে লাইলাতুল কদর হচ্ছে 1000 মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

স এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা লাইলাতুল কদরের গুরুত্বের কারণটা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে এই গুরুত্বটা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। একটা রাতে কেউ যদি ইবাদত করে তাহলে সেই ইবাদতটা 1000 মাসের চেয়েও উত্তম। 1000 মাসের চেয়েও বেটার বেস্ট বলা হচ্ছে এখানে।

সো লাইলাতুল কদরে "খাইরুম মিন আলফিশার"। আলফিশার মানে হচ্ছে 1000 মাস। কিন্তু কোরআন মাজিদে যখন হচ্ছে বা এরাবিকে এরাবরা যখন এ ধরনের হাজার মাস এ ধরনের শব্দ উচ্চারণ করে সেটা দিয়ে আসলে বুঝানো হয় যে এমন একটা সময় যে সময়টা হচ্ছে উইদাউট লিমিট যে এটা আসলে পরিমাপ করা যায় না এটা অসীম বা অপরিসীসীম বুঝানোর জন্য হচ্ছে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

স আল্লাহ সুবহানা তায়ালা "ওমা আদরাকা" বলে যে বলছেন যে তোমরা কি জানো যে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব কি? এখানে আল্লাহ সুবহানাতালা সে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিচ্ছেন যে লাইলাতুল কদর হচ্ছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। হাজার মাস একটা লং পিরিয়ড অফ টাইম বুঝানো হচ্ছে। আমরা যদি লিটারাল মিনিংও বুঝি তাহলে দেখা যায় যে এটা দিয়ে 83 বছর চার মাস বুঝা যেতে পারে 1000 মাসে।

একটা রাত আমরা যখন ইবাদত করব এবং সেই ইবাদতের কথা বলা হয়েছে যে 1000 মাস অর্থাৎ 83 বছর চার মাসের বেশি হচ্ছে এর গুরুত্ব। তো সুবহানাল্লাহ যে এর গুরুত্বটুকু আমরা যদি উপলব্ধি করতে পারি তাহলে অবশ্যই এই রাতটাকে আমরা হেলায় ফেলায় ছেড়ে দিব না। অবশ্যই এ রাতটার প্রতি আমরা গুরুত্ব দিব।

সো আমাদেরকে আমরা যখনই এই লাইলাতুল কদর পাচ্ছি সেটাই হচ্ছে আমাদের জন্য একটা সৌভাগ্যের কারণ। কাতার কারণ হচ্ছে যে এই এক মাস ইবাদত করে এক রাত ইবাদত করে আমরা হচ্ছে অনেকগুলো একটা অপরিসীম সময়ের ইবাদতের সওয়াব পাচ্ছি এবং এটা বলা হয় নাই যে এটা হচ্ছে 1000 মাসের সমান বরং বলা হচ্ছে খায়র যে 1000 মাসের চেয়েও উত্তম বলা হচ্ছে এখান থেকে যে এটা আসলে কোন লিমিট নাই এটা হচ্ছে একটা অপরিসীম সময় আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে বলে দিচ্ছেন।

ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে যখন রমাদান আসতো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বলতেন যে নিশ্চিতভাবে রমাদান মাস তোমাদের কাছে এসেছে এটা হচ্ছে একটা মহিমান্বিত মাস যেটা আল্লাহ যে মাসে তোমাদের জন্য রোজাকে ফরজ করে দিয়েছেন। এ হলো সেই মাস যে মাসে হচ্ছে জান্নাতের দরজাগুলোকে খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাকে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে হচ্ছে শিকলবদ্ধ করা হয়ে থাকে। এবং এই রাতের মধ্যে এমন একটি রাত রয়েছে যে রাতটা হচ্ছে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম যে এই এর যে খায়ের যে ভালো সেই জিনিস থেকে নিজেকে বঞ্চিত করল সে আসলেই বঞ্চিত হলো। তো সুবহানাল্লাহ।

এখানে আমরা দেখি যে এই রাতটাকে আমরা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারি এটাকে হেলায় ফেলায় শেষ হয়ে যেতে দেই তাহলে আমরা নিজেরাই আসলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু থেকে আরেকটি হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে যে "ওমান লাইলাতুল কদমানাতেলাহুমাতামাযে" এই রাতে লাইলাতুল কাদরের রাতে ঈমান এবং সাথে দাঁড়াবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার আগে সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। তো সুবহানাল্লাহ এখান থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এই রাতের যে বিশাল গুরুত্ব তো সেটাও এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এই একরাত ইবাদত করার মাধ্যমে আমাদের আগের সমস্ত গুনাহ আল্লাহ সুবহানা তায়ালা মাফ করে দিবেন। তবে শর্ত হচ্ছে ঈমান এবং এতেসাবের সাথে।

ঈমান মানে হচ্ছে পূর্ণ বিশ্বাস। যে আল্লাহ সুবহানাতালার উপরে পূর্ণ বিশ্বাস এই বিশ্বাসটুকু রাখা। যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে ওয়াদা করেছেন সেটা সত্যি এবং এই বিশ্বাস রেখে যে আমি এই যে ইবাদত করছি সেটা পুরোপুরিভাবে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার জন্য। আমরা জানি যে প্রত্যেকটা কাজের কর্মফল নির্ভর করে হচ্ছে আমাদের নিয়তের উপরে। স "ইন্নামালালুবিনিয়াত" যে কাজের ফলাফলটা নিয়তের যদি আমরা নিয়তটা থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস তাহলে সে কাজের বারাকা আমরা পুরোটাই লাভ করতে পারব।

এবং এহতেসাব এহতেসাবের মাধ্যমে বলা হচ্ছে যে যে হচ্ছে পুরস্কারের আশায় যে আমি জানি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার ভান্ডার অফুরন্ত আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে আমি যদি চাই তাহলে আল্লাহ কখনো আমাকে ফিরিয়ে দিবে না এই যে আল্লাহ সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা এবং আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কারের আশা করা সেই পুরস্কারের আশায় আমি যা করছি সে নিয়েই হচ্ছে নিজেই হচ্ছে নিজের কাজে সমালোচনা করলাম নিজের কাজকে কিভাবে আরো উত্তম করা যায় আরো ভালো করা যায় কিভাবে আল্লাহ আরো বেশি পছন্দনীয় হওয়া যায়। এভাবে উত্তরোত্তর নিজেকে বাড়ানোর জন্য যে চেষ্টা সেটাই হচ্ছে এতেসাব। যে পুরস্কারে আসায় আমি আমার নিজের কাজের হিসাব নিজে নিলাম এবং নিজের কাজকে সুন্দরতমভাবে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে উপস্থাপন যদি আমরা করতে পারি তাহলে হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদের আগের সমস্ত গুনাহকে মাফ করে দিবেন।

এবং আরেকটা হাদিসে বলে বলা হয়েছে যে আল্লাহ রমাদান মাসে এমন একটা রাতকে তৈরি করেছেন যে রাতটা হচ্ছে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এই রাত থেকে যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বঞ্চিত হবে সে আসলে সত্যিকারভাবে বঞ্চিত। তো তার চেয়ে বড় হতভাগা আর কে হতে পারে যা লাইলাতুল কাদরকে পেল কিন্তু লাইলাতুল কাদরের যে খায়ের যে ভালো এর মধ্যে রয়েছে সেটা সে গ্রহণ করতে পারলো না অথবা সেটা থেকে সে বঞ্চিত হলো।

মুফাসসিরগণ বলেছেন যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যখন বলেছেন লাইলাতুল কদর হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এর মানে হচ্ছে যে এই রাতে আমরা যে কাজ করব সে কাজগুলো সওয়াব হচ্ছে হাজার মাসের যে সওয়াব সেটার চেয়েও বেশি বের হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি চিন্তা করি একজন মানুষের গড় আয়ুর কথা তাহলে দেখব যে আমেরিকাতে একজন মহিলার গড় আয়ু হচ্ছে 80 এবং একজন পুরুষের গড় আয়ু হচ্ছে 74 বছর। আবার আমরা যদি মুসলিম ওয়ার্ল্ডের দিকে তাকাই তাহলে এভারেজ লাইফ স্প্যান দেখা যায় যে 40 বছরের মত কোথাও কোথাও আবার 33 বছরের মত।

সো এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যদি চিন্তা করি যে একটা রাত ইবাদত করলে 83 বছর চার মাস তার চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তার মানে হচ্ছে যে আমাদের জীবনকালের চেয়েও বেশি সওয়াব আমরা পাচ্ছি হচ্ছে একটা রাত ইবাদত করার মাধ্যমে। সো এই একটা রাতকে যথাযথভাবে পালন করা ঈমান এবং এহতেসাবের সাথে সেটা আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালার পক্ষ থেকে কত বিশাল একটা রহমত সেটা উপলব্ধি করাটা হচ্ছে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সো এই রাতের পুরস্কার হচ্ছে আমেজিং। যেটা আমরা চিন্তা করতে পারি না যেটা আমরা কল্পনা করতে পারি না এবং একটা আমরা যদি এরকম বছরের পর বছর আমাদের জীবনকালের মধ্যে লাইলাতুল কদরকে খুঁজে পেয়ে যাই প্রতিবছরই একবার করে তাহলে আমরা চিন্তা করতে পারি যে আমাদের রিওয়ার্ড আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে কত বেশি হয়ে যাবে আবার অন্যদিক থেকে আমরা এটাও চিন্তা করতে পারি যে লাইলাতুল কদর যদিও একটি রাত কিন্তু আমরা যদি শেষের 10 রাতেই হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করতে পারি তাহলে আমাদের আমল আরো কত সুন্দর হয়ে যাবে এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছ থেকে আমরা আরো কত বেশি পুরস্কারের আশা করতে পারি।

সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে নেয়ামতটা আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন সেটাকে আমরা যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি সেটাই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তারপরে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা চার নাম্বার আয়াতে বলছেন "তানাজুল মালাকাতুহ কুল্লি আমর" এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।

তাহলে এখানে আমরা দেখি বলা হচ্ছে "তানাজজালু"। তাহলে "তানাজজু" শব্দটা যেটা এটা একটু ইন্টারেস্টিং একটা শব্দ। "তানাজু" শব্দটা অরিজিনালি যে শব্দটা হওয়ার কথা ছিল এখানে সেটা হচ্ছে "তাতানাজজালু"। এটাকে আমরা দেখি যে সংক্ষিপ্তভাবে এই আয়াতের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। স এটারও ব্যাখ্যা করেছেন তাফসীরকারকগণ যে এটারও একটা কারণ রয়েছে সেটা হচ্ছে যে "তাতনাজজালু" বলার জন্য হচ্ছে অনেক লম্বা সময় লাগতেছে। কিন্তু আমি যখন খুব রাসের মধ্যে থাকি এটাকে সংক্ষিপ্ত করে "তানাজজালু" বলছি তখন বুঝা যায় যে এটা খুব দ্রুত লয়ে ঘটছে ঘটনাগুলো। খুব দ্রুতভাবে এই ঘটনাটা ঘটে যাচ্ছে। যে কারণে হচ্ছে ফেরেশতারা এবং জিব্রাইল আলাইহিস সালাম যে কুইকলি এত কুইকলি পৃথিবীর বুকে নেমে আসেন এই রাতে যে কারণে হচ্ছে এটাকে "তাাজজালু" বলা হচ্ছে যে সংক্ষিপ্ত করে বলা বলে দেওয়া হচ্ছে।

এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই রাতের আরেকটা গুরুত্ব তুলে ধরেছেন আমাদের কাছে। সেটা হচ্ছে এটা এমন এক রাত যেই রাতে হচ্ছে রুহ মালাইকাতু ফেরেশতাগণ এবং রুহ হচ্ছেন এই পৃথিবীতে নেমে আসেন। এখানে আমরা দেখি বাইজিমাক মুফাসসিরগণ মুসলিম স্কলারদের যে মতামত সে অনুযায়ী রুহ বলতে হচ্ছে জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে বুঝানো হয়েছে। এবং এখানে যেই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমরা দেখি যে বলছেন যে ফেরেশতারা এবং সাথে জিবরীল আলাইহিস সালাম এই পৃথিবীতে নেমে আসছেন। সো এই আল্লাহ সুবহানা তাআলার অনুমতিক্রমে তারা এই পৃথিবীতে আসছেন।

এখানে আমরা দেখি যে জিব্রাইল আলাইহিস সালামের গুরুত্বটা আমরা যদি একটু উপলব্ধি করি এখানে যে জিব্রাইল আলাইহিস সালামের কাজ মেইনলি কি ছিল? জিব্রাইল আলাইহি সালামের কাজ ছিল আল্লাহর সাথে তার মেসেঞ্জারদের নবীদের সাথে কমিউনিকেট করা। তিনি ছিলেন মূল মাধ্যম। আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যে মেসেজগুলো সেগুলো নবীদের কাছে নিয়ে আসতেন। তো সেটা ছিল খুবই স্পেসিফিক একটা কাজ। জিব্রাইল আলাইহিস সালামের যে শুধুমাত্র নবী রাসূলগণের কাছেই তিনি এই স্পেশাল মেসেজগুলো নিয়ে আসতেন। সুবহানাল্লাহ সেই জিব্রাইল আলাইহিস সালাম যিনি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেই জিব্রাইল আলাইহিস সালাম প্রতি লাইলাতুল কদরে এ পৃথিবীর বুকে নেমে আসেন। স আমরা যদি একবার এই গুরুত্বটাকে উপলব্ধি করতে পারি তাহলে দেখব যে যিনি শুধু নবীদের কাছে আসতেন তিনি এখন মুসলমানদের কাছে আসছেন যারা হচ্ছে ইবাদত গুজার করে এই রাতটাকে কাটাচ্ছে এবং তাদের জন্য হচ্ছে দোয়া করছেন।

স আমরা জানি যে ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ডিফারেন্ট টাস্ক দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের ডিউটিস তাদের রয়েছে। এই রাতটা হচ্ছে এমন একটা রাত যেসব ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ সুবহানা তাআলা পৃথিবীর বুকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তাদের অন্য সমস্ত কাজের মধ্য থেকে এটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সেটা হচ্ছে তোমরা পৃথিবীতে নেমে যাও পৃথিবীতে নেমে যেয়ে তোমরা কি করো তোমরা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে নির্দেশ দিয়েছেন সে নির্দেশগুলোকে বাস্তবায়ন করো কারণ আমরা আগেই দেখেছি যে লাইলাতুল কদরের একটা স্পেশাল দিক হচ্ছে যে এই রাতের তাকদীর নির্ধারিত হয়ে থাকে স ফেরেশতারা হচ্ছে সেটা সাক্ষী হয়ে যান। ফেরেশতাদেরকে সেদিন জানিয়ে দেওয়া হয় যে কার ভাগ্যে কি রয়েছে এই বছরে এবং তারা সেটা ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য পৃথিবীর বুকে চলে আসেন।

এবং আরেকটা জিনিস আমরা দেখেছিলাম যে লাইলাতুল কদরের আরেকটা অর্থ হচ্ছে এই রাতটা হচ্ছে কনজেস্টেড রেস্ট্রিক্টেড। তো তার মানে হচ্ছে এত বেশি ফেরেশতা এখানে চলে আসে। আমরা দেখি যে "তানাজুল মালাইকাহু" যে নাজালা যে ঝাকে ঝাকে তারা নেমে আসছে এই ফেরেশতারা এবং জিব্রীল আলাইহিস সালাম এবং সেটা অবশ্যই আল্লাহর অনুমতিক্রমে তারা নেমে আসছেন আল্লাহ সুবহানাতালার দেওয়া যে নির্দেশগুলো সেই নির্দেশগুলোকে বাস্তবায়ন করার জন্য তাদের মেইন কাজ থাকে সেদিন কি হচ্ছে সেদিন এই যারা হচ্ছে এই রাতে ইবাদত গুজার করছে ইবাদতে মশগুল রয়েছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে ঈমান এবং সাবের সাথে এই রাতটাকে পালন করছে তাদের জন্য সালাম নিয়ে আসা।

এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আল্লাহ সুবহানাতালা যে স্পেশাল অনার দিচ্ছেন সেই মুসলমানদের জন্য যারা হচ্ছে এই রাতটাকে সম্মানিত করছেন। তো এখানে বলা হচ্ছে "রব্বিহিম" যে তাদের যে রব সে রবের পারমিশন নিয়ে তারা এই কাজ করছেন "মিন কুল্লি আমর" উইথ অল সরস অফ কমান্ড। যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যাদেরকে যে ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন সেই সমস্ত নির্দেশ নিয়ে।

তাহলে একটা জিনিস আমরা দেখছি যে ফেরেশতা তাদের নিজস্ব কোন ইচ্ছাসত্তা নাই। মানুষকে যেমন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং এই স্বাধীনতা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়েছেন যেন আমরা পছন্দ করে নিতে পারি আমাদের রাস্তাটা। কিন্তু আমরা এত গাফিল হয়ে যাই যে এই স্বাধীন যে ইচ্ছাশক্তি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে দিয়েছেন সেটা আবার আল্লাহর এগেন্সই আমরা ব্যবহার করছি। আল্লাহ নিষেদ্ধ কাজগুলো করার জন্য আমরা ব্যবহার করছি। কিন্তু ফেরেশতাদের জন্য কিন্তু এটা প্রযোজ্য না। তারা আল্লাহ সুবহানাতায় পারমিশন ছাড়া কোন কাজ করেন না। এটা বলা হচ্ছে এখানে যে ফেরেশতারা সেই রাতে লাইলাতুল কদরে খুঁজতে থাকে। ডেসপারেটলি তারা খুঁজতে থাকে যে কারা এই রাতটার সুযোগ নিচ্ছে। কারা এই রাতটাতে ইবাদতে মশগুল রয়েছে এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্দেশমতই তারা তাদের কাছে পৌঁছে যায়।

এবং এখানে বলা হচ্ছে "মিন কুল্লি আমর" এখানে "মিন কুল্লি আমর" বলতে যেটা বোঝানো হয়েছে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে এই ফেরেশতাদেরকে যে পারমিশন দিচ্ছেন নেমে আসার জন্য বিকজ অফ এভি সিঙ্গল কমান্ড যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের জন্য নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের ত্যাকদীরে যা কিছু রয়েছে সেগুলো তাদেরকে সেদিন জানিয়ে দিয়েছেন। এখান থেকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে তার ফেরেশতাদেরকে কিভাবে কাজ দিচ্ছেন এবং কিভাবে তারা সে কাজ সম্পন্ন করার জন্য কোন ধরনের দ্বিধা না কোন ধরনের বিচ্যুতি ঘটে না তাদের সেটার ব্যাপারে যে তারা সেই নির্দেশ পালন করার জন্য তখন ঝাঁকে ঝাঁকে এই পৃথিবীর বুকে নেমে আসে এবং আল্লাহ সুবহানা তা'আলার নির্দেশের বাইরে তারা কোন কাজেই লিপ্ত হয় না সুবহানাল্লাহ।

এখান থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যারা হচ্ছে অনুগতবান্দা তাদের একটা বিরাট বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এটা যে আল্লাহর পারমিশন ছাড়া তারা কোন কিছু করেন না। আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোন কিছু করে না। এবং তারা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ঠিক যেভাবে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন সেভাবেই সেটাকে পালন করার জন্য চেষ্টা করে। এই কোরআন এসেছে আমাদের কাছে সে ধরনের নির্দেশনা নিয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই কোরআনের মাধ্যমে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন। কি করতে হবে? সো একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি বা একজন সৌভাগ্যবান ঈমানদারের কাজ হচ্ছে আল্লাহর এ নির্দেশগুলোকে সঠিকভাবে পালন করে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার যে পারমিশন আমাদেরকে দিয়েছেন যা করার জন্য সেগুলোকে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়া এবং সে অনুযায়ী করার জন্য চেষ্টা করা।