📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 9: Ayah 6 || Don’t Be a Ghafil!!

Straight Path28:02

Transcription

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল। সূরা ইয়াসিনের ছয় নাম্বার আয়াত। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এখানে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠানো হয়েছে এমন এক জাতিকে সতর্ক করার জন্য যাদের পূর্বপুরুষগণকে সতর্ক করা হয় নাই এবং যার কারণে তারা গাফেল হয়ে গিয়েছে। সুবহানাল্লাহ।

এর আগের আয়াতের সাথে আমরা যদি দেখি সেখানে আমরা দেখি তিনটা জিনিসকে আমাদের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে এবং একটা হচ্ছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আরেকটা হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকিম এবং আরেকটা হচ্ছে কোরআন। এই তিনটা জিনিসের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যুগে যুগে মানুষদেরকে গাইড করেছেন। এবং এখানে আমরা দেখি যে আমরা যখন কোন একটা জিনিস নতুন তৈরি করি অথবা নতুন জিনিস পাই তখন স্বাভাবিকভাবেই সেটা কিভাবে কাজ করবে, কিভাবে সেটাকে চালাতে হবে সেটার জন্য আমাদেরকে ম্যানুস্ক্রিপ্ট পড়তে হয়, আমাদেরকে সেটার মধ্যে যে ইন্সট্রাকশন দেওয়া থাকে সেটাকে ফলো করতে হয়। তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হচ্ছে আমাদেরকে এই সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে চলার জন্য যে সহজ পথ সরল পথ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়েছেন যেটা আমাদেরকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে সেটা ম্যানুস্ক্রিপ্ট হিসেবে কোরআনকে দিয়ে দিয়েছেন এবং সে ম্যানুস্ক্রিপ্ট কিভাবে ফলো করতে হবে সেটা দেখানোর জন্য হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়ে দিয়েছেন।

তো আমরা যদিও প্রত্যেকটা জিনিসের জন্য এটাই মনে করি যে জিনিসটা নষ্ট না করতে চাইলে এবং আমরা যদি এই জিনিসটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে চাই তাহলে অবশ্যই ইন্সট্রাকশন পড়তে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের জীবনকে সফলতার দিকে নিতে হলে, আমাদের জীবনকে আমরা যদি ব্যর্থ করতে না চাই, আমরা যদি সিরাতুল মুস্তাকিমের উপরে টিকে থাকতে চাই তাহলে সেটার জন্য যে ম্যানুস্ক্রিপ্ট আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়ে দিয়েছেন সেটার ব্যাপারে আমরা মোটেও সিরিয়াস না, আমরা সেটা জানার চেষ্টা করি না। বরং আমরা জানার চেষ্টা করি যে অমুক কি বলেছে, তমুক কি বলেছে, কোথা থেকে আমরা শিখলাম সেটার রিসোর্স আমরা দেখি না, সোর্স যাচাই করার প্রয়োজন হয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এ কোরআন এবং সুন্নাহকে অপিকৃত অবস্থা আমাদের সামনে দিয়ে দিয়েছেন যেন আমরা এই ইন্সট্রাকশন গুলোকে ফলো করে আমাদের জীবনকে সফল করতে পারি।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে তাদের কথা বলেছেন যারা গাফেল হয়ে গিয়েছে যে যাদের সামনে নির্দেশনা থাকলেও তারা সে নির্দেশনাকে খুলে দেখে না অথবা যাদের কাছে নির্দেশনা আসেও নাই সে কারণে তারা গাফেল হয়ে গিয়েছে। এই আয়াতটাকে বুঝার জন্য তাফসীরকারকগণ এটাকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে আমরা যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের লিনিয়েজ তার বংশপরিচয় সম্পর্কে জানতে চাই তাহলে দেখব যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে গোত্র বা বংশ সেখানে সেটা ডিরেক্টলি কানেক্টেড হচ্ছে ইসমাইল আলাইহিস সালামের সাথে। আমরা জানি যে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের যিনি হচ্ছেন আমাদের পিতা, সেই আমাদের মুসলিম জাতির পিতা যিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দুই সন্তান। একজন হচ্ছেন ইসমাইল আরেকজন হচ্ছেন ইসহাক এবং দুজনেই হচ্ছে প্রফেটহুড পেয়েছিলেন এবং তাদের দুইজনের বংশধারায় আমরা যদি দেখি তাহলে দেখব যে ইসহাক আলাইহিস সালামের বংশধারায় পরপর অনেক নবী রাসূল এসেছেন। যেখানে মুসা আলাইহিস সালাম আছেন এবং শেষে ঈসা আলাইহিস সালাম এসেছেন। স সেই ইসহাক আলাইহিস সালামের বংশধরদের মধ্যে অনেক নবী রাসূল এসেছেন। কিন্তু আমরা দেখি যে ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধরদের মধ্যে কোন নবী রাসূল নাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত।

তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে জাতির প্রতি তাকে নাযিল করা হয়েছে। যদিও তিনি সারা জাহানের জন্য, কিন্তু কুরাইশদের মধ্য থেকেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত শুরু হয়েছে। সেখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে তাদের আগে হান্ড্রেড ইয়ারস শত শত বছর আগেও তাদের মধ্যে কোন ধরনের নবী রাসূল ছিল না ইসমাইল আলাইহিস সালাম পর্যন্ত এবং সে কারণেই তারা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের কাছে যে আল আজিজ আর রাহিমের কাছ থেকে যে গাইডলাইন আসার কথা ছিল সে গাইডলাইন অনেকদিন আসে নাই এবং যার কারণ হিসেবে তার যে পূর্বপুরুষরা ছিল তারা গাফিল হয়ে গিয়েছিল। সো এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে আল্লাহ এখানে বলছেন যে আপনি হচ্ছে তাদেরকে স্মরণ তাদেরকে হচ্ছে এখানে ওয়ার্নিং দিচ্ছেন সতর্ক করে দিচ্ছেন যাদের পূর্বপুরুষদেরকে সতর্ক হয় করা হয় না এবং যে কারণে তারা কমপ্লিটলি গাফেল হয়ে গিয়েছে এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলেছেন যে মেজরিটি অফ স্কলারদের মতে এই যে কাফিলুন শব্দটা সেটার অর্থ হচ্ছে এমন একটা অবস্থার মধ্যে থাকা যে একটা কেয়ারফ্রি স্টেটে থাকা যে সে হচ্ছে হোক কেয়ারস এ ধরনের একটা ভাব তাদের তার মধ্যে সবসময় যেখানে তার জীবনের কোন উদ্দেশ্য নাই এবং মূলত গাফেল তাদেরকে বলা হয়ে থাকে যখন তারা ইম্পর্টেন্ট কোন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তারা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ অথবা কোন ইম্পর্টেন্স নাই। এরকম জিনিসের মধ্যেই তারা হচ্ছে নিজেদেরকে ব্যস্ত করে রাখে।

তো আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে বলছেন যেফিলুন তারা হচ্ছে নাউন ফর্মে তাদেরকে বলছেন যে তারা নাউন ফর্ম যখন বুঝায় বুঝানো হয় যে এটা হচ্ছে কন্টিনিউয়াস স্টেট তাদের জন্য। যেটা চেঞ্জ হচ্ছে না। স এটা হচ্ছে এই কেয়ারলেস অবস্থার মধ্যে হচ্ছে এরকম উদাস অবস্থার মধ্যে গাফেল অবস্থার মধ্যে তারা যেন ডুবে আছে। সো এটা হচ্ছে সে ধরনের লোক যারা হচ্ছে রিয়েলিটি যেটা বাস্তবস্থা যেটা সে সম্পর্কে তারা কমপ্লিটলি হচ্ছে অসতর্ক এবং তারা হচ্ছে এরপরে কি হচ্ছে কি ঘটবে সে ব্যাপারে তাদের কোন ধরনের সচেতনতা নাই সো এখানে স্কলাররা বলেছেন যে বিভিন্ন ধরনের গাফলা রয়েছে কিছু হতে পারে দুর্ঘটনাবশত যে হয়ে গেল আবার কিছু হতে পারে ইনটেনশনাল যে ইচ্ছে করেই তারা করছে। স এখানে যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা মূলত তাদের ইনটেনশনাল। তারা ইচ্ছে করেই হচ্ছে নিজেরা উদাসীন হয়ে থাকছে। কোন কিছুকে কেয়ারফুলি নিচ্ছে না এবং সচেতন হচ্ছে না। এবং তারা এটা তাদের পছন্দ করা। চোজেন ইট। যেই গাফলাটা হচ্ছে তারা নিজেরাই ইচ্ছা করে পছন্দ করে সিলেক্ট করেছে। এবং তারা এভাবে থাকতে নিজেদের জীবনটাকে এভাবেই চালিয়ে নিতে তারা পছন্দ করে।

সো এখানে আমরা দেখি যে এই যে সতর্ক করা তাকে বলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হচ্ছে যে আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন আর নাই করুন তারা হচ্ছে গাফলিতের মধ্যে রয়েছে। আমরা দেখি যে সতর্ক করার জন্য কি করতে হয় যে যে হচ্ছে সিচুয়েশন সম্পর্কে ভালো জানে সে হচ্ছে তাদেরকে এসে সতর্ক করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছে তাদের মধ্যেই বড় হয়েছেন। তাদের মধ্যেই থেকেছেন। কিন্তু তারপরও তিনি যখন সতর্ক করছেন তখন তারা এই জিনিসটাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন প্রথম ওপেনলি দাওয়াত দেওয়া শুরু করলেন তখন তিনি কি করলেন? সাফা পর্বতের উপরে উঠে গেলেন এবং সেখানে তিনি উঠে কোরাইশদেরকে সম্বোধন করে বললেন যে তাদেরকে ডাকলেন এবং তার সেই ডাকে সবাই এসে আশেপাশে হাজির হয়ে গেল এবং তাদেরকে বললেন যে তোমরা কি আমি যদি তোমাদেরকে বলি যে এখন পাহাড়ের ওই পাশে একটা দল এসেছে যারা এখনই তোমাদেরকে অটাক করতে প্রস্তুত তোমাদের ধনসম্পদ নিয়ে নিতে প্রস্তুত তাহলে তোমরা কি বিশ্বাস করবে? এক সেকেন্ডও তারা চিন্তা করে নাই কারণ তারা জানে যে তিনি হচ্ছেন আজ সাদিক। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলেন না। তারা বলে উঠলো যে আমরা জানি যে তুমি হচ্ছে ডিপেন্ডেবল। তুমি কখনো মিথ্যা কথা বলো নাই। তো তুমি যা বলবা তাই আমরা বিশ্বাস করি। তাদের এই বিশ্বাস এবং আস্থার কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বললেন যে, তোমাদের কাছে আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে হচ্ছে সেই ধ্রুব সত্যটা নিয়ে এসেছি। এবং এর যে পরিণাম যে তোমরা তোমাদেরকে আমি জানিয়ে দিচ্ছি যে যদি তোমরা এটা ফলো না করো আল্লাহর উপরে বিশ্বাস না করো তাহলে হচ্ছে তোমাদের জন্য আসতেছে চরম আজাব চরম শাস্তি এবং আমাকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন এ ব্যাপারে তোমাদেরকে সতর্ক করার জন্য এবং এখানে আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সতর্ক করার যে কাজটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়েছেন তিনি খুব সিনসিয়ারলি উপস্থাপন করেছেন এবং তাদের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে তারা যাতে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে সিরিয়াসলি চিন্তা করে। কিন্তু আমরা দেখি যে পরিণামে কি হয়েছিল? পরিণামে তারা আসলে তাদেরকে যতই সতর্ক করা হোক না কেন সেই সতর্কতে তারা কান দেয় নাই।

তো এখানে আমরা দেখি যে এই যে লিতিনজিয়া বলা হয়েছে যে আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সতর্ক করার জন্য সেই সতর্ক বাণীটা কোত্থেকে এসেছে? আমরা যদি আগে তানজিলাল আজিজ রহিমের সাথে দেখি তাহলে আমরা দেখি যে এটা এসেছে ফ্রম দ্যা অথরিটি উপর থেকে এসেছে যে যার হচ্ছে সব ব্যাপারে হচ্ছে প্রাধান্য রয়েছে এবং তার উপরে আর কারো কোন ক্ষমতা নেই সেরকম কারো কাছ থেকে এসেছে তাহলে এটাকে অবিশ্বাস করার কি কারণ থাকতে পারে এবং যিনি এটা পাঠিয়েছেন তিনি যে শুধু শক্তিশালী তাই না তিনি তোমাদেরকে চরমভাবে ভালোবাসেন তাহলে যিনি এত ভালোবাসেন যার এত ক্ষমতা তাকে তোমরা কিভাবে ইগনোর করো? সো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কাজ দেওয়া হয়েছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই কাজটাকে সুন্দরভাবে পালন করেছিলেন এবং যেটা আমরা দেখি যে বিদায় হজের ভাষণে তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন সবার কাছ থেকে সাক্ষী নিয়েছেন যে আমি কি তোমাদের কাছে সঠিকভাবে এ কথাগুলোকে পৌঁছে দিয়েছি? তখন সবাই এক বাক্যে সাড়া দিয়েছিল যে হ্যাঁ আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলা হচ্ছে যে তোমার কাজ হচ্ছে তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া তাদেরকে কে মনে করিয়ে দেওয়া যে কেন তাদেরকে এ পৃথিবীতে আনা হয়েছে এবং তারা যদি এটা না করে তাহলে তাদের জন্য কি পরিণাম রয়েছে? তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঠিকই তাদেরকে সতর্ক করেছেন একবার দুইবার না প্রতিনিয়ত প্রতিটা মুহূর্তে তিনি সতর্ক করেছেন তাদেরকে সঠিক পথের দিকে গাইড করেছেন কুফর এবং শিরকের অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসার জন্য কি করতে হবে সেটা তিনি তাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও দেখা গেল যে তারা গাফলুতি সাগরে ডুবে রয়েছে।

সো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যদিও সারা মানবজাতির জন্য পাঠানো হয়েছে কিন্তু ফার্স্ট রেসিপিয়েন্ট ছিল হচ্ছে কুরাইশিয়া আরবরা এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেখানে ডিরেক্টলি হচ্ছে তাদের সম্পর্কে কথা বলছেন এবং তাকে বলে দিচ্ছেন যে তাদের তারা হচ্ছে চরম গাফলতির মধ্যে ডুবে রয়েছে। সূরা কসাসে বলা হয়েছে আমি যখন মুসাকে আওয়াজ দিয়েছিলাম তখন আপনি তুর পর্বতের পার্শে ছিলেন না। কিন্তু এটা আপনার পালনকর্তা রহমত স্বরূপ যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করেন যাদের কাছে আপনার পূর্বে কোন ভীতি প্রদর্শনকারী আগমন করেনি যাতে তারা স্মরণ রাখে। তাহলে এখানেও আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামকে বলা হচ্ছে যে ভীতি প্রদর্শন করার কথা সতর্ক করিয়ে দেওয়ার কথা যাদের কাছে আগে হচ্ছে সতর্কবাণী আসে নাই কারণ আমরা দেখেছি যে ইসমাইল আলাইহিস সালামের পর থেকে অনেক বছর শত শত বছর চলে গিয়েছে যেখানে তাদের জন্য কোন গাইডলাইন তখন ছিল না।

এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে কোরআনের মূল উদ্দেশ্য কি? সো আমরা হচ্ছে কোরআনকে যেভাবে এখন উপস্থাপন করছি বা কোরআনকে যেভাবে ব্যবহার করছি সেটা আসলে কোরআনের মূল উদ্দেশ্য না। কোরআনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কোরআনকে বুঝার সাথে সাথে সে কোরআনের সতর্ক বাণীগুলোকে সচেতনভাবে গ্রহণ করা। তাহলে হচ্ছে আমরা নিজেরা হচ্ছে লস্ট হয়ে যাব না। হারিয়ে যাব না। সো আমরা একবার যদি চিন্তা করি যে কোরআনের সঠিক উদ্দেশ্য কি? কোরআন কেন আমাদের কাছে এসেছে? কোরআনকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এজন্য দিয়েছেন যে আমরা আমাদের ঘরগুলোকে কোরআনের আয়াত দিয়ে ডেকোরেট করব অথবা বিয়ের অনুষ্ঠানে শুধু কোরআন পাঠ করা হবে এবং তারপরে আমরা যা খুশি তাই করতে পারব। তা আমরা আসলে কোরআনকে অনেকটা ডেকোরেটিভ পারপাস নিয়ে এসেছি যে একসাথে বসে কোরআন খতম করো। একসাথে বসে কোরআন শুরু করে পড়। কিন্তু কোরআনের মাঝে যেই জলজ্যান্ত সতর্ক বাণী আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়ে দিয়েছেন সে সতর্ক বাণীর ব্যাপারে আমরা আসলেই সে আরব কাফেরদের আরবদের মতই হচ্ছে গাফেল হয়ে এসেছে গাফেল হয়ে আছি। কোরআনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে টু ওয়েক পিপল টু ওয়ার্ন দেম যে কোরআনের মাধ্যমে আমাদেরকে জেগে উঠতে হবে এই মেসেজটাই হচ্ছে আমাদের কমিউনিটিতে আমাদের সোসাইটিতে আমাদের আশেপাশে ছড়িয়ে দিতে হবে না হলে আমাদের জেনারেশন হচ্ছে তাদের মত লস্ট হয়ে যাবে। আমাদের পরবর্তী জেনারেশন লস্ট হয়ে যাবে। স এই লোকদের কাছে আরবের লোকদের কাছে অনেক বছর ধরেই হচ্ছে গাইডেন্স আসে নাই। স যে কারণে তাদের জন্য এই হেদায়েতের বাণীকে হজম করাটা হচ্ছে কঠিন হবে। তাদের জন্য হচ্ছে এটা লম্বা সময় লাগবে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে তারা হচ্ছে পুরা গাফলের গাফিলতির মধ্যে রয়েছে যে ফাহুম গাফিলুন যে তারা উদাসীন এই ব্যাপারে তারা সচেতন না।

তো এখানে আমরা দেখি যে আমরা গাফেল বা উদাসীনতার কি ধরনের নমুনা আমাদের জীবনের মধ্যে রয়েছে। আমরা দেখি যে আমাদের মধ্যে এটিচিউড এরকম রয়েছে যে আমরা নামাজকে অনেক সময় অবহেলার দৃষ্টিতে দেখি। যে হয়তোবা কনসিস্টেন্টলি দিনের পর দিন আমাদের নামাজ কাজা হয়ে যাচ্ছে। নামাজ বাদ পড়ে যাচ্ছে। সে ব্যাপারে আমরা সচেতন না। নামাজে পড়ার টাইম দেরি হয়ে যাচ্ছে। দেখা যায় যে অন্য জিনিসকে আমরা এত বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি যে এই যে নামাজ হচ্ছে আমার জান্নাতের চাবি যেটা হিসাব হচ্ছে সবচেয়ে আগে নেওয়া হবে সে নামাজকে আমি হচ্ছে পিছনে ফেলে রাখছি যে সব কাজ শেষ করে তারপরে আমি এটা করব। তো এটাই হচ্ছে গাফলতির একটা এক্সাম্পল। আরো এক্সাম্পল যদি আমরা দেখি তাহলে দেখব ম্যাটেরিয়ালিজম যে আমরা হচ্ছে দুনিয়াবী জিনিসকে কে কত বেশি পেতে পারি সেটা প্রতিযোগিতার মধ্যে আমরা নেমে যাই। সাকসেসের জন্য সফলতার জন্য আমরা এত বেশি ব্যস্ত হয়ে যায় যে একটার পর একটা টার্গেট আমাদের যে এটা শেষ করতে হবে আমার ক্যারিয়ারে এই অবস্থায় পৌঁছতে হবে আমার এত বেশি বাড়ি গাড়ি লাগবে। সো একটার পর একটা আমরা আমাদের দুনিয়াবী অর্জনের পিছনে এভাবে লেগে যাই যে আমাদের স্পিরিচুয়াল গ্রোথ বা রেসপন্সিবিলিটির কথা আমরা ভুলে যাই যে নামাজ পরে আমি যখন সময় পাবো তখন নিরিবিলি পড়বো কোরআন সেই কোরআনে পড়ার জন্য আমার দিনের পর দিন কোন সময় হয় না কোরআনকে বুঝার কথা তো অনেক পরে। এগুলোই হচ্ছে সেই গাফলতির নিদর্শন।

আবার আমরা আরো এক্সাম্পল দেখি যে ল্যাক অফ রিফ্লেকশন যে জিনিসটা আমাদের প্রত্যেকের মাঝেই বলা যায় যে অনুপস্থিত সেটা হচ্ছে যে আল্লাহকে স্মরণ করা যে জিকির করা। আমরা জিকিরকে মনে করি যে বসে বসে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ পড়লাম তাহলেই হয়ে গেল। সেটা না বরং আল্লাহর সাথে কানেকশন তৈরি করার জন্য জিকির এবং সেখানে আল্লাহ আমি কোন অবস্থার মধ্যে রয়েছি আল্লাহর সাথে আমার কানেকশনটা কোথায় রয়েছে কতটুকু আমি কমিউনিকেট করছি আল্লাহর সাথে সে জিনিসটা নিয়ে আমরা কখনোই চিন্তা করি না। বরং আমরা বেশি গুরুত্ব দেই কোন জিনিসকে যে আমি আমি যদি এটা করি অন্যরা কি বলবে বা আমার আত্মীয়স্বজন এটাতে খুশি হবে কিনা আমার বাপ মা ভাই বোন এটাকে এপ্রিশিয়েট করবে কিনা সেটা আমরা বেশি গুরুত্ব দেই। তো গাফলতি হচ্ছে সেই জিনিস যে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকে ফেলে রেখে কম গুরুত্বপূর্ণ অথবা কোন গুরুত্ব নয় এরকম জিনিসের পিছনে লেগে যাওয়া এবং আরেকটা উদাহরণ যেটা গাফলতের সেটা হচ্ছে যে আমাদের রিলিজিয়াস যে টিচিং গুলো রয়েছে সেগুলোকে ইগনোর করা ডিসরিগার্ড করা। কোরআন পড়লাম হাদিস পড়লাম পছন্দ হলে আমি সেটা গ্রহণ করলাম পছন্দ না হলে সেটাকে আমি টোটালি আমার জীবন থেকে বাদ দিয়ে দিলাম অথবা কোন জিনিস যেটা আমার যে টার্গেট সে টার্গেটের সাথে সাংঘর্ষিক হচ্ছে সেটাকে আমি কমপ্লিটলি ইগনোর করলাম অথবা সেটাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম। এই সমস্ত কিছুই হচ্ছে গাফলতি। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে হচ্ছে আমরা আমাদের স্পিরিচুয়াল লাইফকে আসলে অনেক পিছনে সরিয়ে দিচ্ছে।

স আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু গাফলতির মধ্যে রয়েছি। যেটার কথা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে সতর্ক করছেন যে তাদের কাছে হেদায়েতের বাণী না আসাতে তারা গাফলতিতে ছিল। কিন্তু আমাদের অবস্থা যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে আমরা দেখব যে হেদায়েতের বাণী আমাদের ঘরে ঘরে থাকার পরেও আমরা কি পরিমাণ গাফলতির মধ্যে রয়েছি। এই গাফলতি থেকে বাঁচতে হলে আমরা কয়েকটি স্টেপ নিতে পারি আমাদের নিজস্ব লাভের জন্য। একটা হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে তাওবা করা। আমি যা গুনাহ করেছি সেটার জন্য আল্লাহর কাছে সেটা বুঝা, রিয়েলাইজ করা, আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া এবং আর কখনো না করার জন্য নিজের কাছে নিজে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া। সূরা নিসার 17 18 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেই তওবা একসেপ্ট করার ব্যাপারে বলেছেন যে দ রিপেন্টেন্স তওবা আল্লাহর কাছে একসেপ্টেড হয় যারা হচ্ছে ইগনোরেন্স অর্থাৎ না জানার কারণে অথবা গাফিলতির কারণে হচ্ছে ভুল করে ফেলেছে এবং তারা সাথে সাথে আল্লাহর কাছে তওবা করেছে।

তারপরে আমরা দেখি যে আরেকটা কাজ করা যায় সেটা হচ্ছে যে মৃত্যুর কথা বেশি বেশি করে স্মরণ করা এবং এর মাধ্যমে দেখা যাবে যে আমরা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সাথে আরো বেশি কানেক্টেড হতে পারছি। সূরা আল মুমিনুনের 99 এবং 100 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমাদের মধ্যে একজনের কাছে আসে সে বলতে থাকে যে হে আল্লাহ হে রব তুমি আমাদেরকে আবার পাঠাও তাহলে আমি হচ্ছে কিছু ভালো কাজ করে রেখে আসতে পারব যেগুলো আমি ফেলে এসেছি। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে এটা হচ্ছে তাদের একটা কথামাত্র কারণ এটা করা তাদের পক্ষে সম্ভব না। তো এখানেও আমরা দেখি যে মানুষ সেদিন আফসোস করবে। আমরা সেদিন বুঝতে পারব যে আমরা কি পরিমাণ গাফলুতির মধ্যে ছিলাম। কিন্তু তখন আমরা এমন একটা লেভেলে চলে যাব যে তখন আর ফিরে আসা সম্ভব না। এটা সংশোধন করাও সম্ভব না।

থার্ড হচ্ছে কনস্ট্যান্টলি হচ্ছে জিকির করা। সো জিকির হচ্ছে দুই ধরনের। একটা হচ্ছে অন্তরের জিকির আকারের একটা হচ্ছে জিহ্বার জিকির। সো অন্তরের জিকির যেটা সেটা হচ্ছে যে মন দিয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যে বিরাটত্ব আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যে নিদর্শন যে সৃষ্টি আমাদের সামনে রয়েছে যে নিয়ামতগুলো আমাদের সামনে রয়েছে সেগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করা এবং সেজন্য অনেক অনেক বেশি কৃতজ্ঞ হওয়া। আর জিভার জিকির যেটা সেটা হচ্ছে যে আমরা যে আজকারগুলো করে থাকি সকাল বিকালের আজকারগুলা হচ্ছে জিকিরগুলা দোয়াগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন ঘুমানোর সময়ের দোয়া ঘর থেকে বের হওয়ার ঘর থেকে ঘরে ঢুকার গাড়িতে উঠার গাড়ি থেকে ঘর ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার খাওয়ার সময় খাওয়ার আগে পরে ওয়াশরুমে ঢুকার আগে পরে সমস্ত কিছুই হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী আমরা যদি আল্লাহকে স্মরণ করতে পারি সেটা হচ্ছে আমাদেরকে সেই গাফিলতি থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারি। বুখারী শরীফের একটা হাদিসে বলা হয়েছে যে যে আল্লাহকে স্মরণ করে তার সাথে তার উদাহরণ যে আল্লাহকে স্মরণ করে না তার উদাহরণটা হচ্ছে এরকম যে একজন হচ্ছে জীবন্ত আরেকজন হচ্ছে মৃত অর্থাৎ যে আল্লাহকে স্মরণ করে তার আত্মা জীবিত থাকে এবং তাকে তার সে হচ্ছে জীবিতের মতই কাজ করতে পারে।

চার নাম্বার যে ওয়ে আমরা ফলো করতে পারি সেটা হচ্ছে যে আমাদের আশেপাশে রাইটিয়াস সঙ্গী রাখা। যারা প্রতিনিয়ত আল্লাহর কথা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিবে এবং প্রতিনিয়ত আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে এবং তার মাধ্যমে আমরা হচ্ছে নিজেদেরকে সঠিক পথে টিকে রাখার জন্য চেষ্টা করতে পারব। পাঁচ নাম্বার ওয়ে যেটা সেটা হচ্ছে যে হারাম যেকোন কাজ থেকে সেটা ছোট বড় যাই হোক না কেন আনন্দের বিষয় হতে পারে খেলা হতে পারে যেকোন জিনিস হোক না কেন সেগুলো থেকে নিজেকে দূরি সরিয়ে রাখা এবং ছয় নাম্বার হচ্ছে এমন জায়গা যাওয়া থেকে বিরত থাকা যেগুলো আসলে আমাদের অন্তরকে কঠিন করে দেয় যেমন যেখানে হচ্ছে সারাক্ষণ হচ্ছে আনন্দ ফুর্তি এগুলোই হচ্ছে যেখানে আল্লাহর স্মরণ হয় না সেসব জায়গা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা এবং তার পরিবর্তে হচ্ছে মসজিদ অথবা যেখানে হচ্ছে হালাকা হচ্ছে যেখানে আল্লাহর কথা স্মরণ করা হচ্ছে সেসব জায়গার সাথে নিজেকে বেশি জড়িত রাখা।

এখানে আমরা দেখি যে লিতুনরামাজিরা এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কাজটা দেওয়া হয়েছে সেটা হচ্ছে যে তার একটা জাতিকে সতর্ক করতে বলা হয়েছে তারা যে ডিপ স্লিপের মধ্যে রয়েছে সেখান থেকে জাগানোর কাজটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়েছেন। এখানে বলা হচ্ছে লিতুনজরামা শব্দটা এখানে হচ্ছে দুইটা অর্থ হতে পারে এবং দুইটা অর্থে আমরা দুই ধরনের ভাব প্রকাশ পেতে দেখি এই আয়াতের মধ্যে। একটা অর্থ হচ্ছে যে নেগেটিভ বুঝানোর জন্য যে আপনাকে তাদেরকে যাতে এমন একটা জাতিকে সতর্ক করা হয় মানজারাযে যাদের পূর্ববর্তী যারা ছিল পূর্বপুরুষ যারা ছিল তাদেরকে সতর্ক করা হয় নাই এবং যে কারণে তারা হচ্ছে গাফলতির মধ্যে ডুবে গিয়েছে। আবার মায়ের আরেকটা অর্থ হতে পারে সেটা হচ্ছে আল্লাজি আল্লাজি বলতে বুঝায় তারা স্পেসিফিক বুঝানো হয়েছে যে এখানে সেই জাতিকে সতর্ক করতে বলা হয়েছে যাদের পূর্বপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল কিন্তু এই সতর্ক করার পরেও তারা হচ্ছে গাফিল হয়ে গিয়েছে। দুইটাই আমরা দেখতে পাই যে ইসমাইল আলাইহিস সালামের পর থেকে শুরু করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত একটা দীর্ঘ সময় তাদেরকে সতর্ক করা হয় নাই। সে কারণে তারা গাফলতির মধ্যে যেতে পারে। আবার তাদের কাছে সতর্কবাণী আসছে। কিন্তু তারপরও তারা গাফলতির মধ্যে নিমজ্জিত কারণ এটাকেই তারা তাদের বেসিক স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়েছে।

সো এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা প্রথমেই ওয়াল কোরআনিল হাকিম সেখানে আল কোরআন আল শব্দটা হচ্ছে স্পেসিফিক বুঝানোর জন্য। দা কোরআন বুঝানোর জন্য বলা হয়েছে। কারণ কোরআন হচ্ছে স্পেসিফিক। কোরআন যখন বলা হয় তখন একটা জিনিসকে বুঝানো হয়। সেখানে অন্য কোন কিছু আর ধারণা করা হয় না এবং এটা তাদের মধ্যে জানা ছিল। কিন্তু এখানে আমরা দেখি কওমান বলা হয়েছে। কাওমানের আগে আল বলা হয় নাই যে এ নির্দিষ্ট আরব জাতির কথাই বলা হচ্ছে। সেটা এখানে বুঝা যায় না। সো কাওমান বলতে সাম নেশন। সো এখানে হচ্ছে এটাকে উজ্য রাখা হয়েছে যে কোন জাতি।

তো আমরা দেখি যে কোরাইশ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপরে হচ্ছে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছিল এবং তারা নিজেদেরকে অনেক বড় মনে করছিল। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদেরকে এখানে ইনসাল্ট করছেন যেন এই যে কোন একটা জাতি এরকম বলে যে তাদের কথা স্পেসিফিকভাবে আল্লাহর কাছে উল্লেখই করছেন না আল্লাহর কাছে তাদের কোন গুরুত্বই নাই যদি তারা আল্লাহর নির্দেশ না মানে। তো এখানে কাওমান বলে জেনারেল ফর্মে রাখার একটা অর্থ হতে পারে যে কোরাইশদেরকে এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা টোটালি ইগনোর করেছেন এনি নেশন যেকোন জাতির কথা এখানে বুঝিয়েছেন। আবার আরেকটা অর্থ হতে পারে যে এটা কুরাইশদের বাইরে আরবের বাইরে সবার জন্যই প্রযোজ্য যে এটা এমন একটা জাতি যে জাতির যাদেরকে সতর্ক করা হলেও তারা হচ্ছে গাফেল হয়ে গিয়েছে। এখানে আমরা দেখি লিতুনজিরা আবার যে যে কারণে লি বলতে এখানে যে সো দ্যাট যে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল এখানে এভাবে বুঝানো হয়েছে।

আমরা এই আয়াতটা থেকে যে জিনিসটা দেখি যে এই যে তাদের কাছে ওয়ার্নিং এসেছে সে ওয়ার্নিংটা কোত্থেকে এসেছে আল আজিজ আর রাহিমের কাছ থেকে যার হচ্ছে হাই অথরিটি রয়েছে আবার যিনি ভালোবাসেন। তাহলে আমরা এখানে আসলে দুইটা অন্যায় হতে দেখি। একটা হচ্ছে যে যে হাই অথরিটি যার উপরে কোন ক্ষমতা নাই তার কাছেই তোমাকে সারেন্ডার করতে হবে তার সাথে তুমি অধ্যত্ব দেখাচ্ছ। আবার এখানে দেখতে পাচ্ছি আমরা যে যাদেরকে এত ভালোবাসা দেওয়া হচ্ছে এত নেয়ামত দেওয়া হয়েছে কোরাইশদের নিয়ামতের কথা আমরা জানি সূরা আল কোরাইশ আল্লাহ আল্লাহ সুবহানাতালা সুন্দরভাবে বলে দিয়েছেন যে এত নেয়ামত দেওয়ার পরও আর রাহিমের পাস কাছ থেকে যে দয়াটা আসছে সেটাকে তারা কমপ্লিটলি ইগনোর করছে। স এটা কত অবাক করা একটা ব্যাপার।

এখানে আমরা আরেকটা জিনিস দেখি যে সতর্ক আসলে কাকে করা হয়। আমি আমার সন্তানকে সতর্ক করি। আমার কাছের যারা রয়েছে আমি যাদেরকে ভালোবাসি। যাদের ব্যাপারে আমি আসলে কেয়ার করি তাদেরকে আমি সতর্ক করব। যাদেরকে আমি চিনি না, যাদের সাথে আমার জানাশোনা নাই, যাদের ব্যাপারে আমার কোন ধরনের দায়িত্ব নাই, তাদেরকে আমি সতর্ক করতে যাবও না। তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন যে এই যে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে, এ সতর্কটাও করা হচ্ছে তাদের প্রতি ভালোবাসার কারণে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা চান তারা সঠিক পথে ফিরে আসুক। এজন্যই তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু তারা তার এই ভালোবাসার কোন মূল্যই দিচ্ছে না। এবং এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হচ্ছে সতর্ক করার জন্য তাকে সতর্ককারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এবং আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুইটা বিশেষ কাজ দিয়ে নবী রাসূলদেরকে পাঠানো হয়েছে। একটা হচ্ছে সতর্ক করার জন্য আরেকটা হচ্ছে তাদেরকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য। তো এই সতর্ক করার জন্য কারণ হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা চান না কেউ গাফেল হয়ে যাক। এবং সে কারণে তিনি আমাদেরকে হচ্ছে ফিতরা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যে প্রত্যেকটা আদম সন্তানকে সৃষ্টি করা হয়েছে সুন্দর ফিতরাতের উপরে এবং পরবর্তীতে তার বাবা-মা তাকে বিভিন্ন ধর্মের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। এই সতর্ক করাটার জন্য যেই সিরাত তানজিল এসেছে সেটা হচ্ছে এই একটা কম্পাস আমাদেরকে গাইড করার জন্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সে গাইড পথে গাইড হিসেবে কাজ করছেন সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে এবং কোরআন আমাদের সাথে সার্বক্ষণিকভাবে রয়েছে যেন হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই সতর্ক বাণী আমরা প্রতিনিয়ত গ্রহণ করতে পারি। যেমন সূরা বাকারা সহ কোরআনে বেশ অনেকগুলো আয়াতেই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠানো হয়েছে সত্য দিয়ে যাতে তিনি হচ্ছেন তাদেরকে সুসংবাদ দিতে পারেন এবং সতর্ক করতে পারেন। সো সুবহানাল্লাহ যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি সেটা খুব সিনসিয়ারলি পালন করেছেন। কিন্তু তারপরও আমরা দেখি যে অসংখ্য মানুষ আজও গাফলুদের মধ্যে রয়ে গিয়েছে।