📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

ভালোবাসার নিষ্ঠুরতায় ছেলেটি বাঁচতে পারি নি | Forget me not explained | Mehazabien | Yash Roshan

abir explainer 14:18

Transcription

ভালোবাসা খুবই সহজ, কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে ঠিকমত বুঝতে পারাটা খুবই কঠিন। ভালোবাসার মানুষটির চাওয়া, ইচ্ছে, স্বপ্নগুলো খুবই ছোট থাকে। আপনি যদি সেই ছোট ছোট স্বপ্নগুলো পূর্ণতা দিতে পারেন, তবেই আপনি সফল; নইলে সেই ভালোবাসা নষ্ট হয়ে যায়।

আজকের এই মুভিটি এমন একটি ভালোবাসার গল্প দিয়ে বানানো হয়েছে, যা দেখলে আপনার প্রিয় মানুষটির কথা মনে হবে। আর প্রশ্ন জাগবে—আপনার প্রিয় মানুষটির ভালোবাসা কতটা খাঁটি? আপনি কি তার সেই ভালোবাসা বুঝতে পারেন? সত্যি বলতে, প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে একটা একটা সত্যিকারের ভালোবাসা আসে। আর সে ভালোবাসাটা ঠিকমত বুঝতে পেরে আগে রাখতে পারলেই জীবনটা সুন্দর হয়। আর সত্যিকারের ভালোবাসা পাওয়ার পরও যদি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে এর থেকে বেশি কষ্টের আর কিছুই নেই।

তো আর কথা না বাড়িয়ে, সরাসরি চলে যাচ্ছি মূল গল্পে। গল্পে যাওয়ার আগে একটাই অনুরোধ—চ্যানেলে নতুন হয়ে থাকলে সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন।

গল্পের শুরুতেই আমরা ইয়াস রোহানকে দেখতে পাই। এই গল্পে তার নাম থাকে ফাহিম। সে সময় সে একটু ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে। তখন সে বাইরে দাঁড়িয়ে ভেতরে একটা পার্টির অনুষ্ঠান দেখতে পায়। সেখানকার কনভার্সেশন থেকে আমরা বুঝতে পারি, মুর্তজ্জা নামের একটা ছেলে অর্থি নামের একটা মেয়েকে হাঁটু গেড়ে প্রপোজ করছে। আশেপাশের সব বন্ধুরা সেটাকে সেলিব্রেশন করছে। আর এদিকে অর্থি প্রপোজালটা একসেপ্ট করতে সময় নিচ্ছে। মনে হচ্ছে, সে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি—সে ঠিক করছে নাকি ভুল করছে। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থি মুর্তজার প্রপোজালটা একসেপ্ট করে নেয়। ফাহিমের দৃশ্যগুলো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিল। এরপর ফাহিম দৌড়ে সেখান থেকে চলে যায়। আর পেছন পেছনে অর্থিও তার দিকে যায়। আর এখানে আমরা অর্থিকে দেখি। পারি এই অর্থি চরিত্র অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। অর্থি ফাহিমের পেছন পেছনে এসে তাকে থামায়। এরপর অর্থি ফাহিমের কাছে জানতে চায়, সে হঠাৎ এখানে কেন। তখন ফাহিম অভিমান ছুড়ে বলে, "এটা তো পাবলিক প্লেস, যে কেউ আসতে পারে।" তখন অর্থি জানতে চায়, সে গত পাঁচ মাস কোথায় ছিল আর আজকে হঠাৎ তার জন্মদিনে ফুল নিয়েই বা কেন আসলো। তখন ফাহিম কোন উত্তর না দিয়ে জানতে চায় লোকটাকে। অর্থি তখন তার হাতে রিং রেখে বলে, "আজকে আমাদের রিং সেরেস্ট হলো।" ফাহিম তখন তাকে ফুল দিয়ে কংগ্রাচুলেশন জানিয়ে, এক বুক অভিমান নিয়ে সেখান থেকে চলে যাচ্ছিল। এমন সময় অর্থি রাগ দেখে জানতে চায়, সে এতদিন কোথায় ছিল। ফাহিম বলে, "সেটা জেনেইবার আর কি লাভ? তুমি তো খুব আনন্দে মুভ অন করে ফেলেছো।" এরপর ফাহিম তাকে "বেস্ট অফ লাক" বলে সেখান থেকে চলে যায়। অর্থির তখন সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। তার মনে প্রশ্ন জাগতে থাকে—ফাহিম এতদিন কোথায় ছিল? এদিকে মুর্তজ্জা তাকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে চলে আসে।

এরপর খাবার টেবিলে বসে অর্থির বান্ধবীরা মুর্তজার প্রপোজালের ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড দিতে চায়। তখন অর্থি জানায়, "যেহেতু আজকে এই বিষয়টা আমরা ওইভাবে ছাড়া করেছি, তাহলে এই বিষয়টা আপাতত এখানেই থাকুক।" আর অজাহাত দেখিয়ে সে ছবিগুলো আপলোড দিতে মানা করে। এরপর মুর্তজ্জা অর্থিকে তার বাসায় দিয়ে আসতে চায়, কিন্তু অর্থি জানায় সে একাই যেতে পারবে। তবুও মুর্তজ্জা বিভিন্নভাবে অর্থিকে কনভিন্স করার চেষ্টা করে, কিন্তু অর্থি জানায় সে খুবই টায়ার্ড, তাই সে একাই যেতে চায়। অর্থি তখন একাই বাসায় যাচ্ছিল আর উদাস মনে বাইরে তাকিয়েছিল। সে তখন তার আর ফাহিমের অতীতের দিনের কথা মনে করে। একদিন অর্থি সিএনজি নিয়ে যাচ্ছিল আর ফাহিম ফুটপাথ দিয়ে হাঁটছিল। অর্থি তখন সিএনজি থামিয়ে ফাহিমকে তুলে নেয় আর জানতে চায়, ফাহিম কেন তাকে ফলো করছে। তখন ফাহিম বলে, "আমি তোমাকে ফলো করতেছি নাকি তুমি আমাকে এভয়েড করতেছো? আমাদের মধ্যে যা হয়েছে সব মিউচুয়াল হয়েছে।" তাদের মধ্যে তখন পূর্বের কোন একটা বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল। আর সে সময় আমরা দেখি, সিএনজিটা কোনভাবেই স্টার্ট নিচ্ছিল না। আর তাই তখন তারা দুজন হাঁটা শুরু করে। তখন অর্থি বলে, "শোনো, স্টাডি ট্যুরে যা হয়েছে সব ভুলে যাও। আই ওয়াজ ড্রাঙ্ক।" তখন ফাহিম বলে, "ইউ কিসড মি।" তাদের এসব কথা থেকে আমরা বুঝতে পারি, স্টাডি ট্যুরে অর্থি মাতাল হয়ে ফাহিমকে কিস করে ফেলেছিল। আর তাই এখন ফাহিম অর্থির সাথে প্রেম করতে চাচ্ছে। তখন অর্থি তাকে সবকিছু ভুলে যেতে বলে। তখন ফাহিম বলে, "এসব স্টাডি কি ভুলা যায়?" অর্থি তখন বলে, "আমি কিছু করি নাই, তুমি শুরু করছো। আমি জাস্ট পার্টিসিপেন্ট করছি। আর যা হওয়ার হয়েছে। আর কোন রেস্ট হয়ে যেতে পারবা না।" তখন ফাহিম বলে, "আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে কোন কানেকশন আছে যেটা আমি ফিল করি। কিছুদিন গেলে হয়তো তুমিই ফিল করতে পারবা।" অর্থি তখন ফাহিমের এসব কথা শুনে চুপ করে থাকে। তখন ফাহিম বলে, "আমি তো তোমাকে কোন কমিটমেন্টে যেতে বলি নাই। আমরা চেষ্টা করি, যদি ভালো না লাগে তাহলে সব বাদ, যে যার রাস্তায়।" অর্থি তখন ফাহিমের এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। তবে সে ফাহিমকে কিছু শর্তের কথা বলে। ফাহিম তখন সব শর্তে রাজি হয়ে যায়। এরপর ফাহিম অর্থিকে জানায়, "আমি তো ভাবছি তুমি রাজি হবা না, কিন্তু তুমি যে এত সহজে রাজি হয়ে যাবা এটা আমি কখনোই ভাবি নাই। এই দেখো, তোমাকে পটানোর জন্য আমি তোমার ছবিও এনেছি।" এসব কথা শুনে অর্থি ভীষণ রেগে যায়। আরেকটা সিএনজি ডাক দেয়। এরপর সে ফাহিমের হাতে থেকে ছবিটা নিয়ে সিএনজিতে উঠে পড়ে।

এরপর সিন বর্তমানে আসে। অর্থি তখন তার হাতের রিংটা দেখে ভীষণ মন খারাপ করে আর ভাবতে থাকে—হারিয়ে যাওয়া ফাহিম আবারো ফিরে এসেছে, সে এখন কি করবে, কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। এরপর সে রিংটা খুলে তার ব্যাগে রেখে দেয়। অর্থি বাসায় আসলে তার মা তাকে দেখে ভীষণ খুশি হয় আর অর্থির রিংটা দেখতে চায়। অর্থি তখন কিছুটা অবাক হয়ে ভাবতে থাকে, তার মা কিভাবে এঙ্গেজমেন্টের বিষয়টা জানলো। মূলত মুর্তজ্জা অর্থিকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য অর্থিকে না জানিয়ে তার বাবা-মাকে এঙ্গেজমেন্টের বিষয়টা জানিয়ে দিয়েছে। অর্থি তখন তার ব্যাগ থেকে রিংটা বের করে তার মাকে দেখায়। তখন তার মা আবারো রিংটা তার হাতে পড়িয়ে দেয় আর বলে, "যে হসপিটাল থেকে ইমারজেন্সি একটা কল আসছে, তাই তাকে যেতে হবে।" মূলত অর্থির মা একজন ডাক্তার।

পরের দিন অর্থি অফিসে যায় আর একটা মিটিংয়ে জয়েন করে। তখন তাদেরকে নাস্তা করার জন্য সমসা দেওয়া হয়। আর এটা দেখে অর্থির এটা পুরনো একটা দিনের কথা মনে হয়। একদিন অর্থি খুব মন খারাপ ছিল। তখন ফাহিম এসে এক প্লেট বোম্বাই মুরুঘি ঝাল সমসা নিয়ে আসে। এটা দেখে অর্থি আরো রেগে যায় আর বলে, "একটু পর আমার এক্সাম, এখন আমার রিভিশন দেওয়া উচিত, এখন আমি তোমার সাথে বসে সমসা খাচ্ছি?" তখন ফাহিম বলে, "এক্সামের আগে নো রিভিশন, এখন তো রিলাক্স দরকার।" তারা দুজন তখন তাদের সুন্দর স্বপ্নগুলো শেয়ার করতে থাকে। এরপর দৃশ্য আবারো বর্তমানে আসে। মিটিং শেষ করে সবাই চলে যায়। মুর্তজ্জা এবার তার বাবা-মাকে অর্থির বাসায় পাঠাতে চায়, কিন্তু অর্থি বলে সে তার বাবা-মার সাথে কথা বলে মুর্তজ্জাকে জানাবে। বাইরে এসে অর্থি ফাহিমকে কল করে, কিন্তু ফাহিমের ফোন বন্ধ ছিল।

এরপর আমাদেরকে আবারো ছোট্ট একটি ফ্ল্যাশ দেখানো হয়। একদিন ভার্সিটিতে অর্থি আর ফাহিম ক্লাসের বাইরে কথা বলছিল। তখন তারা বাস থেকে কারো উপস্থিতি টের পায়। তাই তারা দুজন তখন আড়ালে লুকিয়ে পড়ে এবং একে অপরকে কিস করে। আর এতে আমরা বুঝতে পারি, তারা তাদের সম্পর্কে খুবই সিরিয়াস ছিল। অর্থি যখন ড্রাইভ করছিল, তখন তার এই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে আর প্রচন্ড মন খারাপ হয়। সে তখন মুর্তজ্জাকে একটা ভয়েস মেসেজ করে আর মুর্তজ্জার কাছ থেকে কিছু সময় চেয়ে নেয়। এরপর অর্থি চলে যায় ফাহিমের বাসায়। অনেকক্ষণ কলিং বেল চাপার পর, ভৃত্য এসে দরজা খোলে। সে তখন অর্থিকে জানায়, ফাহিম হসপিটালে ভর্তি। ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল, ওর অবস্থা খুবই খারাপ, সবাই এখন হসপিটালে। এটা শুনে অর্থি একদম হতবম্ব হয়ে যায় আর তাড়াতাড়ি করে হসপিটালে আসে। তার সামনে দিয়েই তখন ফাহিমকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। মূলত অর্থির মা ফাহিমের ট্রিটমেন্ট করছে। আর গতকাল যে সে ইমারজেন্সি হসপিটাল আসলো, সেটা মূলত ফাহিমের জন্যই। অর্থির মা অর্থিকে জানায়, ফাহিমের অবস্থা ভীষণ খারাপ। এরপর অর্থিকে দেখে ফাহিমের বন্ধু সজীব এগিয়ে আসে। সে অর্থিকে জানায়, "ফাহিমের অবস্থা ভালো না, ফাহিম নাকি লাইফ সাপোর্টে আছে, ছয়তলার উপর থেকে লাফ দিয়েছে, বুকের একপাশের হাড় একদম গুঁড়ো হয়ে গেছে, বা পাটু কেটে ফেলা হয়েছে।" এসব শুনে অর্থির মনটা ভাঙচুর হয়ে যায়। সে কান্নাচরিত গলায় জানতে চায়, ফাহিম এরকম কেন করল? সজীব বলে, "সেটা সে নিজেও জানে না।"

এরপর অর্থি বাসায় আসে আর অনেক খোঁজে খুঁজে পর ফাহিমের আকাশ সেই ছবিটা পায়। সে তখন ছবিটা ভালো করে দেখে বুকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে। অর্থির তখন মনে পড়ে, একবার ফাহিম কিছুদিনের জন্য উধাও হয়ে গেছিল। তখন সে ফোনটা অফ করে রেখেছিল। এরপর দুজনে দেখা করে, অর্থি তখন প্রচন্ড রেগেছিল। ফাহিম তখন বলে, সে হঠাৎ করে চলে গিয়েছিল, তাই সে অর্থিকে জানাতে পারেনি। আর তার ফোনে পানি ঢোকার কারণে ফোনটা অফ ছিল, এজন্য সে অর্থির সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। কিন্তু অর্থি এসব এক্সকিউজ মানতে চায় না। কারণ অর্থির মতো রিলেশন শুরু হয় ভালোবাসা দিয়ে আর টিকে থাকে দায়িত্ববোধ দিয়ে। তাই সে এই রিলেশনটা কন্টিনিউ করতে ফাহিমকে কিছু টার্মস এন্ড কন্ডিশন দিতে চায়। আর বরাবরের মতই ফাহিম এক পায়ে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু তার আগে ফাহিম অর্থিকে ডেডিকেট করে একটা গান শোনায়। সত্যি বলতে, গানের কথাগুলো বেশ মজার ছিল, যার কারণে অর্থির মনটা নিমিষেই ভালো হয়ে যায়।

এরপর অর্থি সজীবের সাথে দেখা করে। আসলে তারা কেউই বুঝতে পারছে না যে ফাহিম হঠাৎ করে কোথায় চলে গিয়েছিল, আবার ফিরে এসে হঠাৎ করে এমন কাজ কেন করল। এরপর সেখানে ফাহিমের মায়ের সাথে অর্থির দেখা হয়। তখন ফাহিমের মা অর্থির কাছে জানতে চায়, তারা আর ফাহিমের পরিচয় কিভাবে হলো। তখন অর্থি জানায়, ফাহিমকে ভার্সিটির সবাই চেনে। ভার্সিটির ফি কমানোর জন্য ফাহিম আন্দোলন শুরু করেছিল আর এজন্য ফাহিমকে দুই সেমিস্টারের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। এরপর অর্থি আবার সজীবের সাথে দেখা করে আর জানতে চায়, ঘটনার দিন বাসায় কে কে ছিল। সজীব জানায়, "ফাহিম তো ফ্ল্যাটে একাই থাকতো, ওই টাইমে হয়তো শুধু কাজের লোক ছিল। আর তাছাড়া ফাহিমের মা তো ওই বাসায় থাকে না, বিয়ের পর সে তার হাজবেন্ডের সাথে থাকে।" আর এই সময় অর্থি জানতে পারে, ফাহিমের মা ফাহিমকে একা রেখে আরেকটা বিয়ে করেছিল।

পরদিন সকালে বাইরে একটা বিড়াল ডাকছিল। অর্থির তখন মনে পড়ে, একদিন ফাহিম তার জন্য একটা বিড়ালের বাচ্চা নিয়ে আসে, যেটা দেখে অর্থি খুব খুশি হয় আর বলে, "নিশ্চয়ই ওর মা ওকে খুঁজতেছে।" ফাহিম বলে, "আচ্ছা, আমি যদি কখনো হারিয়ে যাই, তুমি কি করবা?" অর্থি বলে, "তুমি তো বিড়ালের বাচ্চা না, হারাবা কেমনে? তারপরও হারালে আমি তোমাকে খুঁজে বের করব।" অর্থি তখন জানতে চায়, সে হারালে ফাহিম কি করবে? তখন ফাহিম বলে, সে অর্থিকে হারাতেই দেবে না, এভাবেই সারাজীবন ধরে রাখবে। এসব পুরনো স্মৃতি মনে করে অর্থি খুবই কষ্ট পায়।

এরপর অর্থি মুর্তজ্জার সাথে দেখা করে আর বলে, অর্থির মনে হচ্ছে সবকিছু খুব তাড়াহুড়া হচ্ছে, সে এখন এই মুহূর্তে বিয়ের জন্য প্রস্তুত না, আর এজন্য তার কিছুটা সময় দরকার। তখন মুর্তজ্জা অর্থির এই মতামতকে সম্মতি জানায়। এরপর অর্থি হসপিটাল আসে। সেখানে অর্থি, ফাহিমের মা এবং ফাহিমের ফুপি ছিল। ফাহিমের ফুপি তখন ফোনে কাউকে ফাহিমের অবস্থার কথা বলছিল আর অনেক কান্না করছিল। ফাহিমের ফুপির কান্না দেখে অর্থি সহ্য করতে পারে না। সে ফাহিমের ফুপিকে জিজ্ঞেস করে, "আপনি কি সুইডেন থাকেন? ফাহিমও কি সুইডেন ছিল?" তখন ফাহিমের ফুপি বলে, "আমি ফাহিমকে সুইডেন নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওর মা যেতে দেয়নি। যদি ফাহিম আমার সাথে থাকতো, তাহলে আজ এমন হতো না।" অর্থির কাছে বিষয়টা তখন খটকা লাগে, কারণ ফাহিমের মা তাকে বলেছে ফাহিম এতদিন সুইডেন ছিল। এর মধ্যে ফাহিমের মা চলে আসে আর বলে যে, ডাক্তার বলেছে বাঁচার কোন চান্স নেই। ফাহিমের ফুপি তখন বলে, লাইফ সাপোর্ট খুলে দিতে। সে বলে, "শুধু শুধু ছেলেটা কষ্ট পাচ্ছে।"

পরের দিন অর্থি ফাহিমের বাসায় যায় আর ফাহিমের মাকে জিজ্ঞেস করে, আসলেই ফাহিম গত পাঁচ মাস কোথায় ছিল। ফাহিমের মা তখন বলে, "আমি জানিনা, আমার সাথে রাগ করে ও বাড়ি থেকে চলে যায়, কোথায় গিয়েছিল, কোথায় ছিল আমি আসলেই জানিনা।" অর্থি তখন বলে, "তাহলে আপনি কেন বলেছিলেন ও সুইডেন ছিল?" ফাহিমের মা তখন জানায়, "কারণ ফাহিম সেদিন যাওয়ার আগে আমাকে বলে যায়, ওকে খোঁজাখুঁজি করলে ও সুইসাইড করবে।" সে তখন ফাহিমের কথা মনে করে অনেক কান্না করতে থাকে আর অর্থিকে জানায়, সে ফাহিমের অনুমতি নিয়ে আরেকটা বিয়ে করেছিল, কিন্তু বিয়ের পর ফাহিম একা থাকতে শুরু করে। ফাহিমের মা কাঁদতে কাঁদতে বলে, তার কারণেই ফাহিম এমনটা করেছে, এর জন্য সেই দায়ী। এরপর অর্থি চলে যায় আর সজীবকে ফোন দিয়ে জানতে চায়, "আচ্ছা, ফাহিম সুইডেনে যাওয়ার আগে কি তোমরা বান্দরবান গিয়েছিলে?" এরপর সজীব বলে, "হ্যাঁ, গিয়েছিলাম।"

এরপর গল্পটা ফ্ল্যাশব্যাকে যায় আর আমরা দেখি, বান্দরবান থেকে ফেরার পর অর্থি ফাহিমের সাথে খুবই রাগারাগি করে আর বলে, "আমাকে না জানিয়ে তুমি কেন গিয়েছিলে?" তখন ফাহিম বলে, "আমি তো তোমার জন্য গিফট আনার জন্য বান্দরবানে গিয়েছিলাম।" অর্থি তখন তার কাছে গিফট চায়। তখন ফাহিম বলে, "গিফট তো এখানে না, গিফট বান্দরবানে।" অর্থি তখন বিষয়টা মজা মনে করে। এরপর তাদের মধ্যে অনেক কথা কাটাকাটি হয় আর দৃশ্য বর্তমানে আসে। অর্থি তখন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পাহাড়, পর্বত, ঝর্ণাধারা পেরিয়ে অর্থি যেতে থাকে সেখানে, যেখানে ওই সময় একটা ফাহিম এসেছিল। একটা মেয়ে অর্থিকে একটা বাড়ি দেখিয়ে দেয়। সেই বাড়ির একজন লোকের কাছে অর্থি তার পরিচয় দিলে লোকটা সহজেই অর্থিকে চিনতে পারে। সে বলে, "ফাহিম দাদা খুব ভালো মানুষ ছিল। পাহাড়ে একটা জুমড় আছে, যেটা ফাহিম দাদার খুব পছন্দের ছিল। এখান থেকে যাওয়ার আগে সে আমাকে কিছু টাকা দিয়ে বলেছিল, ঘরটা সাজিয়ে রাখতে, কারণ সে নাকি তার মনের মানুষকে নিয়ে এখানে আসবে। এর কিছুদিন পর সে আবারো এখানে আসলো, কিন্তু একা। তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'মনের মানুষ আসলো না দাদা?' সে তখন কোন কথা বলল না। তারপর সে ওই জুমড়ে প্রায় পাঁচ মাস ছিল। সে বেশি কথা বলতো না, সবসময় নিজের মত একা একা থাকতো। এরপর একবার আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'কেমন আছে দাদা?' সে বলেছিল, 'এই প্রশ্নের উত্তরটা এক কথায় বলা যায় না, আর এত কথা শোনার ধৈর্য কারো নেই।'" এরপর সেই লোকটি জানতে চায়, "কয়েকদিন আগে তো আপনার জন্মদিন গেল, তাই না? ফাহিম দাদা তো আপনার জন্য ঢাকায় গিয়েছিল। যাওয়ার আগে আমাকে বলেছিল, জুম কোডটা দেখে রাখতে। পরের দিন সে আমাকে ফোন করে বলল যে, ঘরটা যেন পুড়িয়ে ফেলে, কিন্তু আমি পুড়ি নাই। আমার মনে হয়েছিল, সে রাগ করে বলেছে।"

এরপরের দিন সকালবেলা অর্থি সেই জুমড় ঘরটাতে যায়, যেটা সত্যি অসাধারণ ছিল। সেখানে ছিল ফাহিমের পড়ার কিছু বই। ঘরের জানালা দিয়ে পাহাড় দেখা যায়। যেখানে একটা বারান্দা ছিল, যেখানে দাঁড়ালে পাহাড়গুলোকে খুব ছোট মনে হয়। অর্থি তখন ফাহিমের কথা মনে করে খুব কষ্ট পায় আর অনেক কান্না করতে থাকে। কারণ ফাহিম অর্থির ইচ্ছে পূরণ করার জন্যই এই জুমড়টা রেখেছিল, উইচে ফাহিম বলেছিল, "তোমার জন্য একটা গিফট আছে বান্দরবানে।" এটাই রেখেছিল অর্থির জন্য। এরপর অর্থি জুমড়টা পুড়িয়ে দেয়। কারণ সে তো আসলেই ফাহিমকে বুঝতেই পারেনি, সে ফাহিমের ভালোবাসাটাও বুঝেনি। সে ভাবে সে ফাহিমের যোগ্য না।

এরপর অর্থি ফিরে এসে দেখে ফাহিম আর বেঁচে নেই। ফাহিমের মা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তখন ফাহিমের মা বলে, "যদি আমি ফাহিমকে আরেকটু বোঝার চেষ্টা করতাম, তাহলে হয়তো এরকম হতো না।" অর্থি তখন কাঁদতে কাঁদতে বলে, "না, আমি যদি ফাহিমকে একটু বুঝতাম, তাহলে এমন হতো না।" অর্থি তখন তারা আর ফাহিমের রিলেশনের কথাটা জানিয়ে দেয়। সে আরো বলে যে, "যেদিন ফাহিম বাসা থেকে বের হয়, ওইদিন দুপুরে আমার সাথে খুব বাজে রকমের ঝগড়া হয়। গত পাঁচ মাস ফাহিম বান্দরবানে ছিল। আমার বার্থডেতে ও ঢাকায় এসেছিল, কিন্তু এসে দেখে আমার এই কলিং আমাকে প্রপোজ করছে আর আমি সেটা একসেপ্ট করি।" ফাহিমের মা তখন বলে, "এই কথাটা তুমি আর কাউকে বলো না। ফাহিমের ছোটবেলা কেটেছে ওর বাবার জন্য অপেক্ষা করতে, আর এখন তুমি বলছো ও তোমার জন্য সুইসাইড করেছে, তাহলে ওর জীবনে আমি কোথায়? আমি ওর মৃত্যুর জন্য দায়ী হতে চাই। তুমি সত্যিটা কাউকে বলবে না আর তুমি কোনদিন আমার সামনে আসবে না।" অর্থি তখন কাঁদতে কাঁদতে চলে যায় আর মুর্তজ্জাকে রিংটা ফেরত দেয়। সে তখন বিষন্ন মনে ভাবতে থাকে, "আমি যদি ফাহিমকে আরেকটু বোঝার চেষ্টা করতাম, তাহলে আজকে এমন হতো না।" নিজের প্রতি খুব অভিযোগ হয় অর্থির। আর এরকম একটা অপূর্ণতার গল্প রেখে মুভিটি শেষ হয়ে যায়।

ভালোবাসা সুন্দর, যদি সেই ভালোবাসাকে যত্ন দিয়ে আগলে রাখা যায়। বর্তমান সময়ের ভালোবাসা হচ্ছে এমন—যখন একপক্ষ চায়, তখন আরেক পক্ষ রাজি থাকে না; আর যখন দুই পক্ষই চায়, তখন পরিবার রাজি থাকে না; আর যখন পরিবার, দুই পক্ষ সবাই রাজি থাকে, তখন পরিস্থিতি ঠিক থাকে না। তাই সময় থাকতেই মনের মানুষকে আপন করে নিন, ভালোবাসাকে যত্ন নিন, সম্পর্ককে পবিত্র করুন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। বিদায় নিচ্ছি এখানেই। পরবর্তী ভিডিওর নোটিফিকেশন পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। আল্লাহ হাফেজ।