📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 32: Ayah 24,25|| Save Yourself from Misguidance

Straight Path18:13

Transcription

24 নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে, "আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। ইন্নালিল্লাহি দলালিম মুবিন।" এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব। অর্থাৎ, আমি যদি এ ধরনের কাজ করি, যেই মূর্তিগুলো বা যাদের ইবাদত আমি করছি, জানি যে তারা আমার ক্ষতি বা কোন ভালো করতে পারবে না এবং তাদেরকেই আমি আমাকে রক্ষা করার জন্য ডাকতে থাকি, তাহলে এটা হচ্ছে একটা প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতা।

সো, এর মাধ্যমে সে নিজের নিজের এক্সাম্পলটা দিয়ে সে আসলে বুঝাতে চাচ্ছে যে এই পথ যেই অনুসরণ করবে না কেন, সেটা হচ্ছে তাদেরকে মিসগাইডেড করবে, তারা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। সো, ইন্না সরি, ইন্নি আমি করে বলা হচ্ছে যে, "নিশ্চয়ই আমি ইজাল্লাফি দলালি মুবিন।" দলাল মানে হচ্ছে মিসগাইডেন্স, পথভ্রষ্টতা। আর মুবিন শব্দের অর্থ হচ্ছে স্পষ্ট। এবং এখানে বলা হচ্ছে ফি, ফি মানে হচ্ছে কোন কিছুর ভিতরে অবস্থান করা। তো বলা হচ্ছে যে, আমি যদি এ ধরনের কাজ করি, তাহলে আমি মূলত এই যে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা, সেটার মাঝেই ঢুকে গেলাম। সেটা চারদিক থেকে আমাকে ঘেরা আউট করে ফেলল এবং সেখান থেকে আমি আর বের হতে পারবো না। সো, এটা একটা এমন একটা মিসগাইডেন্সের কথা বলা হচ্ছে যেটা ভেরি সিরিয়াস, ওপেন, ক্লিয়ার মিসগাইডেন্স।

তো আল্লাহ যখন মিসগাইডেন্স এর কথা বলে, সাধারণত তিনি ফি শব্দটা ব্যবহার করে থাকেন। সো, এর মানে হচ্ছে যে একটা বাবলের ভিতরে যেমন কোন জিনিসকে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে সেটা আর বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না, সেরকমভাবে যখন কেউ মিসগাইডেন্স এর ভিতরে ঢুকে যায়, তখন সে যেদিকেই তাকায়, শুধুমাত্র এই পথভ্রষ্টতার রাস্তায় দেখতে পায় আর ভালো জিনিস সে আর দেখতে পায় না। সো, এটা অনেকটা হচ্ছে পথভ্রষ্টতার মধ্যে যেন সে ডুবে গিয়েছে, সেরকম অবস্থার মধ্যে যে তার চারপাশে সে আর আলোর কোন দেখা পাচ্ছে না।

এবং মুবিন শব্দটা আমরা এর আগেও দেখেছি, মুবিন শব্দটা বালাগুল মুবিন বলা হয়েছে যে তাদের কাছে ক্লিয়ার গাইডেন্স পৌঁছিয়ে দেওয়ার কথা। আর এখানে বলা হয়েছে একদম ক্লিয়ার মিসগাইডেন্স এর কথা। সো, এখানে এই ব্যক্তি তাদের কাছে এসে বলল যে, সে নিজেও যদি এটাকে রিফিউজ করে, এর এগেন্স্টে কাজ করে এবং তাদের মত এরোগ্যান্ট, স্টারবর্ন হয়ে যায় যে মেসেজ তাদের কাছে দেওয়া হচ্ছে, যেই বালাগুল মুবিন সুস্পষ্টভাবে তাদের সামনে উপস্থিত করা হয়েছে, সেটা যদি সে না করে, তাহলে তার রাস্তাটা কি হবে? দলালিম মুবিন, এটা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা, এটার ব্যাপারে কোন ধরনের সন্দেহ থাকবে না। সো, এখানে তার এলাকার লোকদেরকে সে তিনি আরেকটা মেসেজ দিচ্ছেন যে, তোমরা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো এবং তিনি তোমাদের কাছে যে সুস্পষ্ট পথের দেখা দেওয়ার জন্য মেসেঞ্জারদেরকে পাঠিয়েছে, তাদের কথা অনুসরণ না করো, তাহলে তোমাদের তোমরা ধ্বংসের মধ্যে পড়েছো, এমন একটা ধ্বংস যেখান থেকে তোমরা বের হয়ে আসতে পারবে না।

তারপরে 25 নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে যে, "ইন্নী আমানতুবি রব্বিকুম ফাসমা।" আমি নিশ্চিতভাবে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্ব স্থাপন করলাম। অতএব, আমার কাছ থেকে শুনে নাও। এটাও ইন্টারেস্টিং। আমরা দেখি তিনি কি বলছেন এখানে। এই আয়াতে এসে যে, 25 নাম্বার আয়াতে আমরা দেখি সামথিং ভেরি পাওয়ারফুল। তিনি বলেন যে, তার লোকদেরকে তার যে কনফিডেন্স, এখানে আমরা দেখি ফার্ম স্ট্যান্স, যে দৃঢ়তার সাথে তিনি এই কথাগুলো বলছেন যে, ওপেনলি তিনি ডিক্লেয়ার করছেন যেখানে তার মেসেজ সুস্পষ্টভাবে তাদের সামনে তুলে ধরেছেন এবং তিনি বলছেন, "ইন্নী আমানতু," নিশ্চয়ই আমি, আমি বিশ্বাস করলাম যে, আই অলরেডি বিলিভ, এটা ব্যাপারে কোন ধরনের সন্দেহ নাই। সবার সামনে আমরা একবার চিন্তা করি যে, সবাই হচ্ছে এত চরম বিরোধী যে যারাই এ কথা বলছে তাদেরকেই তারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এর মধ্যে এই একজন সাধারণ লোক তার কত সাহস যে সে তাদের সামনে এসে জোর গলায় ঘোষণা করে, "আমি অবশ্যই বিশ্বাস স্থাপন করলাম।" আমানতু, এটা হচ্ছে পাস্ট টেন্সে বলা হয়েছে। পাস্ট টেন্সে বলার অর্থ হলো যে, ঘটনা সংঘটিত হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, আমার বিশ্বাসটা হচ্ছে এরকম যে, এই ব্যাপারে নিশ্চিত, এটার ব্যাপারে কোন ধরনের সন্দেহই নাই।

এমনভাবে সে তার কথাটাকে উপস্থাপন করল। কি বিশ্বাস করলো? তিনি বিশ্বাস করলেন "বি রব্বিকুম" যে, "বি রব্বিকুম।" সুবহানাল্লাহ। তিনি কিন্তু এখানে বলেন নাই যে, আমার রব। তিনি বলছেন যে, "তোমাদের রব।" এটা তো সুস্পষ্ট যে, তুমি নিজে নিজে সৃষ্টি হও নাই। এটাও সুস্পষ্ট যে, তোমার সৃষ্টির পরে তোমার জন্য যা কিছু প্রয়োজনীয়, সেই প্রয়োজন পূরণ করছে কে? তোমার সাস্টেইনেন্সের জন্য যা কিছু দরকার, সেটা কে দিচ্ছে? নিশ্চয়ই তোমাদের মূর্তিগুলো দিচ্ছে না। সেটা যিনি দিচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন তোমাদের রব এবং তোমাদেরকে গাইড করার জন্য তিনি যে গাইডদেরকে, মেসেঞ্জারদেরকে পাঠিয়েছেন, তিনি হচ্ছেন তোমাদের মুরুব্বী। তিনি তোমাদের তার দিচ্ছেন এবং সে কারণে তিনি তোমাদের রব। তার মানে হচ্ছে, রবের ব্যাপারে এই ব্যাপারে তুমি কখনো অস্বীকার করতে পারবা না যে, তোমার সমস্ত কিছু ভরণপোষণ, তোমার বাড়িয়ে তোলা, তোমার প্রশিক্ষণ, তোমার চলার পথে যা কিছু প্রয়োজন, যিনি দিচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন রব এবং তিনি তোমাদের রব। আমার রব যেমন তোমাদের রব। তিনি বললেন যে, "আমি তোমাদের রবের উপরে বিশ্বাস স্থাপন করলাম।" সুবহানাল্লাহ। এখানে বলা হচ্ছে যে, তোমরা হচ্ছে তার উপরে বিশ্বাস করতে চাও না। তোমরা যে কি পরিমাণ অ্যারোগেন্ট, তোমরা যে কি পরিমাণ অকৃতজ্ঞ, সেটা দেখো যে, তিনি তোমাদের রব, অথচ তার কথাই তোমরা শুনতে চাও না। সো, আমি তোমাদের রবের উপরে বিশ্বাস এনে যে কথাগুলো বলছি, তোমরা সেগুলো শোনো এবং এটা তোমাদের ভালোর জন্য।

এখানে আমরা দেখি যে, তিনি নিজের ভালোর জন্য সেখানে চিন্তা করছেন না। নিজের বেনিফিটের কথা চিন্তা করছেন না। তিনি জানেন তার জন্য হত্যার হুমকি আসতে পারে। কিন্তু তারপরও তার লোকদের ভালোর জন্য, এই অবস্থাতেও তিনি হচ্ছেন তাদের সামনে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সো, এই যে মেসেঞ্জাররা তিনজন মেসেঞ্জার আসলো, তারা তাদের কথাগুলোকে তাদের সামনে প্রিচ করছিল, প্রচার করছিল এবং এলাকার মানুষজন হচ্ছে সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ডিসরিগার্জ করলো এবং তারা ভায়োলেন্ট হয়ে গেল। এবং তারপরে এই যে দূরত্থ এলাকা থেকে এই ব্যক্তি এসে সাহসিকতার পরিচয় দিল তাদের সামনে একের পর এক প্রশ্ন করে তাদের ঈমানের দরজাকে খোলার জন্য চেষ্টা করল। সে নিজে শুনলো, বিশ্বাস করলো, বুঝলো, বিশ্বাস করলো এবং এই বুঝার পরে তার উপরে যে রেসপন্সিবিলিটি এসেছে, সেটা হচ্ছে অন্যদেরকে বুঝানো।

তো সুবহানাল্লাহ, যে ঈমান আনবে, ঈমান আনার পরে কেউ চুপ করে বসে থাকতে পারে না। ঈমান আনলে তার মাঝে পরিবর্তন আসবেই, তার কাজের মধ্যে পরিবর্তন আসবে এবং তার চোখের সামনে সে অন্যদের ধ্বংস দেখে কখনো চুপ করে থাকতে পারবে না। সে তাকে এগিয়ে যেতেই হবে, কারণ এটাই হচ্ছে তার ঈমানের দাবি। ঈমানের কথা বলা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, "তোমরা যখন অন্যায় হতে দেখো, তখন ওটা হাত দিয়ে বাধা দাও। সেই শক্তি যদি না থাকে, মুখ দিয়ে বাধা দাও। তাও যদি সম্ভব না হয়, অন্তরে ঘৃণা পোষণ করো।" এরপরে তিলমাত্র ঈমানের স্থান নেই। তাহলে একজন ঈমানদার আসলে তার সামনে যখন দেখবে যে মানুষগুলো সব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সে চুপ করে থাকতে পারে না। আমাদের মনে যদি বিন্দুমাত্র ঈমান থাকে, আমরাও চুপ করে থাকতে পারবো না। আমাদের আশেপাশে যারা ধ্বংসের দিকে চলে গিয়েছে, তাদেরকে সাহায্য করার জন্য আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যদি এগিয়ে যেতে না পারি, অন্তর থেকে সেই তারণ অনুভব না করি, আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে হবে, নিজে কি নিজে আমার ঈমান এখন কোথায় রয়েছে? সেই তিলমাত্রি ঈমানের অবস্থানও কি আমার মাঝে আছে?

সো, এখানে আমরা দেখি যে, এই যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, সেই মক্কান কুরাইশদের কাছে, মক্কী পিরিয়ডে সূরাটা নাযিল হয়েছে। সেখানে আমরা দেখি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর সামনে সেই মূর্তি পূজারীরা কিভাবে বিরোধিতার পাহাড় তুলে ধরেছিল এবং সেই সময় সে মাইনরিটি মুসলিমের সামনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই এক্সাম্পলটা তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি দেখাচ্ছেন যে, যারা হচ্ছে ঈমানের আলো আলোকিত হয়, তারা কিভাবে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে, তারা কিভাবে জেগে ওঠে। আবার অন্যদিক থেকে কাফেরদেরকে, কুরাইশদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে সতর্ক করে দিয়েছেন। তারা এখানে সেই ব্যক্তির উদাহরণটা হচ্ছে এরকম যে, তোমরা রাসূলকে হয়তোবা মনে করতে পারো যে, সে বিশেষ মানুষ, তার কথা আমি তার কথা আমরা শুনবো না। কিন্তু আমি তোমাদের মধ্য থেকেই একজন। আমি যদি জিনিসটাকে এভাবে উপলব্ধি করতে পারি, সেটা নিয়ে চিন্তা করতে পারি এবং সে যাতে বিশ্বাস করি এবং আমি তোমাদের সামনে যে লজিকগুলো উপস্থাপন করছি, সেগুলো খন্ডন করার শক্তি তোমাদের নাই, তাহলে কেন তোমরা এই পথে আসবে না?

সো, তার যে আকুতি মানুষের জন্য, তার যে ভালোবাসা এবং সে যে লজিক্যালি এটাকে সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করেছে, সেটা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন এবং সে কারণেই হচ্ছে যারা হচ্ছে এই সত্যের পথের পথে, নবী রাসূলদের থেকে শুরু করে সাহাবারা, সাথে সাথে হচ্ছে আল্লাহর ওলি, আম্বিয়া যারা হচ্ছে দ্বীনের পথে চলে গিয়েছে, আমাদের কাজ হচ্ছে তাদেরকে অনুসরণ করা এবং তাদের পথটাকে আরো সুদৃঢ় করা।

এখানে আমরা দেখি যে, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, এযে, "ইন্নী আমানতুবি রব্বিকুম" যে, "আমি তোমাদের রবের উপরে বিশ্বাস করেছি।" এবং এখান থেকে বলা হচ্ছে যে, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাস করেছ এবং তারপরে বলা হচ্ছে যে, "তোমরা শোনো আমি কি বলছি।" সে তার যুক্তি তাদের সামনে উপস্থাপন করেছে এবং তার মাধ্যমে তার যে ঈমান, সে ঈমানের ঘোষণা দিয়েছে এবং তারপরে বলেছে তাদেরকে রিকোয়েস্ট করছে যে, "আমি তোমাদের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করছি জিনিসটা, তোমরা আমার কথা শুনো।"

তো এরপরে আমরা দেখি যে, ইবনে জরী রহমতুল্লাহ আলাইহি থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এটা রাসূলদেরকে, যে তিনজন রাসূল এসেছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে এবং তিনি তাদেরকে বলছেন যে, "আমি তোমাদের উপরে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। তোমাদের যে রব, সেই রবের উপরে আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং তার কথাই আমি অনুসরণ করব এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ভালো জানেন কোনটা সঠিক।" দুইটাই অর্থই আমাদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।

এবং কাবন্ড ওয়াহাব তারা বলেছেন যে, যখন সে বলল যে, "আমি তাদের মতই একজন হয়েছি," তখন তারা তাকে হত্যা করল এবং তাকে রক্ষা করার মত সেখানে কেউ ছিল না। কাতাদা রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে, তারা তার প্রতি পাথর নিক্ষেপ করা শুরু করল। যখন সে তখন সে বলছিল যে, "হে আল্লাহ, আমার লোকজনদেরকে তুমি গাইড করো, তাদেরকে পথ দেখাও যা তারা জানে না।" এবং তারপরও তারা হচ্ছে তাকে তার উপরে পাথর নিক্ষেপ করতেই লাগলো যতক্ষণ পর্যন্ত না তার মৃত্যু ঘটে এবং তখনও এই ব্যক্তি তার লোকজনের জন্য, জনগণের জন্য, এই মানুষগুলোর জন্য তখনও সে দোয়া করছিল ছিল।

তো সুবহানাল্লাহ, যে তার মনের আকুতি, তার ভালোবাসা আমরা এখানে দেখতে পাই যে, একজন ঈমানদার কখনো আসলে অচেতন অবস্থায় থাকতে পারে না। একজন ঈমানদার কখনো চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। তার মধ্যে এই ভালোবাসা জাগ্রত হবেই। সো, এখানে আমরা দেখি যে, যে ঈমান আনে, তার ঈমানের একটা এফেক্ট তার মধ্যে থাকবে। ঈমান তার মাঝে পরিবর্তন আনবেই। এবং সেই পরিবর্তনগুলা কিরকম, সেটা যদি আমরা একটু চিন্তা করি, তাহলে আমরা নিজেদেরকে আসলে এসেস করতে পারবো। আমার ঈমান কোথায় আছে? আমি কি একজন বিশ্বাসী হতে পারছি, যে বিশ্বাসীকে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা পছন্দ করেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম সুপারিশ করবেন? যে ঈমান আনবে, ঈমানের প্রভাবে তার মাঝে অবশ্যই কিছু পরিবর্তন আমরা দেখতে পাবো যে, একজন মানুষের প্রতিটা অস্তিত্বে, প্রতিটা দিকে তার পরিবর্তন হবে এবং সেটা ইন্টার্নালি এবং এক্সটার্নালি বুঝা যাবে।

যেমন একজন মানুষ যখন ঈমান আনে, তখন তার তিনটা দিকে আমরা তাই পরিবর্তনকে দেখতে পাই। একটা হচ্ছে স্পিরিচুয়াল এবং ইমোশনাল দিক, যেটা এটা আমরা স্বাভাবিকভাবেই বুঝি। ঈমান তো হচ্ছে আধ্যাত্মিক একটা ব্যাপার। আমাদের অন্তরের যে পরিবর্তন, সেটা অবশ্যই ঈমানের মাধ্যমে আসবে। একজন ঈমানদার ব্যক্তি মধ্যে হচ্ছে তার অন্তর্নিহিত একটা শান্তি থাকবে। সে হচ্ছে প্রশান্ত থাকবে এই ব্যাপারে যে, সে বিশ্বাস করবে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার প্ল্যান যাই আছে, সেটার উপরে তার বিশ্বাস থাকবে এবং সে জানে যে আল্লাহর সমস্ত কিছুর উপরে কন্ট্রোল রয়েছে এবং যে কারণে সে অন্তরে একটা নিরাপত্তার ভাব পায় এবং যত ডিফিকাল্টির মধ্য দিয়ে যায় না কেন, আল্লাহর উপর ভরসা করার মধ্যে সে একটা শান্তি খুঁজে পায়।

সেকেন্ড যে জিনিসটা আমরা দেখি, স্পিরিচুয়াল এবং ইমোশনাল দিকে, সেটা হচ্ছে যে ধৈর্য এবং টিকে থাকার যে শক্তি। সো, যখন একজন মানুষ ঈমান গ্রহণ করে এবং আল্লাহর উপরে বিশ্বাসটা তার মজবুত হয়, তখন দেখা যায় যত বিপদই আসুক না কেন, যত পরীক্ষাই আসুক না কেন, সেটা সে ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে থাকে এবং এটাকে সে দেখে একটা অপরচুনিটি হিসাবে, যেটা তাকে আরো স্পিরিচুয়াল গ্রোথ দেয়। আমরা একটু চিন্তা করি, আমরা যখন কোন কষ্টের মধ্যে পড়ি, কোন বিপদের মধ্যে পড়ি, তখন যেভাবে আল্লাহকে ডাকি বা আল্লাহর সাথে কানেক্টেড হই, অন্য সময় কিন্তু আমরা এভাবে হই না। সো, আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটা উপায় হচ্ছে কষ্টগুলা, হার্ডশিপ গুলা এবং সেই সময় ধৈর্যের সাথে আল্লাহর দিকে এগিয়ে যাওয়াটাও হচ্ছে ঈমানদারের লক্ষণ।

থার্ড যে জিনিসটা, সেটা আমরা দেখি যে, অন্তরের প্রশান্তি এবং কৃতজ্ঞ ভাব। যারা ঈমানদার, তারা সবসময়ই হচ্ছে অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করবে এবং তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারবে লোভ, অস্থিরতা এগুলোর থেকে। তারপরে আমরা দেখি যে, তাদের চরম টার্গেট থাকে হচ্ছে আখেরাতে জয়ী হওয়া। আখেরাতে জান্নাত লাভ করা। আখেরাতের ইটারনাল, চিরন্তন যে পুরস্কার, সেটা লাভ করা এবং সে কারণে দুনিয়ার এই অস্থায়ী যে সমস্যা, কষ্টই আসুক না কেন, সেটাকে সে ইগনোর করতে পারে।

সেকেন্ড যে জিনিসটা আমরা এফেক্টটা আমরা দেখি, সেটা হচ্ছে তার চরিত্রের পরিবর্তন। এটা খুবই হাস্যকর হবে যে, আমি ঈমান এনেছি বললাম, কিন্তু আমার কথা এবং কাজের মধ্যে পরিবর্তন হলো না। সেটা যদি না হয়, বুঝতে হবে যে আমার ঈমান এখনো দুর্বল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সো, আমাদের কথা এবং আচরণের মধ্যে যে পার্থক্যগুলো অথবা আমাদের নৈতিকতার মধ্যে যে পরিবর্তনগুলো আসবে, সেটা হচ্ছে যে একজন ঈমানদার আরো বেশি ভালো কাজ করার ব্যাপারে মোটিভেটেড হবে। সো, ঈমান কখনো প্যাসিভ না। ঈমান হচ্ছে আমাদের একটিভ ফোর্স, যেটা একজন ঈমানদারকে আরো আমলে সালেহ করতে উৎসাহিত করবে। কারণ সে চায় না কোন কাজে পিছিয়ে থাকতে। যে ঈমানদারের মধ্যে অবশ্যই এথিক্যাল কন্ডাক্ট থাকবে, সৎচরিত্রের অধিকারী হবে এবং ঈমানদার হওয়া মানে সে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতে থাকবে তার আচরণকে সুন্দর করার জন্য। সততা, রহমত বা কমপেশন, অন্যের প্রতি দয়া, সত্যবাদিতা, তারপরে হচ্ছে ন্যায়পারণতা, বিনয়, এগুলো হচ্ছে সবই ঈমানদারদের চরিত্রের একটা অংশ হয়ে যায় এবং ঈমানদার হচ্ছে যে কোন গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করবে, কারণ সে জানে তার প্রতিটা গুনাহ হচ্ছে তার অন্তরে কালো দাগ দিয়ে দেয় এবং যখন সে গুনাহর মধ্যে ডুবে যাবে, তখন সামনে এবং পিছনে, উপরে সবদিক থেকে তার দেয়াল সৃষ্টি হয়ে তাকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে নিবে। সে কারণে সে গুনাহ থেকে দূরে সরে থাকে।

এবং পজিটিভ সোশ্যাল ইন্টারেকশন। যে ঈমানদার কখনো হচ্ছে চুপচাপ একাকি বসে থাকে না। ঈমানদার চায় ইউনিটি, ঈমানদার চায় মিউচুয়াল সাপোর্ট, ঈমানদার চায় পুরো কমিউনিটিকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। সে তার পরিবার পরিজন, তার আত্মীয় প্রিয় স্বজন থেকে শুরু করে তার আশেপাশে যারা রয়েছে, সবাইকে নিয়ে সেই জান্নাতের পথে চলার যে পেরেশানি, সেটা তার মধ্যে থাকে।

এবং থার্ড যে জিনিসটা আমরা দেখি, ইন্টেলেকচুয়াল এন্ড পারপাসফুল এফেক্ট। সেটা হচ্ছে যে, একজন ঈমানদারের অবশ্যই সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকবে সৎপথে বলার চলার জন্য। কারণ তার ঈমানটাই তার জন্য আলো হিসেবে কাজ করবে। যেটা তাকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাবে এবং যে কোন কনফিউশন, সিদ্ধান্তহীনতা থেকে তাকে রক্ষা করবে। সে জানে কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা, কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, সে এটার মধ্যে ডিফারেনশিয়েট করতে পারে। এবং তার জীবনের উদ্দেশ্য রয়েছে একটা। যে তার জীবন একটা উদ্দেশ্যহীন নৌকার মতয়ে বয়ে চলা না, বরং তার জীবনের একটা উদ্দেশ্য রয়েছে, পারপাস রয়েছে, মিনিং রয়েছে এবং সেই পারপাস যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, সেটার জন্য সে কন্টিনিউয়াসলি কাজ করে যায় এবং সর্বোপরি তার মধ্যে তাওয়াক্কুল থাকে। যে আল্লাহর উপরে যেই গভীর আস্থা এবং বিশ্বাস থাকা দরকার এবং আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, যে কোন বিপদে, সে বিশ্বাসটা তার মধ্যে থাকে এবং সে তার মাধ্যমে আমরা দেখি যে, তার অন্তরে যেমন পরিবর্তন আসে, তার জিহ্বার মাধ্যমে সে সেটাকে প্রচার করতে থাকে, তার অংকপ্রত্যঙ্গ দিয়ে সেটাকে সে কাজে পরিণত করে। এমন একটা ফ্রেমওয়ার্ক সে তৈরি করে, যেটা হচ্ছে মিনিংফুল এবং তার লাইফ পারপাসকে ফুলফিল করে এবং তার মাধ্যমে ব্যক্তি, কমিউনিটি এবং হিউম্যানিটি এটলার্জ হচ্ছে উপকৃত হয়।

সো, একজন একজন ঈমানদার তার কখনো চুপ করে বসে থাকতে পারে না। ঈমানদারের অবস্থান হচ্ছে সবসময় গতিশীল।