Transcription
সূরা ইয়াসিনের 63 নাম্বার আয়াত।
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। জাহান্নামুল্লা এই সে জাহান্নাম যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেওয়া হতো। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা অবিশ্বাসীদের সামনে এখন যেই কথাগুলো তুলে ধরছেন যে তাদের জন্য যে পরিণাম আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নির্ধারিত করে রেখেছেন সেটা হচ্ছে এই জাহান্নাম এবং এর প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হচ্ছে যে এজন্যই মেসেঞ্জার নবী রাসূলগণ তোমাদেরকে সতর্ক করেছিল কিন্তু তোমরা বিশ্বাস করোনি। তো এখানে পাঁচ নাম্বার যে জিনিসটা আমরা দেখতে পাচ্ছি অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে যে তাদের পরিণতির স্থান হচ্ছে এই জাহান্নাম। কিন্তু এটা তারা সহজেই এভয়েড করতে পারত। এই দুনিয়ার জীবনের কাজ দিয়ে। কিন্তু তারা সেটা করে নাই।
হাদি জাহান্নাম। জাহান্নাম শব্দটার কথা বলা হয়েছে। জাহান্নাম শব্দটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এটাই হচ্ছে হেলফায়ারের যে আল্লাহর আজাবের যে কমন নাম আমাদের জন্য সেটা এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন যে ডে অফ জাজমেন্টে আখিরাতের জীবনে আল্লাহর সামনে যখন তারা দাঁড়াবে এবং তাদের পরিণাম স্থান তারা দেখতে পাবে। চোখের সামনে জ্বলন্ত আগুন তারা দেখতে পাবে এবং তারা দেখতে পাবে যে এখানেই তাদেরকে অবস্থান করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে হেলফায়ারে সেই জাহান্নামে সে আজাবের দৃশ্যটা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। এমন একটা চিত্র যে কাউকে আগুনের উপরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং সেই ঝুলানো রশিটাই হচ্ছে তাকে যেন রক্ষা করছে এখন পর্যন্ত সে আগুন থেকে পড়ার আগুনে পড়ার থেকে এবং আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা সেই অবস্থায় তাদেরকে বলছেন যে এটা এই সতর্ক বাণী তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তোমরা সেই সতর্ক বাণী শুনে সেই পথ অনুসরণ না করার কারণে তোমাদের জন্য যে জিনিসটাকে প্রমিস করা হয়েছিল তোমাদের আউটকাম আজকে কে তোমাদের সামনে চলে এসেছে তোমরা নিজের চোখে সেই আগুনকে দেখতে পাচ্ছ যে আগুনের সতর্ক বাণী তোমাদেরকে প্রতিনিত প্রতিনিয়ত শোনানো হয়েছে।
হাজহি জাহান্নাম। স এখানে আমরা দেখি যে হাজহি হাজহি শব্দটা হচ্ছে খুব কাছে নিকটবর্তী কোন কিছু বুঝানোর জন্য বলা হয়ে থাকে। এটাকে স্মিশারা বলা হয়ে থাকে যেটা দিয়ে কোন কিছুর দিকনির্দেশ বা কোন কিছুর দিকে ইন্ডিকেট করা হয়ে থাকে। এখানে দেখা হাজিহে জাহান্নাম যে তাদের জাহান্নামটা হচ্ছে খুব কাছে খুব নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছে। সো এত কাছে যে তোমরা এখন এটা ধরতে পারবে ছুইতে পারবে। সো ইট উইল বি রাইট দেয়ার। সো জান্না যখন বলা হয়েছিল যে যারা জান্নাতি তাদের খুব নিকটবর্তী জাহান্নামকেও এখানে বলা হচ্ছে যে অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নামও আজকে অনেক নিকটবর্তী অবস্থানে রয়েছে।
সূরা আহকাফে বলা হয়েছে যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে সেদিন বলা হবে এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে হ্যাঁ আমাদের পালনকর্তার শপথ। আল্লাহ বলবেন আজাব আস্বাদন করো কারণ তোমরা কুফরি করতে। তাহলে এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তাআলা হচ্ছে নির্দেশ দিচ্ছেন এবং বলছেন যে এর শপথি তোমাদের সামনে করা হয়েছে এবং তোমরা আজকে এরশাদ আস্বাদন করো।
64 নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেইম টাইপের কথাই বলছেন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ইসলাহা ইয়ামাবিমা কুনতুম তাকফুরুন। তোমাদের কুফরের কারণে আজ এতে প্রবেশ করো। তাহলে এর আগের আয়াতেও আমরা দেখেছি যে এই যে জাহান্নামে যাচ্ছে তার মূল কারণ হচ্ছে তাদের তারা কুফরি করেছিল এবং কুফরির কারণ হিসেবে আমরা দেখেছি যে আফালাতালুন যে তোমরা চিন্তা করো না তোমরা বুঝার চেষ্টা করো না। স ফাস্ট কারাগার হচ্ছে আমাদের জন্য রিফিউজ টু থিংক। আমরা যখন চিন্তা করতেও অস্বীকার করি বুঝার বুঝতেও স্বীকার করি তখনই হচ্ছে অবিশ্বাসীদের ফার্স্ট স্টেপ যেটা সেটার মধ্যে আমরা পা দিয়ে ফেলছি। স আমাদের আকলকে ওপেন করে দিতে হবে যাতে হচ্ছে এই কুফরির রাজ্যে আমরা প্রবেশ না করি। সো আল্লাহ সুবহানাতালা সেদিন সতর্ক করে দিবেন যে আজকে তোমরা এতে প্রবেশ করবে তার কারণ হচ্ছে কুফরি। কুফরি জিনিসটা আমাদেরকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে যে এই কুফর দিয়ে আল্লাহ কি বুঝাচ্ছেন। প্রথমেই এখানে বলা হচ্ছে এই আয়াতে ইসলাও ইসলাম শব্দটা হচ্ছে একটা কমান্ড নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এবং সেটা সদলাম ওয়াও এই ওয়ার্ডটা থেকে এসেছে যার অর্থ হচ্ছে আগুনে প্রবেশ করা। এটা খুব খুব স্পেসিফিকভাবে আগুনে প্রবেশ প্রবেশ অর্থ বুঝানো হয় কিন্তু সেটা আগুনে প্রবেশ করার জন্য বলা হয়ে থাকে এবং এখানে বলা হচ্ছে তোমরা আগুনে প্রবেশ করো। সো এখানে আমরা দেখি যে মাঝে মাঝে ক্রিমিনালদেরকে বলা হচ্ছে যে তোমরা নিজের আগুনে প্রবেশ করো। কারণ যদিও তারা চোখের সামনে আগুনের ভয়াবহতা দেখছে এবং অন্য সময় আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে আল্লাহ আগুনের দিকে তাদেরকে এগিয়ে দেন অথবা ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেন তারা যেন সে আগুনের মধ্যে তাদেরকে ছুড়ে দেয়। সো যেটাই হোক না কেন আমরা দেখি যেস ভেরি স্কেয়ারি যে এটাই হচ্ছে ট্রুথ যে সেদিন তারা নিজেরা আগুনের দিকে ঝাপিয়ে পড়বে অথবা তাদেরকে আগুনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বলা হচ্ছে সলাহ আল ইয়ামা আ ইয়াওমা শব্দটা আবারো আমরা এখানে দেখছি ফোর্থ টাইম যে এদিন সো টুডে আজকের দিনে। সো এটাতে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেই পিকচারটা আবার আমাদের সামনে তুলে ধরছেন যে চোখের সামনে তোমরা দেখার চেষ্টা করো যে কি ঘটছে আজকের দিনে যদি এ ধরনের পরিস্থিতির সামনে তোমাদেরকে হতে হয় তোমরা সেটাকে কিভাবে মেনে নিবে। আখেরাতে সেই পরিস্থিতি আসার আগে আজকের দিনেই তোমরা সতর্ক হয়ে যাও।
বীমা বীমা শব্দটা দিয়ে এখানে বা শব্দটা এসেছে এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে বুঝাচ্ছেন যে এর আগের যে কথাগুলো এসেছে এর পরের কথাগুলো হচ্ছে এটা কনসিকুয়েন্স এটার রেজাল্ট। স তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করতে বলা হচ্ছে তার কারণ হচ্ছে কুনতুম তাকফুরুন যে তারা এই পৃথিবীর বুকে ডিসবিলিভ করত অবিশ্বাস করত এটাই হচ্ছে তাদের এই পানিশমেন্টের মূলার কারণ। তারা সেখানে ডিফেন্সিভ হবে কিন্তু সেখানে তাদেরকে বাঁচার জন্য কোন সুযোগ দেওয়া হবে না কারণ সেই সুযোগটা তাদেরকে দুনিয়াতে দেওয়া হয়েছিল। বিমা কুনতুম কুনতুম শব্দটি এসেছে যে কানা শব্দটা দিয়ে বুঝানো হয় কোন জিনিস হচ্ছে পারসিস্টেন্টলি যখন হয়। স তারা এই কাজটা কুফরি কাজটা একদিন দুইদিন করেছে বা হঠাৎ করে করেছে এরকম না বরং এই কুফরি কাজটা তারা নিয়মিত করতো এবং এটা কখনো শেষ হয় নাই এভাবেই তারা তাদের জীবনের পরিসমাপ্তি পৌছেছিল সেটা বোঝানোর জন্য এই শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে এবং শেষে এসে আমরা তাকফরুন শব্দটা দেখি যেটা আসছে কাফফারা শব্দ থেকে কুফর শব্দটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এর অর্থ যদিও আমরা অবিশ্বাস বলে থাকি কিন্তু এর আরেকটি অর্থ হচ্ছে অকৃতজ্ঞ। যারা কাফার আরবিতে কৃষককে কাফার বলা হয় কাফের বলা হয়ে থাকে কারণ কাফারা শব্দের অর্থ হচ্ছে ঢেকে দেওয়া গোপন করা। কৃষকরা কি করে বীজকে মাটির নিচে গোপন করে চাপা দেয়। সে কারণে তাদেরকে কাফির বলা হয়। তো সেখান থেকে আমরা দেখি যে ইসলামিক পরিভাষায় যাদেরকে কাফির বলা হয় তারা কি করে? ইসলামের যে সত্য সেটাকে রিজেক্ট করে। সেই সত্যকে সত্য মুখে কাজ বা কথাকে তারা হচ্ছে ঢেকে রাখে। তো সে কারণেই হচ্ছে তাদেরকে কাফির বলা হয়। সো এই কুফর শব্দটা মূলত বুঝানো হচ্ছে কমপ্লিট কনশাস রিজেকশন। ঈমান এবং তার কাজ কথার মাধ্যমে সে যখন এই রিজেকশনকে প্রমাণ করে তখন সেটাকে কুফর বলা হয়। সো কুফরের আরেকটা অর্থ হচ্ছে কুফর আল নিয়ামা। অর্থাৎ আল্লাহর ব্লেসিংস বা আল্লাহর নিয়ামত গুলোকে যারা হচ্ছে চোখে দেখেও সেগুলোকে অস্বীকার করে তাদেরকেই হচ্ছে কাফির বলা হয়। তো আমরা এখানে দেখি যেই সূরাতে বারবার বারবার আমাদেরকে শুকরের কথা বলা হচ্ছে। কা অস্বীকার করার কথা বলা হচ্ছে এবং সেটা আমাদের ইবাদতের পরিপন্থী বলা হচ্ছে। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে আমাদেরকে রিমাইন্ডার দিচ্ছেন। এটা হচ্ছে আমাদের জন্য একটা জিকির যে আমরা যদি হচ্ছে গ্রেটফুল হই আমরা যদি কৃতজ্ঞ হই শুকরিয়া আদায় করি সেটা আমাদের কাজের মধ্যে প্রকাশ পাবে এবং তার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে কুফরি থেকে বাঁচাতে পারব। সো কোরআনের মধ্যে আমরা দেখি যে সূরা তুরে আল্লাহ বলেছেন যে সেদিন তোমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে। একবার আমরা সিনারিটা চিন্তা করার চেষ্টা করি যে সেখানে আমরা কেউ আসলে থাকতে চাই না। সো এখনই আমরা সে ব্যাপারে সতর্ক হব এবং বলা হবে এই সেই অগ্নি যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে। এটা কি জাদু না তোমরা চোখে দেখছো না। এতে প্রবেশ করো। অতঃপর তোমরা এখানেও দেখি ইসলাওহা বলা হচ্ছে যে এতে প্রবেশ করো। অতঃপর তোমরা সবর করো অথবা না করো উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেওয়া হবে। এই সূরাতেই আগেও বলা হয়েছে যে তোমরা যা করবে তারই প্রতিফল আমাদের কাজের ফলাফল সেদিন নির্ধারণ হবে। সো আজকে তোমাদের অস্বীকার করার কোন সুযোগই নাই।
তো আমাদেরকে যে জিনিসটা বাস্তব জীবনে নিয়ে আসতে হবে সেটা হচ্ছে যদিও আমরা কেউই কাফের না যদিও কেউ আমরা কুফরির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত হতে চাই না বা করি না কিন্তু তারপরে আমাদের ডেইলি লাইফে কুফরি কোন কিছু চলে আসছে কিনা সে ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। যেমন কিছু এক্সাম্পল হিসেবে দেওয়া যায় যে আমাদের জিহ্বা এবং কথার মাধ্যমে আমরা কিভাবে কুফরি করে ফেলতে পারি। নাম্বার ওয়ান আল্লাহ এবং তার রাসূলকে নিয়ে যখন আমরা হাসিঢাত্টা করি ইনসাল্ট করি বা কোরআন নিয়ে হাসিঢাত্টা করি তখন সেটাই হচ্ছে কুফরির দিকে আমাদেরকে ঠেলে দেয়। সেকেন্ড যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যখন আমরা কসম করি সেটাও হচ্ছে কুফরির দিকে নিয়ে যায়। থার্ড যেটা সেটা হচ্ছে আল্লাহর অনুগ্রহ পাওয়ার পরও আমরা যখন সে অনুগ্রহকে অস্বীকার করি সেটাও আমাদেরকে কুফরির দিকে নিয়ে যায়। নাম্বার ফোর হচ্ছে যে আমরা যখন আল্লাহর কোন আদেশ-নিষেধ নিয়ে হচ্ছে হাসি ঠাট্টা করি যেমন নামাজ রোজা হিজাব এগুলো নিয়ে যখন আমরা কৌতুক করি তখন সেটাও আমাদেরকে কুফরির পথের দিকে ঠেলে দেয়।
সেকেন্ড যে জিনিসটা আমরা দেখি ডেইলি লাইফে আমাদের একশনস এবং বিহেভিয়ারের মাধ্যমে। নাম্বার ওয়ান হচ্ছে নামাজকে নামাজ বাদ দেওয়া। ইনটেনশনালি নামাজ বাদ দেওয়া হচ্ছে বিরাট একটা স্ট্যাব। সেদিকে। সেকেন্ড যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে যে হারামকে হালাল মনে করা এবং সেটাকে গ্রাহ্য না করা। আবার হালালকে হারাম করা সেটাও হচ্ছে এই কুফরির পথে আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সামনে মাথা নত করা। সেটা হতে পারে কোন কবর মাজার বা যা কিছুই হোক না কেন। কোরআনিক যেই নির্দেশগুলো রয়েছে সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। যেটা আমার পছন্দ হচ্ছে না সেটাকে আমি অগ্রাহ্য করা এবং নন মুসলিম যেই রিচুয়ালস গুলা যেটা রিলিজিয়াস দিক থেকে নিষিদ্ধ সেসব কাজে অংশগ্রহণ করা।
থার্ড যে জিনিসটা আমরা দেখি কুফরি ডেইলি এক্সপ্রেশন আমাদের লাইফে সেটা হচ্ছে এটিচিউড এবং বিলিফ এর মধ্যে। যেমন সত্যকে বুঝার ক্ষেত্রে অহংকার প্রদর্শন করা। যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ক্লিয়ার নির্দেশ জানার পরেও সেটাকে না মানা। সেকেন্ড হচ্ছে ফান্ডামেন্টালস যেসব রুলস এবং রেগুলেশন রয়েছে ইসলামের ডে অফ জাজমেন্ট তাকদীর তারপরে হচ্ছে ফেরেশতা তাদেরকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা। থার্ড যেটা সেটা হচ্ছে অকৃতজ্ঞতা সেটা আমরা বারবার আলোচনা করেছি। ফোর্থ যেটা যে হিপোক্রেসি অর্থাৎ আমাদের কথা এবং কাজের মধ্যে অমেল শো করা। এই ক্ষেত্রে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে যে এই কুফরের কোন দিক যাতে আল্লাহকে অবিশ্বাসের কোন দিক যাতে আমাদের কথা বা কাজের বা অন্তরের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে।
তাহলে আমরা কিভাবে নিজেদেরকে রক্ষা করব এই কুফর থেকে? এই কুফর থেকে রক্ষা করার জন্য অবশ্যই কিছু জিনিস আমাদেরকে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। নাম্বার ওয়ান হচ্ছে স্পিরিচুয়াল এবং ফাউন্ডেশনাল প্রটেকশন। আমাদের আত্মিক আমাদের যেটা হচ্ছে ঈমানের ভিত্তিপ্রস্ত সেটাকে রক্ষা করার জন্য আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে। এবং সেটার জন্য আমরা কি করব? আকিদা ইসলামের যে মৌলিক বিশ্বাস সে সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। নাম্বার টু প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। জিকিরের মাঝে আমাদেরকে নিয়োজিত রাখতে হবে। নাম্বার থ্রি হচ্ছে আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে আশ্রয় চাইতে হবে।
এরপরে যে জিনিসটি স্পিরিচুয়াল এবং ফাউন্ডেশনাল প্রটেকশনের পরে আমাদের করণীয় সেটা হচ্ছে যে ওয়াসওয়াসা। কুফরের ব্যাপারে আমাদের মনে যখনই কোন ধরনের চিন্তাভাবনা আসবে কি সেটাকে প্রতিহত করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। নাম্বার ওয়ান যে এগুলোকে যে কোন অসওয়াসা আমি যখনই বুঝবো সেটা আমার শয়তানের পক্ষ থেকে এসেছে সেটাকে ইগনোর করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। সো আমরা দেখা যায় যে এই শয়তানি অসওয়াসাগুলো বারবার বারবার আমাদের মাথার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের চিন্তা নিয়ে আসে। সেটাকে স্টপ করার জন্য আমাদের মনকে ভালো কিছুর মাঝে এঙ্গেজ করতে হবে। সেকেন্ড যে জিনিসটা আমরা করব যখনই কোন চিন্তা আসে তখনই আমি বারবার হচ্ছে মুখে এবং অন্তরে ঘোষণা করতে থাকবো যে আমনাবিল্লাহি ওয়া রাসূলিহি আমি আল্লাহর উপর এবং তার মেসেঞ্জারের উপরে বিশ্বাস রাখি। থার্ড যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে যে বুঝতে হবে যে এগুলো আমার নিজের বিশ্বাস না। এগুলো ওয়াসওয়াসা হিসেবে আসছে এবং সেগুলোকে আইডেন্টিফাই করে সেখান থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ফোর্থ যে জিনিসটা সেটা দেখা যায় যে আমাদের মনের মধ্যে অনেক সময় শন আসে বারবার বারবার বিভিন্ন চিন্তা আসে আমি বুঝতে পারি যে এটা করা ঠিক না এটা একটা মেডিকেল পারস্পেক্টিভ রয়েছে যেটাকে বলা হয় অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার যে আনইন্টেনশনালি আমি কিছু কাজ করতে থাকি অথবা কিছু থিংকিং আমার মধ্যে চলে আসে যেটা আমার ইবাদতকে এফেক্ট করে সেই ধরনের কাজের জন্য অবশ্যই আমরা মেডিকেল হেল্প নিব এবং সাইকোলজিক্যাল হেল্প নিব।
নাম্বার থ্রি আমাদের এই কুফরি থেকে নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য থেকে বাঁচানো ছিল দুই নাম্বার। নাম্বার তিন হচ্ছে আমাদের আশেপাশের যে এনভায়রনমেন্ট সে এনভায়রনমেন্টকে ইমপ্রুভ করা। আমাদের ডেইলি প্র্যাকটিসের মধ্যে পরিবর্তন আনা। নাম্বার ওয়ান এর মধ্যে হচ্ছে ডেইলি প্রেয়ার অবলিগেটরি প্রেয়ার ফরজ প্রেয়ার যেটা সেটার ব্যাপারে কোন ধরনের ছাড় না দেওয়া। নাম্বার টু হচ্ছে আমরা প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবো এবং সেটার জন্য একটা স্পিরিচুয়াল ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। যেটাকে রুকিয়া বলা হয়। সেটা হচ্ছে রেগুলারলি কোরআন পড়া, সূরা বাকারা পড়া, আয়াতুল কুরসি পড়া, সূরা ফালাক এবং সূরা নাতস পড়া। সকাল এবং সন্ধ্যার আজকার গুলা বুঝে আন্তরিকতার সাথে পড়া। নাম্বার থ্রি হচ্ছে আমার এনভায়রনমেন্ট পরিবর্তন করা। আমার চারপাশে ভালো মানুষের উপস্থিতি যেন বাড়ে এবং যেই জিনিসগুলা, যে পরিস্থিতি এবং যে মানুষগুলো আমাকে খারাপ পথে নিয়ে যায়, আমার ঈমানকে দুর্বল করে দেয় তাদের থেকে নিজের দূরত্ব বজায় রাখা। এবং নাম্বার ফোর হচ্ছে রিপেন্টেন্স। তওবা। যখনই আমি ভুল বুঝবো তখনই আল্লাহর পথে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করব।
নাম্বার ফোর এই কুফর থেকে বাঁচার জন্য যে যেকোন ধরনের দুর্বলতাকে এভয়েড করার জন্য চেষ্টা করা। এর মধ্যে যেমন হচ্ছে এরোগেন্স অথবা অহংকার এনভি জেলাসি। অন্যের প্রতি খারাপ ধারণা এগুলো থেকে কুফরের চারটা পিলার আছে বলা হয়ে থাকে। চারটা পিলার হচ্ছে অহংকার, হিংসা, রাগ এবং নিজের যে ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা সেগুলোকে সবসময় ফলো করা। এই চার জিনিস থেকে বাঁচার জন্য আমাকে চেষ্টা করতে হবে এবং কোরআন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর যে শিক্ষা সে শিক্ষার ব্যাপারে নিজেকে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে এবং সেগুলো বুঝে আমল করার জন্য চেষ্টা করতে হবে।