📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 1 || Introduction ||

Straight Path21:39

Transcription

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম আলাবিনা মুহাম্মাদ। রাব্বিশহ সদসলি।

এবারের রমাদানের আমাদের যে সূরাটার উপরে ফোকাস করার ইচ্ছা সেটি হচ্ছে আমাদের খুবই পরিচিত একটি সূরা আমার মনে হয় যে সবচেয়ে বেশি পঠিত সূরার বলা যায় যারা আমরা একটু বড় সূরা রেগুলার পড়ি পড়ে থাকি সেটার মধ্য থেকে এমন একটি সূরা যে সূরাটা হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশীদের সবার মনের মধ্যেই হচ্ছে বিরাট একটা প্রভাব সৃষ্টি করে রেখেছে। অথচ সেই সূরাটা সম্পর্কেই দেখা যায় যে আমরা একটা অন্ধকারের মধ্যে রয়েছি। সেই সূরাটা হচ্ছে সূরা ইয়াসিন।

সূরা ইয়াসিনের ব্যাপারে আমরা যদি সংক্ষিপ্তভাবে জানতে চাই তাহলে দেখব যে এই সূরাটি হচ্ছে 83 আয়াতের একটি সূরা। এবং কোরআনের যেই ক্রমবিন্যাস রয়েছে যেভাবে সূরাগুলোকে সাজানো হয়েছে সে অনুযায়ী আমরা দেখি যে এটা হচ্ছে 36 নাম্বার সূরা। অর্থাৎ সূরা ফাতিহা থেকে সূরা ফাতিহার পরে সূরা বাকারা এভাবে ক্রমাণ্যয় অনুযায়ী 36 নাম্বার সূরাটিকে আমরা পেয়ে যাই সূরা ইয়াসিন হিসেবে। আর এই সূরাটি হচ্ছে মাক্কী সূরা। মাক্কী মাক্কী যুগের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই সূরাটি নাযিল হয়েছে এবং রিভলেশনের দিক থেকে আমরা যদি দেখি তাহলে দেখব যে এটা 41 নম্বর সূরা বেশিরভাগ তাফসীকারগণের মতে। এই সূরাটি হচ্ছে 22 এবং 23 পারা জুড়ে অবস্থিত। এবং কোরআন মাজিদে আমরা দেখি যে যে ক্রমান্বয় অনুযায়ী সূরাগুলো এসেছে সেখানে দেখি সূরা সাবা, সূরা ফাতির তারপরে সূরা ইয়াসিন এবং তারপরে সূরা সাফফাত এভাবেই কোরআনে সূরাগুলোকে সাজানো হয়েছে।

এই সূরার নামকরণ। সূরাগুলোর নামকরণের ব্যাপারে আমরা দেখি যে যদিও সূরাগুলো যখনই আল্লাহর কাছ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম এর কাছে এসেছে সেই সময় সূরাগুলোর নামকরণ করা হয় নাই। পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম কোন কোন সূরাকে বিশেষ নামে ডেকেছেন অথবা সূরার প্রথম যে আয়াত সেই আয়াত দিয়ে সূরাগুলোকে পরিচিত করেছেন। পরবর্তীতে আমরা দেখি যে কোরআন সূরাগুলোকে যখন গ্রন্থবদ্ধ করা হয় তখন সাহাবাদের মাধ্যমে হচ্ছে এই নামগুলো এসেছে এবং বেশিরভাগ সূরারই আমরা দেখি যে মূল নামকরণ করা হয়েছে প্রথম আয়াত থেকে। তেমনিভাবে সূরা ইয়াসিনের যে নাম সেটা আমরা দেখি যে সূরার প্রথম যেই দুইটা হরফ ইয়াসিন এ থেকেই হচ্ছে এই সূরাটির নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরার যদিও আমরা সর্বসম্মতিক্রমে সবাই জানা অনুযায়ী সূরা ইয়াসিন নামেই পরিচিত। তবে এই সূরার আরো দুইটি নাম রয়েছে। একটি নাম হচ্ছে আল মুদাফিয়া। আল মুদাফিয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে যেই জিনিসটা হচ্ছে দূরে সরিয়ে দেয়। সো এই সূরা ইয়াসিনের মাধ্যমে যত খারাপ কিছু আছে সে খারাপ জিনিস থেকে খারাপ জিনিসকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায় সে কারণে এই সূরার একটি নামকরণ করা হয়েছে আল মুদাফিহ নামে এ সূরার আরেকটি নাম রয়েছে যেটা হচ্ছে আল কাদিয়া আল কাদিয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে যেই জিনিসটা হচ্ছে গ্র্যান্ড করে কোন কিছু দান করা বুঝানো হয়ে থাকে এটা হচ্ছে সেই সূরা যেটা আমাদের প্রয়োজনগুলোকে ফুলফিল করে যে সেটা আমাদেরকে সেই জিনিসগুলোই দিয়ে থাকে যে জিনিসগুলো আমরা চাই। এবং এই সূরার মধ্যে আমরা দেখি যে অসংখ্য নেয়ামতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সে নেয়ামতগুলো আমাদেরকে দান করছেন যে কারণে এই সূরাটাকে সূরা আল কাদিয়াও বলা হয়ে থাকে।

নাযিলের সময়কাল দিকে আমরা যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে আগেই আমরা বলেছি যে এটা হচ্ছে মিড মাক্কান একটি সূরা। অর্থাৎ মাক্কি যুগের মাঝে মাঝি সময়ে এই সূরাটি নাযিল হয়েছে। এই সময়ের ব্যাপারে আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যে সময় মক্কায় তার যে দায়িত্ব কোরআনের পথে ইসলামের পথে মানুষকে ডাকা সেই ডাকার কাজ করছিলেন সেই সময়ে এমন একটা সময় যখন হচ্ছে আস্তে আস্তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম সাধারণদের কাছে তার আত্মীয় পরিজনের বাইরে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করলেন তখন সেখানে দেখা গেল যে অনেক বেশি বাধা আসতে লাগলো বিরোধিতা আসতে লাগলো এবং সেই বিরোধিতা আসলো কোরাইশ লিডারদের পক্ষ থেকে মক্কার অন্যান্য অধিবাসীদের কাছ থেকে এবং এই সময়টা হচ্ছে এমন একটা সময় আমরা জানি যে সেখানে মক্কায় মুশরিকরা ছিল যারা হচ্ছে তাদের যে কাবা ঘরের ইবাদত করার সাথে সাথে তারা হচ্ছে সেখানে মূর্তির ইবাদত করতো এবং তাদের যে বাপ-দাদার যে কালচার বা ট্রেডিশন প্রচলিত ছিল সেটার উপরেই তারা বেশি জোর দিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যে নতুন দিনের দিকে তাদেরকে দাওয়াত দিচ্ছে নতুন কথাগুলো শোনাচ্ছে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে সোশ্যাল জাস্টিসের কথা বলছে সেগুলো তাদের কোনভাবেই মনোপূত হলো না এবং সেই সময়েই দেখা গেল যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এমন একটি সূরা নাযিল করলেন যেই সূরার মাধ্যমে মুসলমানরা সেই সময়ে যে সাইকোলজিক্যাল প্রেসার ফিল করছিল তারা সামাজিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছিল ফিজিক্যালি তাদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছিল ছিল একটা ওপেন কনফ্লিক্টের মধ্যে তারা পড়ে গিয়েছে এমন একটা সোশ্যাল এনভায়রনমেন্টে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মুসলমানদেরকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে সেই সময়ে সেই সংখ্যালঘিষ্ট মুসলমানদেরকে সাপোর্ট দিয়ে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে সাপোর্ট দিয়ে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এই সূরাটি নাযিল করেছেন। এবং এই সূরার মূল দিকে যদি আমরা দেখি তাহলে দেখব যে এমন একটি বিরুদ্ধ পরিবেশে সূরাটি এসেছে সেই সময়ের জন্য এটা খুবই দরকারি ছিল যে যে ক্ষুদ্র সংখ্যক মুসলমান তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের ডাকে সাড়া দিয়েছে তাদের যে স্পিরিচুয়াল রিসিরেন্স এবং তাদের মোরাল এনকারেজমেন্ট এর জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেন এই সূরাটি পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই সূরার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের যে মিশন সেই মিশনের সত্যতা ঘোষণা করেছেন এবং যারা এই কথাগুলো শুনছে তাদের কাছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পুরনো যেসব জাতি এসেছিল তাদের কথা তুলে ধরেছেন যে তারা তাদের নবীকে যখন রিজেক্ট করেছে তাদের পরিণাম কি হয়েছিল সেই কথাগুলো এখানে চলে এসেছে এবং এমন একটি সময়ে এই সূরাটি নাযিল হয়েছে যে সময় আমরা দেখি যে আবু জাহেল রাস সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে থ্রেট দিচ্ছিল তাকে হত্যা করার তার তার ক্ষতি করার জন্য এবং সেই সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম সূরা ইয়াসিন পড়ে তার পড়ছিলেন এবং আবু জাহাল তাকে দেখতে পায় নাই। তাদের একটা জিজ্ঞাসা ছিল যে আমরা যখন মারা যাব, মাটিতে মিশে যাব, যখন আমাদের হাড়গুলো ধুলোর সাথে মিশে যাবে তখন কিভাবে আমরা আবার বেঁচে উঠবো? আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন এখানে। আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম যখন মদিনায় হিজরত করেন সেই সময়ে যখন চারদিক থেকে কাফের কোরাইশরা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলেছিল সেই সময় আল্লাহ সুবহানা তাআলার নির্দেশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম সূরা ইয়াসিন পড়তে পড়তে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন তারা কেউ হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে দেখতে পারেন দেখতে পায়নি তখন। তো এরকম একটি অবস্থায় যখন আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের দাওয়াতের কারণে চরম একটু অস্থির অবস্থা ছিল সেই সময় সময়ে সমাজে সেই সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর কাছে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এই সূরা ইয়াসিন নাযিল করেন। তা এটা মাক্কী যুগের মাঝামাঝি সময়ের একটি সূরা এবং এই সূরার ব্যাপারে আমরা জানি যে সূরা ইয়াসিন আমাদের কাছে কেন এত পরিচিত? কারণ আমরা জানি সূরা ইয়াসিনের অনেক গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে এবং সেই কারণে দেখা যায় যে আমাদের পাক ভারত উপমহাদেশী স্পেশালি এই সূরা ইয়াসিনকে বিশেষ সম্মানের সাথে দেখা হয় এবং এমন কোন মুসলমান নাই যে সূরা ইয়াসিনের নাম জানে না অথবা সূরা ইয়াসিন কখনো পড়ে নাই এরকম মানুষ আসলে খুঁজে পাওয়া খুব কষ্টকর হবে।

তো এই সূরার যে গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে যে সুবহানাল্লাহ আমরা দেখি যে বেশ কিছু সূরা রয়েছে কোরআনের যেগুলো সরাসরি গুরুত্ব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন এবং সেগুলোকে লিপিবদ্ধ করা রয়েছে এবং অনেক সূরা রয়েছে যেগুলোর স্পেশাল কোন ভার্চু বলা হয় নাই কিন্তু আমরা জানি যে কোরআনের প্রত্যেকটা সূরাই হচ্ছে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এর প্রত্যেকটা মেসেজ হচ্ছে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেকটা কথা হচ্ছে আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সো সূরা ইয়াসিন হচ্ছে সেরকম একটি সূরা সূরা যেই সূরার ব্যাপারে ম্যাক্সিমাম হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে বা ম্যাক্সিমাম গুরুত্ব বলা হয়েছে। কিন্তু আনফরচুনেটলি দেখা যায় যে যে বর্ণনাগুলো এসেছে বা যে হাদিসগুলো এসেছে তার অধিকাংশই হচ্ছে অথেন্টিক না অথবা দুর্বল হাদিস থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তাফসীরকারকগণ বলেছেন যে যে সূরা সম্পর্কে এতগুলো বর্ণনা এসেছে অবশ্যই সেই সূরার কিছু না কিছু গুরুত্ব আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে স্পেশাল কিছু গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে যে কারণে হচ্ছে এই কথাগুলো চলে এসেছে। সো আমি যেই হাদিসগুলো রয়েছে সেখান থেকে কিছু হাদিস এখানে বর্ণনা করব যেগুলো হচ্ছে আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে এবং যে হাদিসগুলো বর্ণনা করা হয়েছে এবং তার সাথে সাথে সে হাদিসগুলোর অথেন্টিসিটি নিয়ে একটু আলোচনা করব যাতে হচ্ছে আমরা সেই গ্রুপের মধ্যে পড়ে না যাই যাদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বলেছেন যে যে হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলে নাই এমন কথা তার নামে প্রচার করবে তার জন্য হচ্ছে রাসূ সাল্ সলাম বলেছেন তার ধ্বংস অনিবার্য। সো আমরা যাতে সেই পর্যায়ে পড়ে না যাই সেজন্য আমরা সঠিক কোনগুলো এবং কি ধরনের সমস্যা রয়েছে সেগুলো একটু জানার চেষ্টা করব। তবে অবশ্যই কোরআন মাজিদের যেকোন সূরাই হচ্ছে আমাদের সম্মানের সম্মান প্রাপ্য এবং সেটার অবশ্যই আমাদের জন্য গুরুত্ব রয়েছে। এবং আসলে এই সূরাটি এত গুরুত্বপূর্ণ আমরা যখন এই সূরাটি অর্থ ব্যাখ্যা বুঝার চেষ্টা করব তখন দেখব যে এটা আমাদের হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। এমন একটি সূরা এবং অবশ্যই এই সূরার গুরুত্ব এজন্য যে এর প্রত্যেকটি কথাই আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রযোজ্য এবং সেটাই আমরা জানার চেষ্টা করব এই রমাদান মাসে।

এই প্রথম যে হাদিসটি আমি এখানে উল্লেখ করেছি সেই হাদিসটি এসেছে সূরা ইয়াসিনের মাধ্যমে ক্ষমা প্রাপ্তির যে ঘোষণা সেটা নিয়ে এটা মুসনাদ আহম্মেদ বর্ণনা করা হয়েছে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত। তো এটা হচ্ছে যতগুলো হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে ইয়া সূরা ইয়াসিনের গুরুত্ব সম্পর্কে তার মধ্যে সবচেয়ে অথেন্টিক হাদিস এবং এর মধ্যেও কিছু কন্ট্রোভার্সি রয়েছে এবং সেখানে হচ্ছে যে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহুর থেকে বর্ণনা করেছেন হাসান আল বসরী কিন্তু তাদের মাঝখানে তাদের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার কোন সুযোগ নাই তাহলে তাদের আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে হাসান আল বসরী কিভাবে এই হাদিসটি পেয়েছেন সেটা নিয়ে একটু অপ্রকাশ্য নাম রয়েছে অথবা সেটা জানা যায় নাই। সে কারণে এটাকে হচ্ছে উইক হাদিস বলা হয়েছে। যেই হাদিসগুলো উইক বা দুর্বল সেগুলোর ব্যাপারে কিছু কন্ডিশন দেওয়া হয়েছে। সেটা হচ্ছে যে যেই হাদিসগুলো হচ্ছে কিছুটা দুর্বল কিন্তু অনেক বেশি দুর্বল নয়। সেগুলোকে আমরা গ্রহণ করতে পারব। সেকেন্ড যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে দুর্বল হাদিসের ক্ষেত্রে যে দুর্বল হাদিস থেকে আমরা আকিদা সংক্রান্ত কোন ইনফরমেশন নিবো না। হালাল হারাম সংক্রান্ত ইনফরমেশন আমরা দিব না। অর্থাৎ ফাউন্ডেশনাল যে ইনফরমেশনগুলো সেগুলো আমরা দুর্বল হাদিস থেকে নিতে পারবো না। কিন্তু গুরুত্ব বুঝার জন্য বা এর মাধ্যমে যদি কারো কাছে গুরুত্ব বেড়ে যায় তাহলে সে কারণে আমরা সে হাদিসকে নিতে পারব। এবং থার্ড কন্ডিশন যেটা দুর্বল হাদিসের ব্যাপারে অবশ্যই যখন এই হাদিস বর্ণনা করা হবে তখন বলতে হবে এটা দুর্বল হাদিস। তাহলে যে শুনবে এটা তার উপরে দায়িত্ব। সেটা গ্রহণ করবে কি গ্রহণ করবে না? তো যে হাদিসটা এখানে বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে যে যে হচ্ছে রাতের বেলা আল্লাহ সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসিন পাঠ করে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তো সুবহানাল্লাহ যে যদিও এটা হচ্ছে দুর্বল হাদিস। কিন্তু এখান থেকে এর ভারটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। গুরুত্বটা দেখতে পাচ্ছি যে রাতের বেলা যখন আমরা সূরা ইয়াসিন পড়বো আল্লাহ সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাহলে আল্লাহ তার গুনাহকে মাফ করে দিবেন।

তারপরে যে হাদিসটি রয়েছে সেই হাদিসটি জামিয়া আল তিরমিজিতে বর্ণনা করা হয়েছে এবং সেখানে আমরা দেখি যে এই হাদিসের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে এটাও একটা দুর্বল হাদিস এবং এর যে বর্ণনা হাদিস বর্ণনাকারী রয়েছেন তার সম্পর্কে অনেকগুলো বর্ণনাকারীর মধ্য থেকে একজন যার নাম হচ্ছে হারুন তার সম্পর্কে কোন কিছু জানা যায় নাই এবং সে কারণে হচ্ছে এটা একটা দুর্বল হাদিস এবং হাদিসে ভাষ্য টাও হচ্ছে অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় নাই সেভাবে। যেমন আমরা দেখি যে হাদিসে বলা হয়েছে যে প্রত্যেক জিনিসেরই একটি হার্ট রয়েছে এবং কোরআনের হার্ট কোরআনের হৃদয় হলো সূরা ইয়াসিন। একটুক পর্যন্ত কথাটা হচ্ছে গ্রহণযোগ্য বলেছেন হাদিস বিশারতগণ। কিন্তু পরের যে অংশটুকু এই হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে যে হচ্ছে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা হচ্ছে তার মাধ্যমে 10 বার কোরআন পড়া হয়েছে সেটা সওয়াব দিয়ে দিবেন। তো এই শেষের অংশটুকু বলা হয়েছে যে সেটা গ্রহণযোগ্য না। কিন্তু প্রথম অংশটুকুকে অথেন্টিক বলা হয়েছে। সো এখানে আমরা দেখি যে ইমাম আল গাজ্জালী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে, যে কারণে সূরা আল ইয়াসিনকে কোরআনের হার্ট বলা হয় সেটার একটা কারণ হতে পারে এরকম যে এই সূরাটিতে হচ্ছে আখিরাত সম্পর্কে এবং আখিরাতের পরে পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এর এত সুন্দরভাবে সেই আখিরাত এবং আখিরাতের পরের জীবন নিয়ে এখানে আলোচনা করেছেন যে এটা হচ্ছে আমাদের ঈমানের একটা বিশেষ শেষ অংশ এবং এটাকে এমনভাবে বলা হয়েছে যে কেউ যদি আখিরাতের উপরে বিশ্বাস রাখে পুনরুজ্জীবনের উপরে বিশ্বাস রাখে তাহলে সেটা যেমন তাকে দ্বীনের পথে চলতে অটল থাকতে সাহায্য করে সেরকমভাবে সূরা ইয়াসিন হচ্ছে এরকম যে যে এই সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার হৃদয়ে নাড়া পড়বে তার আখিরাতের বিশ্বাস হচ্ছে মজবুত হবে এবং সে কারণে হচ্ছে সে আখিরাতের ভয়ে হচ্ছে ভালো কাজ বেশি করে করবে এবং খারাপ জিনিস থেকে হারাম জিনিস থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে। সো যেভাবে হচ্ছে একটা শরীরের সুস্থতা ডিপেন্ড করে হচ্ছে হার্টের সুস্থতার উপরে তেমনিভাবে আমাদের ঈমানের সুস্থতা ডিপেন্ড করে হচ্ছে আমাদের আখিরাতের বিশ্বাসের সুস্থতার উপরে। আখেরাতে বিশ্বাসের যে মজবুতি সেটার উপরে এবং সে কারণে এর প্রথম অংশটাকে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে।

তারপরে আমরা দেখি যে আরেকটা হাদিসে এসেছে যেখানে বলা হয়েছে যে মানুষ যখন তার মৃত্যুর শেষ সময়ে এসে উপস্থিত হয় তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাললাম রিকমেন্ড করেছেন যে তোমরা এই মৃতের উপরে কোরআন পড়। তো এখানে আমরা দেখি যে এটাকেও একটা দুর্বল হাদিস বলা হয়েছে এবং এখানে দুইজন হাদিস বর্ণনাকারীর নাম এসেছে যাদের সম্পর্কে জানা যায় নাই। কিন্তু আমরা দেখি যে সেম কথা দিয়েই হচ্ছে আরো কিছু হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। যে হাদিসগুলোকে দুর্বল হাদিস বলা হয়েছে। তো হাদিস বিষয়গণের মতে হচ্ছে দুইটা দুর্বল হাদিস যখন দুইবার ততধিক দুর্বল হাদিস যখন একই রকমের মেসেজ দেয় তখন সেটা আরো বেশি স্ট্রংার হয় এবং সে মেসেজটা গ্রহণযোগ্য। তো এখানে বলা হয়েছে যে সূরা ইয়াসিন তোমরা পাঠ করো মৃতের উপরে। এখন এই মৃত বলতে কোন সময়ের কথা বুঝানো হয়েছে? মৃত্যুর আগের সময় অথবা মৃত্যুর পরের সময়ের কথা। এ ব্যাপারে হাদিস বিশয়তগণ বলেছেন যে এই সময়টা হচ্ছে যখন মানুষ একদম মৃত্যুর মুখোমুখী চলে আসে যে মৃত্যুর যন্ত্রণায় বা মৃত্যুর কষ্টের মধ্যে রয়েছে সেই সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এই হাদিসটিকে পড়তে বলেছেন এবং এই হাদিসটি যখন আমরা পড়বো এর অর্থ যখন বুঝবো তখন দেখবো যে সেখানে আখিরাতের কথা এমনভাবে বলা হয়েছে যে একজন মৃত্যুস্যা মানুষ যখন সে আখেরাতের কথা শুনবে তখন তার ঈমান তখনো মজবুতি লাভ করবে এবং আল্লাহর কথা সে বেশি করে স্মরণ করবে এবং সে কারণে আমরা দেখি যে আমাদের মুসলিম কমিউনিটিতে বা আমাদের মুসলমানদের মধ্যে এটা খুবই প্রচলিত রয়েছে যে মৃত্যুর সময় হচ্ছে সূরা ইয়াসিন পড়া কিন্তু এটা শুধুমাত্র মৃত্যুর আগে যখন আমরা পড়বো সেই সময়ের যে একটা পরিবেশ কামিং একটা এফেক্ট সেটার জন্য এই সূরাটার গুরুত্ব রয়েছে কিন্তু মৃত্যুর পরে এই সূরাটার তেমন কোন গুরুত্ব নেই। কারণ মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সমস্ত হিসাবই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং তখন তার উপরে এই সূরা পড়ে বা সূরার কারণে তার কষ্ট লাগাও হবে সেটা চিন্তা করার কোন সুযোগ নাই। এ ব্যাপারে বলা হয়েছে যে একজন সাহাবার একশনের উপরে ডিপেন্ড করে আসলে এটা বলা হয়ে থাকে যে সূরা ইয়াসিন মৃতের উপরে পড়ার জন্য এবং এই ব্যাপারে একটা ঘটনা এসেছে যে যখন গুদাইফ ইবনে আল হারিস তিনি হচ্ছেন মৃত্যু সজ্যায় ছিলেন তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের একজন সাহাবা ছিলেন তিনি তার পাশে যারা ছিল মৃত্যুর সময়ে তাদেরকে সূরা ইয়াসিন পড়তে বললেন এবং তার পাশে সেই সময় সাফওয়ান ইবনে আমর ছিলেন যিনি হচ্ছেন গুদায়েফ ইবনুল আল হারিসের এই রিকোয়েস্টটা শুনে তিনি সূরা ইয়াসিন পড়া শুরু করলেন। এবং এখানে আমরা দেখি যে যখন তিনি সূরা ইয়াসিন পড়া শুরু করলেন তখন 40 নাম্বার আয়াতে পৌঁছানোর পরে হচ্ছে গোদায়েফ ইবন আল হারিস মারা গেলেন। এখানে এখান থেকে ইমাম আহম্মদ তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে এই সাহাবার মৃত্যুর সময়ে তার যে রিকোয়েস্ট সে কারণেই হচ্ছে সূরা ইয়াসিনকে মৃত্যুর সময় পড়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।

তার পরবর্তী একটি হাদিস আমরা এখানে দেখতে পাই যেখানে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বলা হয়েছে যে যে হচ্ছে সকালবেলা সূরা ইয়াসিন পাঠ করে তার সারাদিনের কাজ তার জন্য সহজ হয়ে যায় এবং যে হচ্ছে দিনের শেষে এই সূরাটি পাঠ করে তার জন্য সকাল পরবর্তী সকাল পর্যন্ত সমস্ত কাজ সহজ হয়ে যায় এবং এটাকে খুবই দুর্বল একটা হাদিস বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তারপরে আমরা দেখি পরবর্তী আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে সূরা ইয়াসিন হচ্ছে কোরআনের হৃদয় এবং যে হচ্ছে আখিরাতের ব্যাপারে আখিরাতে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবে এই ব্যাপারে আশাবাদী সে যেন মৃতের উপরে এই দোয়াটি পড়ে। তো এটাই আমরা বলেছি যে বেশ কয়েকটা উইক হাদিসের মধ্যে এ কথাগুলি এসেছে সে কারণেই হচ্ছে কয়েকটা উইক হাদিস মিলে এটাকে স্ট্রংার পজিশনে নিয়ে যায় যেটা গুরুত্বটাকে বাড়িয়ে দেয়। সো ইমাম আহমদ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যে সাফওয়ান বলেছেন যে যারা হচ্ছে স্কলার ছিলেন তারা বলতেন যে যখন মৃত্যের উপরে এই সূরাটা পড়া হয় তখন আল্লাহ তার জন্য মৃত্যুটাকে সহজ করে দেন। সো এখানে আমরা দেখি যে হাদিস যেগুলো বর্ণনা করা হয়েছে এগুলো দুর্বল হাদিস। কিন্তু একই ধরনের কথা বিভিন্ন দুর্বল হাদিসের মধ্যে বলা হয়েছে। তার পরবর্তী আরেকটা হাদিসের মধ্যে আমরা দেখি সেখানে বলা হয়েছে যে যে হচ্ছে এটা হচ্ছে মুয়াত্তাতে ইমাম মালিকের মুয়াত্তাতে বর্ণনা করা হয়েছে যে যে হচ্ছে সূরা ইয়াসিন রাতের বেলা পড়ে আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য তার গুনাহগুলোকে মাফ করে দেওয়া হবে এবং এরকমভাবে বিভিন্ন হাদিসে হচ্ছে সূরা ইজিয়াসনের গুরুত্বগুলো এসেছে একটা হচ্ছে সকালবেলা পড়া একটা হচ্ছে রাতের বেলা পড়া আরেকটা হচ্ছে মৃত্যুর সময় পড়া এবং সর্বোপরি সূরা ইয়াসিনকে হচ্ছে হার্ট বলা হয়েছে। কোরআনের হৃদয় বলা হয়েছে। তো সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ভালো জানেন। তবে কোরআনের প্রত্যেকটা সূরাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সূরাটা আমরা যখন অর্থ এবং ব্যাখ্যা বুঝবো দেখব যে এই সূরার কথাগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেগুলোর উপরে আমল করার জন্য চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।