📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 47: Ayah 39|| Allah's Power over the Moon!!

Straight Path10:29

Transcription

সূরা 39 নাম্বার আয়াত।

নাহিলা চন্দ্রের জন্য আমি বিভিন্ন মঞ্জিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়।

এর আগের আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সূর্যের যে গতিপথ সেই ব্যাপারে আমাদেরকে জানিয়েছেন এবং এই আয়াতে চাঁদের যে গতিপথ সে সম্পর্কে আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন। ওয়াল কমারা কদারনা। কমার শব্দের অর্থ হচ্ছে চাঁদ এবং কদার শব্দের অর্থ হচ্ছে কোন কিছু নির্ধারণ করা, কোন কিছু হিসাব করে দেওয়া। এর মাধ্যমে হচ্ছে যে কোন জিনিসের প্রেসাইজ যে মেজার যে সঠিক পরিমাপ কি হবে বা নিয়ম কি হবে সেটা ঠিক করে দেওয়াটাই হচ্ছে কদারা শব্দ দিয়ে বুঝানো হয়ে থাকে। এবং এখানে আল্লাহ বলছেন কদদারনা। তাহলে এই যে চাঁদের যে গতিপথ সেটা কে নির্ধারণ করেন? সেটা আমরা নির্ধারণ করি। আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যে সুপার পাওয়ার সেটা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি। এবং আর কে হতে পারে আল্লাহ ছাড়া যার এ ধরনের ক্ষমতা থাকতে পারে?

তারপরে বলছেন যেনাহু মানাজিলা। মানাজিলা হচ্ছে আমরা মনজিল শব্দটার সাথে পরিচিত যে একটার পর একটা যে টার্গেট স্থান সেটা বুঝানোর জন্য মনজিল বলা হয়ে থাকে। তো মনজিল হচ্ছে স্টেজ বা ফেজ। চাঁদের যে ফেজ বা চাঁদের যে ডিফারেন্ট চেঞ্জ আমরা দেখতে পাই সেটাকে এখানে বুঝানো হয়েছে। হাততা যতক্ষণ পর্যন্ত আদা কাল অর্জুন। অর্জুন শব্দটা এখানে বলা হয়েছে। অর্জুন শব্দটার অর্থ হচ্ছে এখানে আমরা ফাস্টে মানাজিল শব্দটা একটু জেনে নেই। মানাজিল শব্দটা মঞজিল থেকে আসছে। মঞজিলের প্লুরাল হচ্ছে মানাজিল এবং এখানে মানাজিল দিয়ে বুঝানো হয় যে যেই স্থানে যে টার্গেট স্থানে পৌঁছানোর কথা সেটা। সো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে সূর্য এবং চাঁদের যে গতিপথ সেটাকে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন পার্টিকুলার পয়েন্ট দিয়ে এবং প্রত্যেকটা পয়েন্টকে বলা হচ্ছে মঞ্জিল অথবা স্টেজ। সো এর মধ্যে যখন চাঁদ হচ্ছে তার মনজিল কমপ্লিট করে এটা এক মাস সময় লাগে। সথ অথবা 29 স্টেজ 29 ডেজ এর মধ্যে এই স্টেজটা পার করে। একেকটি স্টেজ পার করে কমপ্লিট রোটেশন শেষ করতে চাঁদের হচ্ছে 29 অথবা 30 দিন সময় লাগে এবং এরপরে আমরা দেখি যে চাঁদ মাসের কিছুটা সময় ডিসপিয়ার করে আমরা দেখতে পাই না বেশি। সো এই সময়গুলো যদি আমরা হিসাব করি তাহলে দেখব যে এই 28 দিনের মধ্যে এই সময়গুলোকে পার করছে।

সো এই যে চাঁদের যে গতিপথ এবং চাঁদের যে মঞ্জিল সেগুলোর সাথে আরবের জাহেলিয়া সমাজেও তারা খুব পরিচিত ছিল। কারণ রাতের আকাশের দিকে তাকিয়েই হচ্ছে তারা গতিপথ নির্ধারণ করতো এবং রাতের আকাশের সাথে তাদের খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক ছিল। যে তারা এই চাঁদের যে বিভিন্ন স্টেজগুলো রয়েছে সেগুলো তারা জানত।

এবং তারপরে বলা হয়েছে আদা। আদা শব্দের অর্থ হচ্ছে টু রিটার্ন যে কোনদিকে ফিরে আসা যে অবস্থায় আগে ছিল সে অবস্থায় আবার চলে আসা এটাকে আদা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। সো এখানে আমরা দেখি 28 দিন অথবা 29 দিন যে কয়টা দিনের জন্যই এই স্টেজ ফিক্স করে হোক না কেন চাঁদ আবার ঠিক তার আগের অবস্থানে চলে আসে।

সো এখানে অর্জুন শব্দটা বলা হয়েছে যে অর্জুনের মতো। অর্জুন জিনিসটা কি? এটা হচ্ছে খেজুর গাছের যেই স্টক বা খেজুর গাছের যে ডাল রয়েছে অথবা খেজুর গাছের উপরে যেই কাভারটা রয়েছে বালক রয়েছে পুরানো হয়ে গেলে আল কাদিম বলা হচ্ছে অর্থাৎ ওল্ড পুরানো হয়ে গেলে সেটার যে ধরনের চেহারা হয় যেটা বাঁকা হয়ে যায় সেরকম হচ্ছে এই চাঁদের অবস্থান হয়। সো এই সময় আমরা দেখি যখন পুরানো হয়ে শুষ্ক হয়ে যায় তখন এই খেজুর গাছের যে বাকল সে বাকলটা হচ্ছে শুকন ফ্রুটলেস থাকে বাটা এটা শেপটা হচ্ছে চাঁদের মত হয়ে যায়। সো এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেই কম্পারিজনটা করেছেন যে আকাশের চাঁদে উপরে আকাশের মধ্যে চাঁদকে মাটির পৃথিবীতে খেজুর গাছের সাথে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে তুলনা করে দেখাচ্ছেন এবং এই যে চেঞ্জ এটা হচ্ছে ফ্ললেস এটা সিমিট্রিক্যাল আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই পৃথিবীর সাথে আকাশের যে একটা সমন্বয় করিয়েছেন সেটা আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষে করা সম্ভব না। স যখন এই খেজুর গাছের বাক্কল অথবা ডাল হচ্ছে পুরানো হয় তখন সেটা আরো বেশি ফ্রেইল হয়। ভঙ্গুর হয়ে পড়ে আরো বাঁকা হয়ে যায়। সো সেই অবস্থানের সাথে এই চাঁদটাকে তুলনা করা হয়েছে যে চাঁদ একসময় সেই অবস্থায় চলে যায়।

এই যে চাঁদের যে বিভিন্ন গতিপথ আমরা দেখি সেখানে চাঁদের বিভিন্ন স্টেজগুলো রয়েছে সেই স্টেজগুলো আরব কোরাইশা হচ্ছে। সেগুলোকে বিভিন্ন নামে ডাকতো। সো এখানে আমরা দেখি যে চাঁদের যে বিভিন্ন ফেসগুলো রয়েছে সেগুলোর বিভিন্ন নাম রয়েছে এবং একটা স্টেজ থেকে আরেকটা স্টেজে নতুন চাঁদ আমরা চোখে প্রায় দেখতেই পাই না। তারপরে আস্তে আস্তে ক্রিসেন্ট শেপ থেকে শুরু করে ফুল মুন হচ্ছে। ফুল মুন থেকে আবার সেটা কমতে কমতে আবার ক্রিসেন্ট শেপে চলে যাচ্ছে। এই যে চাঁদের পরিবর্তন সে মঞ্জিল সেই স্টেজগুলোর দিকে তাকাতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে এই ফেসগুলোর মধ্য দিয়ে চাঁদ যখন যাচ্ছে যে পরিবর্তনটা হচ্ছে থ্রু আউট দা মান্থ সেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে খেয়াল করতে বলছেন। স যে ক্রিসেন্ট শেপ থেকে শুরু হচ্ছে আবারও সেই ক্রিসেন্ট শেপে যাচ্ছে। সো এখানে বলা হচ্ছে যে সে তার আবার নিজের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে এবং মিলিয়নস অফ ইয়ারস ধরে এই রেগুলারিটি মেনটেন হচ্ছে। কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। একইভাবে এই ক্যালকুলেশন সম্পন্ন হচ্ছে এবং এই এটাকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানা তাআালারই রয়েছে।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেছেন যে এটা হচ্ছে খেজুর গাছের মূল যে স্ট্যাম্প সেটার কথা বলা হয়েছে। যেখানে হচ্ছে খেজুর ধরে থাকে। অর্থাৎ ডালটার কথা বলা হয়েছে এখানে। তো আমরা যদি একটু ছবির দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে এই যে ক্রিসেন্ট মুন এই ক্রিসেন্ট মুনের সাথে যেই ডালটার মধ্যে খেজুর ধরে সেটাও দেখা যায় এরকম ক্রিসেন্ট শেপ হয় সেটাও এর অর্থ হতে পারে অর্জুন বলে।

তো এখানে কোরআনে আমরা দেখি সূরা বাকারাতে আল্লাহ বলছেন তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজের সময় ঠিক করার মাধ্যম। আর পিছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকি বা কল্যাণ নেই। অবশ্য নেকি হলো আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ করো দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাকো যাতে তোমরা নিজেদের বাসনায় কৃতকার্য হতে পারো।

তো এখানে আমরা দেখি যে চাঁদের যে হিসাবের কথা বলা হয়েছে এটা হচ্ছে মানুষের সময় নির্ধারণ করার জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়ে দিয়েছেন। সো আল্লাহ সূর্যকে তার নিজস্ব আলো দিয়েছেন। কিন্তু চাঁদের কিন্তু নিজস্ব আলো নেই। এটা হচ্ছে সূর্যের আলোর রিফ্লেকশন এবং সেটাকে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এই সূর্য থেকে চাঁদে কিভাবে রিফ্লেক্ট হবে এবং কিভাবে চেঞ্জ হবে প্রতিদিনে কিরকম পরিবর্তন হচ্ছে সূর্যের মধ্যে এবং কিরকম পরিবর্তন হচ্ছে প্রতি রাতে চাঁদের মধ্যে এ সমস্ত কিছুই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ফিক্স করে দিয়েছেন। শুধু দিনে রাতে না আমরা বরং দেখি যে বিভিন্ন ঋতুতে সিজনগুলোতে কিভাবে চেঞ্জ হচ্ছে সেটাও আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ফিক্স করে রেখেছেন। সূর্যের জন্য যেমন ফিক্স করে রেখেছেন তেমনি চাঁদের জন্য ফিক্স করে রেখেছেন এবং চাঁদ সেই সিস্টেমটাই কন্টিনিউয়াসলি ফলো করছে যেটা আমরা লুনার মান্থ হিসাব করার জন্য কাজে লাগিয়ে থাকি।

সূরা ইউনিসে বলা হচ্ছে তিনিই সে মহান সত্তা যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জ্বল আলোকময়। আর চাঁদকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারী রূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মঞ্জিল সমূহ। যাতে করে তোমরা চিনতে পারো বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি কিন্তু যথার্থতার সাথে তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণ সমূহ সেই সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে।

তাহলে এই যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে বলছেন চাঁদের গতিপথের কথা, চাঁদের অবস্থানের কথা, সূর্যের অবস্থানের কথা এগুলো কেন বলছেন যেন হচ্ছে আমরা এখান থেকে জ্ঞান অর্জন করি। যেন এই জ্ঞান নিয়ে আমরা চিন্তা করি এবং আল্লাহ সুবহানা তাআালার যে সৃষ্টি রহস্য সেটা বুঝার চেষ্টা করি এবং তার সাথে সাথে যিনি এটাকে সৃষ্টি করেছেন যেটা আমরা দেখি খালাকানা বলেছেন যে আমরা সৃষ্টি করেছি তো যিনি সৃষ্টি করেছেন তাকে আমরা চিনতে শিখি তার যে শক্তি ক্ষমতা সেটাকে আমরা উপলব্ধি করতে শিখি এবং এভাবে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বারবার আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যেমন সূরা ইসরা রাতে বলছেন আমি রাত এবং দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি অতঃপর নিষ্প্রব করে দিয়েছি রাতের নিদর্শন এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগ উপযোগী করেছি যাতে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ নিষণ করো এবং যাতে তোমরা স্থির করতে পারো বছর সমূহের গণনা ও হিসাব এবং আমি সব বিষয়কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।

সো বারবার আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদের সামনে এই সত্যগুলোকে তুলে ধরেছেন এই যে সাইন্টিফিক ফ্যাক্ট আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন 140 বছর আগে যেই সময় ইসলামের কথা আমরা জানতে পেরেছি এই কোরআনের কথাগুলো এসেছে সে সময় কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল না এটা সত্যতা যাচাই করা বা এটা কিভাবে সম্ভব সেটা বুঝা তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সে অসীম জ্ঞানের অধিকারী এবং আমাদেরকেও তিনি এই জিনিসগুলো জানাচ্ছেন যেন আমরা আল্লাহকে চিনতে পারি জানতে পারি এবং আমরাও সে জ্ঞানবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যে জ্ঞান আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।