📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 25: Ayah 18/B|| Violence is the Next Step of Rejection !!

Straight Path9:48

Transcription

১৮ আয়াতে আমরা দেখি যে এরপরে বলা হয়েছে, "লা ইল্লামতানতাহুলাজুমাননাকুম।" তো তাহলে কি করছে তারা? "ওলাইয়ামাসানাকুমমিনা আবুন আলিম।" তো তারা হচ্ছে, তারা সে নবীদেরকে মেসেঞ্জারদেরকে তারা এখন হুমকি দিচ্ছে যে তোমরা যদি এখান থেকে সরে না আসো তাহলে কি হবে? তোমাদেরকে হচ্ছে পাথর মেরে হত্যা করা হবে এবং তোমাদের জন্য রয়েছে হচ্ছে কঠিন শাস্তি।

সো এটা হচ্ছে তাদের একটা ওয়ার্নিং সেই মেসেঞ্জারদের প্রতি এবং তারা তাদেরকে বলছে যে তোমরা যদি তোমাদের এই দাওয়াত বন্ধ না করো, তোমার এই দ্বীনের কথা বলা বন্ধ না করো তাহলে এটার জন্য সিভিয়ার কনসিকুয়েন্স রয়েছে। আমরা কি করব? আমরা হচ্ছে "তানতাহুনারজুমান নাকুম।" "নারজুমান" রজম থেকে শব্দটি এসেছে। সে তার অর্থ হচ্ছে পাথর মারা। সো এখানে হচ্ছে ডাইরেক্ট একটা এক্সপ্রেশন অফ ভায়োলেন্স আমরা দেখতে পাচ্ছি।

এখানে ইবনে কাতাদা রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে তারা হচ্ছে থ্রেট করেছে ফিজিক্যালি হার্ম করার জন্য যে তাদের প্রতি পাথর ছুড়ে মারা হবে এবং পাথর ছুড়ে মেরে তাদেরকে হচ্ছে সেভাবে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। সো আরজেম শব্দটার অর্থ হচ্ছে পাথর মারতে মারতে কাউকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া এবং এখানে আরো তিনটা অর্থ হতে পারে বলেছেন তাফসীকারকণ: একটা হচ্ছে পাথর মারা, আরেকটা হচ্ছে হচ্ছে হত্যা করা, আরেকটা হচ্ছে তাদেরকে কারাগারে বন্দি করে রাখা।

সো রজম লিটারিলি মিন্স করে কারো দিকে পাথর ছুড়ে মারা। এবং এর আরেকটা অর্থ হচ্ছে কাউকে দূরে ছুড়ে ফেলা। যেমন আমরা ময়লা আবর্জনা দূরে ছুড়ে ফেলি সেরকমভাবে। এবং এখানে আমরা দেখি বলা হচ্ছে "লা ইল্লাম ইল্লা।" লাম শব্দটি এখানে বলা হয়েছে যে এই লাম দিয়ে আসলে কি বুঝানো হয়? এটা এমফাসিস বা গুরুত্ব বুঝানো হয় যে আমরা অবশ্যই অবশ্যই এটা করব।

সো এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে তারা তাদের যে এটিচিউডটা ছিল যে তারা একদম সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্ষতির দিকেই সে মেসেঞ্জারদেরকে নিয়ে যাচ্ছিল যে তাদের যে শাস্তির তাদেরকে মৃত্যুর হুমকি তারা দিচ্ছিল এবং তারপরে বলা হচ্ছে যে "ওলাইয়ামাসানাকুমনা আজবুন আলিম।" যে তোমাদেরকে আজবুন আলিম হচ্ছে খুব কঠিন পানিশমেন্ট, সিভিয়ার পানিশমেন্ট বুঝানোর জন্য এটা বলা হয়ে থাকে। তারা শুধুমাত্র যে তাদেরকে ফিজিক্যালি হারম করবে সেটা তারা বলছে না, বরং তারা বলছে যে এর চেয়েও বেশি সাফারিং তোমাদের জন্য রয়েছে।

সই সাফারিংটা হচ্ছে যে তাদের যে তাদের এই কথার মাধ্যমে আমরা দেখছি যে তাদের যে ইনটেন্সিটি, যে বিরুদ্ধতার হোস্ট রিলেটির যে ইন্টেনসিটি সেটা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি। এবং এখানে এই আয়াতের মাধ্যমে আমরা সাক্ষী হচ্ছি এখানে যে সেই মেসেঞ্জাররা যে ধরনের অপোজিশনের মুখোমুখী হয়েছিলেন যখন তারা সত্যের কথা তাদের সামনে তুলে ধরেছিলেন এবং তাদের এই রিএকশনের কারণ হচ্ছে তাদের মধ্যে কুসংস্কার ছিল, তাদের মধ্যে বিরোধিতা ছিল, তাদেরকে সত্য অস্বীকার করার মনোবৃত্তি তাদের মধ্যে ছিল এবং এই পরিবর্তনের ডাক তাদের মধ্যে এসেছিল যে মেসেঞ্জাররা বলেছিল তোমরা যুগ যুগ ধরে যেটা করে আসছো সেটা ঠিক না বরং এটাই হচ্ছে ঠিক যে এক আল্লাহর ইবাদত করো। এই যে তাদেরকে পরিবর্তনের জন্য ডেকেছে সে পরিবর্তনটা তারা নিতে পারে নাই এবং সে পরিবর্তনের পথে ডাকাটাকেই তারা মিসফরচুন বা দুর্ভাগ্য মনে করছিল।

এবং এই আয়াতের মাধ্যমে আমরা দেখি যে সে মেসেঞ্জাররা যে ধরনের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল শুধু মুখে না, ফিজিক্যালি এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল শুধুমাত্র মানুষকে হেদায়েতের পথে ডাকার জন্য, শুধুমাত্র তাদের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য, এক আল্লাহর ইবাদত করতে বলার জন্য। আজকের জীবনেও আমরা দেখি যে যারাই এ কাজগুলো করবে, সুস্পষ্ট সুস্পষ্ট এবং সঠিকভাবে কোরআন সুন্নাহ ফলো করার জন্য মানুষকে ডাকবে তখনই মানুষ হচ্ছে তার বিরুদ্ধে চলে যায় এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের কাজ তারা করতে থাকে।

আমরা এখানে দেখি যে ইসলাম আসলে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে আমাদের জীবনে। ইসলামের কাজই হচ্ছে আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আনা। সো ইসলামের বিভিন্ন কাজ রয়েছে যেগুলো হচ্ছে আমাদেরকে উপকার দান করবে। কিন্তু আমরা এজন্য ইসলাম ফলো করি না যে এটা করলে এ ধরনের উপকার হবে। সেজন্য হচ্ছে আমরা এই কাজটা করব। বরং আমরা ইসলাম ফলো করব এজন্য সেটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্দেশ এবং আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য।

এবং এখানে আমরা দেখি যে তাদের যে এটিচিউডটা ছিল যে তারা পরিবর্তন চায় না। তারা যেমন আছে তেমনই থাকবে। তারা যে কাজগুলো করার কথা বলছে সেগুলো যত ভালোই হোক সেগুলো তারা করবে না। এই যে এটিচিউডটা সে এটিচিউড থেকে বের হয়ে আসাটা আসলে খুবই কঠিন একটা কাজ। যেটা আমরা তাদের জীবন থেকে দেখতে পাচ্ছি। আমরা দেখবো যে যখনই আমরা ইসলামের নিয়ম নীতি ফলো করবো তখন সেখানে সেগুলো করার সময় অবশ্যই আমরা কিছু দুনিয়াবী বেনিফিটও পাবো এখানে। যেমন আমরা দেখি যে রুকু নামাজের যে বিভিন্ন এগুলো রয়েছে পজিশন গুলো রয়েছে স্টেপগুলো রয়েছে রুকু করার এক ধরনের বেনিফিট আছে, সেজদা করার এক ধরনের বেনিফিট আছে। আমরা যখন রোজা রাখি সেটার জন্য আমাদের অনেক ফিজিক্যাল বেনিফিট আমরা পাচ্ছি। কিন্তু ইসলাম ফলো করার কারণ হচ্ছে এই ফিজিক্যাল বেনিফিট না। ইসলাম ফলো করার কারণ হচ্ছে পুরোপুরি হচ্ছে স্পিরিচুয়াল।

সো যখন তাদেরকে এই স্পিরিচুয়াল দিকে ডাকা হয়েছে তার তখনই তারা হচ্ছে এগ্রেসিভ হয়ে গিয়েছে। সো মেসেঞ্জাররা কেন আসছেন? মেসেঞ্জাররা এসেছেন যুগে যুগে আমাদেরকে আমাদের জীবনের যে উদ্দেশ্য সেটাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করতে। এটা এমন না যে তারা আমাদেরকে সমাজে কি ধরনের বেনিফিট আনবে সেটা দেখানোর জন্য তারা এসেছেন। সো যখন তারা কোন ধরনের আর্গুমেন্ট যুক্তিতর্কেই হচ্ছে পারে না তখন তারাই হচ্ছে এগ্রেসিভ হয়ে যায়। তারা হচ্ছে সেই ভায়োলেন্স রুটটা ফলো করে থাকে।

এবং এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কাতাদা রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে তারা কি করেছে? তারা হচ্ছে থ্রোইং স্টোনস ট ইউ। সো তারা এই পাথর ছুড়ে মেরে তাদেরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করল এবং তাদেরকে সেই হুমকিও তারা দিল। তা এখানে আমরা দেখি এই লোকেরা একদিকে যেমন ইগনোরেন্ট, আরেকদিকে হচ্ছে এরোগেন্ট। এই দুইটা জিনিসই হচ্ছে তাদেরকে ধ্বংসের মুখোমুখী করে দিয়েছে। তারা শুধুমাত্র সেটাই শুনতে চায় যেটা তাদের অন্তর শুনতে চায়। যেটা তাদের অন্তর ভালো লাগে। যেটা তাদের জন্য সহজ এবং তারা সেটাকেই হচ্ছে সেটার বিরুদ্ধেই লেগে যায় যেটা তারা পছন্দ করে না।

সো তারা মেসেঞ্জারদের যে টিচিং সেটা তারা পছন্দ করে নাই এবং সে কারণে তাদেরকেই অশুভ লক্ষণ হিসেবে মনে করেছে এবং প্রফেটদেরকেই হচ্ছে তারা একিউজড করেছে, থ্রেট করেছে এবং তাদেরকে ধংস শাস্তির হুমকি দিয়েছে এবং শাস্তি দিয়েছে। সো এখানে তাদের সেই এগ্রেশন, ভায়োলেন্স এবং থ্রেট আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কোন লেভেলে চলে গিয়েছে তাদের সে বিরোধিতা এবং সেটাই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন।

সো এখানে আমরা দেখি যে এই কথাগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলার কারণ কি? কোরআনে এই পর্যায়ে এই সময়ে এই কথাগুলো নাযিল করার কারণ কি? কারণ হচ্ছে কুইকলি আমরা সুইচ করতে পারি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের দিকে। এখানে সেখানে যে এই যে যারা বিশ্বাসী ছিল, যারা ঈমানদার ছিল, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করেছিল, তাদের জীবনেও আমরা দেখি যে সেইম সমস্যায় এসেছিল। তারা যেই ঈমানের কথা ঘোষণা করলো এর আগে তাদের বিরুদ্ধে কোন কমপ্লেন ছিল না। কিন্তু যখনই তারা ঈমানের কথা ঘোষণা করল, সত্যের কথা মেনে নিল, তখনই তাদের উপরে আজাব আসতে লাগলো।

তো সেখানে আমরা দেখি যে মুশরিকরা আবু তালিবের কাছে আসলো যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছে ঘরের মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছে সমাজের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে এবং তারা হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কাজগুলো বন্ধ করার জন্য তিনি যা চান তাই দিবেন এবং সেখানে তিনি বলেছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিভিন্ন ধরনের জিনিসের আশবাস দে হয়েছে যে তিনি যদি ধন চান ধন দেওয়া হবে, যদি ক্ষমতা চান ক্ষমতা দেওয়া হবে, সুন্দরী নারী চাইলে সুন্দরী নারী দেওয়া হবে এবং এভাবেই তারা আবু তালিবের কাছে এসেছে যে তারা যাতে তিনি যাতে হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে আসেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রেসপন্স করেছিলেন যে আমার এক হাতে যদি সূর্য দেওয়া হয় এবং আরেক হাতে যদি চাঁদ দেওয়া হয় যেটা হচ্ছে একটা ইম্পসিবল জিনিস তারপরেও আমি আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া দেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখবো না। সো আবু তালিব যদিও প্রতি মুহূর্তেই হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাপোর্ট দিয়ে গিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন যে তিনি যা বলছেন সেটা সঠিক এবং তিনি জানতেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো মিথ্যার কথা বলবে না।

এবং তখন কুরাইশা কি করেছে? কোরাইশা এগ্রেসিভ হয়ে গিয়েছে এবং তারা যখন কোনভাবেই কোন ধরনের বিষয় দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামকে কাজ থেকে বিরত করতে পারলো না তখন তাদের পথ একটাই থাকলো সেটা হচ্ছে এগ্রেসিভ হওয়া, ভায়োলেন্ট হওয়া। তারা হচ্ছে সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহকে মারলেন, ইয়াসির রাদিয়াল্লাহ আনহুকে মারলেন, একের পর এক তারা টর্চার করতে থাকলো। কোন ইভেন মহিলারা পর্যন্ত হচ্ছে সেটা থেকে বাঁচতে পারলো না। সো তাদের এগ্রেশন, তাদের বিরোধিতা হচ্ছে সেই চরম লেভেলে তখন পৌঁছে গিয়েছিল এবং সেই পর্যায়ে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তাদেরকে এই গল্প শোনাচ্ছেন যেন তারা বুঝতে পারে।