📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Sayyidul Istighfar/A || Dua for Everyday II Part 2

Straight Path20:42

Transcription

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

একজন মুমিন হিসাবে মুসলমান হিসাবে আমাদের সারাটা দিনই আল্লাহ সুবহানা তা'আলার সংস্পর্শে থাকা উচিত। এবং এজন্য শুধুমাত্র নামাজ বা গুটি কয়েক ইবাদতের উপর নির্ভর না করে সকাল থেকে সন্ধ্যা প্রতিটা মুহূর্তেই আল্লাহ সুবহানা তায়ালাকে স্মরণ করা হচ্ছে আমাদের অন্যতম একটি দায়িত্ব।

এবং সে কারণে আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম তার সারাদিনে প্রতিনিয়ত আল্লাহ সুবহানা তায়ালাকে স্মরণ করেছেন এবং সেই স্মরণ যোগ্য যে কথাগুলো দোয়া হিসাবে আমাদের মধ্যে রয়ে গিয়েছে যে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে শুরু করে সারাদিন ঘুমানো পর্যন্ত ঘুমানোর আগ পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম প্রতিনিয়ত আল্লাহ সুবহানা তা'আলার সাহায্য চেয়েছেন তা স্মরণ করেছেন এবং তার গুণাবলী বর্ণনা করেছেন।

আজকে আমরা এমন একটি দোয়া নিয়ে আলোচনা করবো যে দোয়াটি হচ্ছে অত্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেটা আমাদের সারাদিনের যেই বালা মুসিবত সেগুলো থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে এবং তার সাথে সাথে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই দোয়ার মাধ্যমে আমাদেরকে বিরাট পুরস্কারও দিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ। এবং এটি হচ্ছে সাইয়েদুল ইস্তেগফার।

যে ইস্তেগফার আমরা জানি ইস্তেগফার মানে হচ্ছে ক্ষমা চাওয়া আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে ক্ষমা চাওয়ার মাঝেই হচ্ছে আমাদের মুমিন জীবনের সার্থকতা কারণ আমরা যখন আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে ক্ষমা চাই তওবা করি আল্লাহর পথে ফিরে আসি আল্লাহ সুবহানা তা'য়ালা তার সে বান্দাকে অনেক অনেক বেশি পছন্দ করেন শুধুমাত্র ক্ষমা চাওয়ার কারণেই দেখা যায় যে একদিকে আল্লাহ সুবহানা তা'য়ালা আমাদের গুনাহগুলো তো ক্ষমা করে দেয়নি। তার সাথে সাথে আরো অনেক অনেক নেয়ামত আমাদেরকে দান করেন।

যেমন আমরা জানি যে যে ব্যক্তি হচ্ছে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ইস্তেগফার করে আল্লাহ সুবহানা তা'য়ালা তার জীবনে বারাকা দান করেন। তাকে রিজিক দান করেন। অপরিশিম তার সন্তান তার সম্পদে তিনি বারাকা দান করেন। আল্লাহ সুবহানা তা'আলার ক্ষমা পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের জীবনটা হচ্ছে বারাকা পূর্ণ হয়ে যায় ইস্তেগফার পড়ার মাধ্যমে।

এবং বিভিন্নভাবে আমরা স্তেগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারি। এর মধ্যে যেই ইস্তেগফারটাকে বলা হয়েছে যে এটা হচ্ছে সমস্ত ইস্তেগফারের মধ্যে এটাই হচ্ছে লিডার। এটাই হচ্ছে মূল বাণী এবং এটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়। সেই ইস্তেগফারটাকে বলা হচ্ছে সাইয়েদুল ইস্তেগফার।

সাইয়েদুল ইস্তেগফার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন বুখারী শরীফের হাদিসে এসেছে যে সবচেয়ে বড় দোয়া হচ্ছে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। অর্থাৎ আমরা যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এটাই হচ্ছে অনেক বড় একটা দোয়া আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে সবচেয়ে উত্তম দোয়া এবং সেই দোয়াটার নাম হচ্ছে সাইয়েদউল ইস্তেগফার।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেছেন যে কেউ যদি এটা দিনের বেলা পাঠ করে বা এই দোয়াটা পড়ে পূর্ণ বিশ্বাস সহকারে এবং সেদিন সে মারা যায় সন্ধ্যা সন্ধ্যার আগে তাহলে এটা তার জন্য জান্নাতের জন্য উসিলা হয়ে যাবে এবং কেউ যদি রাতের বেলা এই সাঈদুল ইস্তেগফার পাঠ করে পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে এবং সকাল হওয়ার আগে তার মৃত্যু ঘটে তাহলে সে হচ্ছে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে তাহলে আমরা দেখি যে সকাল সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়ার মাধ্যমে সাইয়েদুল ইস্তেগফার করার মাধ্যমে আমরা আসলে জান্নাতের বাসিন্দা হওয়ার মত নেক অর্জন করি এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এত বেশি পছন্দ করেন সে বান্দাকে যে তাকে হচ্ছে জান্নাতের জন্য কবুল করে নেন।

কি আছে এই সায়েদুল ইস্তেগফারে কি বলি আমরা সেখানে আমরা যদি একটু খেয়াল করি তাহলে দেখব যে এর কথাগুলো এত সুন্দর এবং এত সুন্দর ভাবে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে বিনীতভাবে এই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে যে আমরা যখন অর্থটা বুঝবো তখন দেখা যাবে যে এটা আমাদের মনে গেথে যাবে এবং এই স্তেগফারটা আমাদের মন থেকে তখন আসবে। শুধুমাত্র মুখস্ত বুলি আল আউড়ে যাওয়াটাই আসলে আমাদের জান্নাত জান্নাতে যাওয়ার পাথেও হতে পারে না। সেজন্য আমাদেরকে পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হবে এই দোয়ার উপরে। এবং এই পূর্ণ বিশ্বাস অর্জন করার জন্য এই দোয়াটা সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। কি বলছি আমরা আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে সেটা আমাদেরকে জানতে হবে এবং যত বেশি আমরা এই অর্থটা বুঝতে পারবো সেটার সাথে নিজেকে একাত্ম করতে পারব তত বেশি আন্তরিকভাবে এই দোয়াটা আমরা পড়তে পারব।

তো আজকে আমরা চেষ্টা করব এই দোয়াটা পার্ট বাই পার্ট আলোচনা করে। তাহলে যেটা হবে সেটা হচ্ছে যে প্রত্যেকটা অংশের সাথে সাথে আমরা সেটার অর্থ জেনে যাব এবং সেটাকে বুঝার চেষ্টা করব এবং কারো যদি মুখস্ত না থাকে তাহলে এর মাধ্যমেই দেখা যাবে যে আমরা এটা মুখস্ত করে ফেলছি। কারণ একটু বড় দোয়াটা এবং যার মুখস্ত আছে সে হচ্ছে অর্থটা আরো বেশি ভালো করে হৃদয়ঙ্গম করতে পারব এবং ইনশাআল্লাহ এরপর থেকে আমরা এটা আমাদের সকাল সন্ধ্যার সাথী করে নিব যেন আল্লাহ সুবহানা তায়ালা যখনই আমাদের মৃত্যু ঘটান আমরা জান্নাতের বাসিন্দা হিসেবে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে উপস্থিত হতে পারি।

সাইদুল ইস্তেগফার যেভাবে বলা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ সাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে শিখিয়েছেন সেটা হচ্ছে আল্লাহুম্মা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা ওনা আবদুকা ওনা আলা আহদিকামালাবিমালাহলা ইল্লা। তাহলে এখানে আমরা আল্লাহ সুবহানাতালার প্রশংসা করছি। আল্লাহ সুবহানা তা'আলার যেই ক্ষমতা সে ক্ষমতা স্বীকৃতি দিচ্ছি। আল্লাহ সুবহানা তা'আলার একত্ববাদের স্বীকৃতি আমরা দিচ্ছি এখানে। আমাদের যে গুনাহ রয়েছে সেই গুনাহগুলোকে আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি এবং তার সাথে সাথে সৃষ্টিকর্তার সাথে আমাদের যে একটা অঙ্গীকার বা প্রতিজ্ঞা রয়েছে সেটার ব্যাপারে আমরা সবসময়ই হচ্ছে কেয়ারফুল থাকবো, সচেতন থাকবো। সেটাকে মেনে চলার চেষ্টা করব সেই কথা এখানে ঘোষণা করছি এবং তার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

স এখানে আমরা দেখি যে এই সাইদুল ইস্তেগফারটা খুবই পাওয়ারফুল। কারণ এটা একটা কম্প্রিহেন্সিভ ফর্মুলা যে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে আমি যদি কমপ্লিটলি ফিরে যেতে চাই, সারেন্ডার করতে চাই তাহলে এটা হচ্ছে একটা কমপ্লিট একটা ফর্মুলা। আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন যার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে একান্তভাবে আমরা ক্ষমা চাইতে পারি।

তাহলে এখানে আমরা প্রথমে দেখি প্রথম সেই অংশটা সেটা হচ্ছে আল্লাহুম্মা রব্বি ও আল্লাহ তুমি হল আমার রব। তুমি আমার প্রভু তাহলে এইখানে আমরা কি বলছি? এখানে আল্লাহুম্মা। আল্লাহুম্মা মানে হচ্ছে ও আল্লাহ। ইয়া আল্লাহ। যে আল্লাহকে আমরা ডাকছি এখানে। সো এটা হচ্ছে খুবই আন্তরিক একটা সম্বোধন। আসলে যখনই আমরা যে কোন দোয়া শুরু করি আমরা দেখি যে স্পেশালি সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আমাদের যে দোয়াগুলো শিখিয়েছেন সেখানে আল্লাহুম্মা দিয়ে শুরু হচ্ছে যে আল্লাহকে আমরা আন্তরিকভাবে ডাকছি। প্রথমেই আল্লাহকে ডাকার মধ্য দিয়ে এই দোয়াটা শুরু হচ্ছে এবং আল্লাহ যে সবচেয়ে সুন্দর নাম আল্লাহ সেই আল্লাহ সব নাম দিয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে আমরা এখানে ডাকছি এবং বলছি যে আল্লাহুম্মাতা রব্বি আন্তা হচ্ছে তুমি রব্বি আমার রব আমার লর্ড স আমরা এখানে আল্লাহকে বলছি যে তুমি আমার রব আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে আমার রব হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি। এই যে আমরা রব বলছি আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে আমরা রব্বানা বলে থাকি। আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে যেকোন দোয়ায় যেকোন কথাতেই আমরা আমাদের রব বলে স্বীকার করে থাকি। তো এ রব শব্দটার অর্থ আসলে কি? আমরা দেখি যে মাই লর্ড বা আমার প্রভু আমার মালিক। এভাবে আমরা বলছি রব শব্দটা যখন আমরা অনুবাদ করছি। কিন্তু রব শব্দের আক্ষরিক যে অর্থ সেটা তিন ধরনের অর্থ আসলে প্রকাশ পায় এই রব শব্দটা দিয়ে সেটা হচ্ছে একটা হচ্ছে ওনার যে যিনি হচ্ছেন মালিক আরেকজন হচ্ছে আরেকটা অর্থ হচ্ছে প্রোভাইডার যিনি আমাদের প্রয়োজনীয় রিজিক প্রোভাইড করেন প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস যিনি আমাদেরকে সাপ্লাই দেন নার্চারার এটা হচ্ছে মুরুব্বি যে আমরা জানি যে আমরা কাদেরকে মুরুব্ব বলি যারা হচ্ছে আমাদের চেয়ে নলেজেবল আমাদের চেয়ে বয়সে বড় মোর এক্সপেরিয়েন্স যারা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের উপদেশ দান করে এটা আরেকটা অংশ হচ্ছে তারবিয়ার পার্চে হচ্ছে যেটা হচ্ছে প্রশিক্ষণের অংশ যে আমার লাইফস্টাইল কেমন হবে কিভাবে চললে আমি সার্থক হতে পারব কোন পথে চললে আমার জীবন ব্যর্থ হয়ে যাবে এই জিনিসগুলোর ব্যাপারে যিনি গাইড করছেন তিনি হচ্ছেন রব তাহলে আমরা একদিকে দেখছি তিনি আমাদের ওনার তিনি আমাদের প্রোভাইডার তিনি হচ্ছেন আমাদের নার্চারার এই তিনটা জিনিস স্বীকার করার মধ্য দিয়ে আমরা আল্লাহ সুবহানা তা'আলাকে রব বলছি। স আল্লাহর রব বলছে আমার রব আমার মাই লর্ড এটুকু বলার মধ্যেই আসলে সীমাবদ্ধ না। বরং আল্লাহ সুবহানা তা'আলার যে কমপ্লিট ওনারশিপ রয়েছে তার সৃষ্টির উপরে। আমি যখন আল্লাহকে আমার রব বলে স্বীকার করছি তখন আমি আসলে ঘোষণা দিচ্ছি যে আমার যা কিছু আছে আমি নিজে থেকে শুরু করে আমার যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুর মালিক হচ্ছেন আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সেজন্যই তিনি আমার রব এবং আমি এটাও স্বীকার করছি যে আল্লাহ সুবহানা তা'য়ালা আমার যা কিছু প্রয়োজন সমস্ত কিছু তিনি আমাকে দিতে পারেন তিনি ছাড়া আর কারো কোন শক্তি নাই তিনি অন্যদের মাধ্যমে সেটার ব্যবস্থা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু মূল ক্ষমতা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার হাতে। কারণ তিনি আমার রব। এবং আমি কোন পথে চলবো? সঠিক পথ কোনটা কিভাবে চললে সেটা আমার জন্য সার্থকতা কারণ হবে সেটা যিনি ঠিক করে দেন সে নাচরার বা সেই মুরুব্বি বা সেই প্রশিক্ষক যিনি তিনি হচ্ছেন আমার রব। সো যখন আমি এই কথাগুলো বলছি তার মাধ্যমে আসলে আল্লাহ আমার রব এথা বলে তাওহীদের একটা বিশেষ দিককে আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি এবং সেই বিশেষ দিকটাকে বলা হয় রুববিয়া আল্লাহকে রব হিসেবে স্বীকার করা এবং এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তা'য়ালা যে একমাত্র ওনারশিপ তিনি যে সমস্ত কিছুকে তৈরি করেছেন তিনি যে আমাদের প্রতিনিয়ত আমাদেরকে এই সার্ভিসগুলো দিয়ে যাচ্ছেন আমরা চাই বা না চাই যা কিছু আমাদের প্রয়োজনীয় সে জিনিসটা আমরা এই রব বলার মধ্য দিয়ে স্বীকার করে নিচ্ছি। এ ব্যাপারে আমরা দেখি যে আবু হানিফা রহমতুল্লাহ আলাইহির একটা ঘটনা বলা হয়েছে যে তার সাথে একবার এক রাজার হচ্ছে যে হচ্ছে আল্লাহকে বিশ্বাস করতো না সেরকম একজন লোকের সাথে হচ্ছে তার বাহাস হচ্ছিল তর্ক-বিতর্ক হচ্ছিল যেখানে তিনি তাকে এই জিনিসটাই তাকে বুঝিয়েছেন যে কি তুমি কি চিন্তা করো একটা নৌকার ব্যাপারে যেটা হচ্ছে নদীপথে আসলো এসে হচ্ছে উপকূলে বা নদীর তীরে থামলো। থেমে সেখান থেকে নিজেই হচ্ছে সব খাবার দাবার সাপ্লাই যা কিছু আছে সেগুলো নিজেই হচ্ছে সে নৌকার মধ্যে বোঝাই করল। তারপরে আবার সে ফিরে আসলো সরি নৌকা নিজেই কি এগুলো সব কন্ট্রোল করছে? না এর পিছনে আর কেউ রয়েছে। তখন সেই লোক বলল যে এটা অসম্ভব। নৌকা কিভাবে এটা করবে? নিশ্চয়ই কাউকে এটা করতে হচ্ছে। তখন আবু হানিফা বললেন যে যদি এটা নৌকার জন্য ইম্পসিবল হয় তাহলে এই পুরা পৃথিবীর জন্য এটা কিভাবে পসিবল যে কেউ একজন থাকবে না আর এটা অটোমেটিক্যালি নিজেই চলতে থাকবে। এই কনসেপ্টটা যখন আমাদের কাছে ক্লিয়ার হবে তখন আমরা এই রুবুবিয়ার ক্ষেত্রে যে শিরক বা অংশীদার করা আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছে সেটা থেকে নিজেদেরকে আসলে রক্ষা করতে পারব। তো যখন আমরা আল্লাহর সাথে তাওহীদের ব্যাপারে চিন্তা করি তখন আমরা চিন্তা করি যে সুবহানাল্লাহ আমরা সবাই মুসলিম। সো আমাদের আমরা আমাদের তাওহীদের বিশ্বাস হচ্ছে অটল রয়েছে। কিন্তু আমরা একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই দেখব যে এই তিনটা ক্ষেত্রে যখন আমি রব হিসেবে আল্লাহকে ঘোষণা করছি সেখানে আমি কি অন্য কাউকে নিজের মালিক মনে করছি? অন্য কারো কোন ক্ষমতা রয়েছে আমাকে পরিবর্তন করার জন্য সেটা আমি চিন্তা করছি অথবা অন্য কেউ আমার রিজিক প্রোভাইড করছে সেটা আমি চিন্তা করছি। হয়তোবা সুস্পষ্টভাবে আমরা সেটা চিন্তা করি না। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় যে আমরা যখন বিপদে পড়ি তখন আল্লাহর কথা ভুলে যেয়ে মানুষের দ্বারস্থ হচ্ছি। আমার জবাব নাই সেটার জন্য কাউকে সন্তুষ্ট করতে যেয়ে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা অসন্তুষ্ট হচ্ছে কিনা সেটার ব্যাপারে আমি চিন্তা করি না। এবং সবচেয়ে বড় একটা শিরক হচ্ছে রুবুবিয়ার ক্ষেত্রে যে বিশ্বাস করা কোন জিনিস হচ্ছে আমার সৌভাগ্য বহন এনে দিবে। অনেক সময় আমরা সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্যের কিছু নিদর্শনের উপর বিশ্বাস করি। অটোমেটিক্যালি ওগুলো আমাদের মনের মধ্যে চলে আসে। যেমন হচ্ছে হাত থেকে চিরুনি পড়ে যাওয়া অথবা হচ্ছে পাখি একটা পাখি দেখা তিনটা পাখি দেখা এ ধরনের অনেক ধরনের বিশ্বাস আমাদের মধ্যে রয়েছে। সো যখনই আমরা এ ধরনের বিশ্বাসের উপরে কোন কাজ করি তখনই দেখা যায় আসলে আল্লাহ রবুবিয়ার উপরে আমরা অংশীদার শরিক করে নিচ্ছি সেখানে শিরকের পথে চলে যাচ্ছি আমরা। সো আল্লাহ সুবহানা তা'য়ালা যে আমাদের রব সে রব বলার সাথে সাথে আমাকে চিন্তা করতে হবে যে আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আমার মালিক হিসেবে চিন্তা করছি কিনা? আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আমার রিজিকদাতা মনে করছি কিনা? আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আমার প্রশিক্ষক মেনে নিচ্ছি কিনা? যে আল্লাহ এবং কোরআন এবং সুন্নাহ ছাড়া অন্য যে কোন গাইডলাইন আমি ফলো করছি কিনা? অন্য যে কোন মানুষের কথা আমি শুনছি কিনা তার মানে অন্যকে আমি কোরআন এবং সুন্নাহর উপরে আল্লাহর উপরে প্রাধান্য দিচ্ছি এবং তখনই সেখানে রুবুবিয়াতের উপরে আঘাত হানা হচ্ছে। তো সুবহানাল্লাহ আমরা দেখি দোয়াটা শুরুই হচ্ছে প্রথমে আমার তাওহীদের যে ইখলাস যে সিনসিয়ারিটি সেটার ঘোষণা দিয়ে তারপরে আমরা দেখি বলা তারপরের অংশ যেটা যে ফাস্ট আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি তারপরে হচ্ছে লা ইলাহা ইল্লা আন এই শব্দটার সাথে এই বাক্যাংশের সাথে আমরা খুবই পরিচিত কারণ এটা কালেমার অংশ লা ইলাহা ইল্লা আন যে তুমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই তোমার সাথে অংশ দার হওয়ার মত। সো এখানে আমরা দেখি আমরা যখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলি তখন হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই। এটা একটা জেনারেল বাক্যের মত মনে হয়। আর যখন আমরা বলছি লা ইলাহা ইল্লা আন তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তখন কিন্তু আমরা আল্লাহর অনেক কাছাকাছি থেকে যে আল্লাহর সাথে সরাসরি সে সংযোগটি স্থাপন হচ্ছে। যেটা আমরা দোয়া ইউনুসের মধ্যে দেখি। লা ইলাহা ইল্লা আন সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজমিন। লা ইলাহা ইল্লা আনত বলার মাধ্যমে আমরা আসলে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার সাথে নিজের যে সংযোগটা সেই সংযোগটা আরো গভীর ভাবে এখানে স্থাপন করছি যে আল্লাহর সাথে সরাসরি এখানে আমি কথা বলছি ইল্লাল্লাহ বলার চেয়ে এই কানেকশনটা আরো অনেক বেশি গভীর হচ্ছে এখানে এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহকে আমরা কিভাবে পরিচয় দিচ্ছি আল্লাহর পরিচয় হিসেবে আমরা বলছি ইলাহ এখানে ইলাহ বলে কি বুঝানো হচ্ছে সেটা যখন আমরা বুঝতে পারব তখন আমরা তাওহীদের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেটাকে বলা হয় উলুহিয়াত। যে আল্লাহ কে ইলাহ হিসেবে বিশ্বাস করা সেটার ঘোষণা আমরা দিচ্ছি। তাহলে আমরা দেখি যে সাইয়েদুল ইস্তেগফারের প্রথম দুইটা বাক্যাংশের মাধ্যমে আমরা একদিকে রবুবিয়াতের ঘোষণা দিচ্ছি। এটা তাওহীদের মূল অংশ আরেকটা হচ্ছে ওলুহিয়াতের ঘোষণা দিচ্ছি। সো তাওহীদ যদি আমাদের আল্লাহর একত্ববাদের এর উপরে বিশ্বাস বা তাওহীদের বিশ্বাস যদি আমাদের মজবুত না হয় তাহলে আমাদের বাকি কাজগুলো আসলে অর্থহীন হয়ে যাবে এটাই হচ্ছে আমাদের মূল বিষয়। তো এখানে আমরা দেখি আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে বলা হচ্ছে। তো ইলাহ শব্দটার অর্থ কি? এবং আল্লাহ শব্দটার মধ্যে বলা হয়ে থাকে যে ইলাহ শব্দটাও এটার মধ্যে অটোমেটিক্যালি চলে আসে। সো ইলাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে যার দিকে মুখ ফিরানো যায় যার মুখাপেক্ষী হওয়া যায় যার যাকে ইবাদত করা যায় ওরশিপ করা যায় যার এবং ইলাহ শব্দের আরেকটা অর্থ হচ্ছে যে অন্য সমস্ত কিছুর চেয়ে যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসবে তিনি হচ্ছেন ইলাহ তাহলে আমি যখন আল্লাহকে ইলাহ বলে ঘোষণা করছি যে লা ইলাহা ইল্লা আর কোন উপাস্য নাই আর কেউ এমন নাই যার দিকে আমি ফিরতে পারি। আমার যখন কোন প্রয়োজন হবে সেটা ছোট হোক বড় হোক যেকোনো সময়ে যখন আমার কোন প্রয়োজন হবে তখন কার মুখাপেক্ষী আমি হব আমার বন্ধুর আমার বাবা-মায়ের আমার বসের নাকি দুনিয়াবিকারক? বরং আমার যখন যেই সমস্যা হবে প্রত্যেকটা সমস্যার জন্য বা যেকোনো কারণেই হোক না কেন আমি যার মুখাপেক্ষী হব তিনি হচ্ছেন আমার ইলাহ। তো এখানে আমাদের আবার সতর্ক হতে হবে যে আমি আসলে কার মুখাপেক্ষে হচ্ছি কার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি আমার সাহায্য প্রার্থনা সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে হচ্ছে কিনা কার ইবাদত আমি করছি ইবাদতের সময় কাকে সন্তুষ্ট করার জন্য কাজ করছি অনেক সময় আমরা অভ্যাসের বসে করে ফেলি অনেক ইবাদত যেমন নামাজ পড়তে হবে নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম অনেক সময় চিন্তাও করি না যে কেন আমি এটা করছি সো সেই সময় আমি অভ্যাসের দাসে পরিণত হচ্ছি সো আল্লাহ ছাড়া আর কার এখানে আমি ইবাদত করছি আসলে অভ্যাসের জন্য। অনেক সময় বাবা-মার ভয়ে সন্তানেরা নামাজ পড়ে যে বাবা-মা বকা দিবে অথবা আমার যা প্রয়োজন সে জিনিসগুলো দিবে না। তো সেখানেও আমাদের দেখা যায় যে সেখানে তাওহীদের সাথে সংঘর্ষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় আমরা ইবাদত করছি। কারণ মানুষ বলবে যে আমি কত খারাপ যদি এটা না করি তখন মানুষের ভয়ে আমি সেটা করছি। সেখানেই হচ্ছে ইলার সাথে আমি আসলে অন্য কাউকে এখানে জড়িত করে ফেলছি এবং তখনই আমাদের উলুহিয়াতের যে প্রশ্ন সেখানে এসে সংঘর্ষ ঘটে যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালাকে আমি ইলাহ হিসেবে মেনে নিচ্ছি কিনা এবং থার্ড যে অর্থটা ইলাহের সেটা হচ্ছে যাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসবো তিনিই হচ্ছেন ইলাহ আমি আসলে কাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার টাকা পয়সাকে আমার সম্পদকে আমার আত্মীয়স্বজনকে এটার একটা পরীক্ষা হচ্ছে যে যখন এমন কোন কাজ উপস্থিত হবে যেখানে আমি চিন্তা করি যে এই কাজটা আমি কেন করছি এই কাজটা আল্লাহ সুবহানা তা'আলা নিষেধ করে দিয়েছেন তারপরও আমি করছি কারণ পাছে লোকে কিছু বলে অন্যরা কি বলবে সেই চিন্তা করে সেই ক্ষেত্রেই দেখা যাবে যে আল্লাহকে আমরা আমাদের ইলাহ না মেনে পাছে লোকে কিছু বলে মানুষের কথাকে আমাদের ইলাহ মানিয়ে নিচ্ছি কারণ তাকেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসছি না আমি তখন আমার বাবা মা আত্মীয়স্বজন সন্তান বন্ধু-বান্ধব তাকেই আমি বেশি ভালোবাসছি। কারণ তাদের খাতিরে অন্যায় করতেও আমি তখন পিছুপা হচ্ছি না। সো আমি যখন আল্লাহকে ইলাভ বলে ঘোষণা করব তখন তিনিই হচ্ছেন আমার সবচেয়ে ভালোবাসার পাত্র হবে এবং তার জন্য আমি বাকি সবকিছু স্যাক্রিফাইস করতে পারব। তারপরে এই দুইটা অংশের মাধ্যমে আমরা দেখি যে আমাদের তাওহীদের যে এফারমেশন তাওহীদ আল্লাহর উপরে পূর্ণ বিশ্বাসের যে ঘোষণা সেই ঘোষণাটা আমরা দিচ্ছি। স আমাদের ঈমানকে আসলে এখানে পরিপূর্ণ অথবা মজবুত করে নিচ্ছি আমরা এই দুইটা কথা বলার মাধ্যমে।