📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 65: Ayah 62|| Use Your Intelligence ||

Straight Path13:21

Transcription

সূরা ইয়াসিন 62 নাম্বার আয়াত।

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।

লাল শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি? আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে প্রশ্ন করছেন 62 নাম্বার আয়াতে যে, তারপরেও তোমরা বুঝোনি কি বুঝোনি? স আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে, যখন মানুষ হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার নির্দেশের বাইরে কাজ করেছে, শয়তানের পথ অনুসরণ করেছে, সেখানে তারা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার পথকে বাদ দিয়ে শয়তানের পথকে অনুসরণ করে তারা মূলত পথভ্রষ্ট হয়েছে, তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। এই জিনিসগুলো তোমাদের সামনে বারবার আসছে, তারপরে কি তোমরা বোঝ না?

এর আগের আয়াতগুলোতে আমরা দেখি যে, হাশরের ময়দানে ডে অফ জাজমেন্টে যারা হচ্ছে অবিশ্বাসী তাদের সামনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কিছু কথা তুলে ধরেছেন এবং সেখানে তিনি বলছেন যে, তারা যেন যারা হচ্ছে জান্নাতি, যারা হচ্ছে বিশ্বাসী তাদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। সো এই যে আলাদা হয়ে যাওয়া, সেখান থেকে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের প্রতি কিছু কথা বলে যাচ্ছেন যে, তারা শয়তানের পথ অনুসরণ করেছে। আল্লাহর ইবাদতের জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়ার পরেও তারা আল্লাহর ইবাদত না করে শয়তানের ইবাদত করেছে এবং তখনই আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তাদেরকে বলে দিচ্ছেন যে, এই শয়তানের ইবাদত করার কারণে, শয়তানের পথে চলার কারণে তারা যে পথভ্রষ্ট হয়েছে, তোমাদেরকে এতবার বলার পরও, এতবার সতর্ক করার পরেও, এতবার নিষেধ করার পরেও যে তোমরা এই প্রকাশ্য শত্রুকে অনুসরণ করে ভুল পথে পরিচালিত হলে, সেটাও কি তোমরা বুঝো না?

স আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে মানুষের যে বোঝার শক্তি, সেটাকে এখানে উজ্জীবিত করেছেন যে আমরা যাতে আমাদের চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগাই। আমাদের ইন্টেলিজেন্স পাওয়ার অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং, সেটা যেন নিজেদেরকে শয়তানের পথ থেকে রক্ষা করার জন্য কাজে লাগাই। সেজন্য আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে বলছেন যে, এত কিছু বলার পরেও, এতভাবে সতর্ক করার পরেও, এটা খুবই একটা দুঃখজনক কন্ডিশন হচ্ছে মানবজাতির জন্য যে, সমস্ত কিছু এত সুস্পষ্ট ছিল, এত সহজ ছিল, কিন্তু তারপরও তোমরা এ প্যাথেটিক, এই দুঃখজনক পথটাকে অনুসরণ করেছ।

স এই যে বাস্তব অবস্থা, সে বাস্তব অবস্থাটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তুলে ধরছেন যে কিভাবে শয়তান মানুষকে সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। বলছেন, "জিবিললাল কা" নিশ্চিতভাবে আল্লাহ বলছেন যে, শয়তান তোমাদেরকে কি করছে? "জিবিলান" "জিবিলান" শব্দটার অর্থ হচ্ছে উম্মা, তার মানে হচ্ছে গ্রুপ অফ পিপল। "জাবাল" শব্দটা সব আমরা পরিচিত, কোরআনে "জাবালার" বার বলা হয়েছে পাহাড়কে বুঝানোর জন্য। স এখানে "জিবিল্লান" দিয়ে বুঝানো হচ্ছে যে গ্রুপ অফ পিপল, এটা হচ্ছে সামথিং হিউজ। সো এটা এত বড় যেন আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। সো তার মানে হচ্ছে, এই যে গ্রুপ অফ পিপলের কথা বলা হচ্ছে, একদল মানুষের কথা বলা হচ্ছে, সে তারা হচ্ছে স্বল্প সংখ্যক না, তারা হচ্ছে মানবজাতির একটা বড় সংখ্যক। "জিবিল্লান" আবার তিনি "কাসিরানও" বলেছেন। সো অসংখ্য মানুষ হচ্ছে এর মধ্যে ইনভলভড। আমরা দেখতে পাই যে এটা অনেকটা এরকম যে, এত মানুষ একত্রিত হয়েছে, এটা এত বেশি ক্রাউডের যেন একজন মানুষ আরেকজনের উপরে পড়ে রয়েছে, এমনভাবে আকাশ পর্যন্ত তারা উঠে গিয়েছে, পাহাড়ের মত উঁচু হয়ে আছে তাদের অবস্থান সেরকম তিনি এখানে বুঝাচ্ছেন যে পথভ্রষ্ট মানুষের সংখ্যা কত অসংখ্য এখানে, সেটা আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন, যেটা তাফসীরকারকগণও বলেছেন যে, এখানে অধিক সংখ্যক মানুষ বুঝানোর জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই শব্দটা টা ব্যবহার করেছেন।

সূরা গাফিরে বলা হয়েছে, "যারা কাফের তাদেরকে উচ্চস্বরে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের এই খুব অপেক্ষা আল্লাহর খুব অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমান আনতে বলা হয়েছিল, অতঃপর তোমরা কুফরি করছিলে।" সুবহানাল্লাহ। যে এখানে আমরা দেখি যে অবিশ্বাসীদেরকে উদ্দেশ্য করে, কাফেরদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে যে, আজকে তোমরা এই অবস্থায় আছো, এখানে এসে তোমরা দুঃখ খুব ফ্রাস্ট্রেশন অনুভব করছো, কিন্তু আল্লাহ এর চেয়েও বেশি ফ্রাস্ট্রেটেড ছিল তোমাদের প্রতি, যখন তোমাদেরকে বারবার ঈমানের পথে ডাকা হয়েছে, সতর্ক করা হয়েছে, সেই সময়ও তোমরা অস্বীকার করেছ, শয়তানের পথ অনুসরণ করেছ। তোমরা কিভাবে শয়তানকে তোমাদের বন্ধু হিসেবে নিয়ে নাও, যখন সে তোমাদের থেকে সুযোগ নিচ্ছে, সুযোগ সন্ধানী হিসেবে তোমাদের কাছে আসছে, যে হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর অন্যদিকে আমরা দেখি যে আল্লাহ হচ্ছে তোমাদের রব, তোমাদের সত্যিকার বন্ধু, তোমাদের প্রটেক্টর, তোমাদের মাওলা, তার কথা তোমরা কিভাবে অস্বীকার করলে এবং কিভাবে ভুলে যেয়ে এই ভুল পথে এগিয়ে গেলে?

তারপরে এখানে বলা হয়েছে যে, "আফালামতা" তোমরা কি বুঝবে না? এখানে "তাকলুন" শব্দটি এসেছে, যেটা এসেছে "আকল" শব্দ থেকে। "আকল" শব্দের অর্থ হচ্ছে কোন কিছু বুঝা। কোন কিছুর পিছনে যুক্তি তর্ক দিয়ে সেটাকে বুঝার চেষ্টা করা, জ্ঞানী হওয়া। তো আল্লাহ বলছেন যে, তারপরেও কি তোমরা বুঝবে না? তোমরা কি এর পিছনে তোমাদের যুক্তি বুদ্ধিকে কাজে লাগাবে না? তোমরা কি একটু জ্ঞানের পরিচয় দিবে না? এখানে? এটা হচ্ছে এই অর্থটাকে বুঝায় যে, তোমাদের যে ইন্টেলেক্ট দেওয়া হয়েছে, সেই ইন্টেলেক্টটা দেওয়া হয়েছে বুঝার জন্য, চিন্তাভাবনা করার জন্য, সত্যের উপরে কাজ করার জন্য। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনে বারবার আমাদেরকে এভাবে জিজ্ঞাসা করেন যে, তোমরা কি বুঝবে না? বুঝার জন্য চেষ্টা করবে না? তো এটা আসলে এই "তাহিলুন" বলতে "আকল" বলতে কগনিটিভ প্রসেসটা বুঝায়, যার মাধ্যমে আমরা কোন জিনিস বুঝতে পারি, এর পেছনে রিজনিং কারণ দর্শাতে পারি, যেটা নিয়ে আমরা রিফ্লেক্ট করতে পারি। সো কোরআনে বারবার এ কথাটা আমাদেরকে বলে দিয়া বলে দেওয়া হয়েছে। আমরা যাতে রিফ্লেক্ট করি, বুঝি, আমাদের যুক্তি দিয়ে এটাকে জানার চেষ্টা করি। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে বলছেন যে, তোমরা এটা কোন অবস্ট্রাক্ট থিংকিং না যে তোমরা না বুঝিয়ে এটা করবে, বরং তোমাদের যুক্তি তর্ক কাজে লাগাও, তাহলেই তোমরা সেটা বুঝতে পারবে। সো এটা হচ্ছে আমাদের মনকে অন্তরকে সত্যকে বোঝার জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে "আকলের" কাজ। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমরা যাতে মিথ্যা থেকে সত্যকে, সত্যের পার্থক্য বুঝতে পারি এবং সেটা বুঝার জন্য আমাদের এই বুদ্ধিকে কাজে লাগায়। সো "আফালাম তাকুনু তাকিলুন"।

সো চার নাম্বার পয়েন্ট হিসেবে আমরা এখানে অবিশ্বাসীদের প্রতি আল্লাহর যে কথা নির্দেশ, সেটা আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ সুবহানাতায়ালা প্রত্যেকটা মানুষকেই "আকল" দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন। কাফেরদেরকেও ওটা দিয়েছেন। সো তাদের এই যে বুদ্ধি, সেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া দান। কিন্তু সেটা তাদের কাফেররা কি করেছে? তাদের নিজস্ব চাহিদায় সেটাকে ব্যবহার করেছে এবং তাদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে উদ্দেশ্যে এই বুদ্ধি বা ব্রেইন বা এই ফ্যাকাল্টি দিয়েছেন, সেটাকে তারা মিসইউজ করেছে এবং তাদেরকে দেওয়া আল্লাহর দানের প্রতি তারা বিছয় করেছে। সো এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে, এটা একজন দুইজন করে নাই, এটা করেছে হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। সো এই যে অসংখ্য মানুষ ভুল পথে চলে যাচ্ছে, কেন গেল? তাদেরকে তো এই বুদ্ধিটুকু দেওয়া হয়েছিল। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে পরোক্ষভাবে আমাদেরকে যেন বলছেন যে, যারা জান্নাতে যাবে, সঠিক পথে থাকবে, তারা হচ্ছে সেই লোক যারা হচ্ছে চিন্তা করে, তাদের বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।

আজকের দিনে আমরা দেখি যে, আমাদের বাচ্চারা আমাদের মত অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে পছন্দ করে না। আমাদের বাচ্চারা আমাদেরকে প্রশ্ন করে। আমরা যেই জিনিসগুলো গতানুগতিকভাবে করে এসেছি, কখনো চিন্তা করি নাই, বাচ্চারা সেগুলো জানতে চায়। আমরা আমাদের জ্ঞান না থাকার কারণে, আমাদের জ্ঞানের চর্চার না কারণে, আমরা তাদেরকে সঠিকসার দিতে পারি না। সো বাচ্চাদেরকে আমরা থামিয়ে দেই। অথচ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন আমাদের রিজনিংকে ইউজ করার জন্য, আমাদের যুক্তিকে আল্লাহর পথে কাজে লাগানোর জন্য। স আমাদের নিজেদেরকে জানতে হবে এবং বাচ্চাদের সামনে সেই জিনিসগুলো ক্লিয়ারলি উপস্থাপন করতে হবে। স আল্লাহ এখানে বলছেন যে, তাদের সবাইকেই হচ্ছে রিজনিং এ পাওয়ার বা "আকল" দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটাকে আল্লাহর এই ব্লেসিংটাকে সঠিকভাবে কাজে না লাগিয়ে, তারা সেটাকে ভুল পথে কাজে লাগিয়েছিল।

কোরআনে বলা হয়েছে সূরা বাকারাতে, "তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করো। তবুও কি তোমরা চিন্তা করো না?" এটা আমাদের জন্য একটা আই ওপেনার। যে আমরা মানুষকে ভালো ভালো কথা বলি, এটা করো, ওটা করো, ওটা করো না। কিন্তু আমরা নিজেরা করার সময় হচ্ছে সে জিনিসগুলো ভুলে যাই। দেখা যায় ঠিক নিজের জন্য হচ্ছে আমরা বিপরীতটাই পছন্দ করে ফেলি। অথচ আমরা যদি কিতাব পড়ি, কোরআন পড়ি, তাহলে সেটা কিন্তু হওয়ার কথা না। তো আল্লাহ এখানেও বলছেন যে, "যাল কিতাবালা" যে, তোমরা কি তোমাদের রিজনিং কে কাজে লাগাবা না? এটা কিভাবে তোমাদের কাছে যুক্তিসংত হয়?

তো এখানে আমরা দেখি যে সূরা জুমারেও বলা হয়েছে, "যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে অতঃপর যা উত্তম তার অনুসরণ করে, তাদেরকেই আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।" এই যে "উলুল আলবাব" যাদের বুদ্ধি আছে, তারা কি কিভাবে কাজ করে? তারা লিসেন করে। শোনাটা হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ আমাদের জীবনের জন্য। যারাই হচ্ছে শুনবে এবং সঠিকভাবে উপলব্ধি করার জন্য চেষ্টা করবে, তারাই হচ্ছে গাইডেড হবে। তাদের জন্যই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হেদায়েতের পথ ওপেন রেখেছেন। সো আমরা কি একটা মুহূর্তের জন্য এটা চিন্তা করি না যে, আমরা যে চয়েজগুলো মেক করছি, সেটার কনসিকোয়েন্স কি হবে? আমরা যে পথ অনুসরণ করছি, সেটার ফলাফল কি আসছে? তো যারা আসলে বুদ্ধিমান, তারা সেগুলো চিন্তা করে এবং তারা শুনে এবং সেটাকে মানার জন্য চেষ্টা করে। আল্লাহ যেভাবে গাইড করেছেন, সেই গাইডেন্স অনুযায়ী নিজেদেরকে গড়ার জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা দেখি আল্লাহ বলছেন যে, এখানে একটা বিরাট সংখ্যক মানুষ যারা হচ্ছে এ গাইডেন্সের পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে, পথভ্রষ্ট হয়েছে, কারণ তারা তাদের "আকলকে" ব্যবহার করছে না।

এটা একটা ট্রাজেডি। এটা একটা দুঃখজনক অবস্থা আমাদের জন্য। যে আমাদের অধিকাংশ মানুষই অনেক ইন্টেলিজেন্ট, ভেরি সাকসেসফুল তাদের কাজে, তাদের ক্যারিয়ারে। আমরা দেখি যে তারা অনেক এগিয়ে গিয়েছে, পিএইচডি করছে, পোস্টড করছে, বিভিন্ন জায়গায় তাদের অবস্থান হচ্ছে এক্সাম্পলারি, আমাদের জন্য উদাহরণস্বরূপ। আমরা দেখি যে সোশ্যাল স্ট্যাটাস, বিভিন্ন ব্যাপারে তারা হচ্ছে অনেক এগিয়ে আছে। স আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তাদেরকে বুদ্ধি দিয়েছেন, "আকল" দিয়েছেন যে তারা এই কাজে ভালো করছে। কিন্তু আমরা দেখি যে যখনই দ্বীনের কথা বলা হয়, তখনই সে "আকলটা" তারা যেন সেভাবে কাজ করছে, কাজে লাগাচ্ছে না। সো ইসলাম যদি লজিক্যালি হয়, এই ব্রিলিয়ান্ট লোকগুলো কেন এটাকে গ্রহণ করছে না? কেন তারা এজ স্মার্ট এজ দুনিয়ার জীবন, তারা ইসলামের পথে স্মার্টলি এগিয়ে আসছে না? তখন আমরা যদি চিন্তা করি, দেখব এর পিছনে দুইটা কারণ রয়েছে।

নাম্বার ওয়ান, হেদায়েত হচ্ছে আল্লাহর হাতে। আল্লাহ যাদেরকে পছন্দ করেন, তাদেরকেই হচ্ছে হেদায়েতের পথে এগিয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে ফ্রিডম অফ চয়েস দিয়েছেন। আমরা আমাদের ইন্টেলেক্টকে কোন পথে কাজে লাগাবো, সেটাকে কত ওপেনলি আল্লাহর পথে কাজে লাগাবো, আমাদের মজ্যাগত যে চিন্তাভাবনা সেগুলোকে দূরে সরিয়ে উন্মুক্ত মনে আমরা আল্লাহর পথে আসবো কিনা, সেটার ফ্রিডম অফ চয়েস আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন। কিন্তু গাইডেন্স আল্লাহর হাতে। এটা কারো কোয়ালিফিকেশন না। এটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা একটা গিফট। এটা হচ্ছে নাম্বার ওয়ান।

সো নাম্বার টু হচ্ছে, যারা হচ্ছে এই স্পিরিচুয়াল বা দ্বীনের ক্ষেত্রে, রিলিজিয়নের ক্ষেত্রে এসে অন্ধের মত কাজ করে, তারা তাদের বুদ্ধিকে কাজে লাগে না। তাদের অবস্থাটা হচ্ছে যে, তারা তাদের অন্তরের দরজাটাকে তারা সেখানে বন্ধ করে রেখেছে। তারা হেদায়েত পাওয়ার জন্য যেভাবে উন্মুক্ত মনে আসার কথা, সেটা তারা আসতে পারছে না এবং ফুললি এটাকে বুঝার জন্য আল্লাহু সুবহানা তা'আলার কাছে যেভাবে সারেন্ডার করার কথা, সেটাও তারা করছে না। যেটা আমরা একদম প্রথমে দেখতে পাই সূরা ইয়াসিনের প্রথম আয়াত, "ইয়াসিন" যে কোন অর্থ আমরা বুঝি না। কিন্তু একটা অর্থ আমরা এখানে বুঝি যে, আমরা কিছুই জানি না। আমাদেরকে যদি জানতে হয়, বুঝতে হয়, আমাদেরকে ওপেন মাইন্ড নিয়ে এই কোরআনকে খুলে বসতে হবে। নিজের মর্যাগত ধ্যান ধারণা থেকে বের হয়ে এসে, আল্লাহ কি বলেছেন, সেটা সরল মনে বুঝার চেষ্টা করতে হবে। যখন আমরা এভাবে বুঝার চেষ্টা করব, তখনই আমরা আমাদের যে "আকল" আমাদেরকে যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর ক্ষমতা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়েছেন, সেটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারব। তখনই আমরা সেই ভুল পথ থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করে সঠিক পথে নিজেদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।