📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 10: Ayah 7 || The Punishment is Coming!!

Straight Path18:34

Transcription

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।

লাকদ হাক্কুল কাওলু আলা আইকাসিরিম ফাহুম লা ইউমিনুন।

সূরা ইয়াসিনের সাত নাম্বার আয়াত। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন, অধিকাংশের জন্যই যাদেরকে হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সতর্ক করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামকে পাঠিয়েছিলেন, তাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়ে গিয়েছে এবং তাদের মূল সমস্যা যেটা সেটা হচ্ছে যে তারা বিশেষ স্থাপন করছে না।

এখানে আমরা দেখি এই আয়াতটা শুরু হয়েছে 'লাকদ' দিয়ে। 'লাকদ' শব্দটা হচ্ছে কোন জিনিসকে সুনিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখানে লাম, লামটাকে বলা হয় লাম তাকেদ, যেটা দিয়ে হচ্ছে জোর দেওয়া হচ্ছে কোন জিনিসের উপরে। তারপরে 'কদ' শব্দটা, সেটা দিয়েও হচ্ছে গুরুত্ব বুঝানো হয়ে থাকে। এবং যখন 'কদ' শব্দটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে, কফের মধ্যে আমরা দেখি এমন একটা শক্তি রয়েছে, এটা যেন একটা টেবিলের মধ্যে চাপড় দিয়ে যখন কেউ জোরে কথা বলে, তখন সে ধরনের একটা নিশ্চিত অবস্থান বুঝা যায় যে সে যা বলছে সে ব্যাপারে সে সিরিয়াস এবং কথাগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সবাই যাতে এ কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, এই কথাগুলো হচ্ছে এত নিশ্চিতভাবে বলা হচ্ছে যে এর মধ্যে কোন ধরনের সন্দেহ নেই।

'সলাক' নিশ্চিতভাবে 'হক আলাহিমু'। এখানে 'হক' শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। 'হক' শব্দটার অর্থ হচ্ছে কোন জিনিস যখন স্টেবল হচ্ছে, কোন যখন জিনিস যখন সুধ হচ্ছে কনস্ট্যান্টলি থাকে, যে সবসময় এটার অবস্থান রয়েছে এবং এটা সলিড যে এটার মধ্যে কোন ধরনের খাদ নেই, এটার মধ্যে কোন ধরনের ফাঁকা অবস্থান নেই, সেরকম বুঝানোর জন্য 'হক' বুঝানো হয়ে থাকে। এবং 'হক' কথার আরেকটি অর্থ হচ্ছে যেটা হচ্ছে রিয়েলিটি, বাস্তব অবস্থা, যে জিনিসটা হচ্ছে কনফার্মড হয়ে গিয়েছে, যে জিনিসটার ব্যাপারে কোন ধরনের সন্দেহ নাই, সে জিনিসটাকেই 'হক' বলা হয়ে থাকে। আল্লাহ সুবহানাতালা বলছেন যে তাদের জন্য যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, সে সিদ্ধান্তটা সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে এবং এটা এত বেশি সুনিশ্চিত যে এটা মধ্যে কোন ধরনের ফাক নেই, এটা বাস্তব এবং এটাতে কোন ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করার কোন সুযোগই নাই যে এটা হবেই এবং এটা যে হবে, অবসম্ভাবীভাবেই এ ব্যাপারে তোমরা সন্দেহাতীতভাবে এটা বিশ্বাস করতে পারো।

'কলু'। 'কল' শব্দটা এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। যে যে 'হক' কথা বলা হয়েছে, এখানে কোন কথাটার কথা বলা হয়েছে? কোন কথা প্রসঙ্গে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই 'আল কাউল' ব্যবহার করেছেন? কোরআনে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে আদম আলাইহিস সালাম এবং ইবলিশের ঘটনা বারবার বারবার করে বলেছেন। কোরআনের সাত জায়গায় সুস্পষ্টভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ইবলিশ এবং আদম আলাইহিস সালামের ঘটনা আমাদেরকে তুলে ধরেছেন। যেখানে আমরা দেখি যে আদম এবং ইবলিশের মধ্যে যে দ্বন্দ হয়েছিল, সেটাকে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। সূরা বাকারায়, সূরা আরাফ, সূরা হিজর, সূরা ইসরা, সূরা কাহাফ, সূরা তাহা, সূরা সাদ এবং সূরা ইয়াসিনের মধ্যে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এ ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন।

তো সেখানে আমরা দেখি যে ইবলিশের সাথে আদম আলাইহিস সালামের যেই ব্যাপারে সংঘর্ষ হয়েছিল বা তাদের মধ্যে যে ব্যাপারে কনফ্লিক্ট দেখা দিয়ে গিয়েছিল, সেটা হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা যখন আদম আলাইহি সালামকে সৃষ্টি করে সমস্ত ফেরেশতাকুলকে বললেন যে তাকে সেজদা করার জন্য। এই সেজদাটা হচ্ছে আনুগত্যে সেজদা, যেতে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার যে মহান সৃষ্টি, সে সৃষ্টির বড়ত্ব ঘোষণা করার জন্য সেজদা। এবং সেখানে এখানে আমরা দেখি যে সমস্ত ফেরেশতা আদম আলাইহি সালামকে সেজদা করলেও ইবলিশ সেটা করতে রিফিউজ করে এবং সে যে রিফিউজ করেছে, সেটার পিছনে সে আবার তার আর্গুমেন্ট শো করেছে এবং সে আর্গুমেন্টটা হচ্ছে যে সে আদম আলাইহিস সালামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কারণ আদম আলাইহিস সালাম হচ্ছে মাটি থেকে তৈরি আর ইবলিশ হচ্ছে আগুন থেকে তৈরি। এখানে আমরা দেখি তার যে এরোগেন্স শো হয়েছে, যে সে নিজেকে নিজের ব্যাপারে অহংকারী হয়ে পড়েছিল ছিল এবং তার সাথে আরো যে জিনিসটা আমরা দেখতে পাই সেটা যে সে আল্লাহর সাথে তর্ক করা শুরু করেছে এবং আল্লাহ সুবহানা তা'আলার নির্দেশ অমান্য করা, রিফিউজ করা, ডিনাই করা, অস্বীকার করা সমস্ত কিছুই তার দ্বারা তখন সম্ভব পর হয়ে গেল। অথচ এর আগে সে ছিল আল্লাহর ইবাদত গুজার বান্দা।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তখন তাকে তার মার্সি থেকে বাদ দিয়ে দিলেন এবং ইবলিশ তখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে অনুরোধ করলো, একটা দোয়া করলো সেটা হচ্ছে যে যেই মানুষের জন্য সে আল্লাহর রহমত থেকে বিচ্যুত হয়েছে, সে মানুষকে সে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত পথভ্রষ্ট করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তো এখানে আমরা দেখি যে ইবলিশ যে দোয়াটা করলো, আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার দোয়াকে কবুল করে নিল। সো দোয়ার ব্যাপারে এখানে আমরা পজিটিভলি চিন্তা করতে পারি যে ইভেন ইবলিশের দোয়া আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কবুল করেছেন। সো আমরা যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমাদেরকে অনেক বেশি আশাবাদী হতে হবে যে আমাদের দোয়া কখনো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ফেলে দিবেন না।

সো ইবলিশ তখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল যে সে সামনে থেকে, পিছন থেকে, ডান থেকে, বাম থেকে যেভাবে সম্ভব হয় মানবজাতিকে পথভ্রষ্ট করার জন্য চেষ্টা করবে এবং আল্লাহকে সে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল যে তুমি দেখবা যে অধিকাংশই হচ্ছে তারা অকৃতজ্ঞ, অধিকাংশই হচ্ছে তোমার কথা শুনবে না এবং আল্লাহ সুবহানা তা'আলার ইজ্জতের কসম খেয়ে সেদিন সে তার অহংকার প্রদর্শন করলো আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সামনে এবং সেখানে আমরা দেখি যে তাদের যে কনভার্সেশন হয়েছিল, তখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাকে বললেন যে 'হাকুল আল হাক্কুল কল', যে সত্য হচ্ছে আমার শপথ এবং আমি হচ্ছে সত্য কথা বলি। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা 38 নাম্বার সূরাতে এই কথাটা ঘোষণা করেছেন 84 এবং 85 নাম্বার আয়াতে এবং সেখানে আল্লাহর যে এই সত্য ঘোষণা, আল্লাহর কথা, সে কথাটাকে 'কল' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তখন বলেছেন যে আমি অবশ্যই হচ্ছে যারা আমার তোমার পথ ফলো করবে, তোমাকে এবং তাদেরকে একসাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। সো যারাই হচ্ছে ইবলিশের পথ ফলো করবে, তারাই হচ্ছে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে এবং তাদের সর্বশেষ পরিণাম হবে জাহান্নাম।

তো এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা এই ইবলিশের ঘটনায়, আদম এবং ইবলিশের ঘটনা বারবারই আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন যেন আমরা এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারি এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে এই যে 'আল কাউল', এই 'আল কাউল'টা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সিদ্ধান্ত। এই লোকগুলোকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে শাস্তি দিবেন, সে ব্যাপারে। তাহলে 'আল কাউল' হচ্ছে সেই পানিশমেন্টের কথা, আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন যে যাদেরকে, যারা যারা ইবলিশের পথ অনুসরণ করবে, ইবলিশ সহ তাদেরকে তিনি জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। এই যে সিদ্ধান্ত, আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সে সিদ্ধান্ত কনফার্মড হয়ে গেল সেই মানুষদের জন্য, যারা যারা হচ্ছে ইবলিশের পথ অনুসরণ করবে।

সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন যে এই কথা, এই শাস্তির নির্দেশ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ মানুষের জন্য এবং তারা হচ্ছে ঈমান আনবে না এবং এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেই শাস্তির কথা, সে পরিণামের কথা এখানে উল্লেখ করে দিয়েছেন। আল্লাহ আজিজ আল আর রাহিম। তিনি হচ্ছেন সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তিনি আবার মারসিফুল। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম কে বলছেন যে তিনি কোরআনকে নাযিল করেছেন তার কাছে যেন তিনি মানুষকে সতর্ক করতে পারেন। তারপরে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালাই বলে দিচ্ছেন যে এই যে পানিশমেন্ট, সে পানিশমেন্টের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই হচ্ছে পড়ে যাবে এবং তারা ঈমান আনবে না। আল্লাহ নিজেই সেই কথাটা বলে দিচ্ছেন।

এই আয়াতগুলো আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন। আমরা জানি মক্কাতে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এই সূরাটা নাযিল হয়, সেই সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এবং তার অনুসারীরা এ গ্রেট ডিল অফ ডিফিকাল্টি এক্সপেরিয়েন্স করছিলেন। যে তখন তাদের উপরে শারীরিক, মানসিক সব ধরনের নির্যাতন তারা চালাচ্ছিল এবং তারা একটুখানি যদি ইসলামের পথে অগ্রসর হয়, তখনই দেখা যেত যে সেই কাফের কুরাইশরা হচ্ছে তাদের উপরে হামলে পড়তো। তারা আরো বেশি স্টারবর্ন হতো, তারা তাদের এরোগেন্স আরো বেশি শো করত। তারা এগ্রেসিভ হয়ে যেত, ভায়োলেন্টলি তাদের উপরে অটাক করতো।

সো এই সময়ে আমরা দেখি যে মুসলমানদের মনোবল নষ্ট হয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তারা গুটি কয়েক মানুষ, ক্ষুদ্র সংখ্যক কিছু মানুষ এবং সেখানে আমরা দেখি যে যারা হচ্ছে সমাজের নিচু পর্যায়ের ছিল, দাস পর্যায়ে ছিল, তারাই হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের অনুসারী হচ্ছিল এবং তার মধ্যেও সমাজে উচ্চস্তরের যারা রয়েছে, তারা হচ্ছে তাদের উপরে বিভিন্নভাবে হামলে পড়ছে। কথার দ্বারা, সামাজিকভাবে বয়কট করার মাধ্যমে অথবা শারীরিকভাবে নির্যাতন করার মাধ্যমে, মানসিকভাবে পর্যদস্ত করার মাধ্যমে। সেই সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের মনের যে অবস্থা ছিল, আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে এটা তার দোষ না যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম মনে করছেন যে মেবি আই এম নট ডুইং এনাফ, মনে হয় আমার যেভাবে করা উচিত ছিল, আমি সেভাবে করছি না, সে কারণেই হচ্ছে এরা আমার কথা শুনছে না। এত সুন্দর কথা এবং এগুলোই হচ্ছে সবচেয়ে সত্য কথা, যে ব্যাপারে কোন ধরনের সন্দেহ নাই, তারপরেও তারা কেন এটা গ্রহণ করছে না।

সো এই ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা গিয়েছে যে এত বেশি মর্মাহত হয়ে পড়েছিলেন এবং এত বেশি মনকষ্ট ভুগছিলেন যে তিনি সমস্ত দোষ নিজের উপরেই নিয়ে নিচ্ছিলেন এবং এ কারণে আমরা দেখি যে সূরা কাহফের মধ্যে বলা হয়েছে যে 'লা' আল্লাকা বালিগুন নাফসাকা আল্লা ইয়াকুনু মুমিনীন'। ওখানে বলা হয়েছে 'লা' আল্লাকা বাহিলুন নাফসাকা আলা আসারিহিম ইন্ন লাম ইউমিনু বিহাজাল হাদিস আসাফা। মনে হচ্ছে যে না, আপনি নিজেকেই হচ্ছে হত্যা করে ফেলবেন, নিজেকেই নিজে মেরে ফেলবেন কি জন্য যে তাদের কষ্টে, তাদের মনের কষ্টে যে তারা কেন ইসলামের পথে আসছে না, সেই কষ্টে মনে হয় যেন আপনি মারাই যাবেন।

তো এই হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের অবস্থা, যিনি হচ্ছেন সেলফলেসলি, কোন ধরনের নিজের সুবিধার কথা চিন্তা না করে, তার উম্মতের কথা সারাক্ষণ চিন্তা করে গিয়েছেন। তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তার উম্মতের জন্য দোয়া করে গিয়েছেন এবং যে মানুষরা এখনো গাফেল রয়েছে, তাদের জন্য তিনি সবসময় মনোকষ্ট ভুগতেন। আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তাকে বলছেন যে এই যে তারা আসছে না, তার কারণ হচ্ছে যে তাদের জন্য আগে থেকেই এই ডিসিশনটা সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে এবং তারা ঈমান আনবে না, যতই তাদেরকে বলা হোক না কেন।

আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের মনের অবস্থা প্রকাশ পেয়েছিল তায়েফের ঘটনার পরে। যখন তাকে নির্যাতিত করা হলো, রক্তাক্ত করা হলো। কোনভাবে তিনি সেই এরিয়া থেকে বের হয়ে আসলেন। নিজের জীবনের হুমকি, নিজের জীবনহানির হুমকি দেখা দিয়েছিল। সেই সময় যখন তিনি আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে দোয়া করলেন, তিনি কি বললেন? তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে কমপ্লেন করছি আমার দুর্বলতা নিয়ে, আমার চেষ্টার কমতি নিয়ে এবং আমি তোমার কাছে কমপ্লেন করছি মানুষের সামনে আমি নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করতে পারার জন্য।

তো রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম মনে করছিলেন যে এটা তার দুর্বলতার জন্য, তার হয়তোবা চেষ্টা কমতি হচ্ছে, সে কারণে এটা হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে এটা নিশ্চিত রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের নিজেকে এটার জন্য দোষারোপ করার কোন সুযোগ নেই।

তারপরে আমরা এখানে দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এই 'কাউল' শব্দটার মাধ্যমে আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে এই যে সুনিশ্চিত শাস্তির কথা বলা হয়েছে, সে সুনিশ্চিত শাস্তি তাদের জন্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। যদিও তাদের কাছে মেসেঞ্জার এসেছে হোল হিউম্যানিটিকে রক্ষা করার জন্য, কিন্তু কোরাইশরা হচ্ছে এমন স্টারবর্ন পিপল যে তাদেরকে যতভাবেই বুঝানো হোক না কেন, তারা এটা বুঝবে না। আল্লাহ সুবহানাতালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মত একজন মানুষকে, যিনি হচ্ছেন উসুয়াতুল হাসানা, সারা দুনিয়ার জন্য চরম আদর্শ হয়ে রয়েছেন, তাকে তিনি স্পেশালি এই কুরাইশদেরকে সতর্ক করার জন্য পাঠিয়েছেন। তাদেরকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা এই ডিপ স্লিপের মধ্যেই থাকবে, তারা এই গাফলতির মধ্যেই থাকবে এবং সেখান থেকে তারা বের হয়ে আসবে না।

সো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে রিয়েলিটিটা তুলে ধরছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর সামনে। এই সূরা ইয়াসিনের 70 নাম্বার আয়াতে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে তাদের জন্য শাস্তি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে এবং সেই লোকদের জন্য এ শাস্তি দিয়ে দেওয়া হয়েছে যারা হচ্ছে অকৃতজ্ঞ, যারা হচ্ছে আল্লাহকে অবিশ্বাস করে। সো আমরা দেখি বারবার এই কথাগুলো বলা হচ্ছে যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম নিজেকে দুষারোপ না করে, আল্লাহর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত হন।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলে দিচ্ছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের এই যে কষ্ট, সে কষ্টকে দূর করার জন্য তিনি এই শব্দগুলো এখানে ব্যবহার করেছেন এবং এখানে তিনি বলেছেন যে 'আইলা আকসারিহিম আরসার', মানে হচ্ছে অধিকাংশ, অনেক মিনি বুঝানোর জন্য। কিন্তু তার মানে এই না যে সবাই এখানে সবাইকে বুঝানো হয় নাই। তাদের মধ্যে অধিকাংশ হচ্ছে এই অধিকাংশের জন্য এই শাস্তিটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে।

সো যারা হচ্ছে এ শাস্তির মধ্যে পড়বে, তাদের কারণটা কি? কারণটা হিসেবে আল্লাহ সুবহানাতালা বলছেন যে 'লা ইউমিনুনহুম', 'লামিন'। তারা আসলে ঈমান গ্রহণ করবে না, তারা বিশ্বাস করবে না। সো তাদের মূল কারণ হচ্ছে তারা হচ্ছে অবিশ্বাসী এবং তারা হচ্ছে তাদের অবিশ্বাসের মধ্যেই হচ্ছে সত্যকে অস্বীকার করার মধ্যেই হচ্ছে তারা পারসিস্টেন্স করছে, সেখানেই তারা অবস্থান করছে। যতই ওয়ার্নিং দেওয়া হোক না কেন, যতই রিমাইন্ডার দেওয়া হোক না কেন, যত ভাবীর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে ডাকুন না কেন, তারা হচ্ছে অসত্যকে অস্বীকার করাই তারা হচ্ছে ঠিক করে নিয়েছে।

সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে 'আলা ইউমিনুন', এখানে আমরা দেখি যে 'ইউমিনুন' ভার্ব ব্যবহার করা হয়েছে। ভার্ব হচ্ছে যে জিনিসটা হচ্ছে পরিবর্তন হয়, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ একেক সময় একেক অবস্থায় থাকে। আর নাউন যখন ব্যবহার করা হয়, সেটা হচ্ছে যেটা পারমানেন্ট অবস্থা। তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে 'নুন' যে তারা এখনো করছে না, ভবিষ্যতেও করবে না, সেটা বুঝানো হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কিছু কিছু মানুষ যে ফিরে আসবে না, সেরকম কিন্তু না। যে আজকে তারা ঈমানী অবস্থায় রয়েছে, পরে তারা ঈমান আনতেই পারে। যেমন আমরা দেখতে পাই যে খালিদ বিন ওয়ালিদের কথা, আবু সুফিয়ানের কথা, যে তারা প্রথমদিকে তাদের সামনে ঈমানকে পরিবেশন করা হয়েছে, কিন্তু তারা ঈমান আনে নাই। মিসগাইডেন্সকেই তারা তখন ধরে রেখেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঈমানের আলো প্রবেশ করেছিল। আমরা এখানে দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ভার্ব ব্যবহার করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে এর মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন হতেও পারে।

আমরা দেখি যে সূরা তাগাবুনে আল্লাহ সুবহানাতালা এত সুন্দর করে বলে দিয়েছেন যে কারা এই হিদায়েতের পথে আসবে। আল্লাহ বলছেন যে 'ওয়া ইউমিন বিল্লাহি', যে যারা আল্লাহর উপরে বিশ্বাস আনবে, আল্লাহ সুবহানাতালা তাদের অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করবেন, আল্লাহ তাদের অন্তরকে গাইড করবেন। তখন তার মানে হচ্ছে যে আমাদেরকে যে জিনিসটা বুঝতে হবে যে আল্লাহর উপরে ঈমান আনা, আমরা যখন আল্লাহর উপরে ঈমান আনবো, তার উপরে বিশ্বাস করব, তখন আল্লাহ নিজেই আমাদের অন্তরকে পরিচালিত করবেন সঠিক পথের দিকে। তো ঈমান আনাটা হচ্ছে ফাস্ট স্টেপ।

সূরা আস সাফে বলা হচ্ছে, স্মরণ করো যখন মুসা আলাইহিস সালাম তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দাও, অথচ তোমরা জানো যে আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। এই যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না, তাদের অন্তর বাঁকা হয়ে গেল, কিন্তু ফাস্ট রেসপন্সিবল পার্সনটা কে? ফাস্ট রেসপন্সিবল পার্সন হচ্ছে আমি নিজে, যে আমি যদি ঈমান আনি, আল্লাহ আমার অন্তরকে গাইড করবে। আমি যদি বক্রতা অবলম্বন করি, আল্লাহ আমার অন্তরকে বক্রতার দিকে নিয়ে যাবে।

তো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে এখানে বুঝাচ্ছেন যে উই হ্যাভ টু টেক দা ফারস্ট স্টেপ। আমি কোন পথে যেতে চাই, সেটার জন্য প্রথম স্টেপটা আমাকে নিতে হবে। তারপরে আমি যেভাবে এফর্ট দিব, আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার চেয়ে বেশি এফর্টে আমার সেই পথ সুগম করে দিবে। সেটা যদি ভালো পথ হয়, আল্লাহ ভালোর দিকে সমস্ত উপকরণ আমার জন্য যোগাড় করে দিবেন। সেটা যদি খারাপ পথে হয়, তাহলে খারাপ পথে চলাটাও আল্লাহ আমার জন্য সহজ করে দিবেন। সো হেদায়েত তখনই আসবে, যখন আমি সে হেদায়েত নেওয়ার জন্য এক পা এগিয়ে যাব।

সো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে দেখিয়েছেন যে যারা ঈমান আনবে না, যাদের সেই ঈমানের রশনি তাদের মধ্যে নাই, তাদের জন্য শাস্তির কথা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে।