📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 2 || Main Theme ||

Straight Path22:19

Transcription

সূরা ইয়াসিন আমাদের অতি পরিচিত একটি সূরা। এই সূরার বিষয়বস্তুর দিকে যদি আমরা তাকাই, তাহলে দেখব এই সূরাতে মূলত তিনটা বিষয়ের উপরে ফোকাস করা হয়েছে।

সূরা ইয়াসিনের প্লেসমেন্ট যদি আমরা দেখি কোরআনে, মুসাফের মধ্যে আমরা দেখি যে প্রথমে হচ্ছে সূরা সাবা (৩৪ নাম্বার সূরা), আল ফাতির হচ্ছে ৩৫ নাম্বার সূরা এবং তারপরে হচ্ছে সূরা ইয়াসিন। এবং এর মধ্যে আমরা দেখি যে এই সবগুলো সূরাই হচ্ছে বাকি সূরা। এবং এই সূরাগুলোর মধ্যে একটা মিল রয়েছে যে এর মূল বিষয়বস্তু মূলত তিনটা জিনিসের উপরে। একটা হচ্ছে তাওহীদ, আরেকটা রিসালা, আরেকটা হচ্ছে আখিরা।

আমরা দেখি সূরা ফাতির ঠিক আগের সূরাটা, সূরা ইয়াসিনের যে আগের সূরাটা সেটার মধ্যে আছে যে সেখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা খুব পাওয়ারফুল একটা মেসেজ এখানে দিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে যে তারা হচ্ছে আল্লাহর নামে শপথ করে এবং সে শপথ করে তারা ক্লান্ত হয়ে যায়। সো, এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানুতায়ালা তাদেরকে, আল্লাহ মানুষ আল্লাহর নামে যে শপথ করে এবং সেই শপথগুলোর কথা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে উল্লেখ করেছেন। এবং এখানে আমরা দেখি যে সূরা ইয়াসিন হচ্ছে সেম থিমের উপরেই কন্টিনিউ করছে।

এবং সূরা ফাতিহার মধ্যে আমরা দেখি যে যখন তাদের কাছে কোন নবী এসেছে, কোন মেসেঞ্জার এসেছে, তাদেরকে এটা কোন আলাদা বারাকা দেয় নাই অথবা তাদেরকে কোন কিছুতে বাড়িয়ে দেয় নাই। বরং তারা সেই নবীর কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছে। এবং সূরা ইয়াসিনের মধ্যে আমরা দেখি যে থিম যদিও এক তাওহীদ, রিসালা, আখিরা নিয়ে, কিন্তু টোনটা একটু ডিফারেন্ট। এখানে আমরা দেখি মূলত আল্লাহ সুবহানা তায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর উপরে বেশি ফোকাস করেছেন।

সূরা ফাতিরের মধ্যেও প্রফেটহুড নিয়ে, নবুয়ত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মেসেঞ্জারদের, নবী রাসূলদের উপরে বিশ্বাসের গুরুত্বের উপরে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে মূল ফোকাসটা ছিল হচ্ছে তাওহীদের উপরে। আর এই সূরা ইয়াসিনের মধ্যে আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের যে নবুয়ত, সেটার উপরে হচ্ছে বেশি এমফেসিস দেওয়া হয়েছে।

সো, এখানে আমরা দেখি সূরা ইয়াসিন মূলত আমাদের যে ঈমান, বিশ্বাস, পুনরুজ্জীবন এবং আমাদেরকে যে নিজেদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে, সেই কথাগুলোর উপরেও ফোকাস করছে। এবং কোরআন হচ্ছে ক্লিয়ার গাইডেন্স হিসেবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছ থেকে এসেছে এবং আমাদেরকে সতর্ক করিয়ে দিচ্ছে, সেই কথা এখানে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

এখানে আমরা দেখি যেই জিনিসগুলার উপরে মূলত ফোকাস করা হয়েছে যে কোরআন হচ্ছে আমাদের জন্য ক্লিয়ার গাইডেন্স। আখিরাতে কি হবে? বিচারের দিনের বাস্তব অবস্থা কি হবে? সেটা এখানে বলা হয়েছে। মেসেঞ্জারদেরকে, রাসূলদেরকে কেন আমাদের অনুসরণ করতে হবে, সেটা গুরুত্ব সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। এবং যারা হচ্ছে ঈমানকে রিজেক্ট করেছে, অস্বীকার করেছে তাদের ফলাফল কি হবে, সেটাও আমরা এখানে দেখতে পাই।

সো, সূরা ইয়াসিনের মধ্যে মেসেঞ্জারদের সাথে সাথে আমরা দেখি যে একটা বিশেষ ফোকাস দেওয়া হয়েছে আমাদের বর্তমান জীবন এবং আখেরাতের জীবনের উপরে। এবং এই সূরাতে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সৃষ্টি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

সো, মূলত আমরা এই সূরা তিনটা ভাগে ভাগ করতে পারি। একটা হচ্ছে পুনরুজ্জীবনের উপরে। আরেকটা হচ্ছে যারা হচ্ছে তাদের পূর্ববর্তী নবী রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছে তাদের ঘটনা। এবং আরেকটা হচ্ছে তাওহীদের বিশ্বাস বা একত্ববাদের উপরে বিশ্বাস।

এই সূরার মধ্যে আমরা দেখি একটা ফান্ডামেন্টাল একটা আইডিয়া দেওয়া হয়েছে আমাদের জীবন এবং জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে। এবং এখানে হচ্ছে কৃতজ্ঞতার যে গুরুত্ব, সেটা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে আমরা কেন কৃতজ্ঞ হব? কৃতজ্ঞ হব কিসের উপরে? কেন আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত? কিভাবে আমরা আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি? এবং যখন আমরা কৃতজ্ঞ হই, তখন আমাদের কাছ থেকে কি এক্সপেক্ট করছেন আল্লাহ সুবহানা তায়ালা।

এই সূরাকে আমরা যদি আয়াত ভিত্তিক ভাগ করি, তাহলে দেখব যে এই সূরার বেসিক যে সেকশন, পাঁচটা সেকশনে এটাকে ভাগ করা যায়। প্রত্যেকটা সেকশনের মধ্যে আমরা দেখি যে ভিন্ন ভিন্ন থিম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটাও কোরআনের একটা বিশেষ সৌন্দর্য। আমরা দেখি যে কোরআনের কয়েক আয়াত পরপরই আল্লাহ সুবহানা তায়ালা ভিন্ন একটা বিষয় উপস্থাপন করছেন। এবং এর মাধ্যমে যেটা হয় যে যে হচ্ছে কোরআন পড়ছে, যারা বুঝে পড়ে, আসলে তাদের হচ্ছে বোর্ড হওয়ার কোন সুযোগ নাই এবং তাদের ফোকাস বাড়ে। নতুন বিষয় তাদের সামনে যখন চলে আসে, তখন তারা আরো বেশি এটেন্টিভ হয়।

এখানে সূরাটি শুরু করা হয়েছে দুইটা লেটার দিয়ে, ইয়া এবং সিন। এবং এটাই হচ্ছে সূরার প্রথম আয়াত। এবং এই সূরার নামকরণও আমরা দেখি এখান থেকে হয়েছে। এ সূরাকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করার মধ্যে প্রথম ভাগ যেটা, সেটা হচ্ছে এক থেকে ১২ নাম্বার আয়াত। এখানে হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার কাছ থেকে যে মেসেজ আমাদের কাছে এসেছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যে সে মেসেজ নিয়ে এসেছেন, সেই কথাটি এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

এই আয়াতের মধ্যে আমরা দেখি, এই ১২ টি আয়াতের মধ্যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনের উপরে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং কোরআন একটা ক্লিয়ার এবং ডিভাইন রেভলেশন, সেটা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা একজন মেসেঞ্জার রাসূল, সেই কথা তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। এখানে মক্কাবাসীদের কাছে উদ্দেশ্যে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা কথা বলছেন এবং তাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছ থেকে আসা এই মেসেজকে রিজেক্ট করার ফলাফল কি হতে পারে।

এখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম কে সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে যারা হচ্ছে অবিশ্বাস করছে, তারা যারা হচ্ছে তাদের ডিসলি বা অবিশ্বাসের ঘোষণা দিচ্ছে, তারা হচ্ছে এই দুনিয়াতে এমন অবস্থায় থাকবে যে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার চোখের আড়াল তারা হচ্ছে না। এখানে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর উপরে ঈমানকে রিজেক্ট করছে। বিভিন্নভাবে যেমন তারা এরোগ্যান্ট হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ সুবহানাতায়ালার একত্ববাদের উপরে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে নাই। তারা হচ্ছে তাদের যে লাইফলং বিলিফ ছিল, সে বিলিফটাকে চেঞ্জ করতে তারা যায় নাই। তাদের যে জীবনে তারা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, সে জীবন থেকে জীবনে কোন পরিবর্তন আনতে তারা চায় নাই। এবং এর মধ্যে আমরা দেখি যে তারা দুনিয়াবী এই বেনিফিট বা দুনিয়াবী যেই সমৃদ্ধি তারা পেয়েছে, সেটাকে আঁকড়ে ধরে থেকেছে এবং সেখান থেকে আল্লাহ সুবহানা তায়ালার পক্ষ থেকে আসা মেসেজকে গ্রহণ করতে তারা রাজি হয়নি।

আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে ক্লিয়ারলি বলে দিয়েছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে যে তারা হচ্ছে উদ্ধত হয়ে গিয়েছে ঈমান আনার ব্যাপারে এবং আল্লাহর যে পানিশমেন্ট, সেটা হচ্ছে তাদের জন্য অবশ্যই রয়েছে। এখানে মূলত আমরা দেখি ১২টা আয়াতের মধ্যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলে দিচ্ছেন যে গাইডেন্স, হেদায়েত দেওয়ার মালিক হচ্ছেন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের মূল কাজ হচ্ছে শুধু মেসেজটা কনভে করা। হেদায়েত দেওয়ার মালিক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম নন।

তারপরে আমরা দেখি ১৩ থেকে ৩২ নাম্বার আয়াতে। এখানে যারা অবিশ্বাসী তাদের কিছু ঘটনা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা উল্লেখ করেছেন। এখানে যারা হচ্ছে তাদের নবীদেরকে অস্বীকার করেছে এবং তার মাধ্যমে যে শাস্তির দিকে তারা ধাবিত হয়েছে, তাদের কথা বলা হয়েছে। এবং সাথে সাথে সেই বিশ্বাসের কথাও তুল্য ধরা হয়েছে যারা এই ভালো কারণে, ভালো কজের জন্য হচ্ছে তাদের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছে। এখানে এমন ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে সে তারা কিভাবে অবিশ্বাসী হয়েছে মেসেঞ্জারদেরকে অস্বীকার করার কারণে, তাদের কাছে আসা নবীকে অস্বীকার করার কারণে।

এখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা অবিশ্বাসীদেরকে, অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে বলছেন এই যেই একটা শহরের ঘটনা উল্লেখ করে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের কাছে নবী রাসূল পাঠিয়েছিল তাদেরকে সাবধান করার জন্য, আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা হচ্ছে সেটাকে মেনে নেয় নাই। সে কারণে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এবং সেখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কয়েকজন করে নবী তাদের একই জনমগোষ্ঠীর জন্য পাঠিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তারা মেনে নেয় নাই তাদের কথা এবং তারা অস্বীকার করেছে। এবং শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য আল্লাহ সুবহানা তায়ালা একটা কষ্টকর আযাবের ব্যবস্থা রেখে দিয়েছেন।

এবং এর মধ্য থেকে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির কথা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলেছেন যে নবীর উপরে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং মানুষকে কনভিন্স করার জন্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গিয়েছে তাকেও তারা হত্যা করল এবং তারা মিসগাইডেন্স এর উপরেই থেকে গেল। সো, এখানে আমরা দেখি যে এই ১৩ থেকে ৩২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে আমাদের উচিত হচ্ছে যারা মুত্তাকী, যারা রাইটিয়াস তাদের পথ অনুসরণ করা। এবং যারা হচ্ছে এরোগেন্ট হচ্ছে, যারা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার এই নির্দেশকে মেনে নিচ্ছেন, আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে তাদের জন্য আল্লাহর পানিশমেন্ট রয়েছে এ দুনিয়ায় এবং আখিরাতেও।

তারপরে আমরা দেখি থার্ড পোরশন যেটা, ৩৩ থেকে ৫০ নাম্বার আয়াত। সেখানে বলা হয়েছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সৃষ্টি এবং শক্তি সম্পর্কে। এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে তার গুণাবলীগুলোর প্রমাণ আমরা দেখতে পাই আমাদের আশেপাশের দুনিয়াতে। যেমন হচ্ছে কিভাবে মৃত মাটিকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আবার পুনর্জন্ম দান করছেন বৃষ্টির মাধ্যমে। কিভাবে তিনি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। চাঁদ এবং সূর্যের যেই চলার পথ, সেখানে এক সাইন্টিফিক ফ্যাক্ট তিনি তুলে ধরেছেন। সেখানে আমরা কোন ধরনের ত্রুটি বিচ্যুতি দেখতে পাই না।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তুলে ধরেছেন সমুদ্রের মধ্যে যে জাহাজগুলো ভেসে আসছে, কিভাবে সেগুলো ভেসে আসছে। অল দিস ফেনোনা, এই সমস্ত কিছু আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে এই সিস্টেমটা পারফেক্টলি চালানোর জন্য একজন সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন এবং সমস্ত কিছু তার আদেশ অনুসারেই হয়ে থাকে। সো, এখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমরা যাতে তার দেওয়া এই নিদর্শনগুলোর দিকে তাকাই, সেগুলো নিয়ে চিন্তা করি। আমাদের আশেপাশে যে নিদর্শনগুলো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা রেখে দিয়েছেন। সো, এর মাধ্যমে আমাদের ঈমান মজবুত হবে। এবং যারা অবিশ্বাস করছে, হয়তোবা এই জিনিসগুলো নিয়ে চিন্তা করার কারণে তারা সত্যের কাছে চলে আসতে পারবে।

এবং আমরা দেখি যে এই নিয়ামতগুলোকে মানুষ গ্রান্টেড হিসেবে নিয়ে নেয়, মনে করে যে এগুলো তারা অটোমেটিক্যালি পেয়ে যাচ্ছে। এবং যে কারণে তারা আল্লাহ সুবহানা তা'আলার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে। এবং তাদের ব্যাপারেও আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে হুশিয়ারি দিয়ে দিয়েছেন। সো, এই ৩৩ থেকে ৫০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তার যে সৃষ্টির নিদর্শন আমাদের সামনে রেখে দিয়েছেন, সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিতে বলছেন, চিন্তা করতে বলছেন। এবং আমাদের জীবনে যেই জীবনটা এবং জীবনের নেয়ামতগুলো দিয়ে দিয়েছেন, সেগুলোকে গ্রান্টেড ধরে না নিয়ে সেগুলোর ব্যাপারেও আমাদেরকে কৃতজ্ঞ হওয়ার জন্য আহ্বান করছেন।

চার নাম্বার সেকশন যেখানে আমরা দেখি যে ৫১ থেকে ৬৭ নাম্বার আয়াত। এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পুনর্জন্ম এবং সে বিচার দিবসের কথা উল্লেখ করেছেন। এবং এখানে ডে অফ জাজমেন্ট বা বিচারের দিনের হিসাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা উল্লেখ করেছেন যে একটা ভীষণ আওয়াজের কথা। এবং সেই ভীষণ আওয়াজের মাধ্যমেই হচ্ছে সেই নতুন যে পুনর্জীবন, সেটা শুরু হবে। এবং সেখানে আত্মা গুলোকে আবার রিইউনাইট করা হবে। তাদের দেহ হচ্ছে আবার তাদের রবের কাছে ফিরে আসবে। এবং তারা সে তখন অবাক হয়ে বলবে যে আমাদের ঘুম থেকে কে জাগালো? এবং তাদেরকে জবাব দেওয়া হবে যে এটাই হচ্ছে তোমার রব, যে তোমাকে প্রমিস করেছিল। যে মেসেঞ্জাররা তোমাদের কাছে এসেছিল, তারা তোমাদেরকে শুনিয়েছিল।

সো, এই দিন হচ্ছে সেইদিন, যেদিন হচ্ছে কারো প্রতি কোন ধরনের জুলুম করা হবে না। এবং তাদের প্রত্যেকের প্রাপ্য সেটা দিয়ে দেওয়া হবে। সো, এখানে আমরা দেখি যে সেই দিনের কথা বলা হয়েছে যে প্রত্যেকে তাদের কাজ দ্বারা জাজড হবে। এবং যারা হচ্ছে মুত্তাকী, সঠিক পথ অনুসরণ করেছে তাদের জন্য পুরস্কার রয়েছে। এবং যারা হচ্ছে ভুল পথে ছিল তাদের জন্য শাস্তি রয়েছে।

সো, এই আয়াতগুলোর মধ্যে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা জান্নাতবাসীদের কথা উল্লেখ উল্লেখ করেছেন। এবং সাথে সাথে যারা হচ্ছে জাহান্নামী হবে তাদের শাস্তির কথাও এখানে উল্লেখ করেছেন। সো, এখানে বলা হয়েছে যে মানুষ কিভাবে আশ্চর্য হয়ে যাবে সেদিন, যখন তাদেরকে উঠানো হবে। এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এখানে নির্দেশ দিচ্ছেন, স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে আমাদের প্রত্যেকটা কাজ হওয়া উচিত আখিরাতমুখী। তাহলেই হচ্ছে আমরা সফলকাম হতে পারব।

এবং শেষ পোরশন যেটা, সেখানে ৬৮ থেকে ৮৩ নাম্বার আয়াত। সেখানে বলা হয়েছে যে যারা হচ্ছে বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসীদের ফলাফল কি হবে, সেটা এখানে বলা হয়েছে। এবং এই ফাইনাল সেকশনে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আবারো তার যে নিদর্শনগুলো, তার যে ফেভার, ব্লেসিংস আমাদের জন্য রয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করছেন। এবং যারা ঈমানদার এবং যারা হচ্ছে কাফের ছিল, তাদের পরিণাম কি হবে, এখানে সেটা উল্লেখ করছেন।

এবং এখানে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার যেই এবসলিউট পাওয়ার রয়েছে, সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে, সেই কথা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। এবং আল্লাহর যে কোন কিছুই আল্লাহর পক্ষে অসম্ভব না, কঠিন কিছু না। এবং তার ক্ষমতা আর কেউ অংশীদার না, সে কথাটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। এবং এই সূরা শেষ হচ্ছে ৮৩ নাম্বার আয়াত, যে আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার প্রশংসা করা হচ্ছে, তার তাসবি করা হচ্ছে। এবং মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে সে আল্লাহই হচ্ছে এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সমস্ত কিছুকে কন্ট্রোল করেন। এবং আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে এই দুনিয়াটা হচ্ছে খুব টেম্পোরারি। এবং আমাদেরকে সেই চূড়ান্ত সময়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে হাজির হতে হবে।

এখানে আমরা দেখি যে এই সূরার বিষয়গুলো যদি আমরা দেখি যে একটার পর একটা কিভাবে এই সূরাটাকে কে সাজানো হয়েছে, তাহলে দেখবো যে প্রথমে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা শপথ করেছেন কোরআনের। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যে আল্লাহর পক্ষ থেকে মেসেঞ্জার হিসেবে এসেছেন, সেই কথা তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। তারপরে তিনি বলে দিয়েছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম তাদেরকেই হচ্ছে স্মরণ সতর্ক করে দিচ্ছেন যাদেরকে আগে সতর্ক করা হয় নাই। এবং সেই সূরাতে এরপরে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আখিরাতে যারা হচ্ছে অপরাধী, যারা হচ্ছে ভুল পথে পরিচালিত ছিল তাদের জন্য কি শাস্তি রেখেছেন, সেটা বলে দিয়েছেন। এবং তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে সমস্ত কাজই রেকর্ডেড হচ্ছে একটা ক্লিয়ার রেজিস্টারের মধ্যে, যেই জিনিসগুলা হচ্ছে সবকিছু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সংরক্ষিত করে রেখেছেন।

তারপরে হচ্ছে সেই নবীদের ঘটনা বলা হয়েছে যে নবীদেরকে তারা অস্বীকার করেছিল এবং একজন ব্যক্তি এসে তাদেরকে সতর্ক করেছিল। আল্লাহ সুবহানা তা'আলা সৃষ্টির রহস্য নিয়ে তারপরে তিনি আলোচনা করেছেন। যে এ পৃথিবীর সমস্ত কিছুই হচ্ছে জোড়ায় সৃষ্টি করা। এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যে বিশেষ সাইন্টিফিক মিরাকল, সূর্য এবং চাঁদের যে অক্ষপথে ঘুরা, সেই কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। একটা জাহাজ কিভাবে হচ্ছে সমুদ্রে ভাসমান হয়ে থাকে, আল্লাহর ক্ষম দেওয়া যে ব্লেসিং, সেই ব্লেসিংস এর কারণে, সেটা বলে দেওয়া হচ্ছে।

এবং তারপরে আবার হচ্ছে সেই বজরুনিনাদের কথা বলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হচ্ছে লাস্ট ডে সূচনা হচ্ছে। এখানে বলা হচ্ছে যে আমাদের মুখগুলোকে সেদিন সিল মেরে দেওয়া হবে। আমাদের হাত সেদিন কথা বলে উঠবে। সেখানে বলা হচ্ছে যে যারা হচ্ছে সঠিক পথের পথিক তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এবং যারা হচ্ছে অবিশ্বাসী তাদের জন্য হচ্ছে কাফেরদের জন্য হচ্ছে শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

এবং সবশেষে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কমান্ড সেটা যে কত সিম্পল এবং এফেক্টিভ, সেটা আমরা দেখি কুন ফায়াকুন, যে হও এবং সেটা হয়ে যায়। আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অপরিসীম ক্ষমতার কথা এখানে বলা হয়েছে। স, এই সূরার মধ্যে আমরা দেখি যে কোরআনের যে একটি স্পেশাল মিরাকল রয়েছে, যেটাকে বলা হচ্ছে রিং স্ট্রাকচার। যে আমরা যখন সূরাগুলো নিয়ে পড়াশোনা করি, তখন দেখি যে কোরআনের প্রথম বিভিন্ন অংশগুলোর মধ্যে সুন্দর একটা সামঞ্জস্য রয়েছে, একটা সমন্বয় রয়েছে।

কোরআনের শুরু যেভাবে হয়েছে, সেই সূরাটা শুরু যেভাবে হয়েছে, আমরা যদি শেষের অংশ থেকে মিলাই, তাহলে দেখবো যে একটা আয়াত আরেকটা আয়াতের জন্য বা একটা অংশ আরেকটা অংশের জন্য যেন ইকো হয়ে যাচ্ছে। একটা আরেকটার সাথে এত সামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানে যেমন কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যায়, প্রথম এবং শেষের আয়াতগুলোর দিকে আমরা যদি তাকাই, তাহলে দেখব যে এই সূরাটা শুরু করা শুরু করা হয়েছে কোরআনের নামে শপথ করে। এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে তিনি রাসূলকে পাঠিয়েছেন। এবং শেষ যে আয়াত সেখানে বলা হচ্ছে যে আমাদেরকে আবার তার কাছেই ফিরে যেতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আর আমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে আবার রিটার্ন করতে হবে। সেই কথাটা হচ্ছে প্রথম এবং শেষের অংশের মধ্যে আমরা যেই সমন্বয়টা, সেটা দেখতে পাই।

তারপরে আমরা দেখি যে পরবর্তী অংশের মধ্যে, এখানে আমরা প্রত্যেকটা এই ফিগারটা যখন দেখব বা এই ছবিটা যখন দেখব, তখন দেখব যে এ অর্থাৎ ফাস্টের আয়াত এবং লাস্টের আয়াত সাথে কেমন মিল আছে। তারপরের পোরশনের সাথে শেষের অংশগুলো কেমন মিল আছে। তো সেখানে আমরা দেখব যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কথাগুলো যে এত সুন্দরভাবে সাজানো। এবং একজন মানুষ যখন কথা বলে, সে কখনো এত সুন্দরভাবে সাজিয়ে বলতে পারবে না। এত সুন্দর সমন্বয় তার মধ্যে থাকবে না। যেই কথাগুলোই হচ্ছে আমরা পরবর্তীতে দেখব যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই এই সূরাতেই প্রথমদিকে বলে দিয়েছেন। এবং তার একটা বিশেষ প্রমাণ হিসেবে আমরা দেখতে পাই এই রিং স্ট্রাকচারটা। যেটা হচ্ছে এই প্রত্যেকটা অংশের মধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি।

সো, পরের অংশের মধ্যে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে পাঁচ থেকে সাত নাম্বার আয়াতে আল্লাহর যে ওয়ার্ড, আল্লাহর যে কথা, সে কথার কথা বলা হয়েছে। এবং আমরা শেষের দিকে যদি দেখি ৮১, ৮২ নাম্বার আয়াতে, সেখানে আল্লাহ সে কথাকে ইল্লা উল্লেখ করা হচ্ছে, ইয়াকুল যে কুন ফাইয়াকুন, যেটা আল্লাহ হওয়াই বলেন, সেটাই হয়ে যায়। তারপরে আমরা দেখি যে আট থেকে ১০ নাম্বার আয়াতে জাহান্নামের কথা বলা হয়েছে। আবার ৮০ নাম্বার আয়াতের মধ্যে যেয়েও আল্লাহ জাহান্নামের কথা বলছেন। আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা যেভাবে হচ্ছে জান্নাতের কথা তুলে ধরেছেন, প্রথম দিকে শেষের দিকে যেয়েও আমরা দেখি সে জান্নাতের কথা এখানে আসছে।

সো, এমন করে হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা এত সুন্দরভাবে প্রতিটা সূরার মত করে সূরা ইয়াসিনকে আমাদের জন্য সাজিয়ে দিয়েছেন যে অসংখ্য জিনিস রয়েছে এখান থেকে শিখার জন্য। যেমন কি লেসনস হিসেবে আমরা যদি দেখি, তাহলে দেখব যে আমাদের যেই কথাগুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন প্রেরিত রাসূল। এবং আল্লাহ সুবহানা তা'আলার যে সতর্কবাণী, সে সতর্কবাণী এবং তার যে রহমত, সেটাকেই তিনি এখানে প্রকাশ করছেন।

তারপরে আমরা দেখি যে কিছু মানুষ আছে যারা সত্যকে আমরা যেভাবেই উপস্থাপন করি না কেন, অবশ্যই সেটাকে তারা রিজেক্ট করবে। সো, এ ধরনের মানুষ যুগে যুগে ছিল, আছে এবং থাকবে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের প্রত্যেকটা কাজে রেকর্ড রাখছেন এবং সেটা আমাদের ফিউচার জাজমেন্টের জন্য কাজে লাগবে। পূর্ববর্তী যেসব জাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, ধ্বংস হওয়ার কারণ ছিল তারা তাদের নবীকে অস্বীকার করেছিল। সেই গল্পগুলো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এজন্য বলেন, আমরা যেন এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারি।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সৃষ্টি রহস্য নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। এই সৃষ্টি রহস্য নিয়ে আমরা যত চিন্তা করব, তত বেশি আল্লাহর শক্তিকে আমরা উপলব্ধি করতে পারব। আমাদের জীবন এবং মৃত্যু হচ্ছে আল্লাহর কন্ট্রোলে। এবং সেই আল্লাহই হচ্ছেন পারেন আবার ডে অফ জাজমেন্টে আমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করতে। আমরা যত বেশি এই আখিরাতকে বিশ্বাস করব, তত বেশি হচ্ছে সুন্দরভাবে আমাদের জীবনকে যাপন করতে পারব। এবং সেইম গড যিনি হচ্ছেন আমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনি আবার মৃত্যুর পর আরেকবার সৃষ্টি করতে পারেন। এটা তার জন্য কঠিন কিছু না।

এরকম অসংখ্য লেসন নিয়ে সূরা ইয়াসিন আমাদের মধ্যে আছে। আমরা প্রতিনিয়ত সূরা ইয়াসিন পড়ছি। কখনো হয়তো বা এর গভীরে ডুব দিয়ে দেখিনি যে এর মধ্যে কি আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা প্রতিটা হরফ, প্রতিটা আয়াতের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা করার যে সুযোগ আল্লাহ সুবহানা তা'আলা দিয়ে দিয়েছেন, এবারে রমাদানে আমরা সেই চিন্তাকে দিয়েই শুরু করবো ইনশাআল্লাহ।