📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 46: Ayah 38|| Allah's Power over the Sun!!

Straight Path17:56

Transcription

সূরা ইয়াসিনে 38 নাম্বার আয়াত আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন, "আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। শামসুতাজল্লাহর আজল আলিম।"

সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ। আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তার যে নিদর্শনগুলো এই পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে রেখেছেন, তার মধ্যে কিছু উদাহরণ আমাদেরকে এখানে দিচ্ছেন। এবং এই আয়াতে আমরা দেখি 'ওয়া' দিয়ে শুরু করা হয়েছে। তার আগের আয়াতে 'আয়াতুল্লাহুম' বলে যে তাদের জন্য নিদর্শন এ কথা বলে যে কথাগুলো শুরু করেছেন, যে নিদর্শনে বর্ণনা দেওয়া শুরু করেছেন, এখন আমরা দেখি আরেকটা নিদর্শন এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বর্ণনা করছেন। এবং এখানে তিনি বলছেন, "ওয়া শামসুতাজ মুস্তাকলাহ।"

"মুস্তাকারল্লাহ।" শামস হচ্ছে সূর্য। "তাজরি" হচ্ছে প্রবাহিত হওয়া যে নদী বা ঝরণার পানি যে প্রবাহিত হচ্ছে, মুভ করছে, সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, একটা কন্টিনিউয়াস ফ্লো সেটা বুঝানোর জন্য তাজর বুঝানো হচ্ছে। এবং "লি মুস্তাকারল্লাহা।" মুস্তাকার শব্দটা এখানে ব্যবহার করা হয়েছে যার মাধ্যমে সূর্যের যেই চলমান অবস্থায় সেটা এখানে বুঝানো হচ্ছে। মুস্তাকার শব্দের বিভিন্ন অর্থ রয়েছে এবং এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তাআলা যেকোন অর্থই এখানে ব্যবহার করতে পারেন এই মুস্তাকার শব্দটি।

এই মুস্তাকার শব্দটি একদিকে যেমন বুঝায় একটা লিমিটেড সময় বা একটা প্রিডিটারমাইনড একটা সময়ের কথা এখানে বুঝানো হতে পারে। আবার এটা দিয়ে এমন একটা জায়গার কথা বুঝানো হতে পারে। সেটা হচ্ছে যেখানে রেস্ট নেওয়া হয়, যেখানে হচ্ছে বিশ্রামের জন্য থামা হয়। সে জায়গাটাকেও মুস্তাকার বলা হতে পারে। অথবা এমন একটা জায়গা যেখানে হচ্ছে থাকা হয়। অর্থাৎ যেটা অস্থায়ী না, স্থায়ী অবস্থান বুঝানোর জন্য হচ্ছে এই শব্দটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাহলে আমরা দেখি মুস্তাকার শব্দের দুইটা দিক রয়েছে। একটা হচ্ছে টাইম অরিয়েন্টেড, আরেকটা হচ্ছে স্পেস ওরিয়েন্টেড। সময়, মাকান এবং জামান। সময় এবং স্থান বুঝানোর জন্য এই মুস্তাকার শব্দটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সো এখানে এই যে আমরা দেখি যে একটা অর্থ যেটা বলা হচ্ছে যে প্লেস অফ রেস্ট, যেখানে বিশ্রামের জন্য থামে সূর্য, সেটার কথা বলা হচ্ছে যে সূর্য প্রবাহমান অথবা গতিমান অথবা সবসময়ই হচ্ছে ঘুরন্ত অবস্থায় রয়েছে যতক্ষণ না সে তার বিশ্রামের স্থান পর্যন্ত পৌঁছায়। এটা একটা অর্থ হতে পারে যেটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে বুঝাতে পারেন। তাফসীকারগণ বলেছেন যেটা এমন একটা জায়গা যেখানে সূর্য, সূর্যকে আল্টিমেটলি এসে থামতে হয় এবং যেখানে সূর্য আল্টিমেটলি থামবে।

সো এই আয়াতের যে অর্থ সেটা পূর্ণাঙ্গভাবে মানুষের পক্ষে আসলে মানুষের যে নলেজ বা জ্ঞান সেটা দিয়ে বুঝা মুশকিল। তারপরেও হচ্ছে আমাদের যে এখনকার পর্যন্ত যে বিজ্ঞান আমাদেরকে যেই শিক্ষা দিচ্ছে সে অনুযায়ী আমরা যদি এই কথাগুলোকে বুঝার চেষ্টা করি তাহলে দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সে 1400 বছর আগে যে কথাটা আমাদেরকে বলে দিয়েছেন সেটা হচ্ছে যে সূর্য ঘূর্ণায় এমন অবস্থায় রয়েছে, সূর্য কোন স্থির বিষয় না। যে ব্যাপারটা দেখি আমরা যে ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে এটা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক হয়েছে কিন্তু আজকে আমরা সাইন্টিফিক ফ্যাক্ট হিসেবে জানি যে সূর্য চলমান অবস্থার মধ্যে রয়েছে। একটা পার্টিকুলার ডিরেকশনে সবসময় সূর্য ঘুরছে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা দেখি যে সব ধরনের নক্ষত্রই আসলে একটা পার্টিকুলার ডিরেকশনে ঘুরছে। 10 থেকে 100 মাইল পার সেকেন্ড ব্যাগে এই প্রত্যেকটা নক্ষত্রই ঘুরে যাচ্ছে। এবং সূর্যের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে সূর্য হচ্ছে 20 কিলোমিটার পার সেকেন্ড ব্যাগে ঘুরতে থাকে। এবাউট হচ্ছে 12 মাইল পার সেকেন্ড। এভাবে হচ্ছে ঘুরতে থাকে এবং সূর্যের এই ঘুরণায়মন অবস্থাটা আমরা আজকে বুঝতে পারছি।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আবুজর রাদিয়াল্লাহ আনহু তিনি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে "শামসতাল্লাহ" এই কথাটা দিয়ে কি বুঝানো হয়েছে? তখন তিনি বললেন যে "মুস্তাকারুহাশ" যে এটার ফিক্সড কোরস হচ্ছে আল্লাহর আরশের নিচে। সো এইখান থেকে আমরা দেখি যে সূর্যের একটা ফিক্সড লোকেশন কোর্স অফ লোকেশন রয়েছে যেখানে যেটা হচ্ছে আল্লাহর আরশের নিচে। সো এটা পৃথিবীর থেকে দূরবর্তী অবস্থানে আমরা বুঝতে পারি যে এই অবস্থানটা। সো যেখানেই সূর্য যাক না কেন সূর্যকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর আরশের নিচে আসতে হয়। এবং আমরা জানি যে আল্লাহর আরশ হচ্ছে রুফ অফ রুট অফ অল ক্রিয়েশন, যেখান থেকেই হচ্ছে সমস্ত কিছু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সৃষ্টি করেছেন সেই আরশ সৃষ্টি করার পরে এবং সেটা হচ্ছে পৃথিবীর বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে কেন্দ্রভাগে বা পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের মধ্যে অবস্থিত বলা হয়ে থাকে এবং আল্লাহর যে আরশ সেটার ব্যাপারেও আমরা জানি যে এটা ইউনিভারস এটাকে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সেট করে রেখেছেন এবং সূর্য আমাদের মাথার উপর দিয়ে সবসময় ঘুন্নায় অবস্থায় সেটা আমরা দেখতে পাই এবং সত্যিকারভাবে এটা দিয়ে কি অর্থ প্রকাশ পায় সেটা আল্লাহ সুবহানা তাআলা জানেন।

এবং এখানে আমরা দেখি যে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে একটা হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে প্রতিদিন সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে পৌঁছায় এবং সেখানে সেজদা দেয় আল্লাহ সুবহানা তাআলাকে এবং আল্লাহর কাছে অনুমতি চাই পরের রাউন্ড ঘুরার জন্য। সো যখন সূর্য এই পারমিশনটা পায় তারপরে হচ্ছে সে পরের রাউন্ডের জন্য ঘুরতে থাকে এবং আমরা পরবর্তী দিনটা দেখতে পাই। সো এখানে আমরা দেখি যে কয়েকটি স্টেপে এই কাজগুলো চলছে যে সূর্য ঘুরণায়মান অবস্থায় রয়েছে। তারপরে আল্লাহ আরশের নিচে যে এটা একদিনের যে ঘুরা সেটা শেষ হচ্ছে। সেখানে আল্লাহ পারমিশন চাচ্ছে। আল্লাহ যখন পারমিশন দিবেন তখন হচ্ছে সে নেক্সট ঘুরার জন্য চলবে। কিন্তু আমরা জানি যে যখন কেয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন হচ্ছে ঠিক রিভার্স একটা কাজ হবে এবং সেটা হচ্ছে যে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যের উদয় হবে এবং এটাই হচ্ছে কেয়ামত দিবস শুরু হওয়ার যে আলামত বা সাইন বলা হয়েছে সেটা একটা সাইন এখানে এবং যখন হচ্ছে ঈমানের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।

সো সূর্য আমরা দেখি যে সৃষ্টি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শত শত কোটি কোটি বছর ধরে একইভাবেই চলছে এবং একই নিয়ম ফলো করছে। এই ক্ষেত্রে আমরা দেখি বুখারী শরীফে আবজা রাদিয়াল্লাহু আনহুর আরেকটা হাদিস রয়েছে সেখানে বলা হয়েছে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমি ছিলাম মসজিদে সূর্যাস্তের সময় তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু জাহকে জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আবু যার, তুমি কি জানো সূর্য কোথায় অস্ত যায়?" তখন তিনি বললেন এটা সাহাবাদের একটা কার্টিসি বলা যায় যে তারা বলতো যে আল্লাহ এবং তার রাসূলই ভালো জানেন যে আমরা জানি না আপনি আমাদেরকে জানান। তখন তিনি বললেন যে এটা এগিয়ে যায় এবং আরশের নিচে যেয়ে সেজদা করে এবং সেজন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনে আমাদেরকে বলছেন, "মুস্তালা আলিম।" তাহলে এখান থেকেও আমরা এই আয়াতের ব্যাখ্যা পাই এবং আবু রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই কথাগুলোই আমরা দেখি যে এই আয়াতের ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে যে এটা হচ্ছে সূর্যের রেস্টিং প্লেস যেখানে হচ্ছে সূর্য আরশের নিচে যেয়ে সূর্য অবস্থান করে।

সো এখানে সূর্য কিভাবে সেজদা দেয় সেটাও আল্লাহ সুবহানা তাআলা ভালো জানেন। আমরা সেটা জ্ঞান রাখি না বা আমাদেরকে সে ব্যাপারে বিস্তারিত বলা হয় নাই। যেভাবে এটা সূর্যের জন্য বিফিটিং হয় সেভাবেই হচ্ছে আমাদেরকে সেটা বিশ্বাস করতে হবে। এবং আরেকটা হাদিসে এসেছে কাতাদা রহমতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে এই যে "লি মুস্তাকারল্লাহা" শব্দটা বলা হয়েছে যে এটা একটা ফিক্সড কোর্স অফ এ টার্ম রয়েছে। স কাতাদা রহমতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে এটা হলো সূর্যের জন্য একটা এপয়েন্টেড টাইম রয়েছে এবং সেই টাইমের পরে এটা আর যাবে না। এর অর্থ হচ্ছে যে এটা গ্রীশবকালে দেখা যায় এক তার যেই সামার অরবিট রয়েছে একটা সার্টেন টাইম পর্যন্ত ঘুরতে থাকে এবং সেটাকে এক্সিড করে যায় না আবার উইন্টারে দেখা যায় সেটা ডিফারেন্ট একটা টাইমিং থাকবে এবং সেটাকে এক্সিড করে যায় না এজন্যই আমরা দেখি যে গৃশ্য এবং শীতে দিন রাতে সময়ের যে তারতম্যটা হয় সেটার একটা ব্যাখ্যা এটা হতে পারে।

এবং আরেকটা ভিউ যেটা আমরা দেখলাম এই মুস্তাকার শব্দে সেটা হচ্ছে যে এই সূর্যের হচ্ছে এপয়েন্টেড টাইম রয়েছে। সো এই এ্যাপয়েন্টেড টাইমটা হচ্ছে একসময় শেষ হয়ে আসবে। যেটা হচ্ছে ডে অফ রিজায়েকশন কিয়ামতের দিন। স এই ব্যাপারে আমরা জানি যে এই নির্দিষ্ট সময়টা কোনটা সেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ভালো করে জানেন। এ ব্যাপারে আমরা দেখি যে সূরা জুমারে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন, "তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চাঁদকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।" তাহলে এখানেও আমরা দেখি যে তাদের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সো এই নির্দিষ্ট সময়ের পর্যন্তই তাদেরকে এই কাজটা কন্টিনিউ করে যেতে হবে।

তাহলে এখানে প্রথম আমরা দেখি যে এই যে দিন এবং রাতের আবর্তন সেটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের বুঝার উপযোগ যোগিক করে এখানে বলে দিয়েছেন যে রাতকে হচ্ছে দিনের উপরে আবরণ হিসেবে দিচ্ছেন আবার দিনকে রাতের উপরে আবরণ করে দিচ্ছেন। এর আগের আয়াতেও আমরা দেখেছি এ ধরনের কথা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে বলেছেন এবং তাদের দিন রাত একে এক পরে কভার হিসেবে কাজ করছে। একটাকে যখনই সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তখন অন্যটা প্রকাশিত হচ্ছে সেটাও আমরা এখান থেকে দেখতে পাই। এবং এখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলেছেন এই সূরা জুমারে "লি আজালি মুসাম্মা" যে এখানে আজালি মুসাম্মা বলতে হচ্ছে ফিক্সড একটা সময়ের কথা বলা হয়েছে এবং এই ফিক্স সময়টাতে আমরা দেখি চাঁদ এবং সূর্য দুটাই হচ্ছে যে ঘুরছে আমাদের জন্য এটা অনন্তকাল ধরে ঘুরছে কিন্তু আল্লাহ সুবহানা তাআলা এটাকে হচ্ছে একটা ফিক্স টাইম দিয়ে দিয়েছেন সেই সময় তাদের এই ঘুরা শেষ হবে এবং সেটারই প্রমাণ আমরা এই আয়াতেও দেখতে পাচ্ছি।

এবং এ ব্যাপারে আমরা দেখি ইবনে মাসুদ এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু যখন তারা এই "ওয়াশমসুতাজরিলা মুস্তাকারল্লাহ" এই আয়াতটা পড়তেন তাতে বলেছেন যে এটার কোন গন্তব্য নাই এবং তারা কোন এক জায়গায় থেমে যায় না বরং এটা নাইট এন্ড ডে হচ্ছে সূর্য ঘুরতে থাকে নেভার স্লোইং ডাউন অর স্টপিং এবং তিনি কোরআনে আরেকটা আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যেখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন যে আল্লাহ হচ্ছে সূর্য এবং চন্দ্রকে সৃষ্টি করেছেন এবং দুইটাই হচ্ছে কনস্ট্যান্টলি তাদের যে গতিপথ সেটাতে কন্টিনিউ করে যাচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তাআলার যে সার্ভিস বা তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন সে নির্দেশ তারা কখনোই স্লোডাউন করে না কখনোই থামে না আন্টিল ডে অফ রিজারেকশন এটাও আমরা দেখতে পাই এখানে যে তাদের যে গন্তব্য সেটা একটা ফিক্স টাইম পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রেখে দিয়েছেন।

সো তো এখানে আল্লাহ যে সময়টা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেটা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা জানেন কখন সেটা আসবে এবং ততদিন পর্যন্ত এটা এভাবেই চলতে থাকবে এবং তারপরে এখানে আমরা দেখি যে এই আয়াতের উপরে যখন ব্যাখ্যা করা হচ্ছিল তখন তাফসীরকারক হিসাবে কালবি রহমতুল্লাহ আলাইহি তিনি বলেছেন যে এর অর্থ হচ্ছে সূর্য তার দূরবর্তী অবস্থান পর্যন্ত যায়। তারপরে সে আবার ঘুরে কাছাকাছি অবস্থানে আসে এবং এর যে গন্তব্য সেটা হচ্ছে তার যে দূরবর্তী গন্তব্য পয়েন্ট পর্যন্ত আছে তারপরে সে আর যেতে পারে না। সেখান থেকে সে আবার ফিরে আসে। এবং তারপরে আবার যখন এই রেস্টিং প্লেসের কথা তিনি বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বলছেন যে যখন সূর্য অস্ত যায় এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যায় তারপরে তার বাইরে সে আর যেতে পারে না এবং তখন সূর্য হচ্ছে আল্লাহর আরশের নিচে বিশ্রাম গ্রহণ করে পরবর্তী দিন সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত।

এখানে আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের সাথে আবু জাহর রাদিয়াল্লাহু আনহুর আরেকটা কর্তব্যধন যেখানে বলা হচ্ছে যে কোথায় সূর্যস্ত যায় জানে কিনা জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে এবং সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন যে সূর্য হচ্ছে তার যে গন্তব্য সে আল্লাহ আরশের নিচে সে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায় সেখানে সে সেজদা করে এবং আল্লাহকে সে সেজদারত অবস্থায় থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে বলা হয় যে উঠো এবং ফিরে যাও যেখান থেকে তুমি এসেছিলে তারপরে সেটা আবার ফিরে যায় এবং সকালবেলা যেই জায়গা থেকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাকে উঠান নির্দেশ দিচ্ছেন সেই জায়গা থেকে উঠে এবং তারপরে আবার সূর্য একইভাবে তার যে অরবিট বা চলার পথ রয়েছে সেই পথে চলতে থাকে এবং মানুষ এর মাধ্যমে ডিস্টার্ব হয় না। তো একটা সুন্দর নিয়ম অনুযায়ী আমরা দেখতে পাই যে এটা চলছে এবং এভাবে প্রতিদিন একইভাবে চলছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বলছেন যে এমন একটা সময় আসবে যখন তাকে বলা হবে যে তোমার সেটিং প্লেস যেখান থেকে তুমি অস্ত যাও সেখান থেকে জেগে উঠো। উপরে উঠো। তার মানে পশ্চিম দিক থেকে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বললেন যে তোমরা কি জানো কখন সেটা সংঘটিত হবে? সেটা এমন এক সময়ে সংঘটিত হবে।

তারপরে তিনি কোরআনে আয়াত পড়লেন যেখানে বলা হচ্ছে যে সেটা হচ্ছে সেই দিন যেদিন তোমাদের তোমার রবের পক্ষ থেকে কিছু নিদর্শন তোমাদের চোখের সামনে আসবে এবং সেদিন মানুষের ঈমান তার জন্য কোন ভালো কিছু নিয়ে আসবে না। অর্থাৎ সেদিন তার ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তার আগে যদি সে ঈমান না এনে থাকে তাহলে সে এরপরে আর তার ঈমান আনার কোন সুযোগ থাকবে না। সো এরকমভাবে আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম এর সাথে বিভিন্ন কথোপকথনের মাধ্যমে এই আয়াতটার ব্যাখ্যা আমরা জানতে পারি এখানে।

স আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ভালো জানেন। তবে এখান থেকে আমরা ক্লিয়ারলি বুঝতে পারি যে সূর্য হচ্ছে মুভেবল। সূর্য হচ্ছে কন্টিনিউয়াসলি মুভ করছে। তার একটা ফ্লো রয়েছে এবং তার গন্তব্য পথে সে চলছে কন্টিনিউয়াসলি। এবং সেটা বলা হচ্ছে যে "জালিকা তাকদিরুল আজিজুল আলিম" যে এটা নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে আল আজিজ আল আলিম দিয়ে। স আল আজিজ নামটা আমরা যদি দেখি তাহলে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই নামটা দিয়ে তার যে ক্ষমতা সেটাকে বুঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ তার ক্ষমতা এমন যে তিনি এই জিনিসগুলোকে পরিচালিত করতে পারেন। আমরা যদি সূর্যের ক্ষমতার কথা চিন্তা করি বা সূর্যের যে তেজ সূর্যের যে শক্তি সেটার কথা চিন্তা করি তাহলে দেখব এরকম একটা শক্তিশালী জিনিসকে তাহলে কে পরিচালনা করছেন কার নির্দেশে এই কাজ হচ্ছে এবং কোথায় যেয়ে সে আবার সেজদা করছে তো সেটা হচ্ছে এই অলমাইটি এই শক্তিশালী যিনি হচ্ছেন সবকিছুকে ডমিনেট করেন এবং তার কথার উপরে আর কোন কথা হতে পারে না কেউ তার বিরোধিতাও করতে পারে না কেউ তার কাজকে স্টপও করতে পারে না। সো এই যে সুন্দর নিয়মে আমরা দেখি যে সৃষ্টির শুরু থেকেই সূর্য তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলছে। সেটা কখনোই এমন হয় নাই যে সূর্য চলা বন্ধ করে দিয়েছে বা এর গতিপথ চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। তাহলে যার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটছে তিনি হচ্ছেন আল আজিজ। এবং তিনি আল আলিম। শুধু যে তিনি শক্তির গর্ব দেখান এখানে তাই না শক্তির সাথে সাথে তার জ্ঞানও রয়েছে। আল আলিম হচ্ছেন তিনি যিনি সমস্ত কিছু জানেন। এভরি মোমেন্ট। যে কখন হচ্ছে এই সূর্য চলছে কখন সূর্য থামছে প্রত্যেকটা জিনিসই তার জানা আছে এবং তিনি হচ্ছেন তাদেরকে নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং তাদেরকে কিভাবে চলতে হবে কোন গতিপথে চলতে হবে কোনটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক সেটা তিনি জানেন এবং সে কারণেই তার সেই শক্তি দিয়ে তিনি সেটা আমাদেরকে প্রয়োগ করে দেখান। স আল আজিজ আর আলিমকে আমরা যখন চিনবো এই সূর্যের কথা চিন্তা করে যখন আমরা আল্লাহকে শক্তির কথা চিন্তা করব তখন স্বাভাবিক ভাবেই আল্লাহকে আমরা আরো সুন্দরভাবে চিনতে পারবো। যেমন সূরা আনামে বলা হয়েছে, "তিনি প্রভাত রসীর উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য চন্দ্রকে হিসাবের জন্য রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত মহাজ্ঞানীর নিদর নির্ধারণ।" তাহলে এখানেও আমরা দেখি আল আজিজ আল আলিম নামটা বলা হয়েছে "জালিকাতাদিরুল আজিজুল আলিম।" সেম কথা এখানে বলা হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হচ্ছেন আল আজিজ আল আলিম। যে তার শক্তি দিয়ে তিনি এমন কাজ করেন যেটা জ্ঞানের বাইরে না। সো জ্ঞান দিয়ে যাচাই করে প্রত্যেকটা জিনিস যাচার পরে করার পরেই হচ্ছে তিনি এটাকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন আমাদের জন্য। সুবহানাল্লাহ।