📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 11: Ayah 8 || The Punishment of Chains!!

Straight Path16:44

Transcription

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। ইন্নাজহলা আমি তাদের গর্দানে চিবুক পর্যন্ত বেরি পড়িয়েছি, ফলে তাদের মস্তক ঊর্ধ্মুখী হয়ে গিয়েছে। সূরা ইয়াসিনের আট নাম্বার আয়াত খুবই ভয়ঙ্কর, খুবই ভীতিকর একটা আয়াত। এখানে বলা যায় যে, এখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আয়াত আট এবং আট থেকে 10 পর্যন্ত সাত নাম্বার আয়াতটাকে যেন বিস্তারিত আবার আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে যাদের উপরে শাস্তি নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে সেই লোকদের যারা ঈমান আনবে না তাদের জন্য কি ধরনের ব্যবস্থা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা করে রেখেছেন সেটা আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে আমাদেরকে বলে দিচ্ছেন।

আমরা দেখি যে এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন ইন্নাজলনা নিশ্চিতভাবে আমরা জালনা আমরা বানিয়েছি। সো এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমরা বলে তার যে রয়েল উই তার যে সুপার পাওয়ার সেটাকে তিনি আমাদের সামনে নিয়ে আসছেন যে দুইবার আমরা বলে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে ডেফিনেটলি আল্লাহ অনলি আল্লাহ দিস হচ্ছে এক্সক্লুসিভিটি যে শুধু আল্লাহ করতে পারেন যেটা সেটা হচ্ছে যে ইন্নাজলনা আনাকহি আনাক আনাক শব্দটা হচ্ছে উনুক শব্দের বহুবচন। উনুক শব্দের অর্থ হচ্ছে নেক ঘাড়। আনাক হচ্ছে তাদের ঘাড়গুলো বুঝানো হচ্ছে। আনাকহিম তাদের ঘাড়ের মধ্যে আলালান হচ্ছে গো শব্দটা থেকে গোল শব্দের প্লুরাল হচ্ছে আগলালান। গো শব্দের অর্থ হচ্ছে চেন যে চেন দিয়ে যারা হচ্ছে জেলখানায় কয়েদি তাদেরকে আটকিয়ে রাখা হয় সেই মোটা ধরনের চেইন সেগুলোকে বুঝানোর জন্য হচ্ছে গোল শব্দটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সো এটা হ্যান্ড কাফ অথবা পায়ের মধ্যে ঘাড়ের মধ্যে যে ধরনের চেইন দিয়ে একজন কয়দিকে আটকিয়ে রাখা হয় সেই ব্যাপারটা এখানে বলা হয়েছে যে সে ধরনের চেইন আগনা আনাকহান কি হচ্ছে এই যে মোটামোটা চেইনগুলো এই মোটামোটা চেইনগুলো তাদের ঘাড়ের মধ্যে গলার মধ্যে হচ্ছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তারপরে আল্লাহ বলছেন যে ফাহিয়া ইলাল আ আসবান শব্দটা এসেছে। আসগান শব্দের অর্থ হচ্ছে চেইন। যে তাদের যে চিবুক আছে সেই চিবুক পর্যন্ত হচ্ছে তাদের এত মোটা চেইন যে সেই চেইনটা তাদের চিবুক পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। সো সুবহানাল্লাহ। আমরা যদি একটু বুঝার চিন্তা করি যে চিত্রটা যে তাদের গলার মধ্যে মোটা মোটা চেইন আটকে দেওয়া হয়েছে এবং এমনভাবে চেইনগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে যে তাদের চিবুক পর্যন্ত উঠে গিয়েছে অর্থাৎ পুরা গলা কাভার করে চিবক পর্যন্ত উঠে গিয়েছে। সো এখানে আর কোন রুম নাই যে কোন জায়গা নাই যে তারা তাদের গলাটাকে ঘাটটাকে ঘুরাবে কোনদিকে। সো তাদের না আছে মুভ করার শক্তি তারা হচ্ছে একটা ফ্রোজেন পজিশনের মধ্যে যেখানে তারা হচ্ছে নিথর হয়ে গিয়েছে বা শক্ত অবস্থান হয়ে গিয়েছে যেখান থেকে তারা কোনদিকেই আর তাদের মাথা ঘুরাতে পারছে না।

এবং তারপরে আল্লাহ বলছেন যে ফাহুম মুকমাহুন। মুকমাহুন শব্দটা এসেছে কামাহা থেকে। কামাহা শব্দটার অর্থ হচ্ছে স্পেশালি বুঝায় যখন উট পানি খাওয়ার জন্য মাথাটা টানটান করে সোজা করে তখন তার যে মাথা উপরের দিকে উঠে যায় তখন সেই অবস্থানটাকে হচ্ছে কামাহা বলা হয়ে থাকে। তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন যে তাদের অবস্থাটা কি হয়ে গিয়েছে? তাদের অবস্থাটা হচ্ছে মুখমাহুন। যে তারা তাদের গলার নিচে চেইনটা থাকাতে তাদের ঘাড়টা এমন শক্ত হয়ে গিয়েছে যে তাদের ঘাড় মনে হচ্ছে যেন উপরের দিকে উটের মাথার মত উপরের দিকে উঠে আছে এবং তারা সেখান থেকে কোনদিকে আর মুভ করতে পারছে না নড়তে পারছে না নিচের দিকেও তাকাতে পারছে না। সো তাদের ঘাড়টা একদম সোজা হয়ে উপরের দিকে রয়েছে।

আবার অনেক সময় বলা হয়ে থাকে যে উটের গলাটা যদি পিছনের দিকে বেধে রাখা হয় অথবা উটের চালক যখন তাকে তাকে যেই রশিটা দিয়ে বেঁধে রাখা হয় সেটা দিয়ে টানটান করে যখন গলাটা উঠিয়ে রাখে তখন সেই অবস্থাটাকেও কামাহা বলা হয়ে থাকে এবং এই অবস্থায় এজন্য করা হয় যাতে উটটাকে কন্ট্রোল করা যায় যেকোন ডিরেকশনে যেকোন দিকে উটটাকে চালাতে চায়। তো আমরা যদি একটু চিন্তা করি যে এই যে উটের ছবিটা আমরা দেখতে পাচ্ছি যে উট পানি খাওয়ার সময় যেভাবে খাটটাকে উঁচু করছে এটাকে বলা হচ্ছে মুখমাহুম। সো এই অবস্থাটার উপরে আমরা যদি একটু চিন্তা করি যে কি অবস্থাটা হচ্ছে একজন মানুষকে যখন তাকে এরকম পজিশনে বেঁধে রাখা হচ্ছে শিকল দিয়ে চেইন দিয়ে যে তাদের মাথা উপরের দিকে উঠে আছে তারা সেখান থেকে আর উপরেও যেতে পারছে না নিচেও যেতে পারছে না কোনদিকে তাদের মাথা ঘুরাতেও পারছে না তাহলে তাদের এই মাথাটা উঁচু হয়ে থাকলে কি হচ্ছে একটা জিনিস বুঝা যাচ্ছে সেটা হচ্ছে এখানে তাদের যে অ্যারোগ্যান্স সেটা শো হচ্ছে যে সে নিজের মধ্যে এমন একটা হামবরা ভাব ছিল। নিজেকে সে এত বড় মনে করতো যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাকে শাস্তি দিয়েছেন এভাবে যে তার গলাটাই এরকম উঁচু হয়ে গিয়েছে তার সেই অহংকারের সিম্বল হিসাবে।

সো তাদেরকে মেসেজ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে একটা কোরআন দেওয়া হয়েছে। সেই কোরআনকে বুঝার জন্য সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের একজন মানুষকে রাসূল হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তার সাথে তারা রুড হয়েছে। তাকে তার সামনে তারা এক্সট্রিমলি এরোগেন্ট হয়েছে। আল্লাহ সুবহানা তায়ালা যেন তাদের সেই এরোগ্যান্স সে অহংকারের শাস্তি হিসেবে তাদের মাথা যেভাবে তারা উঁচু করে রেখেছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের সামনে কোরআনের কথার সামনে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সেভাবেই তাদের গলাকে ঘাড়কে ফিক্স করে দিয়েছেন। সো সেখান থেকে তাদের আর সরার কোন সুযোগ নাই। এবং এটা যে কোনভাবেই কমফর্টেবল পজিশন না সেটা তো আমরা বুঝতেই পারছি এবং কোরআন ক্লিয়ারলি আমাদেরকে বলে দিচ্ছে যে আল্লাহর পথে হেদায়েতের সবচেয়ে বড় বাধা যেটা সেটা হচ্ছে এরোগেন্স সেটা হচ্ছে আমাদের গর্ব অহংকার নিজের মধ্যে যে বড়ত্ব সেটা হচ্ছে আমাদেরকে হেদায়েতের পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

আমরা জানি যে কাফের কোরাইশরা তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের এগেন্স্টে কিছু বলতে পারছিল না কারণ সবার সামনে তার চরিত্র একদম ক্লিয়ার ছিল যে তারা জানতো রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কেমন। কোরআনের কথা এত সাইন্টিফিক অথবা এত সুন্দরভাবে সাজানো যে সেটাও তারা বিকৃত করতে পারছিল না বা সেটা নিয়েও কিছু বলতে পারছিল না। কিন্তু তারপরেও তারা হচ্ছে ইসলাম কবুল করতে চাচ্ছিল না। যদিও তারা বুঝতে পারছিল যে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এবং এখানে কোন ধরনের সন্দেহের অবকাশ নাই। কিন্তু তারপরও তারা কোরআনকে মেনে নেয় নাই। শুধু এই জন্য যে তাদের যে বাপ-দাদার সময় থেকে তাদের যে লিডারশিপ ছিল, তাদের যে প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল সেই প্রভাব প্রতিপত্তি হচ্ছে তাদের আর থাকবে না। যেমন আবু জাহেলকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কেন সে বিশ্বাস করে না। মোহাম্মদকে কি সে একজন মিথ্যাবাদী মনে করে? সে বলেছে কখনোই না। কোরআনের কথা কি? কোরআনের কথা শোনার জন্য সে চুপি চুপি চলে আসতো। কিন্তু তারপরও কেন বিশ্বাস করতে পারে নাই? কারণ হচ্ছে বনু হাশিম অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের গোত্রের সাথে তাদের সবসময় কম্পিটিশন ছিল বনু মাকজুমের এবং সেই কম্পিটিশনে যখন বনু হাশিম কিছু করতো বনু মাগজুম তার চেয়েও বেশি কিছু করার চেষ্টা করতো। কিন্তু এখন যখন নবুয়তের কথা বলা হচ্ছে বনু হাশিমের নবুয়তের কথা যদি তারা মেনে নেয় বধু মাকজুম তখন আল্টিমেটলি অটোমেটিকভাবে তাদের আন্ডারে চলে যাবে এবং তাদের বড়ত্ব তারা আর দেখাতে পারবে না। যে কারণে হচ্ছে তারা হচ্ছে এই তাদের যে এরোগেন্স সেগুয়েন্স এর মধ্যে তারা ফিক্সড হয়ে গিয়েছে।

সেকেন্ড যে জিনিসটা আমরা এখানে দেখি সেটা হচ্ছে যে তারা তাদের চারপাশে যেই নিদর্শন ছিল সেই নিদর্শনকে তারা অস্বীকার করেছিল। যে যে জিনিসটা আমরা দেখতে পেয়েছি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম তাদের সামনে ছিল কোরআন তাদের সামনে ছিল কিন্তু তারপরেও সেটা তারা মেনে নিতে রাজি ছিল না। তো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন তারা যেভাবে তখন অস্বীকার করেছে আল্লাহ সুবহানাতালার নির্দেশ মেনে নেয় নাই তাদের জন্য এ ধরনের শাস্তি প্রাপ্য। কোরআনে তাফসীকারগণ বলেছেন যে এই আয়াতটা আসলে আমাদেরকে বুঝানোর জন্য দেওয়া হয়েছে যে যারা হচ্ছে অবিশ্বাসী যারা হচ্ছে ঈমান আনে না তাদের অবস্থাটা আসলে কি হবে যে তাদের গলার মধ্যে আয়রন কলার পড়িয়ে দেওয়া হবে এমনভাবে যেটা তাদের ঘাড় গলা এবং চিবুক পর্যন্ত কাভার করে থাকবে এবং তাদের মাথাকে কোনভাবেই তারা নাড়াতে পারবে না। সো তাদের মাথা হচ্ছে ফিক্সড হয়ে গিয়েছে একদিকে ফোকাসড হয়ে গিয়েছে এবং তখন তারা ইচ্ছে করলেও তার আশেপাশে কি আছে সেটা আর দেখতে পাবে না। তারা যেরকম অন্ধ থাকতে চেয়েছিল সেরকম ভাবে শুধু উপরের দিকেই তাকিয়ে থাকতে পারবে। তার আশেপাশে দুনিয়াতে কি হচ্ছে সেটা তারা আর দেখতে পাচ্ছিল না সেখানে। সো তারা যেমন তাদের ডিসবিলিভের উপরে থাকার ব্যাপারে অটল ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেসেজের দিকে তারা কোন ধরনের অ্যাটেনশন দেয় নাই। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদেরকে সেই অবস্থাতেই একদম অচল করে দিয়েছেন যে তারা সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারছে না। সো তারা ভালো কিছু যদি দেখেও ভালো কিছু যদি ঘটেও সেটা তাদের দেখার কোন সুযোগ নাই। ভালো ডিরেকশন কোনটা সঠিক সেটা জানার পরেও সেদিকে তাদের যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। কারণ তাদের ঘাড় মাথা এমনভাবে উঁচু হয়ে আছে যে চারপাশে দেখার সুযোগ তাদের নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তারা নিচের দিকেও মাথা দিতে পারছে না। নিচের দিকে কি হচ্ছে সেটাও তারা দেখতে পাচ্ছে না। সো তারা এমন একটি অবস্থায় আছে যেন তারা হচ্ছে সত্য কি সেটা আসলে দেখতে পায় না।

সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই আয়াতের মাধ্যমে এই যে চিত্রটা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। তাফসীর আরকগণ বলেছেন যে এটা একটা ব্যাখ্যা হতে পারে যে আখিরাতে তাদের শাস্তিটা হচ্ছে এরকম। এবং তাদের হাতগুলো হচ্ছে এমনভাবে বেঁধে দেওয়া হবে যে তাদের হাত দিয়ে আর ভালো কাজ করার কোন সুযোগই তাদের থাকবে না এবং তাদের যে শাস্তি সে শাস্তি হিসেবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এটা তাদেরকে দিয়েছেন। ইমাম আল কুরতুবি বলেছেন যে এই আয়াতের মাধ্যমে বলা হচ্ছে যে ভবিষ্যতে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে কি করা হবে সেই শাস্তির কথা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বর্ণনা করেছেন।

এই প্রসঙ্গে তাফসীকারগণ বলেছেন যে এই আয়াতটা আবু জাহেল সম্পর্কেও নাযিল হতে পারে। কোন কোন বর্ণনায় এরকম আছে যে আবু জাহেলকে কোন এক ঘটনা প্রসঙ্গে আবু জাহেল শপথ করলো যে সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে যখনই দেখবে কাবার আশেপাশে নামাজ পড়ছে তখনই তার মাথাটা হচ্ছে একটা বড় পাথর দিয়ে ধ্বংস করে দিবে। যখন আবু জাহেল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামকে এরকম নামাজ পড়া অবস্থায় দেখল সে বড় একটা পাথর হাত নিল এবং প্রায় ছুড়ে ফেলতে যাচ্ছিল। এ সময় দেখা গেল যে তার হাত তার গলায় উঠে গিয়েছে এবং তার হাতের মধ্যে পাথরটা স্টাক হয়ে গিয়েছে যেন শক্তভাবে লেগে গিয়েছে। তারপরে আবু জাহেল তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে আসলো এবং তাদেরকে বলল যে কি হয়েছে। তখন এই অবস্থায় ওয়ালিদ বিন মুগিরা বলল যে আমি যাব তার মাথাকে ক্রাশ করে দিতে। মাথাটাকে ধ্বংস করে দিতে। যখন সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের দিকে এগিয়ে গেল, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম নামাজ পড়ছিলেন, তখন সে পাথরটা উঠালো এবং আল্লাহ ইমিডিয়েটলি হচ্ছে তার চোখের শক্তি নিয়ে গেলেন সে কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের গলার আওয়াজ শুনতেছিল। কিন্তু তার তাকে সে দেখতে পাচ্ছিল না। তখন সে আবার তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে আসলো এবং তাদেরকেও সে দেখতে পাচ্ছিল না যতক্ষণ না তারা তাকে ডেকে তাকে সেখানে নিয়ে গেল এবং সে তখন তাদেরকে বলল যে আল্লাহর শপথ আমি মোহাম্মদকে দেখতে পাই নাই এবং আমি শুধু তাকে শুনতে পেয়েছি।

সো যখন দ্বিতীয় জনও এই তাদের যেই খারাপ উদ্দেশ্যটা ছিল সেটাকে সম্পন্ন করতে পারে নাই তখন তৃতীয় আরেকজন উঠে দাঁড়ালো এবং বলল যে আল্লাহ শপথ আমি যাব তার মাথাটা ধ্বংস করে দিতে। তখন সে পাথর নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের দিকে গেল। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা গেল যে সে তার পায়ের গোড়ালির উপরে দৌড়ে ফিরে আসতে লাগলো এবং মাটিতে হচ্ছে বেহুশ হয়ে পড়ে গেল। তখন তাকে বলল যে কি হয়েছে তোমার সাথে? সে বলল যে আমার অবস্থাটা আরো সাংঘাতিক। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আমি মোহাম্মদকে দেখতে পেলাম। কিন্তু আমি যখন তার কাছে গেলাম তখন দেখলাম যে বড় একটা উট আমার সামনে চলে আসছে। তার লেসটা নাড়তে নাড়তে আমি এত বড় উট কখনোই দেখি নাই। সেটা আমার এবং মোহাম্মদের মাঝখানে চলে এসেছে। আমি লাত এবং উজ্জান নামে শপথ করছি যে আমি যদি তার কাছে যেতাম তাহলে সেই উটটা আমাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলতো। তখন এই আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে। কোন কোন তাফসীরকারক বলেছেন যে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের ক্ষতি করার জন্য এগিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের জন্য আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এ ধরনের শাস্তি রেখে দিয়েছেন এবং কোন কোন তাফসীরকারগণ বলেছেন আট নম্বর এবং নয় নম্বর আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের আগুনে যে শাস্তি দিবেন সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে।

সূরা গাফিরে আমরা দেখি বলা হয়েছে যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে অতএব 70ই তারা জানতে পারবে যখন বেরি ও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। এখানেও আমরা দেখি যে সেম ধরনের শাস্তির কথা বলা হয়েছে তাদের জন্য যারা হচ্ছে মিথ্যা আরোপ করছে ঈমান আনে নাই আল্লাহ এবং তার রাসূলের উপরে। সো তাদের অবস্থাটা হচ্ছে এরকম যে তাদের গলার মধ্যে শৃঙ্খল চেইন পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পক্ষে আর কখনোই বো ডাউন করা সিজদায় যাওয়া রুকুতে যাওয়া সম্ভব না। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদেরকে এভাবে এমন অবস্থার মধ্যে আটকে দিয়েছেন।

সূরা ফুসসিলাতে বলা হয়েছে এখন আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করার করাবো পৃথিবীর দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে। ফলে তাদের কাছে ফুটে উঠবে যে এই কোরআন সত্য আপনার পালনকর্তা সব বিষয়ে সাক্ষ্যদাতা এটা কি যথেষ্ট নয়? সো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা চারিদিকে আমাদের জন্য নিদর্শন রেখে দিয়েছেন। আমরা শুধু যদি চোখ খুলে একটু তাকাই তাহলে এই ঈমান থেকে দূরে সরে থাকা আমাদের কারো পক্ষেই আসলে সম্ভব না। কিন্তু আমরা যদি চোখ বন্ধ করে রাখি এবং না বুঝার চেষ্টা করি তখনই দেখা যাবে সেই শাস্তি সম্মুখীন আমাদেরকে হতে হচ্ছে। এবং এত নিদর্শন আমাদের আশেপাশে রয়েছে কিন্তু যাদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই শাস্তির জন্য নিশ্চিত করে ফেলেছেন তারা এই নিদর্শনগুলো দেখতে পাচ্ছে না। কারণ তাদের গলা হচ্ছে এমনভাবে আটকে গিয়েছে যে তারা আর কোন দিকে তাকানোর সুযোগই পাচ্ছে না।

সো এখানে আমরা দেখি যে সে শাস্তির জন্য যে মেটাফরিক্যাল কন্ডিশন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলেছেন একটা উদাহরণ দিয়ে সেটা অত্যন্ত ভীতিকর এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সবাইকে এটা থেকে হেফাজত করুন। এখানে আমরা দেখি এখানে আল্লাহ বলছেন ইন্নাজলনা নিশ্চিতভাবে আমি এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার যে ক্ষমতা সে ক্ষমতার কথা প্রকাশ করেছেন। এখানে এবং এখানে কোন কোন তাফসীকারগণ বলেছেন এইযে যে অবস্থাটার মধ্যে তারা পড়ে যাবে সেই অবস্থাটা দুনিয়ার জীবনেও হতে পারে যে তাদের স্পিরিচুয়াল কন্ডিশনটা তাদের আত্মিক অবস্থানটা এরকম হয়ে যাবে যে তারা একটা জায়গায় আটকে গিয়েছে সেখান থেকে তারা আর সত্যকে দেখতে পারছে না দেখার মত সুযোগ তারা আর পাচ্ছে না। আর কোন কোন তাফসীকারগণ বলেছেন যে অফ জাজমেন্ট এটা হবে। জারলা শব্দটা দিয়ে আমরা জানি যে পাস্ট টেন্স বুঝায় অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাতালা এমনভাবে বলছেন যেটা অলরেডি সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এপ কোন সন্দেহ নাই যে তারা আর কখনো সেজদা দিতে পারবে না। তারা কখনো বিনয়ী হতে পারবে না। এটা কনফার্মড হয়ে গিয়েছে। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এমনভাবে কথাগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরছেন যে যদিও ভবিষ্যতের কথা। কিন্তু তাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এটা গ্যারান্টি দিয়ে ফেলেছেন যে এটা অবধারিত। কোনভাবেই এখান থেকে তাদের বের হবার কোন সুযোগ নেই।