📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 49: Ayah 41,42|| Allah Gave Us Transportation||

Straight Path13:21

Transcription

সূরা 41 নাম্বার আয়াত।

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।

"আয়াতুল্লাহ" তাদের জন্য একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তান সন্ততিকে বোঝায় নৌকায় আরোহণ করিয়েছি। তাহলে এখানে আমরা দেখি, এই আয়াতটা শুরু হয়েছে "আয়াতুল্লাহুম" দিয়ে। তাহলে আল্লাহ দুই সেট এক্সাম্পল আমাদের সামনে দিয়েছে, নিদর্শন আমাদের সামনে বর্ণনা করেছেন।

এখন থার্ড সেট নিদর্শন আল্লাহ সুবহানা তা'আলা উল্লেখ করতে যাচ্ছেন। আগের ভার্সগুলোতে আমরা দেখেছি, আল্লাহ যে ডিভাইন পাওয়ার এবং উইজডম এই পৃথিবী সৃষ্টি করার ব্যাপারে এবং আসমান এবং জমিন সৃষ্টি করার ব্যাপারে। তারপরে আমরা দেখেছি যে, আসমানে যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছে সেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। আর এখানে আল্লাহ আমাদেরকে জানাচ্ছেন, সমুদ্রের যে পরিবর্তনগুলো সেখানে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা নির্দেশ কিভাবে পালিত হচ্ছে আমরা সেটাও দেখতে পাই। এবং এখানে যে উদাহরণটা দেওয়া হয়েছে সেটা হচ্ছে যে, এই সমুদ্রের বুকে যখন বা পানির বুকে যখন নৌকা আরোহণ করা হয়েছে তাদের সন্তান সন্ততিকে।

এখানে "ওয়া হামালনা জুরুরিয়াতাহুম" বলা হয়েছে। "জুরিয়া" শব্দের অর্থ হচ্ছে অফস্প্রিং। সন্তান বুঝানোর জন্য অথবা জেনারেশন বুঝানোর জন্য বুঝানো হয়ে থাকে। একদিকে এটা হচ্ছে পরবর্তী জেনারেশন বুঝানোর জন্য যেমন ব্যবহৃত হয়, এরাবিকে "জুরিয়া" শব্দটা ব্যবহার হয় তাদের আনসেস্টার বুঝানোর জন্য যে তাদের পূর্বে যারা এসেছিল তাদেরকে বুঝানোর জন্য। ম্যাক্সিমাম তাফসীরকারগণ বলেছেন যে, এইখানে "জুরিয়া" বলতে আমাদের যে পূর্বপুরুষ যারা ছিল তাদের কথা এখানে বলা হয়েছে।

সো আল্লাহ এখানে বলছেন যে, আরেকটা নিদর্শন তাদের জন্য আল্লাহ শক্তির সেটা হচ্ছে যে, আল্লাহ এই সাগরকে আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন যেন সেখানে আমরা নৌকা বা জাহাজ চালাতে পারি। সো এখানে মোস্ট সিগনিফিকেন্টলি যেই যাদের কথা যে কথা বলা হয়েছে ইতিহাসের ভিত্তিতে সেটা হচ্ছে নূহ আলাইহিস সালামের কথা বলা হয়েছে। যেখানে আমরা জানি যে, শেষ পর্যন্ত যখন নূহ আলাইহিস সালাম দাওয়াত দিতে দিতে তারা খুব মুষ্টিমে কয়েকজন মানুষ শুধুমাত্র তার অনুসরণ করল, তখন আল্লাহ সুবহানা তা'আলা তাকে একটা জাহাজ বানানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেটাই পৃথিবীর প্রথম জাহাজ যেটা বানানো হয়েছিল এবং সেখানে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা নূহ আলাইহিস সালাম নির্দেশ দিলেন যারা হচ্ছে ঈমান এনেছিল তাদেরকে এবং তার সাথে সাথে হচ্ছে প্রত্যেক প্রজাতি থেকে এনিমেল, বার্ডস সবকিছু থেকে একজোড়া করে প্রাণী সেখানে উঠানোর জন্য।

সো সেখান থেকে আমরা জানি যে, যখন নূহ আলাইহিস সালামের সময়ে মহাপ্লাবন হলো, সেই নৌকায় যারা ছিল তারাই শুধু জীবিত ছিল। আর বাকি সবাই আসলে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে পৃথিবী থেকে। সো নূহ আলাইহিস সালামের সেই যারা তখন পর্যন্ত বেঁচে ছিল নৌকায় ছিল তাদের থেকেই হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্ম এসেছে এবং সেখান থেকেই আসলে আমাদেরও জন্ম। তাহলে এখান থেকে এই যে নিদর্শনের কথা বলা হয়েছে সেই পূর্বপুরুষদের কথা বলা হয়েছে যাদের থেকে আজকে এই পুরো পৃথিবীতে মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে।

সো এখানে আমরা দেখি বলা হচ্ছে যে, "ফিল ফুলকি মাশহুন"। সো "ফালাক" শব্দটা আমরা আগেও দেখেছি। সেখান থেকে "ফুলক" শব্দটার অর্থ হচ্ছে জাহাজ বুঝানো হয়ে থাকে। আর "মাশহুন" শব্দটার অর্থ হচ্ছে কোন কিছু দিয়ে ভর্তি করে নেওয়া। তাহলে এখানে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানা তা'আলা এই "মাশহুন" শব্দটা বলে যেটা এসেছে "শাহানা" অর্থ থেকে যেটা অর্থ হচ্ছে কোন কিছুকে কোন কিছু দিয়ে ভর্তি করা। যেমন একটা নৌকায় যখন জিনিস উঠানো হয় কমপ্লিট ক্যাপাসিটি অনুযায়ী যখন এটাকে ফুল করা হয় পরিপূর্ণ করে দেওয়া হয় তখন সেটাকে "শাহানা" বলা হয়ে থাকে। এটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার পক্ষ থেকে একটা মিরাকুলাস সাইন যে তিনি এই মহাপ্লাবনের সময় এই জাহাজটা বানানোর শিক্ষা নূহ আলাইহি সালামকে দিয়েছিলেন এবং সেই জাহাজ বুঝ হয়েছিল তখনকার যে জীবিত যারা ছিল যারা আল্লাহর অনুগত ছিল তাদেরকে দিয়ে।

তো প্রথমে আমরা দেখি আল্লাহ এখানে যেই তিন সেট নিদর্শন আমাদেরকে দিয়েছেন। প্রথমে আল্লাহ বলছেন যে, তুমি নিচের দিকে তাকাও। মাটির দিকে তাকাও এবং মাটির দিকে তাকিয়ে দেখো একটা মৃত মাটিকে বৃষ্টির দিয়ে কিভাবে আমি জীবিত করছি এবং সেখান থেকে ফল ফুল তোমাদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস আমি সাপ্লাই দিচ্ছি। তারপরে তিনি বললেন, তোমরা আকাশের দিকে তাকাও। আকাশের দিকে তাকালে আমরা চাঁদ সূর্য দেখতে পাচ্ছি। দিন এবং রাতের পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি এবং সেটা দেখে তোমরা দেখো যে কোন সুপারপাওয়ার এটাকে কন্ট্রোল করছে। তারপরে তিনি বলছেন যে, এখন তোমরা পানির দিকে তাকাও এবং সে পানির দিকে তাকিয়ে তোমরা দেখো যে কিভাবে সে পানিকে তোমাদের অনুগত করে দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই পৃথিবীর চারদিকে যেদিকে আমরা তাকাই না কেন সমস্ত কিছুকে আমাদের জন্য নিয়ামতময় করে দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে যেন আমাদের জীবনটা সহজ হয়। আমরা সুযোগ পাই। এই যে ট্রান্সপোর্টেশনের সুযোগ আল্লাহ সুবহানা তা'আলা আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। এটা যদি না থাকতো তাহলে ট্রাভেলিং আমাদের জন্য কত কঠিন হতো। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া কত কঠিন হতো। আল্লাহ সুবহানা তা'আলা সেই পারমিশন আমাদের জন্য দিয়েছেন এবং এটাও তার পক্ষ থেকে একটা মার্ভেলাস সাইন আমাদের জন্য।

এবং এই ব্যাপারে আমরা দেখি যে, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন যে, এই যে "মাশহুন" বলা হয়েছে এর অর্থ হচ্ছে এটা পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়া। এবং আদদাহা কাতাদা রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে, এটা হচ্ছে নূহ আলাইহিস সালামের যে জাহাজ ছিল সেই জাহাজের কথা এখানে বুঝানো হয়েছে। সো এখানে ম্যাক্সিমাম তাফসীর মতে দুইটা অভিমত বুঝা যায়। মেজরিটি অফ লাইক মুফাসসিরন যেটা বলেছেন এটা হচ্ছে নূহ আলাইহিস সালামের যে নৌকা আর্ক অফ নুহা সেটা বুঝানোর জন্যই হচ্ছে বলা হয়েছে। এবং এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেম টাইপের একটা আয়াত কোরআনে বলেছেন যেটা হচ্ছে আমরা দেখতে পাই সূরা আশুয়ারায় 119 নম্বর আয়াতে যে, "অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গীগণকে বুঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম"। এবং সেখানে এটা নূহ আলাইহিস সালামের কথাই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ সুবহানা তা'আলা তাদেরকে সে জাহাজের মাধ্যমে সে মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা করেছিলেন। সেই উদাহরণটা এখানে দেওয়া হচ্ছে।

আর মাইনরিটি মুফাসসিন যারা তারা বলেছেন যে, আল্লাহ এখানে ইন জেনারেল জাহাজের মাধ্যমে আমরা যে ট্রাভেল করে থাকি সেটাকে বুঝানো হয়েছে। দুইটা অর্থই সঠিক হতে পারে বা এর মধ্যে যেকোন একটাও হতে পারে। আল্লাহ ভালো জানেন।

সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালার যে গ্রেট পাওয়ার এবং এবিলিটি সেটার আরেকটি উদাহরণ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে এনেছেন জাহাজ বা নৌকার মাধ্যমে এবং নূহ আলাইহিস সালামকে তিনি এটা দিয়ে নেয়ামত পূর্ণ করেছিলেন তার ব্লেসিং এবং তার অনুসারীদের জন্য দিয়েছিলেন এবং আজ পর্যন্ত আমরা কিন্তু সেটার সুবিধা ভোগ করছি এবং এর মাধ্যমে আমরা আসলে চিন্তা করতে বাধ্য হই যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কিভাবে আমাদেরকে এত সুন্দর নেয়ামতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমরা যদি চিন্তা করি আমরা যখন একটা নৌকায় উঠি অথবা একটা জাহাজে উঠি সেই জাহাজের মধ্যে কত টন ওজন সে জাহাজের নিজের ওজন এবং তার মধ্যে জিনিসপত্র উঠানোর ফলে কত টন ওজন নিয়ে সে জাহাজটা ভেসে যাচ্ছে পানির বুকে এটা কিভাবে সম্ভব হচ্ছে। আমরা আর্কিমিডিসের সূত্র অনুযায়ী সেটাকে সাইন্টিফিকালি এনালাইসিস করতে পারি কিন্তু এই ক্ষমতাটা কে তৈরি করে দিয়েছে সেটা যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে দেখবো যে এই পানির বুকে কোন কিছুকে ভাসানোর যে ব্যবস্থা সেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা করে দিয়েছেন এবং আমরা দেখি যে ম্যাক্সিমাম সময় তারা ভেসে যাচ্ছে যে কোন ধরনের ইনসিডেন্টস বা অকারেন্স ছাড়া।

তো এই যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এত বড় একটা সুযোগ দিয়েছেন এবং এটা আমাদের আমাদের করায়ত্ব করে দিয়েছেন আমাদেরকে এই ক্ষমতাটুকু দিয়েছেন সেগুলো করার জন্য এটাও হচ্ছে আল্লাহর নিজস্ব একটা শক্তি যা তিনি আমাদেরকে দেখাচ্ছেন।

42 নাম্বার আয়াতে সেটাকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে, "ওয়া খালাকনালাহু মিছলিহি ইয়্যারকাবুন"। এবং তাদের জন্য নৌকার অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি যাতে তারা আরোহণ করে। তাহলে সমুদ্রের যে নৌকা বা জাহাজ রয়েছে সেটা যেমন আমাদের জন্য একটা মিরাকুলাস দিক যে কিভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এটা সম্ভব করে দিয়েছেন আমাদের জন্য তার সাথে সাথে আল্লাহ বলছেন যে, আমি মানুষের জন্য শুধুমাত্র যে সমুদ্রে নৌকা চালাবে জাহাজ চালাবে সেটার ব্যবস্থা করেছি সেটা না তার সাথে সাথে অন্যান্য বাহকের ব্যবস্থাও আমি করে দিয়েছি।

সো এখান থেকে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালার যে আমাদের ট্রান্সপোর্টেশনের জন্য যে বিরাট একটা সুযোগ করে দিয়েছেন আমাদের করায়ত্ব করে দিয়েছেন সেটার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই যে "মায়ারকাবুন" "ইয়ারকাবুন" হচ্ছে "রকাবা" থেকে এসেছে যার অর্থ হচ্ছে রাইড করা চালানো। এখানে নূহ আলাইহি সালামের মাধ্যমে প্রথম সেই ট্রান্সপোর্টেশন শুরু হয়েছে এবং আজকে আমরা দেখি মানুষ তার জ্ঞান এবং যোগ্যতা দিয়ে একটার পর একটা নতুন জিনিস তৈরি করে করছে এবং সেগুলো নিজের সুবিধার জন্য কাজে লাগাচ্ছে কিন্তু এই যে যোগ্যতা সেটা তাকে কে দিয়েছে সেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়েছেন।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেছেন যে, এখানে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, তুমি কি জানো এই আয়াতটার অর্থ কি? "ওয়া খালাকনালাহু মিছলিহি ইয়্যারকাবুন"। তখন তিনি আমরা বললাম যে, না জানিনা। তখন তিনি বললেন যে, এটা বুঝানো হয়েছে জাহাজের জন্য যেটা আমরা নূহ আলাইহি সালামের জাহাজের পরে বানিয়েছি এবং সেটার মতই সিমিলার। তাহলে এখানে নূহ আলাইহি সালামের রেফারেন্সটা এখানে আসছে যে এর মাধ্যমে প্রত্যেকটা শিপকে বা জাহাজকে বুঝানো হচ্ছে।

আবার আমরা দেখি যে, ইবনে আব্বাস থেকে আরেকটা বর্ণনা আসছে যে, এই যে এখানে অন্যান্য যানবাহনের কথা বা ট্রান্সপোর্টেশনের কথা বলা হয়েছে। তো তিনি বলছেন যে, এটার মানে হচ্ছে উট। কারণ এটাকে হচ্ছে যে স্থলভূমির জাহাজ বলা হয়ে থাকে অথবা মরুভূমির জাহাজ বলা হয়ে থাকে। উটকে কারণ উটের মাধ্যমেই হচ্ছে তারা বিভিন্ন জিনিস আনা নেওয়া করত এবং সেটাতেই তারা চড়তো।

তাহলে এই আয়াতের বলা হয়েছে যে দুইটা অর্থ মূলত আমরা মূলত তিনটা অর্থ বলা যায় যে এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা "মিছলিহি" যেটার মতই অন্যান্য ট্রান্সপোর্টেশনের যে ব্যবস্থা করেছেন। একটা হচ্ছে যে এখানে পানিতেই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা অন্যান্য বাহনের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। শুধু নৌকার কথা না অন্য জিনিস ওখানে ইনক্লুডেড হতে পারে। সেকেন্ড যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে অন্য যেই ধরনের ট্রান্সপোর্টেশন রয়েছে গাড়ি বলি আমরা উড়োজাহাজ বলি বাইক বলি যাই বলি না কেন এ সমস্ত কিছুই এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আরেকটা হচ্ছে উটের কথা বলা হতে পারে যেটা হচ্ছে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়ে থাকে।

এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেই ট্রান্সপোর্টেশনগুলোর এক্সাম্পল আমাদের সামনে দিয়েছেন যে এগুলো করা আমরা জানি এগুলো মানুষ তার বুদ্ধি দিয়ে তৈরি করছে কিন্তু এগুলো করার যে ক্ষমতা বা যে বুদ্ধি বা যে ক্রিয়েটিভিটি যে ট্যালেন্ট সে ট্যালেন্টটা কোত থেকে এসেছে সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে। কে এটা সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি হচ্ছেন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা।

সূরা যুখ যুখরুফে বলা হয়েছে, "এবং যিনি সবকিছু যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং নৌকা ও চতুষ্পদ জন্তুকে তোমাদের জন্য যানবাহনে পরিণত করেছেন যাতে তোমরা তাদের পিঠের উপর আরোহণ করো অথবা তোমাদের পালনকর্তার নেয়ামত স্মরণ করো এবং বল, পবিত্র তিনি যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন এবং আমরা এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না।"

এই যে শেষের অংশটুকু যে কথাটুকু বলা হয়েছে সেই জিনিসটা কিন্তু আমরা অনেকেই জানি যে গাড়িতে চড়ার জন্য বা যানবাহনে চড়ার জন্য যে দোয়াটা আমরা বলি সেটা এসেছে এখান থেকে যে, "সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা ওয়ামা কুনালাহু মুকরিন"। তাহলে এই আয়াত থেকে আমরা গাড়িতে পড়ার যে দোয়া সেটা যানবাহনে পড়ার যে দোয়া সেটা আমরা এখান থেকে শিখছি এবং এটা আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত যে আল্লাহকে আমরা কি বলছি যে আল্লাহ আমাদেরকে কে এগুলোকে কন্ট্রোল করার শক্তি দিয়েছেন। না হলে আমরা কখনোই এই জিনিসটা করতে পারতাম না।

তো আল্লাহ সুবহানা তা'আলার এই নেয়ামত আবার আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে প্রতিনিয়ত এখন আমরা হচ্ছে এই ট্রান্সপোর্টেশন ব্যবহার করছি কাছের হোক দূরের হোক যেকোন দূরত্ব যাওয়ার জন্য এবং যখনই আমরা এই যানবাহনগুলো ব্যবহার করি তখনই আমাদের আসলে চিন্তা করা উচিত যে আল্লাহ কিভাবে এগুলো আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন যে আল্লাহর নেয়ামত ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব হতো না।

সো প্রতি মুহূর্তে আমরা যখন এই বিষয়গুলোর উপরে রিফ্লেক্ট করব তত বেশি আল্লাহকে আমরা ভালো করে বুঝতে পারব এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার জন্য আমরা চেষ্টা করতে পারব এবং এইভাবেই যখন আমরা প্রতিনিয়ত এই আল্লাহর সৃষ্টি এবং আল্লাহর সৃষ্টি কৌশল দেখে রিফ্লেক্ট করব চিন্তা করব তত বেশি আল্লাহকে চেনা আমাদের জন্য সহজ হবে এবং তত বেশি আমরা আখিরাতের কথা মনে করতে পারব যে একদিন তার কাছে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে এবং সেটার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে।