📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 51: Ayah 45|| Be Aware of Actions & Consequences ||

Straight Path17:47

Transcription

সূরা 45, 45 নাম্বার আয়াত। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।

"তোমরা তোমাদের সামনের আযাব ও পিছনের আযাবকে ভয় করো, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়।" তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে এর আগের আয়াতগুলোতে তার যে অপরিসীম শক্তি, ক্ষমতা এবং সামর্থ্য রয়েছে সেটা দেখিয়ে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন, তার যে রহমত বা দয়া মানুষের জন্য সে কথাগুলো বর্ণনা করেছেন 44 নাম্বার আয়াত পর্যন্ত। 45 এবং 46 নাম্বার আয়াতে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সে অবিশ্বাসীদের কথা এখানে উল্লেখ করছেন যে তারা হচ্ছে সত্যের প্রতি অন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং সত্যকে এত সুস্পষ্টভাবে তাদের চোখের সামনে দেখার পরেও তারা কিভাবে যেই হেদায়েত আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়েছেন, যে ঈমানের আহ্বান তিনি করছেন সেটার বিরোধিতা করছে এবং তাদেরকে সতর্ক করে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন, "যখন তাদেরকে বলা হয়..."।

"লা" শব্দটি মানে হচ্ছে এটা হচ্ছে প্যাসিভ ফর্মে বলা হয়েছে। তাদের কাছে যখন এই কথাটা বলা হয়। তো এখানে আমরা দেখি এই লোকগুলো, এই অবিশ্বাসী লোকদের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের চারপাশে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিদর্শন রেখে দিয়েছেন। এমন কেউ নেই যে এই নিদর্শনগুলো দেখবে না। যেগুলোর কথা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা উল্লেখ করেছেন এবং তাদের কাছে সেগুলো আল্লাহ সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরছেন। তারপরে তিনি বলছেন যে এগুলো নিয়ে তোমরা চিন্তা করো। চিন্তা করলে দেখবে যে যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তার আনুগত্যের দিকেই তোমরা চলে আসবে। সো এরপরও দেখা যায় যে এই লোকগুলো হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ অপমান্য করছে।

সো এটা যে শুধুমাত্র অবিশ্বাসীরাই করছে তাই না, দেখা যায় আমরাও অনেক সময় চোখ থেকে অন্ধের মত কাজ করে থাকি যে আমাদের চোখ চারপাশে এত নিদর্শন থাকার পরেও আল্লাহকে যেভাবে বিশ্বাস করার কথা, আল্লাহর কথা যেভাবে অনুসরণ করার কথা সেটা আমরা করি না। সো আমাদের চারপাশে যা কিছু রয়েছে প্রত্যেকটা সৃষ্টি হচ্ছে আল্লাহর একত্ববাদ, আল্লাহর শক্তি, আল্লাহর যে বিরাটত্ব সেটাকে প্রকাশ করছে।

তা আল্লাহ এখানে বলছেন যে তাদেরকে বলা হলো। আসলে কথাটা হচ্ছে এরকম যে তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হলো এবং এখানে এই যে আল্লাহ বলছেন যে তাদেরকে প্যাসিভ ফর্মে তাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে যে তাদের কাছে এটা বলা হলো। তো সেটার উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা যে আল্লাহ এখানে কে কথাটা বলছে সেটা কিন্তু উল্লেখ করছেন না, বরং সেটাকে অনির্দিষ্ট রেখে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দুইটা জিনিস প্রকাশ পায়। একটা হচ্ছে যে আল্লাহ যেই নিদর্শনের কথা এখানে বলছেন সেই নিদর্শনের ব্যাপারে কে এই কথাগুলো বলছে সেটা ইম্পর্টেন্ট না, বরং এখানে ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে কাদের উদ্দেশ্যে এ কথাগুলো বলা হচ্ছে তারা যাতে তাদের প্রতি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছেন যে তারা যাতে এই কথাগুলো খেয়াল করে। এদেরকে বলা হয়েছে যে তোমরা তোমাদের চারপাশে তাকাও। দেখে চিন্তা করো। চিন্তা করে তোমরা বলো যে তোমরা যে কাজগুলো করছো এটা সঠিক কিনা। সো তোমরা তোমাদের নিজস্ব সিচুয়েশনটা বুঝার জন্য চেষ্টা করো। এই লোকদের উপরে এখানে ফোকাসটা করা হয়েছে যে তারা যাতে এই জিনিসটা বুঝতে পারে যে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে এ কথাগুলো বলা হয়েছে।

আর সেকেন্ড যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই ভাবে কথা বলার মাধ্যমে আল্লাহ এখানে ডিফারেন্ট এঙ্গেলে, ডিফারেন্ট ভাবে তাদের সাথে কথা বলছেন। যাতে দেখা যায় যে আমরা যদি একই স্বরে একইভাবে কথা বলতে থাকি মানুষ মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। তো আল্লাহ বিভিন্ন টোন ইউজ করেন যাতে হচ্ছে আল্লাহর এই টোন চেঞ্জ হওয়ার কারণেই সেটা তাদের মনের মধ্যে বা তাদের ব্রেনের মধ্যে জিনিসটা নাড়া দেয় এবং তারা সেটা নিয়ে চিন্তা করতে শিখে। সো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তাদের সম্পর্কে এখানে বলছেন বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন যাতে হচ্ছে তারা এ কথাগুলোর উপরে গুরুত্ব দেয় এবং কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

তো বলা হচ্ছে তাদেরকে কি বলা হলো? "ইত্তাকু"। "ইত্তাকু" মানে হচ্ছে যে আমরা বলি যে তাকওয়া অর্জন করো। আর তাকওয়ার কথা যখন বলা হয় আমরা সাধারণভাবে এটার অর্থ করে থাকি আল্লাহকে ভয় করো। আসলে তাকওয়া বলতে কি বুঝানো হয়ে থাকে? তাকওয়া বলতে বুঝানো হয়ে থাকে যে শুধু আল্লাহকে ভয় করা না বরং প্রতিটা সময়ে আল্লাহর ব্যাপারে সচেতন থাকা যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমার সাথে আছেন। আল্লাহ সুবহানা তায়ালা দেখছেন। আমি যা করছি সমস্ত কিছুই আল্লাহ সুবহানা তাআালার কাছে রেকর্ডেড হয়ে যাচ্ছে। এই জিনিসগুলোর ব্যাপারে আমরা যখন সচেতন হব তখন সেটাকে হচ্ছে তাকওয়া বলা হয়ে থাকে। এবং তাকওয়া শুধু সচেতন হয়ে বসে থাকা না বরং সচেতন হওয়ার সাথে সাথে এটার যে সাধারণ রেসপন্স যে নিজেকে রক্ষা করা সে রক্ষা করার কাজটা এখানে বুঝায় যে নিজেকে গার্ড করা নিজেকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যে আমি আল্লাহকে ভয় করি আল্লাহকে ভয় করে সেটার জন্য যে কাজগুলো করছি সেটাই হচ্ছে তাকওয়ার মধ্যে পড়ে।

স আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলছেন যে তোমরা ভয় করো। তো এই ভয় করার মাধ্যমে আসলে প্রতিটা মুহূর্তে আমাদেরকে এলার্ট, আমাদেরকে কনশাস হওয়ার ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে তোমরা চিন্তা করো এখন তোমরা যে কথাটা বলছো যে কাজটা করছো অথবা যে কথা চিন্তা করছো সেই ব্যাপারে আল্লাহ জানেন এবং সেই আল্লাহর আল্লাহর রাগ হওয়া বা আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার জন্য তোমরা নিজেদেরকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করো। তাহলেই হচ্ছে যে প্রতিনিয়ত তোমরা এটার উপরে যেভাবে কাজ করবা সেটাই হচ্ছে তাকওয়া।

স এখানে বলা হচ্ছে যে তোমরা ভয় করো কিকে? কোন জিনিসকে বলছে? "মা বাইনা আইদিকুম" যেটা তোমাদের সামনে রয়েছে এবং "ওয়ামাখালফাকুম" যেটা তোমাদের পিছনে রয়েছে। স আল্লাহ এখানে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে তোমাদের সামনে প্রচুর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। তোমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের নিদর্শন আমি তোমাদের সামনে দিয়েছি। কিন্তু তারপরও তোমরা গাফেল হয়ে রয়েছো। স এখন তোমাদের জন্য যেটা নির্দেশ সেটা হচ্ছে যে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো সেই ব্যাপারে যেটা তোমরা আগে করেছ এবং তোমাদের পিছনে যা রয়েছে।

স আমরা যদি আসলে সময় নিয়ে চিন্তা করি তাহলে দেখব যে মানুষ প্রতিনিয়ত তার চিন্তা করা উচিত সচেতন থাকা উচিত যে সে অতীতে কি করেছে এবং সেটার যে কনসিকুয়েন্স ভবিষ্যতে আসবে। আমি যে কাজটাই করি না কেন সেটার একটা ফলাফল অবশ্যই থাকবে এবং ভবিষ্যতে সেটার যে ফলাফল আমার জন্য নির্ধারিত রয়েছে সে ব্যাপারে আমাদেরকে সচেতন থাকা উচিত। বর্তমান জিনিসটা কি? বর্তমান জিনিসটা আসলে একটা চলমান সময়। এই যে একটা মিনিট গেল একটা মিনিট যাওয়ার পরে সেই মিনিটটাই আবার অতীতে পর্যবেশিত হয়ে গেল। সো ভবিষ্যৎ হচ্ছে আমাদের সামনের দিকটা। সো আমার অতীতে আমি যা কিছু করেছি সেটা নিয়ে আমাকে যেমন সচেতন হতে হবে। ভবিষ্যতে আমার জন্য যে ফলাফল আসছে সেটাও আমার সেই ব্যাপারেও আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।

স এইখানে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ রহমতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে এখানে মানুষের যে গুনাহ করেছে সে গুনাহর কথা বলা হতে পারে। আবার সেটার অপোজিটও হতে পারে যে সে যে ভালো কাজ করেছে আগে এবং ভালো কাজ করবে সামনে সেটার কথাও হতে পারে। তো মূলত গুনাহর কথাই বুঝা যায় যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সে ব্যাপারে তাদেরকে সচেতন হতে বলেছেন।

আবার এই আয়াতে ব্যাখ্যা করতে যেয়ে আমরা দেখি যে কাতাদা রহমাতুল্লাহ আলাইহি তিনি বলেছেন যে তোমাদের সামনে বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে যে তোমরা সেই শাস্তিগুলোকে ভয় করো। যেগুলো তোমাদের আগের জাতি করেছিল যে অন্যায়গুলো সেগুলোর ব্যাপারে যে শাস্তি সেগুলোর ব্যাপারে তোমরা ভয় করো এবং পিছনের যে কথা বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে তোমরা আখিরাতের ব্যাপার আখিরাতকে ভয় করো।

আবার আমরা যদি অন্যান্য তাফসীকারকের বর্ণনা দেখি তাহলে দেখব আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহুর বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে যে সামনের যে কাজের ব্যাপারে সতর্ক হতে বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে যে তোমরা যে গুনাহ করেছ অতীতে সেটার ব্যাপারে এবং পিছনের যেটা বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে যে তোমরা যে গুনাহ করেছ সেটার যে ফলাফল তোমাদের জন্য ভবিষ্যতে রয়েছে সেটার কথা এখানে বলা হয়েছে।

হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে সামনের যে কাজের কথা বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে যে যার তার আমলনামায় যে গুনাহ লিখা হয়েছে সেটা আর পিছনে যেটা সেটা হচ্ছে যে যেটা তার যে গুনাহগুলো তার সাথে এখনো রয়ে গিয়েছে।

আবার কেউ কেউ বলেছেন যে সামনের যে কাজটা বোঝানো হয়েছে সেটা হচ্ছে যে তাদের এই দুনিয়াতে তাদের জন্য যে শাস্তি চলে এসেছে সেটা আর পিছনে বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আখিরাতে তাদের জন্য যে শাস্তি নির্ধারিত করে দেওয়া হচ্ছে দেওয়া হয়েছে।

আবার কেউ কেউ এটাও বলেছেন যে সামনের বলতে বুঝানো হয়েছে যে যেই আখেরাতে যেই ঘটনা বা তার জন্য যে কনসিকুয়েন্স রয়েছে অবিশ্বাসীদের জন্য তারা দুনিয়াতে যা কিছু করেছে সেটার যে ফলাফল রয়েছে এবং পিছনে যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে যে এই দুনিয়াতে তাদের যে সচেতন হওয়ার কথা ছিল এবং যে জিনিসগুলো তাদের করা উচিত ছিল না সেগুলোর কথা বলা হয়েছে।

সো এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেই শব্দ ব্যবহার করেছেন সামনের এবং পিছনের বলে সেখানে আসলে অনেকগুলো মিনিং আসে এবং সবগুলো মিনিং এখানে এপ্রোপ্রিয়েট হতে পারে এবং এক্ষেত্রে আমরা দেখি যে যে অর্থগুলো বুঝানো হতে পারে যেমন সামনে তোমাদের সামনে যা পাঠানো হয়েছে বা সামনে যে রয়েছে সেই জিনিসের ব্যাপারে সচেতন হও। সেখানে একটা হচ্ছে যে আমরা যে কাজগুলো করে থাকি সেগুলোর যে ফলাফল যে একটা কাজ করলাম সে কাজটা কিন্তু এখানে শেষ হলো না সে কাজের নিজস্ব ফলাফল রয়েছে এবং সে কাজের কারণে আরো কিছু কাজ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেগুলোর ফলাফলও রয়েছে সেটা যেমন বুঝানো হয়ে থাকে তেমনিভাবে পিছনে মানে হচ্ছে যে কাজগুলো অলরেডি করা হয়ে গিয়েছে আবার "মা বাইনা আইডিকুম" বলতে আখিরাতের জন্য যে শাস্তি বা যে ফলাফল নির্ধারিত রয়েছে সেটা হতে পারে। "মা খালফাকুম" বলতে বুঝানো হতে পারে দুনিয়াতে যে শাস্তি দেওয়া হয়ে গিয়েছে এবং দুনিয়াতে যে কাজগুলো করেছে সেগুলোর কথা এবং "মা বাইনা আইদিকুম" বলতে আরো বলা হয়েছে যে যেগুলো হচ্ছে সামনে তোমার জন্য যে সম্ভাবনা রয়েছে বা যে কাজগুলো হতে পারে সেগুলোর কথা বুঝানো হয়েছে এবং "মাখালকফাকুম" বলতে বুঝানো হয়েছে তোমার আগের যারা এসেছিল তাদের জন্য যা সংগঠিত হয়েছিল সেটা।

সো এখানে আমরা দেখি যে আরেকটা একটা অর্থ তাফসীকারগণ বলেছেন সেটা হচ্ছে যে সূরা সাবা এবং সূরা ফাতির যেই সূরাগুলো হচ্ছে এই সূরা ইয়াসিনের কথা যেই কথাগুলো বলা হয়েছে বা যে মেসেজগুলো দেওয়া হয়েছে সে মেসেজগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটার সাথে একটা রিলেশন দেখেছেন তাফসীরকারকগণ যেমন সূরা ফাতির এবং সূরা সাবা দুইটাই শুরু হয়েছে "আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি" দিয়ে তারপরে আমরা দেখি যে সূরা ইয়াসিনটা হচ্ছে মিডেল মিডলে রয়েছে এবং তারপরে হচ্ছে সূরা সাদ এবং সাফফাত যেগুলো হচ্ছে সেম থিম নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

সো এখানে আমরা দেখি যে ইয়াসিনটা এই সবগুলো সূরার মধ্যে একটা সেন্টার পিস হিসেবে কাজ করে। যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেন তাদেরকে বলছেন যে এই সূরার আগে যা আছে সেটার প্রতি তোমরা খেয়াল কর। সূরার পরে যা আছে সেটার প্রতি তোমরা খেয়াল করো। সো তাহলে তোমরা হচ্ছে এই সবগুলো শিক্ষাকে একসাথে মিলিয়ে তোমরা বুঝতে পারবে যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা কি বলেছেন। যেমন আমরা দেখি সূরা সাবাতে আল্লাহ বলেছেন, "তারা কি তাদের সামনের এবং পিছনের আকাশ এবং পৃথিবীর প্রতি লক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করলে তাদের সহভূমি ধষিয়ে দেব অথবা আকাশের কোন খন্ড তাদের উপর পতিত করব। আল্লাহ অভিমুখে প্রত্যেক বান্দার জন্য এটা অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।"

তাহলে এখানে আমরা দেখছি যে এই যে আল্লাহ সুবহানা তাআলা এখানেও বলেছেন সামনের এবং পিছনের পৃথিবী। তো এখানে আল্লাহ যে শাস্তি সেই শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এটার একটা ইন্টারপ্রিটেশন এরকম করা হয়েছে যে আল্লাহ সুবহানা তাআলার যে শাস্তি যেটা আকাশ থেকে আসতে পারতো অথবা তার পায়ের নিচ থেকে আসতে পারতো। তার বাম থেকে তার ডান থেকে। সো যেকোন জায়গা থেকে যেকোনো সময়ে আল্লাহর শাস্তি তাদের কাছে আসতে পারে। সো তোমাদের কাজ কি? তোমাদের কাজ হচ্ছে আল্লাহর অনুগত হওয়া, তার নির্দেশ মেনে নেওয়া এবং আল্লাহর দাসত্ব মেনে নিয়ে যে কাজগুলো করতে হবে সে কাজগুলোর উপরে মনোযোগ দেওয়া।

সো এটা এক ধরনের মিনিং হতে পারে এবং এর মাধ্যমে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই প্রত্যেকটা সূরার মধ্যেই যে পাশাপাশি অবস্থান করিয়ে যে মিনিংগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন সবকিছুর উপরে আমরা যদি মনোযোগ দেই রিফ্লেক্ট করি তাহলে কোরআনের এ কথাগুলোকে আমরা আরো সঠিকভাবে বুঝতে পারব এবং এই যে শেষের অংশটুকু আল্লাহ বলছেন এই আয়াতের মধ্যে "লাল্লাহুম তুরহামুন" যে সম্ভবত তোমরা তার রহমত পেতে পারবে। তোমরা যদি সচেতন হও সচেতন হয়ে সেটার জন্য যে প্রিভেন্টিভ মেজারস যেগুলো যেগুলো করা তোমাদের উচিত যে কাজগুলো থেকে তোমাদের দূরে সরা উচিত সেগুলো যদি করো তাহলে কি হবে?

"লাল্লাহুম" "লাল্লাহুম" এর অর্থ হচ্ছে যে মেবি হোপফুলি পসিবলি সম্ভবত এখানে একটা সম্ভাবনা রয়েছে এটা আশা করা হচ্ছে যে তোমরা তার রহমত পেতে পারবে যদি তারা সবসময় তাকওয়ার জীবন অবলম্বন করে। সবসময় আল্লাহর ব্যাপারে কনশাস থাকে। সবসময় নিজেকে আল্লাহর শাস্তির ভয়ে সে কাজগুলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তাহলে তোমরা আল্লাহর রহমত পেতেও পারো। এটা হচ্ছে এই কথাটার অর্থ।

সো আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে "তুরহামুন" বলেছেন। স তার মানে হচ্ছে এটা আসলে একবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তোমরা আল্লাহর এই রহমত পাওয়ার জন্য। এর আগের আয়াতে আল্লাহ বলছেন যে আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউই আসলে এই ধ্বংস থেকে বাঁচতে পারবে না। এবং এখানে আল্লাহ বলছেন যে তোমরা সেই রহমতটা পেতে পারবে যদি তোমরা এই তাকওয়ার পথ অবলম্বন করো যে আল্লাহর ব্যাপারে সবসময় সচেতন থাকো।

স আমরা যদি আসলে আমরা কি কাজ করছি সেটার ব্যাপারে আমরা সচেতন থাকি। আমরা জানি যে এই দুনিয়ার পরে আরেকটা আখিরাতের জীবন রয়েছে সে ব্যাপারে আমরা সচেতন থাকি এবং সেই ভয়টা মনে রেখে প্রতিনিয়ত আমরা কাজ করি তাহলে আমাদের কারো পক্ষেই আসলে আল্লাহর নির্দেশের বাইরে কাজ করা সম্ভব না। তো আল্লাহ বলছেন যে তোমরা এখানে প্রেজেন্ট টেন্সে এটাকে রেখে বলছেন যে তোমরা প্রতিনিয়ত এটার জন্য চেষ্টা করতে থাকো তোমাদেরকে রক্ষা করার জন্য এবং যদি তোমরা সেটা করো তাহলে আল্লাহর রহমত তোমরা পাবে।

সো আমরা জানি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে তোমরা তোমাদের কাজ দিয়ে কখনো জান্নাতে যেতে পারবে না। সে জান্নাতে যাওয়াটা পুরোপুরিভাবেই নির্ভর করে হচ্ছে আল্লাহর রহমতের উপরে। সো আল্লাহ আমাদেরকে এই জিনিসগুলো জানিয়ে দিয়েছেন বারবার সতর্ক করেছেন যাতে হচ্ছে আমরা সচেতন হতে পারি এবং সচেতন হয়ে আমাদের এই জীবনটাকে আমরা এমনভাবে কাজে লাগাতে পারি যেন পরবর্তীতে যে জীবনটা আসছে সেই জীবনে যেয়ে আমাদেরকে হতাশ হতে না হয়। আমাদেরকে আফসোস করতে না হয়।

সূরা ইসরাতে আল্লাহ বলেছেন, "হয়তো তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রুপ করো, আমিও পুনরায় তাই করব। আমি জাহান্নামকে কাফেরদের জন্য কয়েতখানা করেছি।" অর্থাৎ আমাদেরকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতে হবে। যদি আমরা ভুল করে আবার ভুল পথে চলে যাই তাহলে আমাদের জন্য আবারও আল্লাহ সেই শাস্তি রেখে দিয়ে রেখে দিয়েছেন। সো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এই যে বারবার আমাদেরকে রিমাইন্ডার দেওয়া বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে আল্লাহ আমাদেরকে অনুগ্রহ করবেন কিন্তু সে অনুগ্রহটা আমাদেরকে খুঁজে নিতে হবে এবং সেটার জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে।

সো আমরা যখনই চেষ্টা করবো যখনই তার কাছে ফিরে আসবো তখনই তার সেই রহমতের ছায়ায় আমরা আশ্রয় নিতে পারব। বুখারী শরীফ এবং মুসলিম শরীফে হাদিসে বলা হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম বলেছেন যে তোমরা সঠিক পথ অবলম্বন করো। আত্মসমর্পণ করো আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে এবং তাদের জন্য সুসংবাদ। সে সুসং সরি অন্যকে সুসংবাদ দান করো। অর্থাৎ অন্যদেরকে সঠিক পথে সন্ধান দাও। তোমাদের কেউই হচ্ছে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না শুধুমাত্র তোমাদের কাজ দিয়ে। তখন সাহাবারা জিজ্ঞাসা করল আপনিও হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম তিনি বললেন হ্যাঁ আমিও যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ আমার জন্য রহমত রহমত করেন এবং আল্লাহর কাছে হচ্ছে সেই সবচেয়ে প্রিয় সেই কাজটাই সবচেয়ে প্রিয় যে যেটা হচ্ছে রেগুলারলি করা হয় যদিও ছোট পরিমাণ বা অল্প পরিমাণে।

তো সুবহানাল্লাহ আমরা যখন ডিভোটেড হই বা আল্লাহর ব্যাপারে সচেতন হই আমরা মনে করি যে অনেক অনেক কিছু করতে হবে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানা তায়ালা দেখেন যে আমরা অল্প কিছু করি রেগুলারলি করি আন্তরিকতার সাথে করি তার রহমতের আশায় করি তাহলে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে তার রহমতের চাদরের নিচে আশ্রয় দিবেন।