Transcription
সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এই কয়েকটি আয়াতের মধ্যে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন তার যে অফুরন্ত নেয়ামত আমরা প্রতিনিয়ত উপভোগ করছি সে নেয়ামতগুলোর কথা তিনি বলেছেন। কিভাবে শুকন মাটিতে তিনি শস্য জন্ম দান করেন, কিভাবে সেখানে তিনি ফসল ফলান, কিভাবে সেখান থেকে ফল উৎপাদন হয় এবং এ সমস্ত কিছুই হচ্ছে আমাদের জন্য এবং আমরা এগুলো খেয়েই বেঁচে আছি।
যেই হচ্ছে কারো কাছ থেকে কোন উপকার পায় স্বাভাবিকভাবেই তার মনটা কৃতজ্ঞতায় ভরে যায়। তখন সে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য, তার সন্তুষ্টির জন্য কিছু করার জন্য তখন সে লেগে যায়। কিন্তু আমরা যদি আমাদের দিকে তাকাই মানুষের দিকে তাহলে আমরা দেখব যে আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে সেই রবের অসংখ্য নেয়ামত উপভোগ করার পরেও কতটুকু কৃতজ্ঞতা আমরা আদায় করি। কতটুকু আমরা তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য চেষ্টা করি। কতটুকু আমরা তার নির্দেশমত কাজ করে থাকি।
আল্লাহ সুবহানাতালা 35 নাম্বার আয়াত শেষ করেছেন এ কথা বলে, "আফালাইয়াশকুন" যে এটা কিভাবে সম্ভব যে প্রতিটা মুহূর্তে, প্রতিটা সেকেন্ডে যখন তোমরা আমার নেয়ামতগুলোকে উপভোগ করছো এবং তারপরেও তোমরা কৃতজ্ঞ হচ্ছ না, এটাও কি সম্ভব? আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন, "তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না?" আমরা যদি জেনারেল সেন্সে চিন্তা করি এটা কিন্তু কাউকে বলার কথা না, এটা স্বাভাবিকভাবেই মন থেকে আসার কথা। যার আর আসে না তাকেই আমরা বলি যে অকৃতজ্ঞ অমানুষ। অথচ আমরা যদি আমাদের দিকে তাকাই তাহলে দেখব প্রতিদিন এতগুলো নেয়ামত আমরা উপভোগ করছি আর না এই নেয়ামতগুলো না হলে আমাদের অস্তিত্বই টিকে থাকতো না। কিন্তু আমরা সেটা নিয়ে কখনো চিন্তা করি না। সেটার পিছনে কে কাজ করছে? কে আমাদেরকে এগুলো সব জোগাড় করে দিচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা কখনোই ভাবি না। প্রতিটা দিন আমাদের জন্য একটা নেয়ামত। প্রতিটা আয়াত আমার চারপাশে এটা কোরআনের আয়াত হতে হবে না, আমার চারপাশে যা কিছু রয়েছে আমার জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে আমি সে আয়াতকে ধারণ করছি, সেই নিদর্শনকে ধারণ করছি অথচ আমার মন উন্মুক্ত হয় না। এটা কিভাবে সম্ভব? আমাদেরকে সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা শিখতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাই বলছেন, "তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না?" কিভাবে আমরা এই কৃতজ্ঞতা শো করব? ঘরে বসে সারাদিন আমরা যদি তাসবি নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলতে থাকি তাহলেই কি সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে? তা কিন্তু না। বরং আল্লাহর কাছে এই যে নিয়ামত আমরা প্রতিনিয়ত কোন হিসাব ছাড়া ব্যয় হিসাবী নিয়ামত আমরা উপভোগ করছি, সেটা কৃতজ্ঞতা আমাদের আদায় করতে হবে। এটা স্বীকার করে যে আমরা তার কাছে দায়বদ্ধ। সুতরাং আমরা তার যে নির্দেশগুলো রয়েছে সেই নির্দেশগুলো অকুন্ঠ চিত্তে আমরা মেনে নিব। আর যখনই আমরা কৃতজ্ঞ হব আমাদের আত্মার বন্ধনে এই স্পিরিচুয়াল ট্রুথ আমরা বুঝতে পারবো তখনই দেখা যাবে যে সত্যিকার কৃতজ্ঞতায় আমাদের অন্তর ভরে উঠেছে, সেটা শুধুমাত্র মুখের কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
এবং পুরা কোরআনটা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদের সামনে দিয়ে দিয়েছেন। প্রতি পেইজে পেইজে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। এই সূরা ইয়াসিন আমরা সারা জীবনে কতবার পড়েছি, সেই ইয়াসিনের মধ্যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে এই যে নেয়ামতগুলো তোমাদের সামনে এসেছে, তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে না? এবং এই কথা বলার পরে 36 নাম্বার আয়াতে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন, "আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। সুবহানাল্লাজ খালাকাল আজ কুল্লাহা মিমমাবিতুল আরদুমিনহ।" পবিত্র তিনি, যিনি জমিন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানে না তা প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।
তাহলে আল্লাহর যে নিদর্শনগুলো, আল্লাহর যে সাইন যে আয়া আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন, এখানে আমরা দেখি যে সেই আয়াতের আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিচ্ছেন আমাদের সামনে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াতের শুরুতে আমাদেরকে বলছেন, "সুবহানাল্লাজি"। সুবহানা তো স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে হতে পারে যে আল্লাহ তালা নেয়ামতের কথা বলছেন, এখানে কেন সুবহানা আসলো? সাবাহা শব্দটা অথবা সুবহান আমরা যে সুবহানাল্লাহ বলি সেই কথাটা আমরা যদি বুঝি তাহলে আমরা বুঝতে পারব যে কেন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই কথাটা বলেছেন।
সুবহানা অথবা সুবহানাল্লাহ আমরা যখন বলি সেই কথাটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার যে পারফেকশন, আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা যে সমস্ত ভুল ত্রুটি থেকে মুক্ত, সেই কথাটাকে প্রকাশ করা, প্রচার করা। এ কথাটা এই শব্দটি এসেছে তাসবিহ থেকে। আমরা তাসবিহ শব্দটার সাথে পরিচিত। আমরা দিনে রাতে তাসবিহ করি। তাসবিহর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নাম গ্লোরিফাই করা, আল্লাহর নামকে সমুন্নত করা এবং আল্লাহ সুবহানা তা'আলা যে সমস্ত দোষ ত্রুটি মুক্ত সেটাকে অকন্ঠ চিত্তে প্রকাশ করা। এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নাম আমরা যখনই সুবহানা বলছি তখনই বুঝানো হচ্ছে যে হাউ অ্যামেজিংলি হি ইজ পারফেক্ট। যে কিভাবে তিনি সমস্ত কিছু, সমস্ত বলা যায় যে কোন ধরনের ইমপারফেকশন তার মধ্যে নেই। কোন ধরনের খুত আমরা তার মধ্যে দেখতে পাবো না। এই সূরার 40 নাম্বার আয়াতে আমরা দেখব ঠিক সাবাহা শব্দটা আবার ব্যবহার করা হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। স আল্লাহ সুবহানা তা'আলার জন্য যখন এই সাবাহা শব্দটা বলা হয়ে থাকে তখন এটার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তা'আলার পারফেকশন প্রচার করা, জোরে সোরে সেটা বলা।
আমরা যদি সাবাহা শব্দটা বুঝি তাহলে দেখব যে এই কথাগুলো বুঝা আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। এখন মনে হচ্ছে আমাদের কাছে যে আমাদেরকে হয়তোবা আল্লাহ বলছেন যে প্রতিদিন কয়েকশো বার করে সুবহানাল্লাহ পড়তে হবে। সেটাই হয়তোবা এই সুবহান শব্দের অর্থ। সাবাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে সাতার কাটা। আমরা সাতার কাটার সাথে সবাই পরিচিত আছি। এবং এই সাবাহা শব্দ দিয়ে স্পেসিফিক কাইন্ড অফ সাতার কাটা বুঝানো হয়ে থাকে। যে সাবাহা শব্দের অর্থ হচ্ছে ভেসে থাকা। যখন কেউ সাতার কাটে এবং তার মাথাটা পানির উপরে থাকে, পানির নিচে ডুবে যায় না তখন সেটাকে সাবাহা বলা হয়ে থাকে। সো সেখান থেকে আমরা দেখি যেই সুবহান শব্দটা বলার মাধ্যমে আমরা যেটা বলি সেটা হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সবসময় হচ্ছে এবাভ হিস ক্রিয়েশন। তার সৃষ্টির উপরে তিনি অবস্থান করছেন এবং তার যে অবস্থাটা তিনি সমস্ত দোষ ত্রুটি থেকে মুক্ত। তো সেটা কখনোই আপ এন্ড ডাউন হয় না। আমরা যদি কোন মানুষের কথা চিন্তা করি যে খুবই ভালো মানুষ। কিন্তু তারপরও আমরা দেখব তার মধ্যে কিছু না কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে। সে ভুল করে আবার সেটাকে সংশোধন করে নেয়। কিন্তু আমরা যখন সুবহানাল্লাহ বলছি তার মানে হচ্ছে যে তিনি একটা লেভেল মেনটেইন করছে সেটা কখনোই নিচের দিকে নামে না।
সো আমরা যখন সাতার কাটি তখন দেখি যে এই সাঁতার কাটার জন্য কি করতে হয় যে রেগুলার কিছু মুভমেন্ট করতে হয় এবং একটা ক্যালকুলেটেড মুভমেন্ট রাইট। হাত পা ছুড়লেই শুধু সাঁতার কাটা হয় না। সো যখন আমার সাঁতার কাটার প্রয়োজন হয় তখন আমার হাত পাকে আমার একটা নির্দিষ্ট রিদমে মুভ করতে হয়। সো এই তাসবিহ শব্দটা দিয়ে বুঝানো হচ্ছে যে স্পিরিচুয়ালি এই দুনিয়াতে আমি যদি নিজেকে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা সন্তুষ্টির জন্য টিকিয়ে রাখতে চাই তাহলে আমাকে এই দুনিয়ার বিভিন্ন মধ্যেই থেকেই হচ্ছে দুনিয়ার কাজকর্মের মধ্যে থেকেই একটা বিশেষ গতিতে এগিয়ে যেতে হবে যার মাধ্যমে আমি হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার দেয়া নির্দেশগুলোকে পালন করে যেতে পারব। যদি আমি আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে সঠিকভাবে না চিনি তাহলে দেখা যাবে যে এই দুনিয়ার আনন্দ বিলাস পঙ্খিলতার মধ্যে আমি ডুবে যাচ্ছি। স এগুলো সারাক্ষণ আমাদেরকে নিচের দিকে টানছে। আর আমরা সে আল্লাহ সুবহানা তায়ালাকে স্মরণ করে নিজেদেরকে উপরের দিকে রাখার জন্য চেষ্টা করছি। এটাই হচ্ছে সাবাহা। এটাই হচ্ছে তাসবিহ।
সো এই তাসবিটা হচ্ছে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কথা স্মরণ করা এবং সে স্মরণটা এমনভাবে রাখা যে আল্লাহকে আমি অন্য সৃষ্টির সাথে কখনোই তো সমান মনে করবো না বরং তার মর্যাদা তার সম্মান সবসময়ই হচ্ছে অন্য সব জিনিসের উপরে রাখবো এবং সেই মর্যাদা রাখতে যেয়ে এজ এ হিউম্যান আমার উপরে যে দায়িত্ব আল্লাহ সুবহানা তা'আলার নির্দেশগুলো পালন করা সেগুলো এমনভাবে পালন করব কখনোই আমি আল্লাহর সম্মানকে নিচে নামতে দিব না আমার কথা কাজে যে কখনোই যাতে এটা মনে না হয় যে আমি আল্লাহ সুবহানা তায়ালাকে কোনভাবে অসম্মানিত করছি। সো একজন মুসলমান হচ্ছে প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ রাখবে। এটাই হচ্ছে তার নিয়ম। যাই ঘটুক না কেন জীবনে সে প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর কথা স্মরণ রাখছে, আল্লাহ সম্মানের কথা স্মরণ রাখছে এবং আল্লাহ তাকে যে কারণে সম্মানিত করেছে মুসলিম হিসাবে সেই সম্মানের কথা সে মনে রেখে যখন এই দুনিয়ার এই পঙ্কিলতার মধ্য দিয়ে সে এগিয়ে যায় নিজেকে সব ময়লা আবর্জনা থেকে বাঁচিয়ে রেখে সেটাই হচ্ছে তাসবিহ। তাসবি শুধু ঘরে বসে তাসবিহ জপা বরং তাসবিহ হচ্ছে এ দুনিয়ার ময়লা আবর্জনার মধ্যে থেকেও সেগুলোর উপরে নিজেকে এমনভাবে অবস্থান করা যে আমি আল্লাহকে সবকিছুর উপরে সম্মানিত করছি।
স আল্লাহ সুবহানাতায়ালার গ্লোরি এবং পারফেকশন এখানে ঘোষণা করা হচ্ছে প্রথমেই। সো এখানে আমরা চিন্তা করি যখনই আমি আল্লাহর পারফেকশন ঘোষণা করছি তার মানে আমি বলছি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হচ্ছে প্রত্যেকটা ভুল ত্রুটি থেকে মুক্ত। কোন ধরনের দুর্বলতা তার মধ্যে নেই। এবং তার যেহেতু তার মধ্যে কোন দুর্বলতা নেই, তিনি সক্ষম, তিনি আসসামাদ, তো তার সাথে আসলে আর কোন পার্টনারশিপেরও দরকার নেই যে কেউ তার কাজ এগিয়ে দিবে, কেউ তার কাজে সাহায্য করবে সেটা প্রয়োজন আল্লাহ সুবহানা তা'আলার হয় না। কোরআনে আমরা দেখব এই সুবহান শব্দ, সাবাহা শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে মুশরিকদের যে বিশ্বাস সেগুলোকে খন্ডন করার জন্য। কারণ আমরা যখনই দেখি যে আল্লাহ সামনে আমরা মনে করি যে আল্লাহকে পেতে হলে অন্য কারো সাহায্য আমরা নিচ্ছি। মনে হচ্ছে যেন না হলে আমরা আল্লাহকে পাবো না। সো অন্যকে এর মধ্যে অংশীধার করে নিচ্ছি। মনে হচ্ছে যেন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এটা দিতে পারবেন না। এটার জন্য আমি অন্য কারো স্মরণাপন্ন হচ্ছি। এই ধরনের বিশ্বাসই হচ্ছে আল্লাহর মধ্যে আল্লাহর যে অক্ষমতা আমরা বলছি এখানে, আল্লাহ মাফ করুক অথবা আল্লাহ সুবহানা তা'আলার যে শক্তি সে সম্পর্কে আমার ভুল ধারণা প্রকাশ পাচ্ছে।
সো যখনই মুশরিকরা আল্লাহর সাথে কাউকে অ্যাসোসিয়েট করে, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করে, আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদত করা শুরু করে। তার মানে তারা চিন্তা করে যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা একা এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের যে রাজত্ব তার সেটাকে তিনি একা রুল করতে রান করতে সক্ষম না অথবা আল্লাহ সুবহানা তা'আলা কাজ করার জন্য সহযোগিতা দরকার, তিনি কোন কোন সময় হয়তোবা দুর্বল হয়ে পড়েন, আল্লাহ মাফ করুন। তো এই যে তাদের এই চিন্তাভাবনা সেখান থেকেই শিরকের চিন্তাভাবনাটা চলে আসে। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেই মুশরিকদের উদ্দেশ্যেই বলেন এবং যা আমাদের ঈমানকে মজবুত করার জন্য বলেন যে আল্লাহ সুবহানা তা'আলা সমস্ত ভুল ত্রুটি থেকে মুক্ত। আবার কেউ কেউ মনে করতে পারে যে আল্লাহ এই দুনিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে তার হয়তোবা কোন সঙ্গী দরকার, সাহায্যকারী দরকার। অথবা কেউ কেউ মনে করতে পারে যে আমরা যখন দুনিয়ার রাজা বাদশাদেরকে দেখি যে তাদেরও সীমাবদ্ধতা থাকে এবং সেইভাবে আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা করতে থাকে। নাউজুবিল্লাহ এবং সে কারণে তারা হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তার সাথে সঙ্গী করে নেয়। তারা যদি আল্লাহকে জানতো, তারা যদি আল্লাহর ক্ষমতা জানতো, আল্লাহর শক্তি সম্পর্কে জানতো, তার পারফেকশন সম্পর্কে জানতো তাহলে কখনোই কিন্তু অন্য কাউকে ইবাদত করার কথা তাদের মাথায় আসতো না। এইজন্যই আমরা দেখি কোরআনে বারবার আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলে দিয়েছেন যে আল্লাহ সমস্ত ধরনের ডিফেক্ট থেকে মুক্ত। তার কোন ধরনের দুর্বলতা নেই। তোমাদের অন্য কারো শক্তি বা অন্য কোন সাহায্যকারীর তোমাদের প্রয়োজন নেই।
সো এখানে আল্লাহ বলছেন যে, "সুবহানা আল্লাজি খালাকা স কে পবিত্র?" সে পবিত্রতার ঘোষণা দিতে যেয়ে বলছেন যে তিনি যিনি হচ্ছেন সৃষ্টি করেছেন। তাহলে এই দুনিয়ার যা কিছুই আমরা দেখছি তার সৃষ্টির পিছনে যিনি আছেন, তার পবিত্রতা ঘোষণা করেই হচ্ছে এই আয়াতটা শুরু হয়েছে। তা আমরা এই আয়াতের মধ্যে দেখবো আর বেশ ইন্টারেস্টিং কিছু তথ্য আল্লাহ সুবহানাতালা আমাদেরকে দিয়েছেন।