Transcription
সূরা ইয়াসিনের এ পর্যন্ত আলোচনায় আমরা একটা জিনিস দেখেছি সেটা হচ্ছে যে আল্লাহ কখনোই হেদায়েতের রাস্তা বন্ধ করে দেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না কেউ তার মনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। সো এখানে আমরা দেখেছি এর আগে সাদ্দা দেয়ালের কথা বলা হয়েছে। যে দেয়ালগুলো হচ্ছে ওয়ান অফ দা দেয়াল যেটা যেই দেয়াল দিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে তার একটা অর্থ হতে পারে ইতিহাস।
সো সেই ইতিহাসের থেকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে এক্সাম্পল দিচ্ছেন আমাদের সামনে যে এই জনগোষ্ঠীর জন্য পরপর হচ্ছে তিনজন মেসেঞ্জার এসেছে কিন্তু এই তিনজন মেসেঞ্জার এসেও তার মন তাদের মনে হেদায়েতের আলো দিতে পারে নাই কারণ তারা নিজেরাই ঠিক করে নিয়েছিল যে তারা এই পথে আসবে না এবং তারই প্রমাণ আমরা দেখতে পাই এই পরবর্তী আয়াতগুলোর মধ্যে সে মেসেঞ্জারদের কথা বা রাসূলদের কথা বলতে যেয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন যে তারা বলছে যে তারা তারা তাদের কাজই হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া এই মেসেজটাকে সঠিকভাবে সুস্পষ্টভাবে প্রচার করা। তো তারা সেই কাজটাই করেছে। তারা ক্লিয়ারলি এই মেসেজটা ডেলিভার করেছে। কিন্তু এবং এমনভাবে তারা বলেছে যাতে মানুষ সেটা বুঝতে পারে। তাদের লেভেল অনুযায়ী সেটা তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও দেখা গিয়েছে যে তারা সেটা মানতে প্রস্তুত না।
58 নাম্বার আয়াতে আমরা দেখি তাদের নেক্সট আর্গুমেন্ট চলে এসেছে যে তারা কিভাবে ডিনাই করছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছ থেকে আসা মেসেজগুলোকে একসেপ্ট করতে। এবং এর মধ্যে আমরা দেখি যে তাদের যে রিজেকশন সেটাই কন্টিনিউয়াস হচ্ছে। এ পরবর্তী আয়াতগুলোর মধ্যে আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে বলছেন যে 18 নাম্বার আয়াতে আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম ইন্নাবিকলামতহানাকুমনাকুমনা আবুল আজব আলিম যে তারা বলল আমরা তোমাদেরকে অশুভ কল্যাণ অকল্যাণকর দেখছি যদি তোমরা বিরত না হও তবে অবশ্যই তোমাদের প্রস্তর বর্ষণ হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।
তো এখানে আমরা দেখি সেই জনপদের লোকদের যে রেসপন্স সেটা মেসেঞ্জারদের কথা শোনার পরে এবং তাদের যে এই কথাগুলোকে প্রত্যাহার করা বা কথাগুলোকে অস্বীকার করার ব্যাপারে তাদের যে গ্রেজুয়াল প্রোগ্রেশন যে এটাকে মেনে না নেওয়ার জন্য সেটা এখানে দেখা যাচ্ছে। এই আয়াতের মধ্যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে বলছেন যে এই কথাগুলো বা এই কাজগুলো যারা করছে তারা শুধুমাত্র এই শহরের লোকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না বরং এই কাজগুলোই হচ্ছে বারবার হয়ে এসেছে আগে এবং এখনো হচ্ছে এবং তার একটা জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে কুরাইশরা এবং পরবর্তীতে আমরা দেখি যে এই কোরআনের কথা সুন্নাহর কথা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার দেওয়া মেসেজগুলা যখনই মানুষ অন্যদের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। যাদের মনে অন্ধকার রয়েছে তারা সেগুলোকে অস্বীকার তো করছেই বরং তারা যারা এই দাওয়াত দিচ্ছে সে দায়ীদেরকে বিভিন্নভাবে অপরাধী প্রমাণিত করার চেষ্টা করছে এবং তাদের নামে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে এবং এখানে সেই অপবাদ দেওয়ার যে একটা প্রসেস সেটার এক্সাম্পল আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দেখাচ্ছেন 18 নাম্বার আয়াতে।
কলু কালু মানে হচ্ছে তারা বলল তারা কারা এটা হচ্ছে সেই জনপদের লোকজনের কথা বলা হয়েছে যে যখন মেসেঞ্জাররা তাদের কাছে এই কথাগুলো নিয়ে আসছে বলছে যে আমরা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সেটা আল্লাহ আর রহমান খুব ভালো করে জানেন এবং আমাদের কাজ হচ্ছে এই সংবাদগুলো বা আল্লাহর দেওয়া এই মেসেজটাকে সঠিকভাবে সুস্পষ্টভাবে তোমাদের কাছে প্রচার করা তখন তারা কি বলল সেই রিএকশনটা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি যে মেসেঞ্জারদের সামনে তাদের রিএকশনটা যে এই কথার মাধ্যমে আমরা দেখি যে তাদের যে রেসপন্স এবং এটা হচ্ছে একটা কালেক্টিভ রিপ্লাই এটা এমন না যে একজন দুইজন বলেছে বরং তারা হোল কাওম মিলে পুরো জনগোষ্ঠী মিলে হচ্ছে এ কথাগুলো তাদের নামে বলছে যে কালু ইন্না ইন্না মানে হচ্ছে নিশ্চিতভাবে এবং নিশ্চিতভাবে আমরা দেখছি স এটা হচ্ছে তাদের কালেক্টিভ একটা ফর্ম এবং এখানে বলা হচ্ছে আমরা কি দেখছি সেটা হচ্ছে তাতাইয়ারনা তাতায়না তাতায়না শব্দটি এসেছে তয় শব্দ থেকে তয় শব্দের যদি আমরা সিম্পল মিনিং দেখি সেটার অর্থ হচ্ছে পাখি এবং সেখান থেকে আমরা দেখি যে তাতইয়ার শব্দটি এসেছে এবং তার অর্থ হচ্ছে কারো এগেন্স্টে বা কারো কারো সাথে হচ্ছে অভিশাপ বা ব্যাড ওমোন বা হচ্ছে খারাপ চিহ্ন সেটা বুঝানোর জন্য হচ্ছে এই শব্দটা ব্যবহার করা হয়। সাধারণত দেখা যায় যে কোন পাখির সাথে এ ধরনের লক্ষণকে সংশ্লিষ্ট করা হয়ে থাকে এবং ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গিয়েছে যে কিছু পাখি আছে যে পাখিগুলোকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। যেমন কাক হচ্ছে একটা এক ধরনের পাখি। যেই পাখিকে হচ্ছে এ ধরনের অভিশপ্ত অভিশাপের সাইন হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। সো এখানে তাইয়ারনা বলতে বুঝানো হয়েছে যে আমরা তোমার মধ্যে একটা অশুভ লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। সো অথবা হচ্ছে আমরা তোমার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি অভিশপ্ত কোন জিনিস। এভাবে তারা হচ্ছে অপবাদটা দিচ্ছে মেসেঞ্জারদের নামে।
এখানে আমরা দেখি তাতা ইয়ারনা শব্দটা মেটাফরিক্যালি ইউজ করা হয়েছে তাদের যে বিশ্বাস সেটাকে সুস্পষ্ট করে তোলার জন্য এবং তারা মেসেঞ্জারদেরকেই সুস্পষ্টভাবে বলছে যে তোমরাই হচ্ছো একটা অশুভ প্রতীক এবং ইবনে কাউসারে বলা হয়েছে যে এই লোকরা তারা মনে করেছিল যে এই মেসেঞ্জাররা যখন থেকে তাদের জীবনে এসেছে তখন থেকে তাদের জীবনে আর ভালো কোন কিছু হয় নাই এবং দুর্ভাগ্য শুধু তাদেরকে তাদের পিছনে পিছনে চলে এসেছে। সো এখানে তাদের এই কথার একটা অর্থ হচ্ছে যে তোমাদের চেহারায় বা তোমাদের যে উপস্থিতি সেটার মধ্যে আমরা কোন ভালো জিনিস দেখতে পাই না আমাদের জীবনের মধ্যে। আরেকটা অর্থ বলা হয়েছে তার থেকেই এসেছে সেটা হচ্ছে যে শব্দ থেকে তাইয়ার শব্দটা যখন বলা হচ্ছে তখন বুঝানো হচ্ছে যে কোন পাখিকে উড়ানো। সো দেখা যায় যে আমরা কি করি আমরা অনেক সময় দেখেছি যে যখন কোন অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে তখন সেখানে হচ্ছে পিজিয়ন বা কবুতর উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তার মাধ্যমে সেই প্রোগ্রামে শুরু করা হচ্ছে। সো আবার কিছু কিছু পাখির মাধ্যমে আসলে ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সো এখানে আমরা দেখি ভালো খারাপ দুই অর্থেই ব্যবহার করা যায়। তবে এখানে যে খারাপ অর্থে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে যে দেখা যায় যে কখনো তার ভাগ্য নির্ধারণ করার জন্য মানুষ হচ্ছে আকাশে পাখি উড়িয়ে দেয় এবং তার যে ডিরেকশন তার যে দূরত্ব অতিক্রম করার ক্ষমতা সমস্ত কিছু মিলিয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিত যে তার ভাগ্যে কি রয়েছে এবং এটা এক ধরনের সুপারস্টিশন একটা কনস কুসংস্কার আমরা দেখতে পাই যে এখানে দুর্ভাগ্যের লক্ষণ বলে আসলে সেই সেই কুসংস্কারকে কুসংস্কারের কথাই বলা হয়েছে।
সো তারা মেসেঞ্জারদেরকে দেখে যে মেসেঞ্জাররা তাদেরকে হচ্ছে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য এসেছে। তাদের চিরন্তন শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য এসেছে সে মেসেঞ্জারদেরকে তারা সরাসরি বলছে যে বিকুম তোমাদের মধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি এই অশুভ লক্ষণগুলো। সো এখানে আমরা দেখি যে যে দুর্ভাগ্য পরবর্তীতে আমরা দেখব যে এই জনপদের লোকদের কাছে এসেছে সেটা এসেছে তাদের কাজের কারণে কিন্তু তারা হচ্ছে তাদের নিজের দোষটাকে থাকার জন্য কি করছে সেই রাসূলদেরকে মেসেঞ্জারদেরকেই হচ্ছে তারা অপবাদ দেওয়া শুরু করেছে এটাও আমরা একটা টেকনিক দেখে থাকি যে মানুষ যখন নিজেই কোন ভুল করে এবং সে সেটা সুস্পষ্টভাবে জানে তখন সে অন্যদের দের উপরে সেটা চাপিয়ে দিয়ে নিজে হচ্ছে সেটা থেকে মুক্ত হতে চায় বা তারা অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে চায়।
তো এখানে আমরা আর দেখি যে এই ব্যাপারে কাতাদা রহমতুল্লাহ আলাই বলেছেন যে তারা বলে যদি কোন খারাপ কিছু আমাদের উপরে আসে তাহলে সেটা তোমাদের জন্যই এসেছে। এটা একটা অর্থ। আবার মুজাহিদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে এই আয়াতের অর্থ হচ্ছে তারা বলে তোমাদের মত লোক এই শহরে আর কখনোই আসে নাই এবং যে কারণে হচ্ছে এই শহরের লোকেরা হচ্ছে শাস্তি প্রাপ্ত হচ্ছে। এখানে আমরা দেখি যে মেসেঞ্জারদের উপস্থিতি সেটাই তারা মনে করে নিচ্ছে যে তাদের জীবনের যে ট্রাবলস এন্ড ডিফিকাল্টিস যে কষ্টগুলো সমস্যাগুলো আসছে সেগুলোর জন্য সে মেসেঞ্জাররাই দায়ী। সো তারা নিজেরাই হচ্ছে একটা অশুভ লক্ষণ। একটা ইভিল ওম্যান হিসেবে তাদেরকে দেখা হচ্ছে যে এর মাধ্যমে তাদেরকে হচ্ছে খারাপ নামে দেখা হচ্ছে এবং তারা এটা মনে করে যে তারা আসার কারণেই তাদের যে প্রভুরা ছিল যাদের তারা পূজা উপাসনা করতো তারাই হচ্ছে এখন এই জনপদের লোকদের উপরে রাগান্বিত হয়ে গিয়েছে এবং সে কারণে যে বিপদেই আসবে না কেন সেই বিপদটা তাদের উপরে এসেছে শুধুমাত্র এই মেসেঞ্জারদের কারণে তাদের নিজেদের কোন ফল্ট বা ভুল এখানে নাই এবং একটা ঘটনাই এসেছে যে সেই জনপদের উপরে তিন বছর ধরে কোন বৃষ্টি হয় নাই। সুবহানাল্লাহ। আমরা একটু চিন্তা করতে পারি যে কোন এলাকায় তিন বছর যদি বৃষ্টি না হয় সেই এলাকাটার অবস্থা কি হবে এবং সেই সময় আমাদের মধ্যে এরকম ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমও ছিল না এবং থাকলেও তিন বছর বৃষ্টি না হলে সেই ওয়াটার সাপ্লাইও হচ্ছে কখনোই পর্যাপ্ত হওয়ার কথা না এবং সেই সময়ে সে মানুষদের উপরে যখন এই ধরনের বিপর্যয় এসেছিল তারা তখন এটার জন্য দায়ী করেছিল হচ্ছে সেই রাসূলদেরকে।
তাফসীরগণ বলেছেন যে এই যে লোকেরা তাদের কাছে প্রেরিত রাসূলদেরকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে নিয়েছিল বিকজ তারা তারা হচ্ছে তাদেরকে এমন একটা ধর্মের দিকে ডাকছিল যেই ধর্মটা তারা প্র্যাকটিস করছিল না যে ধর্মটা তারা আগে ফলো করছিল না এবং সেটা তাদের কাছে খুব অদ্ভুত মনে হয়েছে এবং সেটাকেই তারা হচ্ছে যেহেতু এটা নতুন যেহেতু তারা জানে না এই ব্যাপারে সে কারণে এটাকে খারাপ ধরে নিয়েছে। স এটাই তারা যে তাদেরকে সেই পথে ডাকাটাকেই তারা হচ্ছে খারাপ সাইন বা অশুভ লক্ষণ হিসেবে মেনে নিয়েছে। সো এই তাদের এই কথাগুলোর সাথে আমরা যদি আমাদের জীবনের কথাকে মিলাই তাহলে আমরা দেখব যে আমাদের জীবনেও আমরা আসলে অনেক জিনিসকে শুভ অশুভ লক্ষণ মেনে মনে করে নেই। তারপরে হচ্ছে যে যখন কারো কথা আমাদের পছন্দ হয় না তখন তার নামে আমরা অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকি। তো এই কাজগুলো আসলে যুগে যুগে হয়ে এসেছে যারাই হচ্ছে দ্বীনের পথে মানুষকে দাওয়াত দিতে চেয়েছে। সদ সেই একটা উদাহরণ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে এর মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন যে তাদের উপরে আসলে কি এসেছিল এবং সেজন্য তারা কিভাবে রেসপন্স করেছিল। সো আমরা যখন কোন ব্যাপারে আসলে শুভ অশুভ লক্ষণ চিন্তা করি আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে আমরা কি বিশ্বাস এটা করছি। এ ধরনের আমরা যখন তাকদীরে বিশ্বাস করি তখন আল্লাহর উপরে সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখার মাধ্যমে এ ধরনের শুভ অশুভ লক্ষণ আমরা কখনোই মেনে নিব না এবং সেই জনপদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে সেখানে যখন তারা শুনলো না রাসূলদের কথা তখন তাদের দুর্ভাগ্য হচ্ছে একটার পর একটা আসতেই লাগলো তাদের উপরে হচ্ছে দুর্ভিক্ষ আসলো তারপরে হচ্ছে সেই দুর্ভিক্ষের কারণে তারা তারা দেখা গেল অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং সেই সময় তারা হচ্ছে সেই রাসূলদেরকেই হচ্ছে আবার অপবাদ দেওয়া শুরু করল যে তাদের যে সমস্যা সেটার জন্য পুরোপুরিভাবে তাদেরকে দায়ী চিহ্ন হিসেবে চিহ্নিত করলো। সো এটাই হচ্ছে যুগে হয়ে এসেছে যারা দ্বীনের কথা বলেছে ভালো কথার বলার জন্য মানুষকে ভালো পথের দিকে ডেকে ডাক দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারাই তাকে সে মানুষরাই হচ্ছে তাদেরকে অটাক করেছে এবং কোন কিছুই যখন বলার থাকে না তখন বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে তাদের নামে অপবাদ দিতে থাকে। তো শিফটিং ব্লেম এই যে কাজটা দেখা যাচ্ছে যে প্রতিনিয়তই হয়ে এসেছে।
সূরা নামলে বলা হয়েছে তারা বলল তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন তোমাদের মঙ্গল অমঙ্গল আল্লাহর কাছে। বরং তোমরা এমন সম্প্রদায় যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাহলে আমরা দেখি যে শুধুমাত্র এই তিন মেসেঞ্জারের জনপদে এই কাজটা করে নাই। আগের যারা নবী রাসূল এসেছিলেন সালেহ আলাইহি সালামের জাতীয় তাদের সাথে এ ধরনের কাজই করেছে। এ ধরনের কথাই বলেছে।
সূরা আনামে বলা হয়েছে আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব অনটন ও রোগবেধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম যাতে তারা কাকুতি মিনতি করে। তাহলে এখানে আমরা দেখি যে আগেও যেখানে রাসূল এসেছিল এবং সেই রাসূল যে জনপদের কাছে এসেছিল তাদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছেন। বিভিন্নভাবে পরীক্ষা দিয়ে তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করার জন্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারপরও দেখা গিয়েছে যে তারা সে কথা ফলো করে নাই বা সেই জিনিস মেনে নিতে চায় নাই।
এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন ওয়ালাকদ আরসালনা ইলা উমামিন বিলবালাহ এখানে বলা হচ্ছে তাদের উপরে বিপদ এসেছে এবং সেটার জন্য বলা হয়েছে একটা শব্দ সেটা হচ্ছে বাসাবা শব্দের অর্থ হচ্ছে ইকোনমিক সিচুয়েশন অর্থনৈতিকভাবে যে ধরনের বিপর্যয় আসে সেটা যে দারিদ্র দুর্ভিক্ষ খরা তারপরে হচ্ছে স্টারভেশন ফসলের ক্ষতি এগুলো হচ্ছে বাসার মধ্যে পড়ে। আর দররা যেটা সেটার অর্থ হচ্ছে যে আদার ডিফিকাল্ট সিচুয়েশন যেমন সোশ্যাল প্রবলেম তারপরে হচ্ছে নিজেদের মধ্যে কনফ্লিক্ট যুদ্ধ এক্সটার্নাল প্রবলেম চলে আসা সেগুলো হচ্ছে দরার মধ্যে পড়ে। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ইন্টার্নাল এক্সটার্নাল সব ধরনের অসুবিধা দিয়েই আমাদেরকে পরীক্ষা করেন যেন আমরা তার নিকটবর্তী হই। সো এখানে আমরা দেখি যে এই পরীক্ষাগুলো দেওয়ার উদ্দেশ্য তাদেরকে আরো গাফেল করে দেওয়া না বরং এই পরীক্ষাগুলো দেওয়ার উদ্দেশ্য তারা যাতে হাম্বল হয় কারণ আমরা জানি যে আমরা যখন কঠিন বিপদে পড়ি তখন আমরা এক আল্লাহ শরণাপন্ন হই তখন আল্লাহর কথায় আমাদের সবার আগে মনে পড়ে যায় তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদেরকে আরো নিকটবর্তী করার জন্য এ ধরনের বিপদগুলো দিয়ে থাকেন তো সুবহানাল্লাহ আমাদের উপরে যখন বিপদ আসে তখন আমাদেরকে আসলে চিন্তা করতে হবে আল্লাহ চান আমরা তার আরো নিকটবর্তী হই আমরা তার কাছে ফিরে আসি সেজন্যই হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এ ধরনের বিপদ দেয় যে আমরা আমাদের ইগো থেকে বের হয়ে এসে পুরোপুরিভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে যেন সারেন্ডার করি।
সূরা আরাফে বলা হয়েছে আর আমি কোন জনপদে কোন নবী পাঠাইনি। তবে এমত অবস্থায় যে পাকরাও করেছি সে জনপদের অধিবাসীদেরকে কষ্ট ও কঠোরতার মধ্যে যাতে তারা শিথিল হয়ে পড়ে। তাহলে এখানে আমরা দেখি যে যেখানেই নবী রাসূলরা এসেছেন সেখানে সে জাতিদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সঠিক পথে আনার জন্য তাদেরকে বিভিন্ন কষ্টের মধ্যে ফেলেছেন। সো যাতে তারা হচ্ছে তাদের যে চির চিরন্তন যে চিন্তাভাবনা তাদের বাপ-দাদার ধর্ম সেগুলো থেকে বের হয়ে সঠিক পথের দিকে চলে আসে এবং প্রতিবারই দেখা গিয়েছে যেখানেই নবী রাসূলরা এসেছেন সেখানে তাদেরকে অস্বীকার করা হয়েছে তাদের নামে অপবাদ দেওয়া হয়েছে কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের জন্য ওয়েকআপ কল হিসেবে এই কষ্টগুলোকে দিয়ে এসেছেন এবং যখন মেসেঞ্জাররা তাদেরকে ফাস্ট ওয়ার্নিং দিয়েছে তারা অস্বীকার করেছে তাদের সামনে মিরাকল প্রেজেন্ট করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের মুজা আমরা দেখতে পাই নবীদেরকে দেওয়া হয়েছে সেটাও তারা অস্বীকার করে তারপরে পরবর্তী স্টেপে আমরা দেখি যে তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা করে দেন তারপরে আমরা দেখি সূরা আরাফেরর পরের আয়াতে বলা হয়েছে সুতরাং আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান পঙ্গপাল কোন ব্যাঙ ও রক্ত প্রবৃত্তির বহুবদ্ধ নিদর্শন একের পর এক। তারপরও তারা গর্ব করতে থাকলো। বস্তুত তারা ছিল অপরাধ প্রবণ।
এখানে আমরা দেখি যে মুসা আলাইহি সালামের জাতিকে উপরে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা একটার পর একটা ফেরাউনকে যখন ডাকতে ডাকলো তারা আল্লাহর পথে তখন তার একটার পর বারবারই বিভিন্নভাবে তারা তাদের উপরে বিপদ আসতো। মুসা আলাইহিস সালামকে বলতো যে তোমার রবের কাছে দোয়া করো। যখনই তারা সে বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়ে যেত তখনই আবার তারা গাফলতিতে চলে যেত। সো এখানে আমরা দেখি যে এই যে এডভার্সিটিস গুলা কষ্ট বা বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয় আসছে সেটা তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনের ক্ষেত্রে তারা যে অন্ধকার জগতে আছে সেখান থেকে বের হয়ে আনার জন্য যে ঘুমন্ত অবস্থায় আছে সেটাকে জাগ্রত করার জন্য। এটাই হচ্ছে আল্লাহর সুন্নাহ। যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা দুঃখ কষ্ট দেন যাতে আমরা তার কাছে ফিরে আসতে পারি। কিন্তু তারা ছিল অপরাধ প্রবণ। তারা আরো বেশি করে তাদের নবী রাসূলকে উপরেই তারা অপবাদ দিতে থাকলো। সো যাদের যে দুর্ভাগ্য এবং সে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই তারা হচ্ছে নবী রাসূলদেরকে দেখা শুরু করল।
এখানে আমরা দেখি যে এই যে কুসংস্কার অশুভ লক্ষণ কোন জিনিস দেখে লক্ষণ নির্ধারণ করা এটা ইসলামে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাললাম বলেছেন যে যারা হচ্ছে তাইয়ারা অর্থাৎ অশুভ লক্ষণের প্রতি মনোযোগ দেয় বা সেটাকে বিশ্বাস করে তারা হচ্ছে শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এই অশুভ লক্ষণ আমাদের জন্য কোন ব্যাপার না। কারণ হচ্ছে আমরা পুরোপুরিভাবে আল্লাহ সুবহানা তাআলার উপরে তাওয়াক্কুল করি। তো এই যে সুপারস্টেশন অথবা হচ্ছে যে কুসংস্কার এটা হচ্ছে আল্লাহর বিশ্বাস বা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে সমস্ত কিছুকে কন্ট্রোল করছেন সেটার বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং সে কারণে এটাকে শিরক বলা হয়ে থাকে এবং এর মধ্যে একটা হচ্ছে যে কোন জিনিসের মধ্যে শুভ এবং অশুভ লক্ষণ দেখা লাকি চার্মস যে তারপরে হচ্ছে যারা হচ্ছে হাত গণনা করে তাদের কাছে যাওয়া স্পেসিফিক ডে নাম্বার এগুলোকে আনলাকি মনে করা এ সমস্ত কিছুই আসলে এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। সো সুপারস্টেশন অথবা কুসংস্কার হচ্ছে এক ধরনের শিরক। এই কষেত্র থেকে আমাদেরকে দূরে সরে থাকার চেষ্টা করতে হবে। যেমনভাবে এই জনপদের লোকেরা কুসংস্কার উচ্ছন্ন হয়ে ক্ষতি সম্মুখীন হয়েছে তেমনিভাবে আমাদেরকেও যাতে সেই ক্ষতির মধ্যে পড়তে না হয়। এবং এ কারণে আমাদেরকে কি করতে হবে যে যেগুলোকে আমরা অশুভ লক্ষণ মনে করি সেগুলো রিজেক্ট করতে হবে। যেমন ব্ল্যাক ক্যাট দেখলে সার্টেন নাম্বার 13 নাম্বারটা হচ্ছে আমাদের কাছে একটা অশুভ নাম্বার। তারপরে হচ্ছে স্পেসিফিক ডেইজ। অনেক সময় মনে করা হয় অশুভ। স এগুলো হচ্ছে আমাদেরকে শিরকের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এবং এর এগেন্স্টে আমাদেরকে কি করতে হবে? পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর উপরে ভরসা করা। তাওয়াক্কুল করার উপরে ফোকাস করতে হবে। সো সৌভাগ্য দুর্ভাগ্য কুসংস্কার এগুলোর উপরে নির্ভর না করে আল্লাহর উপরে নির্ভর করব। এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালা যখন আমাদের জন্য যে ধরনের বিপদ অথবা ভালো অবস্থা দান করেন সেই সময়টাকে আমরা শুকরিয়া জ্ঞাপন এবং আল্লাহ সুবহানাতায় নিকটবর্তী হওয়ার জন্য ব্যবহার করব। এবং এর মধ্যে ইভেল আই রয়েছে এবং ম্যাজিক রয়েছে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে আমাদেরকে খারাপ পথের দিকে নিয়ে যায় যে কারো স্পেসিফিক শক্তির কথা আমরা চিন্তা করি। তবে আমরা জানি যে ইভিলাই এবং ম্যাজিকের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা সম্ভব। কিন্তু সেগুলো থেকে আমাদেরকে দূরে সরে থাকতে হবে। সো এই কারণে আমাদেরকে কি করতে হবে? আল্লাহর কাছে আমাদেরকে সাহায্য চাইতে হবে। আমি যাতে কুসংস্কারগুলো বুঝতে পারি এবং সেটার থেকে দূরে সরে থাকতে পারি এবং এর মাধ্যমে আমাদেরকে আল্লাহ সুবহানা তাআলার প্রতি আরো আশাবাদী হতে হবে। তো বিভিন্ন ধরনের সুপারস্টেশন রয়েছে। আমাদের বাঙালিদের মধ্যেও বেশ কিছু সুপার কুসংস্কার রয়েছে। সেই জিনিসগুলো আসলে আমাদেরকে আইডেন্টিফাই করতে হবে এবং সেই গুলো থেকে আমাদেরকে দূরে সরে থাকতে হবে। সো এর মাধ্যমে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদের যে এটিচিউড সেটা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন এবং তাদের সেই এটিচিউড এবং আমাদের এটিচিউডের মধ্যেও কিন্তু অনেক মিল রয়েছে। স আল্লাহ সুবহানাতায়ালার পক্ষ থেকে যখন কোন সত্য আমাদের কাছে পৌঁছে আমরা যখন জানি এটা কোরআন অথবা সুন্নাহর কথা তখন সেটাকে নির্দিয় মেনে নেওয়াটাই হচ্ছে ঈমানদারদের কাজ।