📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 50: Ayah 43,44|| No-one can save You ||

Straight Path16:51

Transcription

সূরা ইয়াসিনের 43 নাম্বার আয়াত। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন, "আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।"

"আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে নিমজ্জিত করতে পারি, তখন তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই এবং তারা পরিত্রাণও পাবে না।"

এর আগে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি কিভাবে সমুদ্রকে আমাদের করায়ত্ব করে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা সমুদ্রের মধ্যে বা পানির উপরে ভাসমান অবস্থায় ট্রান্সপোর্টেশন ব্যবহার করতে পারি। এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে সেসব ট্রান্সপোর্টেশনের সুযোগ করে দিয়েছেন পানিতে এবং স্থলে। যেখানেই আমরা চিন্তা করি না কেন, আমাদের সুবিধার জন্য। এবং সেই সেই পাওয়ারটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তায়ালারই আছে।

এখানে আল্লাহ বলছেন যে, যদি আমরা ইচ্ছে করি তাদেরকে নাশা মানে হচ্ছে ইচ্ছা করা। যেশা থেকে যে আমরা যদি ইচ্ছা করি তাহলে নগরিক হোম তাদেরকে আমরা হচ্ছে কি করতে পারি নগরিক। যে আমরা এখান থেকে দেখতে পাই যে ডুবিয়ে দিতে পারি। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে এই নোটকা জাহাজ যাই আমরা দেখি না কেন, সমস্ত কিছুকে ডুবিয়ে দেওয়ার শক্তি আল্লাহর ছিল।

কিন্তু আল্লাহ আমাদের সুবিধার জন্য এদেরকে এমনভাবে আমাদের প্রয়োজন উপযোগী করে তৈরি করে দিয়েছেন যে দেখা যায় যে অধিকাংশ সময়েই আমরা এই ডুবে যাওয়ার ঘটনা সংঘটিত হতে দেখি না।

তারপরে বলা হচ্ছে, "ফালা সরিখালাহুম।" যে তাদের জন্য চিৎকার দেওয়ার সুযোগও থাকবে না। সরি শব্দটি এসেছে সারাখা থেকে, যেটার অর্থ হচ্ছে কেঁদে ওঠা, চিৎকার করে ওঠা। সো এটা হচ্ছে এমন জোরে চিৎকার করে ওঠা যখন মানুষ কোন বিপদের মধ্যে থাকে এবং সে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য জোরে চিৎকার করে ওঠে, তখন সেটাকেই হচ্ছে সারাখা বলা হয়ে থাকে। তো সারিট শব্দ হচ্ছে এমন একটা অর্থ বুঝায় যে মানুষ সাহায্যের জন্য জীবন বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। এরকম অবস্থায় সাহায্যের জন্য আওয়াজ করছে, চিৎকার করছে, কেঁদে উঠছে, সেটাই হচ্ছে সরিক। এটা শুধুমাত্র যে সাহায্যের জন্য চিৎকার সেটাই বুঝায় না। বরং এটা হচ্ছে যে এটা দিয়ে বুঝানো হয় যে যে হচ্ছে চিৎকার শুনছে এবং যে এই চিৎকার শুনে সাহায্য করার জন্য দৌড়ে ছুটে আসছে, সেটাও এখানে বুঝানো হয়ে থাকে।

সো আল্লাহ বলছেন যে, যদি আমি তাদেরকে ডুবিয়ে দিতে চাইতাম তাহলে তখন তাদের সে চিৎকার করার শক্তি যেমন থাকতো না, তার সাথে সাথে সে চিৎকার শুনে তাদেরকে সাহায্য করতে আসবে সেরকম কেউ তাদের জন্য থাকতো না, সে ধরনের সহযোগী থাকতো না।

তো এখানে আবার আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন, "ওয়ালাহুমুন" যে তাদের জন্য নেই কোন ইনকাজুন। যেইন হচ্ছে ইনক শব্দ থেকে এসেছে। ইনক শব্দের অর্থ হচ্ছে কাউকে রক্ষা করা, কাউকে কোন কিছু থেকে বের করে নিয়ে আসা। এটা অনেকটা এরকম অর্থ প্রকাশ করে যে কেউ একটা পাহাড়ের একদম উঁচুতে পাহাড়ের উঁচুতে একদম পাহাড়ের সাইডে এসে দাঁড়িয়ে আছে, যে ক্লিফ থেকে বা পাহাড়ের কোনা থেকে হচ্ছে এখনই তার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় তাকে কেউ হচ্ছে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করছে বা সেখান থেকে ধরে নিয়ে আসছে। যখন মানুষ অনেক বেশি বিপদের মধ্যে থাকে, যেটা তার জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেই বিপদ থেকে যখন উদ্ধার করার কথা বলা হয়, তখন সেখানে ইনকাজা শব্দটা বলা হয়ে থাকে।

সো আল্লাহ বলছেন যে, তখন তাদের এই বিপদ থেকে বাঁচানোর জন্য কেউ তাদের কাছে আসবে না। সো কেউ তাদের জন্য থাকবে না যে সেও চিৎকার করতে পারবে না এবং তার চিৎকার করা শুনে কেউ তাকে সাহায্য করবে, সেই সুযোগটাও তাদের মত কারো কারোই সেই সময় থাকবে না।

সো আল্লাহ সুবহানা তায়ালাই হচ্ছে আমাদেরকে সেই বুদ্ধি দিয়েছেন। আমাদেরকে সে কাজ করার ক্ষমতা দিয়েছেন যার মাধ্যমে এই ধরনের ট্রান্সপোর্টেশন আমরা সেটা আমরা যদি মনে করি যে জাহাজ, নৌকা অথবা হচ্ছে গাড়ি, উড়োজাহাজ যাই আমরা চিন্তা করি না কেন, সেগুলো বানানোর বুদ্ধি এবং ক্ষমতা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। এবং স্বাভাবিক নিয়মেই যেটা হওয়ার কথা যে পানিতে কোন জিনিস রাখলে ডুবে যাওয়ার কথা, উপরে কোন জিনিস ছুড়ে মারলে সেটা পড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে এদেরকে এমনভাবে আমাদের করায়ত্ব করে দিয়েছে যে জাহাজও সাগরে ডুবে যাচ্ছে না, প্লেনও উপর থেকে পড়ে যাচ্ছে না উঠার সাথে সাথে।

সো এই যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে এত সুন্দরভাবে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আজকের যুগে আমরা চিন্তা করতে পারি যে এ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকলে আমাদের লাইফটা কেমন অচল হয়ে যেত। আমরা কোন কাজ করতে পারতাম না। আমরা এই যে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করছে মানুষ, সেটা কখনোই সম্ভব হতো না।

সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে, এটা এই ব্যবস্থাটা কে রেখে দিয়েছে? কে করে দিয়েছে? এটা তোমরা একটু চিন্তা করো। আমরা একটু যদি দেখি যে সামান্য একটু যদি রাস্তায় আইস জমা হয় তখন কিভাবে গাড়ি স্কিট করে সেই রাস্তা থেকে আসলে পড়ে যেতে পারে, গাড়ি উল্টে যেতে পারে। সেটা আল্লাহ সুবহানা তায়ালার মিরাকলটাই এরকম যে এ ধরনের ঘটনা কিন্তু সারাক্ষণ ঘটছে না।

তো আমরা দেখি যে প্রতিনিয়ত আসলে সবকিছুকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেভ করে রেখেছেন। আমাদের খবরের হারড নিউজ কখন হয় যখন হচ্ছে হাজারের মধ্যে একটা গাড়ি এক্সিডেন্ট করলো, হাজারের মধ্যে একটা প্লেন এক্সিডেন্ট করলো বা একটা জাহাজ ডুবি হলো। কিন্তু বাকি 999 টা জাহাজ, 999 টা গাড়ি কিন্তু ঠিকভাবে চলছে। সো এই চলার ব্যবস্থাটাই আল্লাহ সুবহানা তায়ালা করে রেখেছেন।

কিন্তু যদি আল্লাহ চাইতেন তাহলে তাদের তারা কেউ যদি বিপদে পড়তো তাহলে তাদের জন্য সাহায্যকারীও কেউ নাই। কারণ আল্লাহ ছাড়া আসলে এ ধরনের বিপদ থেকে কেউ সাহায্য করতে পারে না। সো সমুদ্রের গহীন অন্ধকারের মধ্যে কেউ যদি চিৎকার করে উঠে, তার চিৎকার শোনারও যেমন কেউ নাই, কেউ তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যেতে পারবে না।

তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বারবার এখানে সে তাদের কথাও আমরা দেখি কয়েকবার এখানে হোম শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। যে তাদের কথা আল্লাহ খুব জোর দিয়ে বলছেন। এবং এখানে ইয়ান ইয়ুনকাুন যে এটা হচ্ছে প্রেজেন্ট টেন্সে বলা হয়েছে। তার অর্থ হচ্ছে যে কেউই কখনো তাকে সাহায্য করতে পারবে না। কেউই তার কাছে যে এটা শুধু বর্তমানের কথা না ভবিষ্যতের কথাও বলা হচ্ছে যে আল্লাহ যদি না চান তাহলে কেউই হচ্ছে কাউকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারবে না।

সো আল্লাহ এই যে চিরন্তন ব্যবস্থা সেটা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। সাথে সাথে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে আমরা যখন আল্লাহর উপরে তাওয়াক্কুল রাখবো, আল্লাহর উপরে ভরসা রাখবো, আল্লাহই আমাদের জন্য ওয়াকিল হয়ে যাচ্ছেন, তিনি হাফিজ হয়ে যাচ্ছেন আমাদের জন্য, আমাদের হেফাজতকারী হয়ে যাচ্ছেন। সে কারণেই হচ্ছে প্রতিদিন যখনই আমরা ঘর থেকে বের হই, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন এই দোয়াটা পড়ার জন্য, "বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।" যখনই আমরা এই কথাটা বলি, সাথে সাথে ফেরেশতারা আমাদের জন্য দোয়া করতে থাকে এবং বলতে থাকে যে, তুমি গাইডেড হয়েছো, তুমি ডিফেন্ডেড হয়েছো এবং তুমি প্রটেক্টেড হয়েছো। এবং তখন শয়তান আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যায় এবং বলতে থাকে যে, যখন ফেরেশতারাই হচ্ছে তাদের হেফাজতের দায়িত্ব নিয়ে নিয়ে নিয়ে নেয়, তখন আমার আর কি করার আছে এবং তখন সেখানে সে আর কিছু করতে পারে না।

তো আল্লাহ সুবহানু তায়ালা যদি হেফাজতকারী হয়, কেউই আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। আর আমরা যদি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্দেশের বাইরে কাজ করি, তাহলে আমরা যত চিৎকারী করি না কেন, কেউ আমাদেরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে পারবে না।

44 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলছেন, "ইল্লা রহমাতাম মিন্না ওয়ামাতা ইলাহিন।" যে কিন্তু আমারই পক্ষ থেকে কৃপা এবং তাদেরকে কিছুকাল জীবন উপভোগ করার সুযোগ দেওয়ার কারণে তা করি না।

তো অনেক সময়ই দেখা যায় যে আমরা বিস্তৃত হয়ে যাই, আমরা ভুলে যাই যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এ সমস্ত কিছু করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা তখন লাগামহীন কাজ করতে থাকি অথবা সীমা লঙ্ঘন করি। বা আমরা দেখি যে যারা নন মুসলিম, যারা হচ্ছে কাফের, তারাও কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ মানছে না। কিন্তু তাই বলে আল্লাহ তাদেরকে সাথে সাথে ধ্বংস করছেন না। তার কারণ কি? ইল্লা রহমাতামিন্না যে এটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা রাহমা। রাহমা মানে হচ্ছে মার্সি। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা একটা দয়া।

সো আল্লাহ যে আমাদেরকে এই ট্রান্সপোর্টেশনের সুযোগ করে দিয়েছেন, গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, সেগুলো চালানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আমরা দেখি যে খুব কম মানুষই হচ্ছে মারা যাচ্ছে এক্সিডেন্টে বা প্রতিনিয়ত সে ধরনের দুর্ঘটনার খবর আমরা শুনি না। 99% ক্ষেত্রেই হচ্ছে তারা সেফ থাকে। সো এটা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে আল্লাহর রহমার কারণে।

আল্লাহ এখানে বলছেন রাহমাতান। রাহমাদান মানে হচ্ছে এটা জেনারেল কমন ফর্মে ব্যবহার করা হয়েছে এই শব্দটা। সো আল্লাহ বলছেন যে এটা আমার পক্ষ থেকে একটা রহমত। আল্লাহ বলেন নাই এটা এটা নির্দিষ্ট দা মার্সি বলেন নাই বা নির্দিষ্ট করে এর কোন রহমের কথা বলেন নাই। তো এটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা জেনারেল রহমতের কথা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি।

সো আমরা যদি আমাদের এই গাড়িতে চড়ার কথাও চিন্তা করি বা যে ট্রান্সপোর্টেশন বাসে চড়ার কথা আমরা চিন্তা করি, তাহলে দেখব যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা প্রতিনিয়ত আমাদেরকে কিভাবে নিরাপদ রেখেছেন। আমরা যদি আমাদের বাংলাদেশের রাস্তাঘাটের কথাও চিন্তা করি যে যেভাবে গাড়ি চালানো হয়, সেখানে যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে যাচ্ছে, এটাও এক ধরনের মিরাকল বলা যায়।

সো এ প্রত্যেকটা জিনিসের জন্য আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে আল্লাহ সে রহমার কথা যে তিনি তার দয়া দিয়ে আমাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন, আমাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছেন এবং তার রহমত ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব হতো না।

এবং তারপরে আল্লাহ বলছেন, "ওয়ামাতা ইলাহীন" যে তাদের জন্য হচ্ছে এনজয়মেন্ট অর্থাৎ আনন্দের ব্যবস্থা যে তারা জীবন উপভোগ করবে। যে আমরা দেখি যে যারা এই অস্বীকার করছে বা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কথা শুনছে তাদের জন্য কিন্তু আল্লাহ এই নেয়ামতগুলো রেখে দিয়েছেন। তারাও সেগুলো ব্যবহার করছে। কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে একটা সুযোগ এখানে দিয়ে রেখেছেন। যে এই সুযোগটা হচ্ছে আল্লাহ এখানে বলছেন যে মানুষকে যেসব ওয়ান্ডারফুল জিনিস আল্লাহ এই প্রকৃতি থেকে ব্যবহার করা দিচ্ছে, মানুষ মাদার ন্যাচারের কথা বলে। কিন্তু এর পিছনে কার হাত রয়েছে সেটা তারা চিন্তা করে না। এগুলো সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য আসলে উপহার হিসেবে এসেছে। আমরা এগুলো কোনটাই ডিজার্ভ করি না।

সো এক্ষেত্রে আমরা দেখি যে আল্লাহ বলছেন ইলাহীন যে খুব শর্ট টাইমের জন্য, খুব অল্প সময়ের জন্য হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই এনজয়মেন্টের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু শীঘ্রিই হচ্ছে তাদেরকে কি করতে হবে? আল্লাহর কাছে জবাবদিহীর জন্য হাজির হতে হবে।

সো এখানেও আমরা দেখি মেতাইন বলা হয়েছে। এটাও হচ্ছে জেনারেল ফর্মে ব্যবহার হয়েছে। তার মানে হচ্ছে আমাদের সময় নির্দিষ্ট করে রাখা হয়ে আছে। কিন্তু এর আগে নির্দিষ্ট সময় আসার আগে কিছুটা সময় আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়ে দিয়েছেন যাতে এই সময়টুকুকে এবার আমরা কাজে লাগাই অথবা এই আনন্দের মধ্যে নিজেদেরকে ভাসিয়ে দিয়ে আল্লাহর কথা ভুলে যাই। সেটা আমাদের নিজেদের চয়েস।

তো আমরা আমাদের এই নির্দিষ্ট সময়টুকু, এই যে স্বল্প সময়টুকু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের জন্য দিয়ে দিয়েছেন, সেই সময়টুকুকে কিভাবে কাজে লাগাচ্ছি সেটাই আসলে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে।

সো আল্লাহ এখানে আমাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে প্রত্যেকটা জিনিস তোমরা দেখতে পাচ্ছ আল্লাহর রহমতের কারণে আসছে, অথচ যে রহমত পেয়ে তোমরা টিকে আছো, সেই রহমতের পিছনে যিনি আসছেন তার কথা তোমরা ভুলে যাচ্ছ এবং তার শুকরিয়া আদায় করছো না।

সো এই পর্যন্ত আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যতগুলো আয়াত অর্থাৎ নিদর্শনের কথা বলেছেন, সমস্ত কিছুই হচ্ছে আমাদেরকে একটা দিকের দিক নির্দেশ করে, সেটা হচ্ছে আল্লাহর একত্ববাদ। এক আল্লাহ ছাড়া কখনোই এগুলো করা সম্ভব হতো না এবং আল্লাহ ছাড়া যদি অন্য কেউ এগুলো করতো তাহলে তাদের ক্ষমতাও সীমিত এবং তারা যদি মাল্টিপল পিপল থাকতো তাহলে এগুলোকে এত সুন্দরভাবে বছরের পর বছর হচ্ছে সম্পাদন করা কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না।

সো এখানে তওহীদ অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদের যে উদাহরণগুলো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দিয়ে দিয়েছেন, যে আমরা যাতে রিয়েলাইজ করি যে আমাদেরকে যেই যতটুকু শক্তি আল্লাহ দিয়েছেন প্রকৃতির উপরে, প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, সেই শক্তিটুকু হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তায়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া এবং এটুকু পেয়ে আমরা যখন গর্ভে উদ্ধত হয়ে পড়ি এবং আল্লাহর নির্দেশকে অমান্য করা শুরু করি, তখন আমাদের জন্য আসলে যখন শাস্তি আসবে তখন কোন সাহায্যকারী থাকবে না।

স এই যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তিকে আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন। এটা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা রহমা এবং আমাদের নিজস্ব কোন শক্তি নাই। আমাদের নিজস্ব কোন পাওয়ার বা স্ট্রেন্থ নাই এগুলো করার জন্য। এই সমস্ত কিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া আমাদের প্রতি একটা রহমত। এবং এখানেই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলে দিচ্ছেন আমাদেরকে যে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন রিয়েলিটির দিকে। যে সঠিক অবস্থার দিকে যে এই যে জার্নিগুলোর কথা বলা হয়েছে বা যে নেয়ামতগুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত মানুষ যদি আল্লাহর এগুলোকে কন্ট্রোল না করতেন বা আল্লাহ এই সুযোগটুকুকে সুযোগটুকু মানুষের জন্য না দিতেন।

স আল্টিমেটলি আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানা তাআলার যে শক্তি, সে শক্তির প্রকাশ এখানে ঘটছে এবং সেই শক্তির প্রকাশ করে আল্লাহ আমাদেরকে আসলে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে আমাদের কতটুকু কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত আল্লাহ সুবহানা তাআলার নিকট।

এখানে আমরা দেখি ইন্টারেস্টিং যে জিনিসটা একটু গ্রামাটিক্যাল যে দিক রয়েছে সেখানে আমরা দেখি আল্লাহ বলছেন, "ইল্লা রহমাতাম মিন্না।" এখানে বলা হচ্ছে এই যে রহমা বা আল্লাহর যে দয়া, সে দয়াটি এসেছে মিন্না আমাদের থেকে। এখানে আমরা যদি কোরআনের অন্য আয়াতের সাথে মিলাই যেমন সূরা কাহাফের 65 নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে, "রাহমাতম দিনা" যে আমাদের কাছ থেকে। তারপর সূরা আম্বিয়াতে আমরা দেখি বলা হচ্ছে, "রহমাতাম মিনদিনা" যে আমাদের কাছ থেকে। এখানে মিনদিনা বলা হয়েছে। কিন্তু এই আয়াতের মধ্যে সূরা ইয়াসিন আয়াতের মধ্যে আমরা দেখি, "রহমাতা মিন্না" বলা হয়েছে।

আল্লাহ যখন রহমাত মিন ইন্দিনা বলেন, তখন সেটা আমরা দেখি যে এই সূরা কাহাফে যখন ব্যবহার করা হয়েছে, তখন সেইটা ব্যবহার করা হয়েছে খিজির আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করার জন্য। আবার যখন আমরা দেখি সূরা আম্বিয়াতে, সেটা দেখি আইয়ুব আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করার জন্য। এবং এখানে দুইজনই হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা খুব পছন্দের বান্দা ছিলেন। আমরা কোরআনের মধ্যে দেখি যে যখনই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার পছন্দনীয় বান্দা ওলি বা নবীদের কথা বলছেন, সেই সময় আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে, "মিনইন্দিনা" আমাদের কাছ থেকে।

সো এইখানে আল্লাহ যে স্পেসিফিক শব্দটা ব্যবহার করছেন, সেটা দিয়ে আসলে আল্লাহর যে স্পেশাল গিফট, সেটা উনি বুঝাচ্ছেন যে এই নবীদের জন্য বা তার পছন্দনীয় বান্দাদের জন্য হচ্ছে এই স্পেশাল গিফট হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং সেই জন্যই মিন ইন্দিনা শব্দটা বলা হয়েছে। আর যখন মিন্না বলা হচ্ছে, তখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সরাসরি আমাদের কাছ থেকে বলছেন। এটা ব্যবহার করা হয় যখন জেনারেল পিপল অথবা অবিশ্বাসীদের কথা বলা হয়ে থাকে এবং সেখানে আল্লাহ বলছেন যে, এই এদের জন্য যখন উল্লেখ করা হচ্ছে, তখন তিনি এভাবে জিনিসটা বুঝাচ্ছেন যে তাদেরকে এত নেয়ামত দেওয়ার পরও তারা কৃতজ্ঞ হয় না, বরং তারা অকৃতজ্ঞের মত আল্লাহর নির্দেশের বাইরে কাজ করছে, তখন সেই তাদের কথা উল্লেখ করতে যেয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদেরকে আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট করেন না। ইন্দ শব্দটা বলেই মানে হচ্ছে সঙ্গী বা সাথে। সো সেই শব্দটা সেখানে ব্যবহার করেন না।

তো এই যে লিটল বিট অফ ডিফারেন্স কোরআনের মধ্যে আমরা দেখতে পাই যে শব্দচয়নের মধ্যে, সেটা দিয়েও বুঝা যায় যে আল্লাহ সুবহানা তাআলা আসলে কার উপরে সন্তুষ্ট রয়েছেন এবং কাদের উপরে তিনি অখুশি হয়েছেন।