Transcription
তারপরে আমরা দেখি আল্লাহ বলছেন, "ওসারাহুম আসারা"। আসারা শব্দের অর্থ হচ্ছে ফুটস্টেপ, অর্থাৎ ফুটপ্রিন্ট, পায়ের চিহ্ন। এখানে আল্লাহ বলছেন যে তাদের তারা যা কিছু করছে এবং যা কিছু পিছনে ফেলে আসছে, তাদের যে পায়ের চিহ্ন দিয়ে তারা তাদের লাস্টিং এফেক্ট বা রিমেনিং এফেক্ট যেটা আছে, সেটার কথা এখানে বলা হচ্ছে আসারা বলতে।
সো, মূলত আমরা এখানে কি বুঝি সেটা আমরা সূরা সূরাতে দেখতে পাই যে, যে কেউ পরকালে ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না। তাহলে আমরা দেখি যে আমরা দুনিয়ার জন্য যখন কোন কাজ করি, সেটার ফলাফল দুনিয়াতেই কিছুটা পেয়ে যাই। আখেরাতে আমাদের জন্য কিছু থাকে না। কিন্তু যখন আমি আখেরাতের জন্য কাজ করি, তখন সেই ফসলটা বাড়িয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমার জন্য সে বাড়ানো ফসলটাই পাঠিয়ে দেন আখিরাতের হিসাবনামার জন্য।
এখানে আমরা দেখি আল্লাহ বলছেন, "মানকানাদ আখিরাত"। যে হচ্ছে নিয়ত করে যে আল্লাহ বলে না, এই যে "মান কানামিলা" যে সে কাজটা করে ফেলে, বরং আল্লাহ বলছেন যে সে শুধু ইনটেন্ট করছে, সে শুধু নিয়ত করছে, সে শুধু ইরাদা আজ তার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে এটা করার জন্য। একটা গুড ইনটেনশনের যে প্রভাব আমরা দেখতে পাই যে, সেটাই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কত বেশি পছন্দ করেন। একজন ঈমানদারের ভালো ইনটেনশন, সৎ নিয়ত হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটাই হচ্ছে আমাদের জন্য বিরাট রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারে।
সো, এখানে আমরা দেখি যে তার নিয়তটা হচ্ছে তার জন্য বিরাট রেজাল্ট নিয়ে আসছে এবং আসারা হচ্ছে একচুয়াল গুড ডিড যেটা হচ্ছে সে নিয়তের উপরে প্রতিষ্ঠিত। এটা একটা অর্থ হতে পারে। সেকেন্ড যে জিনিসটা সেটা বলা হয়েছে যে, মাকদ্দাম হচ্ছে একচুয়াল গুড্ডিড, যেটা ব্যক্তি নিজে করে। আর আসারা হচ্ছে যেটা সে তার এই গুড্ডিড দিয়ে অন্যদেরকে উৎসাহিত করল। সো, এটা হচ্ছে তার কাজের যে প্রভাবটা সেটা আসারা হতে পারে। স, তাদের কাজের যে প্রভাব সেটা মানুষের মধ্যে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে সেটা হচ্ছে আসারার অর্থ।
যেমন একটা হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন যে, তোমাদের মধ্যে তোমরা তোমাদের পিছনে যা রেখে যাও তার মধ্যে বেস্ট জিনিস হচ্ছে যেটা হচ্ছে সুসন্তান যে তোমার জন্য দোয়া করবে, তোমার হচ্ছে চ্যারিটি বা সাদাকা যেটা হচ্ছে যেটা পুরস্কার তুমি অনগোইং পেতে থাকবা এবং জ্ঞান এমন জ্ঞান যেটা হচ্ছে তোমার পরেও সেটার উপরে মানুষ জ্ঞানের উপরে তার কাজ করতে থাকবে। এই তিনটা জিনিসই হচ্ছে আমাদের জন্য সাদাকায়ে জারিয়া হয়ে যায়। অর্থাৎ মৃত্যুর পর আমাদের সব কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও এই তিনটার ফলাফল আমাদের আমলনামার মধ্যে লিখা হতেই থাকে। এটা হচ্ছে আসারা যে আমার এই কাজের যে ফলাফল আমার মৃত্যুর পরেও লিখা হতে থাকবে সেটাকে আসারা বলা হতে পারে।
আবার আরেকটাই দেখি আমরা যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন যে, সাতটা কাজ আছে এমন যখন আল্লাহর বান্দা সেগুলোকে কন্টিনিউ করে, তাহলে তার মৃত্যুর পরেও হচ্ছে সেটার জন্য সেটা ফলাফল সে পেতে থাকবে। ইভেন সে যখন কবরে থাকে তখনও সেটা হচ্ছে যে জ্ঞান বিতরণ করা, একটা খাল খনন করা, কূপ খনন করা, তারপরে হচ্ছে খেজুর গাছ লাগানো, মসজিদ নির্মাণ করা, কোরআনের কপি দেওয়া, কোরআন মানুষকে দেওয়া এবং সুসন্তান রেখে যাওয়া যে তার জন্য দোয়া করবে।
সো, আমরা এখানে দেখি যে অনেকগুলো আমলের কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন। যে আমলগুলোর ফলাফল আমাদের মৃত্যুর সাথেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না, বরং সেটার ফলাফল কন্টিনিউ হচ্ছে। যেমন ইবনে মাজার আরেকটা হাদিসে বলা হয়েছে, সেখানে ছয়টা কাজের কথা বলা হয়েছে। যেগুলো আমার মৃত্যুর পরেও জারি থাকবে। সেটা হচ্ছে সঠিক জ্ঞান, সুসন্তান যে হচ্ছে দোয়া করবে, কোরআনের কপি, মুসাফিরদের জন্য জায়গা তৈরি করে দেওয়া, কুপ খনন করা, মানুষের জন্য পানি এভেলেবল করে দেওয়া এবং চ্যারিটি দেওয়া আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য। এই প্রত্যেকটা কাজই আমরা দেখি যে মৃত্যুর পরে আমাদের জন্য ফলাফ ফল নিয়ে আসতে পারে এবং সেই ফল হচ্ছে আমাদের জন্য আসারা হিসেবে কাজ করছে।
এখানে আমরা দেখি যে কুরতুব রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে, এই আসারা বলতে যে থ্রেস বা পদচিহ্নের কথা বা পরবর্তী এফেক্টের কথা বলা হয়েছে, সেটা হচ্ছে সেই ধরনের কাজ যে কাজগুলো হচ্ছে থেকে যায় এবং তার মৃত্যুর পরও যেগুলো স্মরণ করা হয়, সেটা ভালো অথবা খারাপ। সো, মানুষ যদি ভালো কিছু করে থাকে তাহলে সেটার জন্য পুরস্কার পাবে। এটা হতে পারে যে তার জ্ঞান হতে পারে, যে একটা বই হতে পারে, যে মসজিদ ব্রিজ যাই সে নির্মাণ করেছে। তেমনিভাবে তার খারাপ কাজেও হচ্ছে। সে যদি কোন খারাপ কাজ খারাপ শুরু করে থাকে, সেটা প্র্যাকটিস করে থাকে তাহলে সেটা মানুষের মধ্যে থেকে গেলে সেটার জন্য তার আমলনামায় শাস্তি লেখা হতে থাকবে।
সো, স্কেয়ারি যে আমরা যখন কোন কথা বলি, কাজ করি সেগুলোর ব্যাপারে আমাদেরকে আসলে কত বেশি কেয়ারফুল হতে হবে সেটা আমরা দেখি যে সেটার কনসিকুয়েন্স কি হচ্ছে, সেটা মানুষের মধ্যে কি ধরনের প্রভাব বিস্তার করছে, সেটার ফলাফল আমার আমলনামার মধ্যে লিখা হতে থাকবে।
সো, হাদিসে এসেছে রাস এখানে আরেকটা তাফসীকারী এসেছে যে তিনি বলেছেন যে, এই আহসারা হচ্ছে অর্থ হচ্ছে যে ভালো কাজ যেমন জ্ঞান অর্জন করা এবং যেটা মানুষকে সে দান করে, তারপরে হচ্ছে যা হচ্ছে আল্লাহর পথে ব্যয় করা হয় এবং ফরগটেন সুন্নাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের কিছু সুন্নাহ যেগুলো আমরা ভুলে গিয়েছি সেগুলা এবং ভালো পথ যেটা হচ্ছে মানুষকে আমরা দেখিয়ে দিতে পারি। এ সমস্ত কিছুই হচ্ছে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর খারাপ কাজ বলতে বুঝানো যায় যে, এমন একটা নিয়ম প্রচলিত করে দেওয়া যেটা হচ্ছে মিথ্যার উপরে প্রতিষ্ঠিত, কোরআন সুন্নাহ দিয়ে প্রমাণিত না, অবিচার করা, কাফেরদেরকে সাহায্য করা অথবা ইনোভেশন বা বিদাত শুরু করা। এ সমস্ত কিছুই হচ্ছে খারাপ কাজের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
তো এখানে একটা জিনিস আমরা দেখি যে ফরগটেন সুন্নাহ যে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের অনেক সুন্নাহ রয়েছে যেগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম পালন করতেন কিন্তু আমরা ভুলে গিয়েছি, আমরা সেগুলো রেগুলার করি না। এ ব্যাপারে একটা হাদিস আছে যেখানে বলা হয়েছে যে, যে একটা সুন্নাহকে রিভাইভ করবে যেটা মানুষ ভুলে গিয়েছে আমার মৃত্যুর পরে, তার পুরস্কার হবে ইকুইভালেন্ট টু দ্যাট অফ দা পিপল একটা আপনেট যে সে যে কাজটা করছে এই সুন্নাহটা শুনে তাহলে তার আমলনামা তার যে সওয়াব সেটাও তার আমলনামার মধ্যে লিখা হতে থাকবে।
সো, কি ধরনের সুন্নাহ ফরগটেন সেখান থেকে আমরা যদি দেখি তাহলে একটা দেখব যে সব কাজ যে কোন কাজ শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলা। এটা হয়তোবা আমরা মাঝে মাঝে করি। খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলতে হয় কিন্তু সব কাজের সময় হয়তোবা আমাদের খেয়াল থাকে না। যেটা রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম করতেন। আরেকটা জিনিস যেটা মিসওয়াক করা, যেটা আসলেই হয় না আমাদের। সেটা হচ্ছে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম দিনে কয়েকবার করে মিসওয়াক করতেন। নামাজের আগে তিনি মিসওয়াক করতেন। তো এটা আসলে যে কত ইকোফ্রেন্ডলি, কত আমাদের যে হাইজিনের জন্য কত ইম্পর্টেন্ট সেটাও আমরা দেখতে পাই। তো সেটা হচ্ছে আরেকটা ফরগটেন সুন্নাহ। কাউকে প্রথমে সালাম দেওয়া। আমরা বসে থাকি কে আমাকে সালাম দিবে সেটার জন্য উত্তর দেওয়া। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সবার আগে সালাম দিতেন। ডানদিকে কাঁধ হয়ে ঘুমানো। তারপরে হচ্ছে ডান হাত দিয়ে খাওয়া। মানুষের সাথে খাবার শেয়ার করা, ঘুমানোর আগে অযু করা।
আরেকটি ইম্পর্টেন্ট জিনিস যেটা যে মৃত্যুর আগে আমরা হচ্ছে নিজেদের উইল লিখে যাওয়া। যেটা রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। এটাই আমরা অনেকেই করি না। যে জীবদ্দশায় নিজের উইল লিখে যাওয়া। তারপরে হচ্ছে অন্যদেরকে যাকে আমি ভালোবাসি তাকে আসলে জানানো যে আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য তাকে আমি ভালোবাসি। সন্ধ্যাবেলা মাগরিবের সময় হচ্ছে বাইরে না যাওয়া। খাবারের পাত্র হচ্ছে ঢাকনা দিয়ে রাখা। তারপরে হচ্ছে বৃষ্টির সময় গা ভিজানো এটা হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের পছন্দের একটা ইবাদত ছিল। গুনাহ থেকে তওবা করে দুই রাকাত নামাজ পড়া। পানি খাওয়ার সময় তিনবারে খাওয়া। এগুলো হচ্ছে ছোট ছোট জিনিস কিন্তু এগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম পালন করেছেন এবং এগুলো আমাদের জন্য আসলে হেল্পফুল এবং আমাদের আমরা সেগুলো হচ্ছে বেশি বেশি করে প্র্যাকটিস করতে পারি।
হাদিসে এসেছে যে, একটা ভালো কাজ শুরু করে সে সেটা পুরস্কার পাবে এবং তারপরে যে এই কাজগুলো করতে থাকবে সেটার পুরস্কারও সে পাবে। কিন্তু যে করছে তার পুরস্কার কিন্তু একটু কম হবে না। তেমনিভাবে খারাপ কাজের জন্য এটা প্রযোজ্য। সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এখানে যে নির্দেশগুলো দিচ্ছেন সেগুলো যে কত গভীর আমরা এটা দেখতে পাই যে এখানে এই 12 নাম্বার আয়াতের এই একটু অংশের মধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের আমল, আমাদের আমলের যে এফেক্ট কন্টিনিউয়াসলি চলছে এবং সেটার যে রেজাল্ট আমাদের আমলনামায় লেখা হচ্ছে এ সমস্ত কিছু হচ্ছে লিপিবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সেটা ভালো হতে পারে খারাপ হতে পারে। যে কিভাবে আমি সেটা করছি, কিভাবে আমি সেটাকে নিচ্ছি সেটা আমাকে খেয়াল করতে হবে এবং আমার আমলনামাকে আমি কিভাবে সাজাচ্ছি সেটার প্রতিও আমাকে মনোযোগী হতে হবে।