Transcription
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।
লাশ সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রে অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।
40 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানা তাআলা সূর্য এবং চন্দ্র তার সাথে দিন এবং রাতের যে সম্পর্ক সেই ব্যাপারে এখানে আমাদেরকে জানিয়েছেন। লাশামসু। আশশামসু হচ্ছে সূর্য। লা ইয়ানবাগী। তার মানে হচ্ছে ইয়ানবাগী শব্দটাকে এখানে নেগেটিভ বলা হয়েছে যে ইয়ানবাগী শব্দের অর্থ হচ্ছে কোন কিছু এপ্রোপ্রিয়েট হওয়া কোন কিছুকে পারমিশন দেওয়া অনুমতি দেওয়া স লা ইয়ানবাগি তার মানে হচ্ছে এটা সূর্যের জন্য এপ্রোপ্রিয়েট না য সূর্যের জন্য এটা যৌক্তিক না অথবা সূর্যকে সেই পারমিশন দেওয়া হয়নি যে এটা কি করবে আনতুদ্রিকল কামারা স এখানে সূর্য চন্দ্রকে পার হয়ে যাওয়ার জন্য যে সুযোগটুকু দরকার সেটুকু সেটাকে দেওয়া হয় নাই। এখানে তুদ্রিকা বলা হয়েছে। স আদারকাই এখানে সেটা থেকে অর্থ হচ্ছে কোন কিছুকে ওভারটেক করা। কোন কিছুকে ধরে ফেলা। সেটাকে হচ্ছে বুঝানো হচ্ছে এখানে। তাহলে সূর্যকে সেই ধরনের অনুমতি দেওয়া হয় নাই যে এটা আল কামারা চাঁদকে ধরে ফেলবে। তার মানে হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানা তাআলা যেই নিয়মে সমস্ত কিছুকে সেটআপ করে রেখেছেন সেখানে সূর্য কখনো চাঁদের আগে যাবে না এবং চাঁদ কখনো সূর্যের আগে যাবে না। স ওই ধরনের পারমিশন দেওয়া হয় নাই। অর্থাৎ তাদের জন্য এটা এপ্রোপ্রিয়েট না। তাদেরকে যেই নিয়মে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তৈরি করে দিয়েছেন, যে নির্দেশ দিয়েছেন সেই নির্দেশটাই তারা কনস্ট্যান্টলি পালন করে যাচ্ছে।
স এখানে দিন এবং রাতের যেই ফেনোমেনা আল্লাহ সুবহানু তায়ালা বলে দিয়েছেন যে সবসময় এত সুন্দরভাবে সমন্বিত হচ্ছে কেন? কারণ হচ্ছে সূর্য এবং চাঁদকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে নির্দেশ দিয়েছেন সেই নির্দেশ মানতে তারা বাধ্য এবং আল্লাহর নির্দেশে এ সমস্ত কিছু সম্পাদিত হচ্ছে।
তারপরে বলা হচ্ছে এখানে ওয়াল্লাইলু যে আল্লাইল হচ্ছে রাত। রাত কি করে না? সাবিক। সাবিয়াক শব্দের অর্থ হচ্ছে টু রান এওয়ে। যেকোন কিছু থেকে দূরে সরে যাওয়া। সো সেটা শুধুমাত্র যে কোন অগ্রসর হওয়া সেটা না বরং দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া দূরে সরে যাওয়া সেটাকে বুঝানোর জন্য সাবিক শব্দটা বলা হয়ে থাকে রাত্রে যেটা হয়ে থাকে যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এই রাতের জন্য এই ছুটে চলে যাওয়াটাকে নিষেধ করে দিয়েছেন দিনের আগে সো রাত এবং দিন সেটাও হচ্ছে তাদের নির্দিষ্ট টাইমে হচ্ছে তাদের যে গতিপথ বা তাদের যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা তারা ফলো করছে। সূর্যের তার নিজস্ব সময় রয়েছে চাঁদের নিজস্ব সময় রয়েছে এবং প্রত্যেকের জন্য যে সেট টাইম সেট টাইমের বাইরে কেউই যেতে পারে না। সেখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে সূর্য চাঁদকে ধরতে পারে না এবং চাঁদও সূর্যকে ধরতে পারে না। একটা আরেকটাকে অতিক্রম করে অতিক্রম করে না। এখানে সূর্যকে হচ্ছে আমরা ডমিনেটিং ফিগার হিসেবে দেখতে পাচ্ছি এবং এখান থেকে আমরা জানতে পাচ্ছি যে আমরা যদি অস্ট্রোনমিক্যালিও চিন্তা করি তাহলে চাঁদ এখানে রয়েছে কিন্তু সূর্য হচ্ছে আমাদের সোলার সিস্টেমের সেন্টার এবং এটা এত বেশি পাওয়ারফুল যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই সূর্যের আলোকে চাঁদকে আলোকিত করছেন। কিন্তু তার মানে এই না যে এত শক্তি আছে দেখে সে চাঁদকে ওভারটেক করবে। সো সবাই সবার যেই সীমা সেটা তারা জানে এবং সেটাকে ফলো করে চলছে দেখেই আমরা প্রকৃতিতে কোন ধরনের সংঘর্ষ দেখতে পাই না।
তাহলে এ থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আল্লাহ সুবহানা তাআলার যে অপরিসীম শক্তি সে শক্তির কারণেই সূর্য এবং চাঁদ দিন এবং রাত তারা হচ্ছে নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলছে। তাদের জন্য যেই কাজ নির্ধারিত করা হয়েছে সেটা তারা করে যাচ্ছে। সো প্রত্যেকটা সৃষ্টির জন্যই এটা আসলে ঠিক যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্ধারিত সীমা কেউই অতিক্রম করতে পারে না। এর মধ্যে আমরা শুধু দেখি মানুষ এবং জিন জাতির কথা যে তাদেরকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দেওয়ার কারণে তাদেরকে আল্লাহ পছন্দ করার শক্তি দিয়েছেন কিন্তু তাদেরকে কিন্তু নির্দেশ দেন নাই। তাদের যে সীমা সেটা অতিক্রম করার জন্য যখনই মানুষের সীমা অতিক্রম করে তখনই দেখা যায় যে তাদের যে স্বাভাবিক যেই চিন্তাশক্তি ক্ষমতা বা ন্যাচারে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তৈরি করেছেন সেটা বাইরে চলে যায় এবং সেটাই তার জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে পড়ে।
তারপরে আল্লাহ সুবহানাতালা যে কথাটি এখানে বলেছেন তাহলে সবকিছুই কি করছে ফালাক ফালাক শব্দের অর্থ বলা হয়েছে যে এটা একটা প্যাটার্ন অথবা একটা সিস্টেম লাইক অরবিটাল পাথ যে একটা চক্রাকারে যে রাস্তা সেই রাস্তাকে বুঝানো হচ্ছে সো এটা ফালাক শব্দের আরেকটা অর্থ হচ্ছে জাহাজ শিপ সো জাহাজ যখন সমুদ্রে যায় তখন তাদের একটা সেট রাস্তা থাকে, রুট থাকে এবং সেই রুটটাকে বুঝানোর জন্যই এই ফলাক শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। স এখানে বলা হচ্ছে যে প্রত্যেকটা জিনিস কি করছে তার জন্য যে নির্ধারিত রাস্তা রয়েছে অথবা এটাকে ফালাক শব্দ দিয়ে আসলে ফুল সার্কেল বুঝানো হয়ে থাকে যে একটা কমপ্লিট সার্কুলার মুভমেন্টকে ফালাক বলে বুঝানো হয়ে থাকে। প্রত্যেকেই কি করছে? ফালাকিন ইয়াসবাহন। এখানে আমরা দেখি যে ইয়াসবাহন শব্দটা বলা হয়েছে। সাবাহা থেকে সাবাহা শব্দের অর্থ আমরা আগেই জেনেছি সাবাহা শব্দের অর্থ হচ্ছে সাতার কাটা। এটাকে প্রেজেন্ট টেন্সে বলা হয়েছে। তার মানে হচ্ছে যে প্রত্যেকটা জিনিসই হচ্ছে প্রতিনিয়ত এই কাজটা করে যাচ্ছে। কনস্ট্যান্টলি তারা এটা করছে। এই প্রেজেন্ট টেন্স দিয়ে আমরা বুঝতে পারছি। এবং এই সুইমিংটা বা তাদের এই যে সাতার গেটে এগিয়ে যাওয়া এটা হচ্ছে একটা রেগুলার এবং কনস্ট্যান্টঅকশন। স তারা তাদের সেট পাথের মধ্যে থাকবে। তাদের নির্ধারিত রাস্তা সে রাস্তায় একটা জাহাজ যেভাবে এগিয়ে যায় নির্দিষ্ট গতিপথ ধরে তেমনিভাবেই মহাশূন্যে তারা সেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সো এই ইয়াসবাহন শব্দটি দিয়ে বুঝানো হয়ে থাকে যে একটা স্মুথ গ্রেসফুল মুভমেন্ট স্পেসের মধ্যে সংঘটিত হচ্ছে এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সূর্য এবং চাঁদের জন্য এই শব্দটাই এখানে ব্যবহার করছেন যে তারা এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং কোরআনে বারবার আমরা এই এক্সাম্পলগুলো আসতে দেখি এবং এই যে মুভমেন্টটা এটাই হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাু তায়ালার সুপারপাওয়ারের একটা নিদর্শন আমাদের জন্য এবং আল্লাহ সুবহানাু তায়ালা এর মাধ্যমে আমাদেরকে দিন রাত এবং বর্ষ গণনা করা মাস গণনা করার সময় হিসাব রাখার একটা সুযোগ তিনি আমাদেরকে করে দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে আমরা দেখি যে কোরআনে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা যখন সূর্যের পরিচয় দিয়েছেন তখন সূর্যকে বলা হচ্ছে একটা রেডিয়েন্ট সোর্স সিরাজ ওয়াহাজ দিয়া এই নামে তিনি সূর্যকে পরিচিত করেছেন আমাদের সামনে আবার চাঁদকে যখন তিনি পরিচিত করেছেন তখন খন তা সেটাকে লাইট অথবা নূর হিসেবে করেছেন। যেটা হচ্ছে রিফ্লেক্টেড এবং অনেকটা স্নিগ্ধ একটা আলো। তো এখানে আমরা দেখি যে সূর্যের যে গতিপথ সেই গতিপথটা তার নিজস্ব গতিপথে আমাদের মিল্কওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যে সে যেভাবে রয়েছে সেভাবে সেই পথটা সে কন্টিনিউয়াসলি ফলো করে যাচ্ছে এবং এই যে চলার পথ সূর্য তার নিজস্ব পথে চলছে চাঁদ তার নিজস্ব পথে চলছে এবং কমপ্লিট একটা সার্কেল তারা প্রতিনিয়ত ফুলফিল করতে পারছে।
আদ্দাহাক রহমতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে রাহাত চলে যায় না এখান থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত দিন আসে এবং তিনি তখন পূর্ব দিককে নির্দেশ করে এ কথাটা বলেছিলেন। মুজাহিদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন সাবিক নাহার যে তারা একজন আরেকজনকে খুঁজতে থাকে খুব দ্রুত গতিতে এই অর্থগুলো তারা প্রকাশ করেছেন এই আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা সবাই সাদায় কাটতে একটা অরবিটে একটা গতিপথ ধরে এখানে বলা হয়েছে রাত এবং দিন চাঁদ এবং সূর্য সবাই হচ্ছে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে তাদের নিজস্ব গতিপথে সেই স্পেসের মধ্যে মহাশূন্যের মধ্যে। আবার আমরা দেখি যে এই সেন্টেন্সের অর্থ হিসেবে তাফসীকারগণ বলেছেন দুইটা অর্থ রয়েছে এবং দুইটাকেই আমরা কারেক্ট হিসেবে নিতে পারি একটা হচ্ছে যে সূর্যের সে শক্তি নাই যে এটা চাঁদকে কে নিজের মধ্যে নিয়ে আসবে অথবা চাঁদের যে গতিপথ সেটার মধ্যে ঢুকে যাবে অথবা এর সাথে সংঘর্ষ করবে। আর সেকেন্ড যে অর্থটা সেটা হচ্ছে যে সূর্য তার জন্য সূর্যোদয়ের জন্য সূর্যাস্তের জন্য যে সময় নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে এর বাইরে সে যেতে পারে না। সো এটা এমন না যে হঠাৎ করে সূর্য কোন এক জায়গা থেকে উদয় হয়ে যাবে এবং চাঁদ যেকোন জায়গা থেকেই আমাদেরকে আলো বিকিরণ করবে। বরং প্রত্যেকের জন্য আল্লাহ সুবহানা তাআলা নির্ধারিত রাস্তা নির্ধারিত সময় রেখে দিয়েছেন এবং সেই পথ তারা অতিক্রম করছে প্রতিনিয়ত। সো এখানে আল্লাহ সুবহানা তাআলার যে কন্ট্রোল রয়েছে প্রত্যেক মহাসূন্য প্রত্যেকটা বিষয়ের উপরে প্রত্যেকটা জিনিসের উপরে এবং কোন জিনিসই হচ্ছে তাদের যে নির্ধারিত গতিপথ সে গতিপথ থেকে দূরে সরে যেতে পারে না সেটাই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। সো সাইন্স যত ইম্প্রুভ হচ্ছে আমরা সাইন্টিফিক যে এর যে সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে মূল বিষয়বস্তুটা অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছেন।
এবং এখানে বলা হয়েছে যে তারা তাদের যে গতিপথ সেই হাসান রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে সূর্য চাঁদ এবং অন্যান্য নক্ষত্র তারা হচ্ছে আকাশ এবং পৃথিবীর মাঝখানে তাদের যে চলার পথ রয়েছে সেখানে তারা চলমান এবং তারা কোন কিছুর সাথেই ফার্মলি ফিক্স না। সো তারা যদি কোন কিছুর সাথে ফিক্স থাকতো তাহলে তারা কখনোই মুভ করতে পারতো না। সো এর যে অবজেক্টিভ হিসেবে তাফসীকারগণ বলেছেন এই আয়াতের যে আমাদেরকে দেখানো আল্লাহর যে শক্তি আল্লাহর যে সামর্থ্য রয়েছে প্রত্যেকটা জিনিসের উপরে সেটাই তিনি আমাদেরকে এখানে বুঝিয়ে দিচ্ছেন এবং তারা তাদের কখনোই তারা সেই সীমা অতিক্রম করে কোথাও যায় না এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালার পাওয়ারই তাদের উপরে সবচেয়ে বেশি কার্যকর এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এটাও আমাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছেন যে প্রত্যেকের নিজস্ব রেসপন্সিবিলিটি রয়েছে। সূর্য যদি তার গতিপথে এভাবে না চলতো তাহলে আমরা যেমন দিনের হিসাব রাখতে পারতাম না। চাঁদ যদি না ঘুরতো তাহলে আমরা হচ্ছে এই রাতের অবস্থান দেখতে পেতাম না। আবার পৃথিবী যদি তাদের নিজস্ব গতিপথে না ঘুরতো তাহলেও আমরা এই দিন-রাত বা সৌরবর্ষ যেটা সেটা আমরা দেখতে পেতাম না। সো প্রত্যেকে প্রত্যেকের রেসপন্সিবিলিটি যেভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেট করে রেখেছেন সেটা পালন করছে দেখেই হচ্ছে পুরো বিশ্ব ব্রহ্মান্ড এত সুন্দরভাবে চলছে। সো এখানে যদি একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতো সে করলে আমি করব তাহলে কিন্তু কোন কাজ শেষ হতো না। তো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা যেই সিস্টেম আমাদেরকে তৈরি করে দিয়েছেন আমরাও যদি ঠিক সেইভাবে আমাদের দায়িত্বগুলো পালন করি তাহলে প্রত্যেকটা জিনিসই আসলে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। অন্যজন করে নাই কেন? সেজন্য আমি করবো না সেটা বলার কোন সুযোগ নাই। কারণ আমাকে আমার নিজের রেসপন্সিবিলিটি দিয়ে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তৈরি করেছেন। তো আমরা যদি এই যে গতিপথের যে এই ছবি আমরা দেখতে পাই সেটার দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে আসলেই এই চক্রাকার পথ যেই পথটা হচ্ছে একটা রাউন্ড সার্কেল। বারবার তারা এই রাউন্ড সার্কেলটা কমপ্লিট করছে। এটাই তারা যুগে যুগে করে এসেছে। কখনোই এটার বাইরে কোন কিছু ঘটে নাই।
সূরা কসাসে আল্লাহ বলছেন বলুন ভেবে দেখে তো আল্লাহ যদি রাত্রিকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন তবে আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে যে তোমাদেরকে আলোক দান করতে পারে তোমরা কি তবুও কর্ণপাত করবে না। আবারও তিনি বলেছেন যে বলুন ভেবে দেখে তো আল্লাহ যদি দিনকে কেয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন তবে আল্লাহ পেতে তেমন উপাস্য কে আছে যে তোমাদেরকে রাত্রি দান করতে পারে যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে তোমরা কি তবুও ভেবে দেখবে না। অর্থাৎ আমাদেরকে আসলে চিন্তা করতে হবে রিফ্লেক্ট করতে হবে যত আমরা চিন্তা করব আল্লাহর সৃষ্টিগুলো নিয়ে আমরা তত বুঝতে পারবো আমাদের দায়িত্ব কি আমরা কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে চলবে না আমাদের প্রত্যেককে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন সেটা আমাদেরকে পালন করে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে।
এই আয়াতগুলোর সাথে আমরা যদি একটু স্পিরিচুয়ালি রিফ্লেক্ট করার জন্য চেষ্টা করি তাহলে দেখব যে এর আগে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আলোচনা করেছেন একজন ব্যক্তির সম্পর্কে যে হচ্ছে আমাদের মধ্য থেকে একজন মানুষ সে হচ্ছে মারা গিয়েছে এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তার হার্টকে এমনভাবে জীবিত করেছিলেন বা সজীব করে দিয়েছিলেন যে সে এন্টায়ার কমিউনিটির জন্য তার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে এগিয়ে এসেছিল। আর আল্লাহ এখানে মেনশন করছেন যে প্রত্যেকটা জিনিসই আল্লাহ সুবহানা তাআলা জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। সো এই দুনিয়ার জন্য আরেকটা জোড়া হচ্ছে আখিরা এবং আল্লাহ বলছেন এখানে যে আখিরাতে যা কিছু রয়েছে সেই জিনিসগুলোই হচ্ছে আমাদের জন্য বেটার। 87 নম্বর সূরার 17 নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে সে আখিরাতের জীবন হচ্ছে এই জীবনের চেয়ে উত্তম এবং সেটাই হচ্ছে মোর স্থায়ী।
আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম আমাদেরকে বলে দিয়েছেন যে এই দুনিয়াটা হচ্ছে মিষ্টি। এই দুনিয়াটা হচ্ছে সৌন্দর্য দিয়ে ভরে রাখা হয়েছে এবং এটা হচ্ছে এই সুইটং যে জিনিসটা যে জিনিসগুলো মিষ্টি সেগুলো তাড়াতাড়ি আসলে নষ্ট হয়ে যায়। সো এটা দুনিয়াটা এত মিষ্টি কিন্তু তারপরে হচ্ছে এটা খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। নষ্ট হয়ে যাবে এবং যে জিনিসগুলো আমরা সবুজ দেখি একসময় সেই জিনিসগুলো একসময় শেষ হয়ে যায়। সো এই দুনিয়ার জীবনেই আমাকে হচ্ছে আখেরাতের জন্য বীজ বপন করতে হবে যেন এখান থেকে যে ফসলটা আসবে সেটা ইটারনাল হয় সেটা স্থায়ী হয়ে থাকে আর আমাদের এই ঈমানের অপোজিট জিনিস কি রয়েছে ঈমান এর অপোজিট হচ্ছে কুফর খায়রের অপোজিট হচ্ছে ভালোর অপোজিট হচ্ছে খারাপ হকের অপোজিট হচ্ছে বাতিল শুকুরের অপোজিট হচ্ছে কুফর আমাদের বিনয়ের অপোজিশনে হচ্ছে গর্ব অহংকার সো আমাদেরকে এখন এখন আমরা যখন চয়েস মেক করবো তখন আমাদেরকে চুজ করতে হবে এই দুইটা দুই জিনিসের মধ্য থেকে যেকোন একটা এবং আমরা কোন জিনিস চুজ করছি সেটার উপরে ডিপেন্ড করবে যে আমরা আসলে কোন পথে পরিচালিত হচ্ছি।
90 নম্বর সূরার 10 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে আল্লাহ আমাদেরকে দুইটি রাস্তা সবসময় দেখিয়ে দিয়েছেন এবং কোন রাস্তাটা আমরা চুজ করব সেটা স্বাধীনতা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। তো প্রকৃতি থেকে এই উদাহরণগুলো আমাদেরকে বারবার দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে আসলে চিন্তা করার শক্তি দিচ্ছেন চিন্তা করার খোরাক দিচ্ছেন যে আমরা এখান থেকে চিন্তা করি যে আমরা কোন জিনিসটাকে প্রায়োরিটি দিব আমাদের ফিজিক্যাল লাইফকে না আমাদের স্পিরিচুয়াল লাইফকে আমাদের জান্নাতকে নাকি জাহান্নামের জন্য। সো এখানে আমরা যখন যারা মুসলিম তারা হচ্ছে অবশ্যই ইসলামের কারণে আমাদের জীবনটা আলোকিত সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এর সাথে সাথে আমরা দেখি যারা হচ্ছে এই আলোটা পায় নাই। সো তাদের জীবনে আমরা দেখি যে অস্থিরতা আর তাদের জীবনটা কেমন অন্ধকারে ঢাকা এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে যে গাইডেন্স দিয়েছেন সে গাইডেন্সের কারণে আমরা আমাদের জীবনটাকে আলোকিত করতে পারছি। যার মাধ্যমে আমরা দেখি আল্লাহ এখানে আমাদেরকে উদাহরণ দিয়েছেন যে আল্লাহ রাতের বুক থেকে দিনকে হচ্ছে দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন যাতে হচ্ছে আমরা বুঝতে পারি যে আসলে আমাদের কাছে কাছে যদি এই ইসলাম যদি না থাকতো তাহলে আমরা কতটুকু অন্ধকারের মধ্যে থাকতাম তারপর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই সৃষ্টি রহস্য নিয়ে আমাদেরকে চিন্তা করেতো বলছেন যে প্রত্যেকটা জিনিস তার সীমার মধ্যে রয়েছে প্রত্যেকটা জিনিস হচ্ছে আমার কমান্ড ফলো করছে তোমরা কেন করছো না। স এখানে মানুষকে হচ্ছে চিন্তা করতে বলছেন যে তোমাদেরকে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, ইন্টেলেক্ট দেওয়া হয়েছে, যেভাবে তোমাদেরকে সমস্ত নিয়ামত দেওয়া হয়েছে শুধু একটা কারণেই যেন তোমরা এই নির্দেশগুলো ফলো করো। অথচ তোমরা সে নির্দেশ ফলো করছো না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে তোমরা পাঁচটা জিনিসের আগে পাঁচটা জিনিসের গুরুত্ব উপলব্ধি করো এবং সেটাকে কাজে লাগাও। যদি আমরা এভাবে কাজে লাগাতে পারি তাহলেই দেখা যাবে যে আমাদের জীবনে সার্থকতা রয়েছে। যেমন বয়স্ক হওয়ার আগে বৃদ্ধ হওয়ার আগে আমাদের যে ইয়োথ বা শক্তিময় সময়টা আল্লাহ দিয়েছেন সেটাকে কাজে লাগাতে বলেছেন। অসুস্থ হওয়ার আগে আমাদের স্বাস্থ্য আমাদের গরীব হওয়ার আগে আমাদের যে ধনসম্পদ আল্লাহ দিয়েছেন কাজ করার ক্ষমতা যখন আমরা যখন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি সে ব্যস্ততার চেয়ে যখন আমাদের ফ্রি টাইম অবসরের সময় রয়েছে সেটাকে কাজে লাগানোর মৃত্যু আসার আগে আমাদের জীবনকে কাজে লাগানো। তো আমরা যদি সেটা আসলে সঠিকভাবে করতে পারি দেখা যাবে আমাদের আফসোস করার কোন সুযোগ নাই তো আমরা প্রত্যেকটা সময় হচ্ছে গাফলতিতে নিজেদেরকে এমনভাবে ভাসিয়ে দেই যে পরম মুহূর্তে আমরা হচ্ছে আফসোস করি কারণ আমরা আমাদের সুবর্ণ সময়গুলো হারিয়ে ফেলছি।
মুজাহিদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে এই যে চাঁদ সূর্য তাদের প্রত্যেকের একটা লিমিট রয়েছে যেটা তারা অতিক্রম করে না অথবা সেটা করার ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোন ধরনের গাফলতিও থাকে না। সো যার যখন সময় আসে সে এগিয়ে যায় এবং আরেকজন হচ্ছে পিছিয়ে পড়ে। সো তারা তাদের নির্দিষ্ট যে গতিপথ সেটাকে ফলো করে তাদের নির্ধারিত যে দায়িত্ব সেটাকেই পালন করে যাচ্ছে। সূরা আরাফে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলেছেন প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে তখন তারা না এক মুহূর্ত পিছে যেতে পারবে আর না এগিয়ে আসতে পারবে। আমাদের প্রত্যেকটা জিনিসই কিন্তু নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের আমরা যদি সেই সুযোগটাকে কাজে লাগাই তাহলে আমরা হচ্ছে সফল হব। আর না হলে আমাদের নাম ব্যর্থতার লিস্টে জমা হয়ে যাবে। সো আমাদের যা আছে যখন যেই অবস্থায় থাকি সেই সময় আমাদের সর্বোচ্চটুকু করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই হচ্ছে আমরা সেই সফলতা পেতে পারবো আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছ থেকে।
যখন সেই ফিক্স টাইম আমাদের জন্য চলে আসবে। যখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে আমাদের মিট করতে হবে তখন এই দুনিয়া ছেলে আমাদেরকে চলে যেতে হবে। কোন কিছুই সেটাকে বন্ধ করতে পারবে না। কোন কিছুই আমাদেরকে এই দুনিয়াতে চিরস্থায়ী করতে পারবে না। কারণ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেভাবেই আমাদের জীবনটাকে লিখে রেখেছেন। সো সবকিছু যেমন তার নিজস্ব গতিপথে সুন্দর সবলীল গতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদেরও উচিত আমাদের জন্য যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে দায়িত্ব পালন করে আমাদের জন্য যে সময়টুকু আল্লাহ সুবহানা তায়ালা দিয়ে দিয়েছেন সে নির্দেশ নির্ধারিত সময়কে ফুলে ফলে সুশোভিত করা যেন আমাদেরকে আফসোস করতে না হয়।