📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

[BANGLA LECTURE] Surah Ya Sin || Part 5: Ayah 3 || You Are not Alone, Muhammad SAW||

Straight Path13:37

Transcription

সূরা ইয়াসিন তিন নাম্বার আয়াত। ইন্নাকালামিনাল মুরসালিন। নিশ্চয়ই আপনি প্রেরিত রাসূলগণের একজন। আল্লাহ সুবহানা তায়ালা শপথ করেছেন কোরআনুল হাকিমের এবং তারপরে তিনি বলছেন, ইন্নাকা লামিনাল মুরসালিন।

এখানে আমরা দেখি, প্রথমে ইন্না দিয়ে শুরু হয়েছে এই আয়াতটি। ইন্না মানে হচ্ছে ইনডিড, নিশ্চিতভাবে। যেখানে কোন ধরনের সন্দেহ নাই এবং নিশ্চিত এর মধ্যে সত্য পুরোপুরি সত্য এবং এখানে কোন অসত্যের ছোঁয়া নাই সেটা বুঝানোর জন্য ইনডিড বলা হয়ে থাকে। সো, এটা হচ্ছে ট্রুথ এবং সার্টেনিটি কনফার্ম করে যে পরবর্তী যেই কথাটা বলা হয়েছে। সো, এখানে যেকোন ধরনের সন্দেহের অবসান ঘটিয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পরবর্তী যে কথাটা বলা হবে সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেওয়ার জন্য ইন্না দিয়ে শুরু করেছেন। এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে বলছেন যে কোন ধরনের সন্দেহ থাকা উচিত না যে যেই কথাটা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা পরবর্তীতে বলবেন সে কথার উপরে।

এবং এখানে ইন্নার পরে কা শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। কা হচ্ছে একটা প্রোনাউন, সর্বনাম এবং তুমি বুঝানোর জন্য। এবং এই তুমিটা কোরআন মাজিদে দেখা যায় যে যখন আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তুমি শব্দটি ব্যবহার করেছেন সেটা মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আ সাল্লামকে তিনি বলছেন যে নিশ্চিতভাবে তুমি লামিনাল মুরসালিন, যে তুমি হচ্ছ মুরসালিনদের মধ্য থেকে একজন। এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যেই ডিভাইন মেসেজ নিয়ে এসেছেন কোরআনের মাধ্যমে সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের ভূমিকা কি সেটা তিনি এখানে বলে দিয়েছেন।

সো, এভাবে বলার মানে এটা না যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের কোন সন্দেহ ছিল নবুয়ত নিয়ে। বরং আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এজন্য এটা বলছেন যাতে হচ্ছে যারা হচ্ছে শ্রোতা, যে অবিশ্বাসী কোরাইশরা, কাফেররা হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামকে বিভিন্নভাবে হানস্তা করছিল। তার নবুয়ত নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা রুটিয়ে দিচ্ছিল। সে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম যে কথাগুলো বলছেন সেগুলো তার নিজের কথা, কবি অথবা গণক বা জাদুকর হিসেবে বিভিন্নভাবে তাকে খাট করার চেষ্টা করছিল। আল্লাহ সুবহানা তাআলা সে সমস্ত কথাকে এখানে নালিফাই করে দিয়ে তিনি বলছেন যে তুমি হচ্ছ মেসেঞ্জারদের মধ্য থেকে একজন।

স, এইটা এই কথাটা কনফার্ম করার জন্যই আমরা দেখি যে প্রথমে শপথ করেছেন তিনি কোরআনুল হাকিমের এবং তিনি বলেই দিচ্ছেন যে কোরআনুল হাকিম যে এটাতে যেমন যে কোন কথা অসত্য নয় এবং এখানে হচ্ছে সমস্ত ধরনের ওয়াইস কথা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা নিয়ে এসেছেন। সো, তার মধ্যে একটা হচ্ছে এটা যে এটাই অবভিয়াস প্রুফ যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম যে আল্লাহর একজন নবী, একজন রাসূল কারণ এটা কোরআনের মধ্যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলে দিয়েছেন। সো, যখনই আমরা কোরআনকে কোরআনের কথাকে আসলে বুঝতে পারবো এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনের মাঝে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কাফেরদের জন্য যে যদি তোমরা মনে করো এটা মানুষের বানানো কোন কথা তাহলে তোমরা এর মধ্যে একটা সূরা বানিয়ে আনো অথবা হচ্ছে একটা আয়াত হলেও তোমরা বানিয়ে নিয়ে আসো যে চ্যালেঞ্জের জবাব তারা দিতে পারে নাই, তখনো পারে নাই এবং কখনোই পারবে না। সেই কোরআনকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আল হাকিম বলে তিনি বলে দিয়েছেন যে সেই সেই উইজডমপূর্ণ কোরআনের একটি কথা হচ্ছে তুমি হচ্ছে রাসূলদের একজন।

সো, এটা হচ্ছে এটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের নিজের কথা না এটা কোরআনের কথা এবং সেই কোরআনের কথা যখনই আমরা কোরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করব তখনই বুঝতে পারবো যে এটা কোন মানুষের কথা হতে পারে না। সূরা ইউনুসে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন, বলে দাও, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না আর নাইবা তিনি তোমাদেরকে অবহিত করতেন এ সম্পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বে একটি বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না?

তো আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের কথা তুলে ধরছেন যে এই যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম তোমাদের সামনে এই কথাগুলো বলছেন তার কারণ হচ্ছে এটা আল্লাহর নির্দেশেই তিনি করছেন। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের একটা সময় এই কাফেরদের মধ্যেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেছেন 40 বছর পর্যন্ত, যাকে তারা আল আমিন, আল আস সাদিক বলেছে। আজকে হঠাৎ করে তার কথাকেই তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। সো, এর পিছনে তাদের যে এজেন্ডা রয়েছে, তারা যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই কথাগুলো বলছে সেটা যে কেউই চিন্তা করলে বুঝতে পারে। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সেই কথাগুলো তাদেরকে বলছে যে এটা আল্লাহর কথা, আমার কথা না। এবং আমার জীবন তোমাদের চোখের সামনে রয়েছে যে সেখানে তোমরা এরকম কোন কিছু দেখতে পাও কিনা যে আমি অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোন কথা বলব।

সো, এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা যে কথাটি এখানে বলছেন, ইন্নাকালামিনাল মুরসালিন, শেষে শব্দটা যেটা সেটা হচ্ছে আল মুরসালিন। আল্লাহ সুবহানাতালা কোরআনে শপথ করেছেন তার মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দিয়েছেন এবং বলছেন যে আল মুরসালিন। মুরসালিন শব্দটা এসেছে আরসালা থেকে। তো এখানে মুরসাল শব্দের অর্থ হচ্ছে যাকে পাঠানো হয়েছে। যখন কাউকে পাঠানো হয়েছে বলা হয় তার মানে হচ্ছে সে নিজে আসে নাই। সে এসেছে হচ্ছে অন্য কারোর পক্ষ থেকে এবং এখানে বুঝানো হচ্ছে যে যে যাকে সে পাঠিয়েছে সে হচ্ছে হায়ার অথরিটি, যে তাকে পাঠিয়েছে তিনি হচ্ছেন একজন হায়ার অথরিটি। এবং আমরা জানি যে একজন মেসেঞ্জার কার কাছ থেকে এসেছেন, যে তিনি এসেছেন আল্লাহ সুবহানা তাআলার পক্ষ থেকে। সো, যখন রাসূল শব্দটা ব্যবহার করা হয় সেটাও হচ্ছে যে যিনি মেসেজ নিয়ে এসেছেন। কিন্তু মেসেজ যে নিয়ে আসে সে নিজে থেকেই কোন মেসেজ নিয়ে আসতে পারে এবং নিজে থেকেই সেটা ডেলিভার করতে পারে। কিন্তু যখন মুরসাল বলা হয় তখন স্পেসিফিকভাবে বুঝানো হয় যে এটা কারো পক্ষ থেকে এসেছে।

সো, এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে কিভাবে সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে কাফেরদের সামনে তিনি তুলে ধরেছেন যে তাহলে কে পাঠিয়েছে মোহাম্মদকে এখানে রাসূল হিসাবে। তিনি যে মুরসাল, তিনি যে একজন মেসেঞ্জার, যে হায়ার অথরিটি তাকে পাঠিয়েছেন তিনি হচ্ছেন আল্লাহ। সো, আল্টিমেট অথরিটি হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তাআলা এবং যে কথাগুলো তিনি বলছেন এটা কানেকশন হচ্ছে সরাসরি আল্লাহর সাথে। তোমরা মোহাম্মদকে যত মিথ্যাবাদী বল, মোহাম্মদের নামে যা কিছু বল, তার মানে হচ্ছে যিনি তাকে পাঠিয়েছেন তার ব্যাপারেই তোমরা আসলে অপবাদ দিচ্ছ। কত সাংঘাতিক একটা কথা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি।

সো, এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে তোমাদের এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকাই উচিত না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে বলছেন যে তুমি হচ্ছে সেই গ্রুপ অফ পিপলের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মেসেজ দিয়ে পাঠিয়েছেন মানুষকে জানানোর জন্য। এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে একদিকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে তুমি একটা মিশনে আছো। এটা তোমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এই দায়িত্ব দিয়ে তোমাকে হায়ার অথরিটি থেকে পাঠানো হয়েছে। স, নো ম্যাটার হাউ মাচ প্রেসার ইউ হ্যাভ ইউ হ টু ফিনিশ ইউর জব। সো, একদিক থেকে আমরা দেখছি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই তার যে দায়িত্ব, সে দায়িত্ব গুরুত্ব এটা এখানে বুঝাচ্ছেন।

আরেক দিক থেকে আমরা দেখি যে তাকে বলা হচ্ছে যে তুমি একা না। এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। এর আগেও যারা নবী রাসূল যারা এসেছে তাদের সাথেও এই ধরনের ব্যবহারই করা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ থেমে যান নাই। তারা কেউ তাদের কাজ স্টপ করেন নাই। সো, যুগে যুগে এ ধরনের ঘটনা ঘটে এসেছে। যারাই আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে প্রচার করতে গিয়েছে তাদের পিছনে এক গ্রুপ শত্রু তৈরি হয়ে গিয়েছিল যারা হচ্ছে পাগল বলেছে, ম্যাজিশিয়ান বলেছে। কিন্তু তার মানে এই না যে কাজ থেমে যাবে, কাজ চলবে এবং তুমি হচ্ছে সেই গ্রুপ অফ পিপলের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহর পছন্দনীয় যাদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিজে নির্বাচিত করে এই মেসেজগুলো দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন।

এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা কোরআনের শপথ করে বলছেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম হচ্ছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা মুরসাল মেসেঞ্জার। সো, এখানে আরেকটা উইজডম আমরা দেখি কোরআনের যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে কানেকশনটা এখানে তৈরি করে দিচ্ছেন। আল্লাহ জানেন যে কি ধরনের সিচুয়েশন এখানে তৈরি হচ্ছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম কি ধরনের ডিফিকাল্টির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং সেখানে তিনি বলছেন যে তুমি একা না, যুগে যুগে এ ধরনের আরো অনেক মানুষ এসেছে এবং যখন কাউকে এটা বলা হয় যে না তুমি একা না, তোমার মত সিচুয়েশন অন্যরাও ফেস করেছে তখন তার মনে একটা সাহস জাগে, সে তখন কাজে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়।

সো, আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে তোমরা যদি কোরআনকে একসেপ্ট করো তার মানে হচ্ছে আল্লাহর বাণীকে তোমরা একসেপ্ট করে নিচ্ছ। তার মানে হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম কেও তোমরা মেনে নিচ্ছ তার নবী এবং রাসূল হিসাবে। এবং এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যখন ইন্না শব্দটা বলেছেন সেখানে ইন্না মানে নিশ্চিত। তারপরে তিনি এর আগে আল্লাহ সুবহানাতায়ালাল হাকিম বলেছেন তো শপথ দিয়ে তিনি শুরু করেছেন। তারপরে ইন্না দিয়ে সেটার গুরুত্ব আরো বাড়িয়েছেন। তারপরে লামিনাল্লা শব্দটা যেখানে এখানে এসেছে মিনের আগে দিয়ে এটার স্পেসিফিক কোন অর্থ নাই। এটাও এটাকে লামে তাওকিদ বলা হয়ে থাকে যে গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এই লামটা ইউজ করা হয়। এবং তার সাথে সাথে আল্লাহ বলছেন যে কোরআন হচ্ছে হাকিম এবং সেখানে এ কথাটা লিপিবদ্ধ আছে।

তো আমরা দেখি যে কয়টা লেয়ার এখানে গুরুত্বের যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা একটার পর একটা চারটা লেয়ার দিয়ে তারপরে বলছেন যে তুমি হচ্ছ মুরসালিনদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তার প্রিয় বান্দাকে কিভাবে গুরুত্বের সামদে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছেন। সো, এই আয়াতটার ব্যাখ্যা করতে যেয়ে ইমাম কুরতুবী রাহমাতুল্লাহ আলাইহে বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে তখনকার যে কুরাইশ অবিশ্বাসীরা ছিল তারা নবীকে বলল যে তুমি রাসূল না এবং আল্লাহ তোমাকে আমাদের কাছে পাঠায় নাই। এবং তাদের সেই কথার জবাব দিয়ে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা কোরআনের শপথ করে বলছেন যে কোরআন হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে পড়া হয় এবং কোরাইশদেরকে তিনি সুস্পষ্টভাবে এখানে বলে দিচ্ছেন যে নিশ্চিতভাবে এবং এটা এত নিশ্চিত যে এত গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে এটাকে অস্বীকার করার কোন উপায়ই নাই।

সো, আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে একটার পর একটা গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ সুবহানাতালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের রিসালাতের সত্যতা এখানে বর্ণনা করেছেন। এবং আরো ইন্টারেস্টিংলি আমরা দেখি যে আল্লাহ শুধু বলেন না যে ইন্নাকা মুরসালিন, যে নিশ্চিতভাবে তুমি হচ্ছ মুরসাল অথবা ইন্নাকা রাসূ, যে তুমি নিশ্চিতভাবে তুমি একজন রাসূল। বরং আল্লাহ বলছেন ইন্নাকালা মিনাল মুরসালিন। মিন শব্দটা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শব্দের অর্থ হচ্ছে ফ্রম। এখানে বলা হচ্ছে যে ইউ আর ফ্রম দোস পিপল, যে শুধু তুমি একা না, তুমি একা মুরসাল না, একা রাসূল না। বরং তুমি প্রথম না যে হচ্ছে আল্লাহর মেসেজগুলো কমিউনিকেট করছো, আল্লাহর মেসেজগুলো মানুষের সামনে নিয়ে আসছো এবং তুমি প্রথম না যাকে রিজেক্ট করা হচ্ছে। স, ইউ আর ফ্রম দোস পিপল। তুমি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

সো, এখানে আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামকে সাহস দেওয়ার জন্য, সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তিনি যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন সেই পরিস্থিতিতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিজে তার সঙ্গে আছেন এবং তার সাথে সাথে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে এবং সেই ধরনের ঘটনা ঘটেছে তার প্রিয় মানুষদের সাথেই। সো, আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে আমরা দেখি যে ডিরেক্টলি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের সাথে কথা বলছেন। যেখানে কাফেররা হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামকে বিভিন্নভাবে অপবাদ দিচ্ছে। কোরআনের কথাকে অস্বীকার করছে। সেখানে তিনি কোরাইশদের সাথে ডিরেক্টলি কোন কথাই বলছেন না।

তো এখানে আমরা দেখি যে কোরাইশদের প্রতি তার যে রাগ, সে রাগটা এখানে প্রকাশ পাচ্ছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের প্রতি তার ভালোবাসাটা প্রকাশ পাচ্ছে। তো আমরা একটু সিচুয়েশনটা চিন্তা করতে পারি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম যে সিচুয়েশনের মধ্যে তখন ছিলেন যে তাকে হচ্ছে তার আশেপাশে যারা ছিল তার চিরপরিচিত যারা তার আত্মীয়স্বজন তারাই তাকে বিভিন্নভাবে ব্লেম করছিল। তো এরকম একটা পরিস্থিতিতে যখন মানুষকে বারবার কেউ বলতে থাকে না তুমি যা বলছো সেটা মিথ্যা। তুমি যা বলছো সেটা সত্যি না। তুমি যা বলছো এটা হচ্ছে গণকের কথা। এটা কোভিদ কথা। বিভিন্ন বলতে থাকে এবং সেটা ঘরে বাইরে প্রতিনিয়ত শুনতে থাকে তখন তার মনের মধ্যেও কিন্তু সেটা নিয়ে চিন্তা শুরু হয়ে যায়। এটা আমরা আমাদের জীবনেও দেখতে পাই যে যখন আমরা দেখি যে আমার পরিচিত মানুষ, আমার অতি কাছের মানুষ যখন কোন ব্যাপারে মিথ্যা ব্লেম দিতে থাকে তখন নিজের মাঝেও চিন্তা হয়। আমি কি এটা ভুল করে ফেললাম?

আমরা দেখি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম প্রতিনিয়ত এটা নিয়েই হচ্ছে রিফ্লেক্ট করছিলেন যে আমি কোন ভুল করে ফেলছি কিনা। আমি কোন অন্যায় করছি কিনা বা এই কথাটা বলা আমার ঠিক হচ্ছে কিনা। আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে না, তুমি হচ্ছ তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা হচ্ছে মুরসাল ছিলেন, যারা হচ্ছে যাদেরকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পাঠিয়েছেন। এবং পরবর্তী কিছু আয়াত পরে আমরা দেখব যে আল্লাহ বলছেন যে যিনি তোমাকে পাঠিয়েছেন তিনি হচ্ছেন আজিজুর রাহিম। এবং কি জন্য তোমাকে পাঠিয়েছে ওয়ার্ন পিপল, মানুষকে সাবধান করে দেওয়ার জন্য।