Transcription
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। ওসসালাতুওসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ ওলা আলিহ ওহন। রাব্বি সহ আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ আমরা আবারো একটি রমাদান পেতে যাচ্ছি। প্রতিটি রমাদানের মতো এবারও আমরা ইনশাআল্লাহ কিছু দোয়া শিখবো। গত রমাদানে আমরা সূরা আল ইমরানের পাঁচটি সিলেক্টেড দোয়া শিখেছিলাম। এবারের রমাদানে আমরা সূরা আল ইমরান থেকে আরো পাঁচটি দোয়া শিখবো ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ সুবহানা তাআলা কোরআন মাজিদে আমাদের জন্য অনেকগুলো দোয়া রেখে দিয়েছেন। কোন কোন দোয়া এসেছে নবী রাসূলদের মুখ থেকে। কোন কোন দোয়া এসেছে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের পক্ষ থেকে। কোথাও তারা ছিলেন খুবই নির্বাচিত মানুষ। কোথাও তারা ছিলেন খুবই সাধারণ মানুষ। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেই দোয়াগুলোকে কোরআন স্থান দিয়েছেন যেন প্রতিনিয়ত আমরা সেগুলো থেকে শিখতে পারি। সেগুলো নিয়ে চিন্তা করি এবং সেভাবে আমাদের জীবনে আমরা আমাদের দোয়াগুলোকে কাজে লাগাতে পারি।
আজকে আমরা সূরা আল ইমরানের যেই দোয়াটি নিয়ে আলোচনা করব সেটি আমাদেরকে জানিয়ে দেয় কিভাবে আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং কিভাবে জাহান্নাম থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে। এই দোয়াটিতে আমরা দেখি যে ঈমানদারগণ ঈমানের স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং তার সাথে সাথে তারা এটাও স্বীকার করে নিচ্ছে যে মানুষ হিসেবে আমরা আমাদের আমরা নিখুত হতে পারি না এবং আমাদের মধ্যে ভুল ত্রুটি থেকেই যাই এবং সে কারণে সর্ব মুহূর্তে আমরা আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে আমাদের যে দুর্বলতাগুলো রয়েছে ক্ষুদ্রতা রয়েছে সেগুলোর জন্য ক্ষমা প্রার্থী আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে মুমিনগণ এখানে দোয়া করছেন জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাদেরকে তাদের যে হায়েস্ট রিওয়ার্ড সেটা দান করেন এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আখেরাতে তাদের এই দোয়াকে কবুল করে নেন।
সেই আয়াত দোয়াটি কোন আয়াতে এসেছে আমরা দেখি। সূরা ইমরানের 16 নম্বর আয়াতে এই দোয়াটি এসেছে। যেখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। আল্লাজিনা ইয়াকুলুনা যে তারা বলে যারা বলে রব্বানা ইন্না আমানা হে আমাদের পালনকর্তা আমরা ঈমান এনেছি কাজেই আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে দোযুগের আজাব থেকে রক্ষা করো।
অত্যন্ত ছোট্ট একটি দোয়া আমরা ইচ্ছা করলে এই দোয়াটি খুব সহজে মুখস্ত করে নিতে পারি এবং এভাবেই আল্লাহর পছন্দনীয় বান্দাদের মত মত করে আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে চাইতে পারি। কিন্তু প্রতিটি দোয়ারই শর্ত হচ্ছে যে সেই দোয়াটি চাইতে হবে আন্তরিকতার সাথে। শুধুমাত্র এই কথাগুলো মুখস্ত করে নিয়ে আমরা যদি মুখস্ত বলতে থাকি কিন্তু সেটার সাথে অন্তরের সম্পর্ক না থাকে এবং সেটা আমরা না বুঝি তাহলে দোয়ার গুরুত্ব অনেকটুকুই কমে যায় সেখানে। তাই প্রতিটি দোয়াকেই আমরা বুঝার চেষ্টা করব এবং বুঝে সেইটাকে আমাদের অন্তর থেকে নিশ্চিত বাণী হিসেবে আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে চাইবো।
এই যে আয়াতটি সে আয়াতটির আগের যে আয়াত রয়েছে সে আয়াতের সাথে এটা খুব ডিপলি কানেক্টেড। যেখানে আল্লাহ সুবহানা তাআলা বলেছেন যে দুনিয়াবী যেসব জিনিস মানুষকে আকর্ষণ করে থাকে সেই জিনিসগুলোর কথা আমরা যদি চিন্তা করি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেগুলোর একটা বর্ণনা দিয়েছেন এবং সেটাকে তিনি তুলনা করেছেন আখিরাতের যে সুপিরিয়র এবং লাস্টিং রিওয়ার্ড রয়েছে যেটা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে পাওয়া যায় সেই নিয়ামতপূর্ণ জিনিসগুলোর কথা। তাহলে এই আয়াতটাকে বুঝতে হলে আমাদেরকে একটু পিছনের দিকে যেতে হবে। সূরা ইমরানের 14 এবং 15 নাম্বার আয়াতে।
14 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন মানুষকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী সন্তান সন্ততি রাস্বীকৃত স্বর্ণ রৌপ্য চিহ্নিত অশ্ব গবাদী বসিরাজি এবং ক্ষেত খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তু সামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব্য জীবনে ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটি হল উত্তম আশ্রয়। আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে বলে দিয়েছেন যে এই দুনিয়াতে কোন জিনিসগুলো মানুষকে আকৃষ্ট করে সবচেয়ে বেশি এবং প্রত্যেকটা জিনিসে আমরা যদি একটু চিন্তা করি দেখব যে যারা হচ্ছে গাফেল হচ্ছে যারা হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ থেকে দূরে সরে সরে যাচ্ছে পথভ্রষ্ট হচ্ছে অথবা সত্য দ্বীনকে মেনে নিয়ে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে চাচ্ছে না তার পিছনে আর কোনটা না কোনটা কাজ করছে হয়তোবা সে কোন তার চরম কাঙ্খিত কোন নারীকে পাওয়ার জন্য ভুল পথে পা দিয়েছে অথবা তার সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কল্পনা করে সে হালাল হারামে তোয়াক্কা না করে উপার্জন করার জন্য চেষ্টা করেছে অথবা আমরা দেখি যে দুনিয়াবী যেসব সম্পদ রয়েছে স্বর্ণ রোপ্য অথবা পশু পশু গবাদী পশু হতে পারে অশ হতে পারে অথবা ফসল যেকোন জিনিসের জন্যই আমরা দেখি মানুষের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ শুরু হয়ে যাচ্ছে এবং একজন আরেকজনের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই প্রত্যেকটা জিনিসই হচ্ছে আমাদের জন্য আল্লাহ ভোগ্য বস্তু হিসেবে দিয়েছে। কিন্তু আমরা যদি এই ওয়ার্ডলি লাইফের এই এনজয়মেন্ট গুলোর চেয়ে আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে যে বেস্ট রিটার্ন রয়েছে সেটার প্রতি খেয়াল করি তাহলে দেখা যাবে যে এই প্রত্যেকটা জিনিসটি আমাদের চোখে ক্ষুদ্র এবং নগণ্য হয়ে যাবে এবং যার মাধ্যমে আমরা দুনিয়াবী যেই প্রতিযোগিতা সে প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারব।
15 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলছেন বলুন আমি কি তোমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান বলব সে উত্তম বিষয় কি আল্লাহ বলছেন যারা পরহেজগার আল্লাহর নিকট তাদের জন্য রয়েছে ব্যহত যার তলদেশে প্রশ্রবণ প্রবাহিত তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গনীগণ এবং আল্লাহ সন্তুষ্টি আর আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন। খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা সেটা আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদেরকে উত্তম বলে যে জিনিসটা সন্ধান দিচ্ছেন সেটা কিন্তু এই দুনিয়াতে না। সেটা হচ্ছে যারা মুত্তাকী যারা সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহর ব্যাপারে কনশাস তারা কি করে? আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে তাদের জন্য রয়েছে আখেরাতে চরম পুরস্কার। এবং আমরা দুনিয়াতে যেই জিনিসগুলোর জন্য লালায়িত সমস্ত কিছুই আমরা আখিরাতে পাব আরো বেশি উত্তম রূপে এবং সেগুলোর মধ্যে কোন ধরনের খুব থাকবে না কোন ধরনের সমস্যা থাকবে না। আমরা যেভাবে চাই সেভাবেই সেগুলো আমরা পাব এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সন্তুষ্টি হচ্ছে তার সাথে আমাদের জন্য উপরি পাওনা। কিন্তু আমরা যদি চিন্তা করি আমাদের অবস্থান তাহলে আমরা দেখি যে দুনিয়াবী এই ক্ষণস্থায়ী জিনিসগুলোকে আমরা এত বেশি প্রায়রিটি দেই যে আখিরাতে সে চিরন্তন পুরস্কারের কথা আমরা ভুলে যাই নগদ যা পাই তাই হাত পেতে নিতে চাই এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যে জিনিসটা আমাদের জন্য দূরে অবস্থান করে রেখেছেন কিন্তু সেটা অবশ্যই আমরা পাবো যদি আমরা তার পথ অনুসরণ করে চলি আমরা সেই জিনিসটার কথা ভুলে যাই আমরা যে জিনিসটা চোখের সামনে দেখি সেই জিনিসটাকে আঁকড়ে ধরে থাকি অথচ তার চেয়ে মহা মূল্যবান জিনিস যেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে রয়েছে সেই বিষয়টা আমরা ভুলে যাই ভুলে থাকার চেষ্টা করি।
এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে বলে দিচ্ছেন যে যারা হচ্ছে মুত্তাকী যাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাতালা এ ধরনের পুরস্কারের সুসংবাদ দিয়ে দিয়েছেন তাদের পরিচয় কি এখানে আল্লাহ বলছেন আল্লা বলতে মুত্তাকীদের কথা বলা হচ্ছে যারা গড কনশাস যারা প্রতি মুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে আল্লাহর ভয়ে আল্লাহ নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে সেই স্পেসিফিক গ্রুপ অফ পিপলের কথা এখানে বলা হয়েছে তাদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে মুত্তাকী যারা হচ্ছে পায়াস সারভেন্ট অফ আল্লাহ এবং সে মুত্তাকীদের পরিচয়কে মুত্তাকীদের পরিচয় হচ্ছে তাদের ঈমান হচ্ছে মজবুত এবং তারা হচ্ছে সিনসিয়ার তারা সমস্ত কিছু হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে। তাহলে মজবুত ঈমান এবং ডিভোশন সিনসিয়ারলি আল্লাহর জন্য কাজ করার মাধ্যমেই মুত্তাকীরা তাদের ঈমানের পরিচয় এখানে দিচ্ছেন। স আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সে মুত্তাকীদের জন্যই হচ্ছে সে বিরাট পুরস্কার রেখে দিয়েছেন। সো আমরাও যদি সে পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা করে থাকি তাহলে আমাদের নিজেদেরকে প্রতি মুহূর্তে সেই আল্লাহর ব্যাপারে সচেতন হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ দিতে হবে এবং সেই প্রমাণটা আমরা দিব হচ্ছে ঈমান এবং আমাদের আমলের মাধ্যমে। আমরা যত বেশি হচ্ছে মজবুত ঈমানের অধিকারী হব তত সিনসিয়ারলি আমাদের আম সিনসিয়ারিটি আমাদের আমলের মধ্যে প্রকাশ পাবে।
তো এখানে আমরা আরেকটা ইন্টারেস্টিং জিনিস দেখি। আল্লা ইয়াুনাইয়াুনা শব্দটা হচ্ছে প্রেজেন্ট টেন্স এবং তার মানে হচ্ছে তারা এই কথাগুলোকে বারবার বারবার বলে যারা মুত্তাকী তারা একবার বলে থেমে যায় না আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত তারা চাইতে থাকে এবং এই যে চাওয়া এ চাওয়ার মধ্যেও এক ধরনের প্রশান্তি তারা অনুভব করে স তারা এটা বারবার বারবার বলতে থাকে স আল্লাহর সাথে তাদের যে এঙ্গেজমেন্ট আমরা দেখি যে আল্লাহর সাথে তাদের যে কানেকশন তৈরি হচ্ছে যে সম্পর্কটা তৈরি হচ্ছে সেই সম্পর্কটা তৈরি হচ্ছে দোয়ার মাধ্যমে। তারা দুনিয়াবী কাজগুলো করার সময় আল্লাহর উপর ঈমান রাখে এবং সেইভাবে সিনসিলিয়ারলি কাজ করে এবং আল্লাহকে প্রতি মুহূর্তে দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ রাখে। এটা হচ্ছে মুত্তাকীদের পরিচয়। তারা কি বলে? তারা বলে যে রব্বানা ইন্নানা আমানাফলানা হে আমাদের পালনকর্তা আমরা ঈমান এনেছি। কাজেই আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দাও। আর আমাদেরকে দোযোগের আজাব থেকে রক্ষা করো।
তাহলে এখানে আমরা দেখছি যে এই যে দোয়াটা এই দোয়াটা হচ্ছে মুত্তাকীদের যে বিরাট পরিচয় সে পরিচয়ের একটা অংশ হচ্ছে এই দোয়া। এটা দেখায় যে এটা আমাদেরকে শো করে যে যারা হচ্ছে সত্যিকার ঈমানের অধিকারী তারা নিজেদের যে আমাদের যে মানবিক দুর্বলতা রয়েছে সেটাকে স্বীকার করে নেয়। সেটাকে একনলেজ করে এবং কনস্ট্যান্টলি আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে তারা ক্ষমা এবং প্রটেকশনের জন্য দোয়া চাইতে থাকে। এখানে ঈমানদারদের মুত্তাকীদের দোয়া বলা হয়েছে এবং এই দোয়ার মাধ্যমে ঈমানদারদের বিশ্বাসীদের যে হাম্বল প্রেয়ার সেই প্রেয়ারের কথা সেই দোয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই দোয়াটার আমরা দেখি যে তিনটা অংশ ছোট্ট একটা দোয়া। এটার মধ্যে তিনটা অংশ সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রথম অংশটা হচ্ছে যে তারা আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে ঈমানের যে নিশ্চয়তা তাদের যে ঈমান রয়েছে সেই ব্যাপারে তারা কনফেস করছে। সেই ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে তারা স্বীকৃতি দিচ্ছে যে তারা ঈমান এনেছে তারা বিশ্বাস করেছে আল্লাহর উপরে। তার আসমানি কিতাবের উপরে তার নবী রাসূলগণের উপরে। তো প্রথম পার্ট হচ্ছে এটা যে ঈমানের স্বীকৃতি দেওয়া। আমার ঈমান কোথায় রয়েছে সে নিয়ে আমাকে চিন্তা করা এবং সেটা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেওয়া।
সেকেন্ড পার্টটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে আমাদের যে গুনাহগুলো আমরা করেছি সেই গুনাহগুলোর ব্যাপারে ক্ষমা চাওয়া। যদিও তাদের ঈমান তারা মজবুত তারা সল্লে আল্লাহ সুবহানাতাআলার জন্য বিশ্বাস করে এবং সেজন্য কাজ করে। কিন্তু তারপরও আমরা পারফেক্ট না। আমাদের ভুল হতেই পারে। আমরা জেনে না জেনে সজ্ঞানে অজ্ঞানে অনেক ভুল করে ফেলতে পারি। সো আল্লাহর উপর যাদের ঈমান রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করে তারা জানে যে তাদের বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্রতা রয়েছে তাদের শর্টকামিংস রয়েছে তারা পারফেক্ট না যখনই আমি এটা চিন্তা করি যে আমি পারফেক্ট না তখনই আমার দুর্বলতাগুলো আমার সামনে আসবে এবং সেটার জন্য আমি আরো বেশি আল্লাহ সুবহানা তাআালার কাছে হাম্বল হব বিনয়ী হব।
এবং থার্ড পার্ট যেটা সেটা হচ্ছে যে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের যে আযাব সে আজব থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য চাওয়া। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে মুত্তাকীদের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাদের জন্য আগের আয়াতে আমরা দেখেছি যে অপরিসীম পুরস্কারের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন এবং তাদের পরিচয়ের একটা অংশ তিনি এখানে তুলে ধরেছেন। যেখানে তারা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে কন্টিনিউয়াসলি দোয়া করতে থাকে। এই দোয়াটা একবার দুইবার না প্রতিনিয়ত তারা দোয়া করতে থাকে এবং আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তাআলার কাছে তারা নিজেকে সপে দেওয়ার যে শিক্ষা সে শিক্ষাটা আমরা এখান থেকে পেয়ে থাকি এবং এই যে দোয়া তারা আল্লাহ সুবহানা তায়ালার পছন্দনীয় সময়গুলোতে যেমন করে থাকে অন্য সময়ও তারা করে থাকে এবং আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে চাওয়ার ব্যাপারে কখনো তারা কুন্ঠিত হয় না।
সো প্রথম যে অংশটা সে অংশটা আমরা বুঝার জন্য চেষ্টা করি। আমরা যখন দোয়াটা পড়ে যাই আসলে খুব ইজিলি বলে যাই। খুব সহজে বলে ফেলছি কিন্তু কি বলছি সেটা গভীরে আমরা অনেক সময় প্রবেশ করি না। আমরা প্রথম অংশটা বুঝার জন্য চেষ্টা করি। প্রথম অংশে বলা হয়েছে যে তাদের ঈমানের যে স্বীকৃতি ঈমানের স্বীকৃতি দান করা।