Transcription
সূরা ইয়াসিনে 32 নম্বর আয়াত এখানে বলা হয়েছে, "আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম, কুল্লামাজলাইনা" ওদের সবাইকে সময় ব্যাথা অবস্থায় আমার দরবারে উপস্থিত হতেই হবে।
এর আগে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন যে তারা আর পৃথিবীতে ফিরে আসবে না। তাদেরকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। আর এইখানে আল্লাহ বলছেন যে তারা সমবেত অবস্থায় আল্লাহর কাছে ফিরে আসবে এবং আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে।
স এখানে আমরা দেখি যে হিস্ট্রি রিপিট ইটসেলফ। বারবার বারবার এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীতে ঘটেছে আগে এবং এখন আবার সে ধরনের ঘটনাই ঘটতে যাচ্ছে কুরাইশদের সামনে। আগের লোকেরা দেখা গিয়েছে যে তারা পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ডেফিনেটলি তাদেরকে আবার আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে।
সো এখানে আমরা কি দেখি? এখানে আমরা দেখি যে মানুষের কাজ এই দুনিয়াতে শেষ হয়ে যায় না। তার একটা কনসিকুয়েন্স রয়েছে, তার একটা ফলাফল রয়েছে। আমি একটা কিছু করে ফেললাম এবং সেই কনসিকুয়েন্সের ভয় করলাম না, সেটা আসলেই হচ্ছে অযৌক্তিক। সো আখেরিতে ইভেনচুয়ালি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সামনে আমাদেরকে হাজির হতে হবে এবং এটা আমাদের কাজের জন্য যে একাউন্টেবিলিটি সেটাকে স্মরণ করে দেয়।
সো এই কথাটি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে তারা যেভাবে একসাথে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, তেমনিভাবে একসাথে আবার তাদেরকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে। স আল্লাহ এখানে মহদরণ শব্দটা বলেছেন যে তাদেরকে প্রেজেন্ট করা হবে। স এখানে বলা হচ্ছে, "দে উইল বি প্রেজেন্টেড"। তাদেরকে প্রেজেন্ট করা হবে। এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা হাদরুন বলেন নাই যে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রেজেন্ট করবে।
তো এখান থেকে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা বলছেন যে হাদিস শব্দটা হচ্ছে এরকম যখন কাউকে সাম সামনে উপস্থিত করা হয় তার কাজের কোন ফলাফল দেওয়ার জন্য, সে কনসিকুয়েন্স দেওয়ার জন্য। স তাদেরকে শুধু শুধু সেখানে প্রেজেন্ট করা হবে না। এজন্যই প্রেজেন্ট করা হবে যেন হচ্ছে তাদের যে কাজ তারা দুনিয়াতে করে এসেছে সেটার হিসাব তারা এখন দিতে পারে।
তে আমরা দেখি যে সূরা ফুসসিলাতে বলা হয়েছে, "যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে অগ্নিকুন্ডের দিকে ঠেলে নেওয়া হবে এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে।" তো এখানেও আমরা দেখি যে দলে দলে তখন তারা হচ্ছে সে আগুনের দিকে ছুটে যাবে। স আল্লাহ এখানে প্রত্যেককেই আসলে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে ইচ এন্ড এভরি পারসন বর্তমান অথবা অতীতের অথবা ভবিষ্যতের প্রত্যেককেই হচ্ছে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। প্রত্যেককেই প্রেজেন্ট করা হবে তার সামনে তাদের হিসাব দেওয়ার জন্য এবং এট দা টাইম যে তাদের যারা হচ্ছে ভালো কাজ করেছে আল্লাহর দেওয়া নির্দেশগুলো মেনে চলেছে তাদেরকে আল্লাহ পুরস্কার দিবেন এবং যারা খারাপ করেছে অবশ্যই সেটার পরিণামও তাদেরকে ভোগ করতে হবে এবং যত জাতি অতীতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যত আসবে সবাইকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ডে অফ জাজমেন্টে তার সামনে হাজির করবেন।
সো এখানে আমরা দেখি যে আবু হাইয়ান এই আয়াতের ব্যাপারে কমেন্ট করতে যেয়ে তিনি বলেছেন যে এই আয়াতটা মেনশন উল্লেখ করা হয়েছিল যখন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল যে মানুষদের উপরে যে ধ্বংস এসেছিল সেটার কথা বলার পরে, যেটা হচ্ছে আখিরাতের যে সম্ভাব্যতা সেটাকে প্রমাণ করে এবং যারা এই দুনিয়াতে শাস্তি পেয়ে গিয়েছে এটাই তাদের শেষ শাস্তি সেটা না বরং তাদের জন্য আখিরাতে আরো বেশি শাস্তি রয়েছে এবং তাদেরকে হচ্ছে আখিরাতে যেয়ে আল্লাহ সুবহানা তাআালার সামনে হাজির হতে হবে হিসাব দিতে হবে এবং আরো বেশি পানিশমেন্টেরর মুখোমুখী হতে হবে। ব্যাখ্যাটার মাধ্যমে আমরা দেখি যে এই দুনিয়াতে যারা পানিশমেন্ট পেয়ে গিয়েছে অনেকেই বলে যে হ্যা আমি কষ্ট পেয়ে গেছি আমার আর ভয় নাই কোন। তো আসলে আখিরাতে পানিশমেন্ট হবে চরম হিসাবের পরে। যখন তাদের পুরো জাজমেন্ট শেষ হবে তখন তাদের যে হিসাব হবে সেই হিসাব অনুযায়ী তাদের পুরস্কার অথবা শাস্তি সেখানে নির্ধারিত হবে।
সূরা হুদে বলা হয়েছে, "আর যত লোকই হোক না কেন যখন সময় হবে তোমার প্রভু তাদের সকলেরই আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের যাবতীয় কার্যকলাপের খবর রাখেন।" তাহলে এখানে হতাশ হওয়ার যেমন কোন সুযোগ নাই তেমনিভাবে এরোগেন্ট হওয়ার সুযোগ নাই যে হ্যাঁ আমাকে কেউ ধরতে পারবে না বা আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। সেই কথা বলার কোন সুযোগ নাই। কারণ সেদিন সবাইকেই হাজির করা হবে।
সূরা জুমারে বলা হয়েছে, "কাফেরদের দিকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছাবে তখন তার দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বর আসেনি? যারা তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তা আয়াতসমূহ আবৃত করত এবং সতর্ক করত এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে তারা বলবে হ্যাঁ কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবায়িত হয়েছে অর্থাৎ তারা স্বীকার করবে তখন কিন্তু সেই স্বীকৃতি তাদের কোন কাজেই তখন লাগবে না।" স এখানে আমরা দেখি যে মূলত মানুষের যে জবাবদিহের সম্মুখীন হতে হবে জবাবদিহিতার ভয় নিজেদের মধ্যে কার্যকর করতে হবে সেই কথাটাই এখানে বলা হয়েছে যে সেদিন সবাই সমবেতভাবে আল্লাহর সামনে হাজির হবে এবং সেখানে বিচারকার্য করা হবে।
সূরা ইসরাতে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সেজন্য আমাদেরকে আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "তুমি তোমার নিজের কিতাব পড়। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি যথেষ্ট।" তাহলে এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আল্লাহ সুবহানা তাআলা আমাদেরকে নিজেদের কাজের হিসাব নিজেদের নিতে বলেছেন যাতে হচ্ছে সেদিন জবাবদিহিতার সময় আমি আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে বলতে পারি যে হে আল্লাহ আই ট্রাইড মাই বেস্ট হে আল্লাহ আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি তোমার দেওয়া গাইডেন্স জানার এবং মেনে চলার এবং আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি প্রতিটা দিন আমার এই বইটাকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য প্রতিটা দিন আমি ফোকাস করেছি যে পরদিন আমার বইটাকে আরো কিভাবে সুন্দর জিনিস দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া যায় যেন তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আমাদেরকে অপদস্ত হতে না হয় অসম্মানিত না হতে হয়।