Transcription
সূরা ইয়াসিনের 35 নাম্বার আয়াত।
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। লিয়ামিন সমহলা যাতে তারা তার ফল খায়, তাদের হাত একে সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন? সুবহানাল্লাহ।
আমরা দেখি 33 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলছেন যে মাটির কথা, যে মাটিটা ছিল হচ্ছে মৃত, সে মাটি। মাটির বুকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার বৃষ্টি আসলো। সে বৃষ্টিকে ধারণ করার পরে সে মাটিটা জীবিত হয়ে গেল। সেখান থেকে খাবার বের হয়ে আসলো। ফসল বের হয়ে আসলো। এবং সেখানে আমরা দেখি যে সে ভেজিটেশনের সাথে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা খেজুর গাছের মত বিশাল বিশাল গাছও সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আবার আঙ্গুরের মত নরম কান্ডে ঝুলে থাকায় থোকা থোকা ফলও আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। এবং এই সমস্ত কিছুর সাথে তিনি নদী বা ঝর্ণাকে প্রবাহিত করে দিয়েছেন। যেই চিত্রটা আমরা যদি চিন্তা করি, তাহলে সেটাই হচ্ছে আমাদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্খিত হয়ে যায়। যে কোন একটা জায়গা যার পাশ দিয়ে ঝরণা প্রবাহিত হচ্ছে, নদী প্রবাহিত হচ্ছে, তার পাশে সুন্দর বাগান রয়েছে। এরকম একটা জায়গার ভ্যালুই আসলে অনেক বেশি বেড়ে যায় এবং মানুষ চায় সেরকম একটা জায়গায় যেয়ে থাকতে। এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই নিয়ামতগুলো আমাদের জন্য দিয়ে দিয়েছেন যেন আমরা চিন্তা করি নিদর্শন হিসাবে।
সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই দুনিয়াতে এগুলো দেওয়ার সাথে সাথেই আবার আমাদেরকে এখানে বলছেন যে যাতে তারা এর ফল খায়। আল্লাহ এই ফলগুলো দিয়ে দিয়েছেন, সেগুলোর যাতে ভালো ফলন হয় সেজন্য পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। উপর থেকে বৃষ্টি দিচ্ছেন, নিচে থেকে ঝরণা প্রবাহিত করে দিচ্ছেন, যেন আমরা এখান থেকে এই ফুডস গুলোকে খেতে পারি। লিয়াকুল মিন সামারি যে আমরা এখান থেকে এই ফুলগুলো খেতে পারি এবং এই খাওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে স্মরণ করতে পারি। এই যে ফ্রুটস আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে দিয়ে দিয়েছেন, সেই ফ্রুটসের ব্যাপারে এখানে বলা হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এগুলো যাতে প্রডিউস হয় প্রচুর পরিমাণে, সেজন্য সেটার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস তিনি দান করে দিয়েছেন এবং এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নেয়ামত আমাদের জন্য। এটা আমরা নিজেরা ডিজার্ভ করি দেখে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেটা দেন নাই। তিনি বিভিন্ন ফসল দিয়েছেন, প্লান্টস দিয়েছেন, গাছ দিয়েছেন যাতে হচ্ছে আমরা সেখান থেকে খেতে পারি। এবং এই যে আমরা তার নেয়ামতগুলো উপভোগ করছি প্রতিনিয়ত, আমরা কি শুকরকারী বান্দা হব না? আমরা কি তার প্রতি কৃতজ্ঞ হব না? যে তারা কি আমরা কি তাকে কৃতজ্ঞতা জানাবো না? প্রতিনিয়ত এই যে অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে আমরা ডুবে আছি।
এবং এখানে বলা হচ্ছে মিন সামারি ওয়ামা আমিলাদিহিলিয়াকুল যে তারা খেতে পারে। আকালা শব্দের অর্থ হচ্ছে খাওয়া লিটারলি। কিন্তু এটার আরেকটা অর্থ হচ্ছে স্যাটিসফ্যাকশন, সন্তুষ্টি, এনজয়মেন্ট। যে আমরা খাই শুধু কিন্তু খাওয়ার জন্য না আমাদের বরং খাওয়ার সাথে আমরা বলি যে আগে দর্শনধারী তারপরে গুণবিচারী। যে খাওয়ার সাথে সাথে এটা কত সুন্দর, এটা কি ধরনের গুণাবলী রয়েছে সেই জিনিসগুলো আমরা কিন্তু দেখি। সো আমাদের আমরা একদিকে খাচ্ছি নিজেদের জীবন নির্বাহের জন্য, আরেকদিকে আমাদের সন্তুষ্টির জন্য একে এনজয়বল করার জন্য আমরা সেটাকে আবার বিভিন্নভাবে মডিফাইও করছি এবং সেটাও এই আকালা শব্দ দিয়ে বুঝানো হতে পারে।
তারপরে এখানে বলা হচ্ছে ওমা আমিলাতু আইদিহিম এবং তাদের হ্যান্ডস। আইদিহিম মানে হচ্ছে তাদের হাত। এখানে কাতাদা রহমাতুল্লাহ আলাইহি এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেছেন যে এটার অর্থ হচ্ছে এ সমস্ত কিছু শুধুমাত্র আল্লাহর নেয়ামতের কারণেই তাদের কাছে এসেছে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা ব্লেসিংস আমাদের জন্য। এটা আমাদের এফর্ট দিয়ে, আমাদের শক্তি দিয়ে আবার আমাদের পরিশ্রম দিয়ে আমরা করতে পারিনা। আমরা অনেক সময় বলি যে হ্যাঁ বাগানে অনেক কষ্ট করেছে সেজন্য জন্য হচ্ছে আমি এত ভালো ফসল পেয়েছি। কিন্তু আসলে এই বাগানের যে বীজটি আমি বপন করেছি, সে বীজ থেকে চারা বের হবে কিনা তার গ্যারান্টি কিন্তু আমি দিতে পারবো না। সে চারা টিকে থাকবে কিনা সে গ্যারান্টিও আমি দিতে পারবো না। সেই চারা বড় হবে কিনা তাতে কোন ফল ধরবে কিনা সেটার গ্যারান্টিও আমরা দিতে পারবো না। এমনও দেখা যায় যে পাশাপাশি তিন চারটা গাছ রয়েছে। একটা হচ্ছে ফল দিয়ে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। আরেকটাতে কিছুই ধরে নাই। তো এগুলো হচ্ছে সমস্ত কিছুই হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামত। এটা মানুষ তার শক্তি, পরিশ্রম, বুদ্ধি দিয়ে সেটাকে নিয়ে আসতে পারবে না। আমরা এখন হাইব্রিড দেখি যে মানুষ বিভিন্ন কোয়ালিটি চেঞ্জ করছে। যেটা আকালার মধ্যে চলে আসে যে মানুষ স্যাটিসফ্যাকশনেরর জন্য বিভিন্নভাবে এই ফ্রুটস গুলোকে প্রডিউস করছে। কিন্তু সেটাও কোন গ্যারান্টিড কোন কিছু হবে না যদি না আল্লাহ সুবহানা তায়ালা চান।
সো আল্লাহ এখানে বলছেন যে কেন এত কিছু আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে? কেন এসব করা হয়েছে? কেন এই গাছ দেওয়া হয়েছে? খাবার দেওয়া হয়েছে, ফল দেওয়া হয়েছে, নদী প্রবাহিত করা হচ্ছে যাতে আমরা এগুলোতে সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি, যাতে আমরা এই নিয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারি এবং মানুষের হাত এটা করতে পারে না। মানুষ নিজে থেকে এটা কখনো করতে পারে না। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এজন্য আমরা দেখি সূরা মুলকের একদম লাস্ট আয়াতটাতে তিনি বলেছেন যে তোমরা কি কখনো চিন্তা করেছ? যদি কখনো এই মাটি পানি মাটির নিচে চলে যায় যে পানি আর উপরে আসছে না, তাহলে কে এই ফ্লোইং ওয়াটার তোমাদেরকে দিবে? এই ঝরণা ঝরণা প্রবাহিত হবে যদি সেই মাটির আমরা দেখি যে মাঝে মাঝে আমরা বলি যে বৃষ্টি হয় নাই বাট পানির লেয়ার নিচে চলে গিয়েছে। স এখন ফসল ফলানোর জন্য আমাদের এক্সট্রা পানি লাগবে অথচ আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সারা পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত এ পানির ব্যবস্থা করে রেখেছেন যাতে সেখানে ফসল হয়।
এখানে আমরা দেখি যে ওমা আমিলাতুহু। আমিলা মানে হচ্ছে তার কাজ, পরিশ্রম, কষ্ট এটাকে বুঝানোর জন্য এবং এটা মা শব্দটা দিয়ে এই জিনিসটাকে প্রকাশ করা হয়েছে। এই মা শব্দটার দুইটা অর্থ হতে পারে যে মা দুইভাবে ব্যবহার করা যায়। একটা হচ্ছে নেগেশন যে না বোধক অর্থে মাটাকে ব্যবহার করা যায়। তাহলে এটার অর্থ হবে যে তাদের হাত এগুলো সৃষ্টি করেনি এই অর্থে মা ব্যবহার হতে পারে। আবার মা আরেকটা অর্থে ব্যবহার হয় এটাকে মা মানসুলা বলা হয় যেটা বুঝানো হয় যে সেই জিনিসগুলো। সো দ্যাট হুইচ। সো তার মানে হচ্ছে যে যে জিনিসগুলো তাদের হাত তৈরি করেছে। সো এখানে আমরা দেখি যে দুইটা অর্থই এখানে প্রকাশ হতে পারে এবং দুইটা অর্থই গ্রহণযোগ্য হতে পারে। যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই সমস্ত কিছু আমাদের জন্য দিয়েছেন যাতে আমরা এগুলো খেতে পারি, ইনজয় করতে পারি। নেয়ামতগুলো উপভোগ করতে পারি। যেটা হচ্ছে আমরা নিজেরা তৈরি করি নাই। আমাদের হাত দিয়ে এটা প্রডিউস করা সম্ভব হয় নাই। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেটাকে প্রডিউস করেছেন।
এবং আরেকটা অর্থ যেটা সেটা হচ্ছে যে আল্লাহ যেই উপাদানগুলো দিয়ে দিয়েছেন আমরা আমাদের হাত দিয়ে সেগুলোকে বানাচ্ছি। যে এই একই ধান যেটা জমি থেকে আসছে, সেই ধান থেকে চাল হচ্ছে। সেই একই চাল থেকে একদিকে ভাত হচ্ছে, আরেকদিকে চালের গুঁড়ো হচ্ছে, আরেকদিকে খই হচ্ছে। চারেদিকে মুড়ি হচ্ছে। তো মানুষ হচ্ছে এই আল্লাহর দেওয়া এই উপাদানগুলোকে বিভিন্নভাবে তাদের হাত দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করছে। এবং এটি সম্ভব হয়েছে এই কারণেই যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই জিনিসগুলো আমাদেরকে দিয়েছেন এবং আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এই বুদ্ধি এবং এই কারিগরি ক্ষমতা শক্তি আমাদেরকে দিয়েছেন। দুইটাই এখানে প্রযোজ্য এবং দুই অর্থেই এটা ব্যবহৃত হতে পারে।
এখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এর মাধ্যমে আমাদেরকে যেন কোশ্চেন করছেন যে জাস্ট থিংক এবাউট ইউর লেবার, থি এবাউট ইর জব যে কষ্ট যে পরিশ্রম তোমরা এর মধ্যে করেছ। তোমরা কি মনে করো যেই পরিশ্রম করলেই হচ্ছে তোমরা এটা পেয়ে যাবে? সেটার জন্য আরো যে উপাদানগুলো দরকার সেগুলো তোমরা কোথায় পাবে? একজন কৃষক মাসের পর মাস কষ্ট করে যায় কিন্তু তারপরও সে আনসার্টেনিটিতে ভুগে যে কি ধরনের ফসল সে ঘরে তুলতে পারবে। কারণ প্রতিটা স্টেপ হচ্ছে আনসার্টেন যে কখন কি হবে আমরা আসলে জানিনা। যতই আমরা সমস্ত উপাদান দেওয়ার চেষ্টা করি না কেন। তো সে কারণে হচ্ছে যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সামনে এই উদাহরণগুলো দিয়ে দেন যেন আমরা চিন্তা করি। যে আমরা কিভাবে এই জিনিসগুলোকে আমাদের কাজে লাগাচ্ছি।
ইমাম কুরতুবী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সেই সত্যের দিকে যে তিনিই পারেন মৃতকে জীবিত করতে। স তার মানে হচ্ছে তার ক্ষমতা আছে আমরা যখন মারা যাব তাকে আবার আমাদেরকে পুনর্জীবিত করতে এবং তিনি আমাদেরকে এর মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি এক এবং অদ্বিতীয় এবং তারই হচ্ছে সমস্ত কিছুর উপরে ক্ষমতা বা শক্তি রয়েছে। স আমরা যখন এই জিনিসটাকে বুঝতে পারবো যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালাই এই সমস্ত কিছু করছেন এবং তার ক্ষমতাটাই হচ্ছে সমস্ত কিছুর উপরে শক্তিশালী, তখন অবশ্যই আমাদের মাথা অবনত হয়ে যাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সামনে।
সূরা ওয়াকিয়াতে আল্লাহ বলছেন যে তোমরা যে বীজ বপন করো সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছো কি? তোমরা তাকে উৎপন্ন করো না আমি উৎপন্ন করি। সুবহানাল্লাহ। এই একটা বীজ নিয়ে আমরা যদি চিন্তা করি, আমাদের আসলে আল্লাহকে অস্বীকার করার বা আল্লাহর কথা না শোনার সেই সাহস দেখানোর সুযোগটুকু আমাদের নাই। আমরা যদি এই মাটির দিকে তাকাই যে মাটি আমরা বলি যে চরিত্রের রোদে সমস্ত মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে, কোথাও কোন পানি নাই, কোথাও কোন জীবনের সন্ধান নাই। সেখানেই একটা সবুজ গাছ আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই প্রাণ কোত্থেকে আসলো? এটা হচ্ছে আল্লাহর ডিভাইন পাওয়ার। আল্লাহ সুবহানাতায়ালাই এই ক্ষমতা রয়েছে যেটা তিনি আমাদেরকে প্রতি বছরই আমাদের সামনে এগুলো তুলে ধরছেন। প্রতি সিজনে এগুলো পরিবর্তন হচ্ছে এবং সেগুলো সেখান থেকে শুধু মানুষ না, পুরো সৃষ্টি জগতই হচ্ছে সে নেয়ামতে পরিপূর্ণ হচ্ছে।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই এক্সাম্পল গুলো আমাদের সামনে দিয়ে দিয়েছেন যেন আমরা আমাদের চিন্তাকে উন্মুক্ত করি। এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কি বলছেন এই আয়াতে? আফালাইয়াশুন যে তারা কি কৃতজ্ঞ হবে না? সুবহানাল্লাহ। এটা হচ্ছে শেষ এই আয়াতের যে তারা কি উপলব্ধি করে না? তারা কি এতটুকু কৃতজ্ঞতা দেখাতে চায় না? তারা কি এরকম একটা জীবনই পালন করবে? যেটা অকৃতজ্ঞের জীবন? আমি কোন জিনিস নিয়ে গর্ব করতে পারি? কোন জিনিস নিয়ে অহংকার করতে পারি যে আমি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার নির্দেশ মানবো না। বা তার চেয়ে বেশি জ্ঞান আমি রাখি। নাউজুবিল্লাহ। যে আমি আমার মনের মত করে আমার জীবনকে গঠন করব। এটা হচ্ছে একটি স্পিরিচুয়াল রিফ্লেকশন এবং এটা হচ্ছে একটা স্পিরিচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং। যে ফিজিক্যালি আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সামনে চেঞ্জগুলো দেখাচ্ছেন যেন অন্তর আমাদের পরিবর্তন হয়।
সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এভরি সিঙ্গল পারসনকে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে। এবং সেই মক্কার যারা কাফের কোরাইশ মুশরিক ছিল তারা প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করত যে আমরা যখন মরে যাব, আমাদের হাড় যখন গুড়ো হয়ে মাটির সাথে মিশে যাবে, আবার কিভাবে আমাদেরকে তুলে আনা হবে? এবং তাদের এই যে সন্দেহ ছিল যে ব্যাক টু লাইফ আবার কিভাবে আসবে, তাদেরকে আল্লাহ বলছেন যে লুক এট আর্থ। এই মরুভূমির মাটি তোমাদের সামনে হচ্ছে বিরাট উদাহরণ। এই মরুভূমির মাঝে কোথাও দেখবা তোমরা সুন্দর বাগান হয়ে আছে, কোথাও গাছ হচ্ছে, ফসল হচ্ছে। আর কোথাও হচ্ছে ধুধুবালি ছাড়া তোমরা আর কিছুই দেখতে পাচ্ছ না। তারপরও তোমরা কিভাবে রিয়েলাইজ করো না? আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদের অন্তরকে এখানে জাগিয়ে তুলছেন আমাদেরকে আবার হচ্ছে নতুন জীবন দান করছেন এর মাধ্যমে যাতে আমরা তৌহীদের শিক্ষায় আমাদের মৃত আত্মাকে এখানে জাগিয়ে তুলতে পারি।
33 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে বলছেন যে আহা আল্লাহ তাদেরকে আবার হচ্ছে জীবন দান করেন সে মৃত মাটির থেকে। স আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে আমি তোমাদের ঈমানকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারি। স আমরা যদিও মাঝে মাঝেই আল্লাহ সম্পর্কে বিস্তৃত হয়ে যাই, কিন্তু যখনই নিদর্শনগুলো দেখব আমাদের ঈমানকে আবার আমরা জাগিয়ে তুলব।
তারপর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যেখনা যে কিছু গুড তোমার মধ্য থেকে বের করে নিয়ে আসো। সো একবার হচ্ছে আমার ঈমানকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। তারপরে তিনি দেখাচ্ছেন যেভাবে এই মৃত মাটি থেকে ফসল উৎপাদিত হয়ে তোমাদের উপকারে লাগছে, তেমনি তুমিও হচ্ছে মানুষের উপকারে লাগো। তুমি কিছু ভালো কাজে নিজের সময়কে ব্যবহার করো।
ফামিনহুইয়াকুলুন যে তারা এখান থেকে খায়। স আল্লাহ সুবহানা তালা বলছেন যে সে হচ্ছে তখন তার থেকে এগুলো থেকে নেয়ামত পায়। স তোমার থেকেও যেন মানুষ এই নেয়ামতগুলো পেতে পারে। উপকারগুলো পেতে পারে। তারপর আল্লাহ সুবহানা তায়ালা নাখিল খেজুর গাছ এবং আঙ্গুরের কথা বলেছেন। সো আল্লাহ বলছেন যেন তোমরা যদি এই রাস্তায় চলতে থাকো, এই পথে চলতে থাকো, তাহলে তোমরা স্টেপ বাই স্টেপ এগিয়ে যাবে। তাকওয়া, শুকর, তাওয়াক্কুল এ সমস্ত রাস্তায়, এই সমস্ত পথ তোমরা এগিয়ে যেতে পারবে এবং তারপরে তুমি হচ্ছে এই বাগানের মত সৌন্দর্যপূর্ণ একটা জীবন লাভ করবে। যে যেটা সমাজকে উপকার উপকার দিবে, তোমার ফ্যামিলিকে উপকার দিবে, তোমার ক্যারিয়ারকে উপকার দিবে, তোমার বিজনেসকে উপকার দিবে। সো যেখানেই তুমি যাও তুমি হবা সোর্স অফ বেনিফিট ফর পিপল। সেখানেই তুমি মানুষের জন্য উপকারী হবা। মানুষ তোমার মাধ্যমে উপকৃত হবে এবং সেই আলোতেই দেখবা যে সারা দুনিয়া আলোকিত হচ্ছে।
যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম একটা উদাহরণ দিতেন সবসময় সেটা হচ্ছে যে হেদায়েতের পথ, পথ নির্দেশনা এবং জ্ঞান হচ্ছে বৃষ্টির মত। যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লামকে পাঠানো হয়েছে পৃথিবীর বুকে বৃষ্টির মত করে। যেরকমভাবে হেদায়েত এবং জ্ঞান আমাদেরকে চেঞ্জ করতে পারে। এর মধ্যে আমরা দেখি যে কিছু মাটি আছে ফার্টাইল যে মাটিটা হচ্ছে খুবই উর্বর, বৃষ্টির পানিটা সে ধারণ করতে পারে এবং সেখান থেকে ভেজিটেশন, গাছপালা, ঘাস বের হয়ে আসে প্রচুর পরিমাণে। আবার আরেকটা অংশ দেখা যাবে যে খুব শক্ত হয়ে আছে। সেটা বৃষ্টির পানিটাকে কিছুটা ধরে রাখতে পারে কিন্তু খুব বেশি না। তো মানুষ হচ্ছে সেখান থেকে কিছুটা হলেও উপকার পায় এবং তারা তাদের প্রয়োজনীয় পানি বা তাদের এনিমেলদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি বা কাটিভেশনের জন্য যা দরকার সেটা তারা সেখান থেকে ধরে রাখতে পারে। আবার আরেকটা পোরশন হচ্ছে একেবারেই ব্যারেন। সেটাতে কোন কিছু হচ্ছে কোন পানি সেটা ধরণ করতে পারে না এবং কোন কিছুই সেখানে জন্মায় না।
তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন যে ফাস্ট এক্সাম্পল যেটা যেটা হচ্ছে খুব উর্বর মাটি। সেটা হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে হচ্ছে আল্লাহর যে দ্বীন, সে দ্বীনটাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে এবং সেটা থেকে নেয়ামতও পেতে পারে। সেটা থেকে নিজে উপকৃত হয়। যেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লামের মাধ্যমে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছে। সে শিক্ষাটাকে সে ধারণ করতে পারে এবং সেটা দিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করে। এবং লাস্ট এক্সাম্পল হচ্ছে এবং এটা হচ্ছে যে সে নিজেই শুধু উপকৃত হয় না। অন্যদেরকে উপকৃত করে। আর লাস্ট এক্সাম্পল যেটা সেটা হচ্ছে যে সে কেয়ার করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কি বলেছেন সেটাও কেয়ার করে না। আল্লাহ কি পাঠিয়েছেন সেটাও কেয়ার করে না। আল্লাহ কোরআনে বারবার যে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন সেটাও কেয়ার করে না এবং এই যে পথ নির্দেশনা আল্লাহ দিচ্ছেন সে পথ ফলো করে না। তাহলে তার অবস্থাটা হচ্ছে সেই নির্জেপ মাটির মতই হয়ে যায়।
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সবাইকে সেই উর্বর মাটির মত ধারণ ক্ষমতা দান করুন। যেন হচ্ছে আমরা বেশি বেশি করে এই কোরআনের যে জ্ঞান আল্লাহ সুবহানা তাআলা আমাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন, সেই কোরআনের জ্ঞানকে ধারণ করতে পারি। যেটা আল্লাহ বলছেন এখানে আফালা ইয়াশুর তারা কি কৃতজ্ঞতা আদায় করবে না? এই কৃতজ্ঞতা আদায় করা মানে কি আমি বসে বসে তাসবি জব আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ? বরং কৃতজ্ঞতার মানে হচ্ছে যে আমার অন্তর সেটাকে উপলব্ধি করতে পারবে, সেটাকে স্মরণ করবে এবং সে কারণে আমার অন্তরে পরিবর্তন আসবে এবং যে কারণে আল্লাহ যে নিয়ামতটাই আমি দেখব দেখবো না কেন, প্রত্যেকটা নিয়ামতকে আমি যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি সেটার জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবো। গুড ওয়ার্ড হচ্ছে আমাদের ঈমান এবং এটা হচ্ছে আমাদের জন্য জিকির। কিন্তু জিকিরটা হচ্ছে তখনই আমাদের জন্য কাজে লাগবে যে আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলছি, আল্লাহ প্রশংসা করছি। এটা তখনই আমাদের কাজে লাগবে যখন এটা আমার নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনবে এবং সে পরিবর্তনের কারণে আমার কাজে পরিবর্তন আসবে। সো জিকে শুধুমাত্র সরি শুকর শুধুমাত্র মুখে বলা না। শুকুর হচ্ছে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করা এবং কাজের মধ্যে পরিবর্তন আনা। যে যে মানুষটাই হচ্ছে এরকম শুকর গুজার হবে সে হবে সোরস অফ নেয়ামা ফর আদার পিপল, সোরস অফ গুড ফর আদার পিপল। সে অন্যদের কাছে এই কোরআনের জ্ঞান বিলিয়ে দিবে, সে নিজে এটা থেকে উপকৃত হবে এবং অন্যরাও যাতে এখান থেকে উপকৃত হতে পারে সেটার জন্য সে কন্টিনিউয়াসলি চেষ্টা করে যাবে।