Transcription
সূরা ইয়াসিনের 20 নাম্বার আয়াত। এর আগ পর্যন্ত আমরা দেখেছি 13 থেকে 19 নাম্বার আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাতায়ালা একটা গল্প বলার মাধ্যমে ইতিহাসের একটি ঘটনা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন এবং আমরা দেখি যে যখনই কোন গল্প বলা হয় বা ঘটনা বর্ণনা করা হয় সেটার স্থায়িত্বকাল বেশি থাকে আমাদের মনের মধ্যে সেটার প্রভাব বেশি থাকে এবং মেসেজগুলো বুঝার জন্য সেটা অনেক বেশি সহায়ক হয় এবং সেজন্য কোরআনে আমরা বিভিন্ন ধরনের ঘটনার বর্ণনা দেখে থাকি।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আঙ্গিকে যেন সেখান থেকে মূল শিক্ষাগুলো আমরা গ্রহণ করতে পারি এবং মনে রাখতে পারি। যে ঘটনাটা এখানে বলা হয়েছে সেখানে একটা জনপদের কথা বলা হয়েছে যেখানে তিনজন মেসেঞ্জার পাঠানো হয়েছে একের পর এক এবং প্রত্যেককেই তারা হচ্ছে ইগনোর করেছে তাদের কথাগুলোকে রিজেক্ট করেছে এবং তাদেরকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়েছে এবং তাদেরকে চরম শাস্তির কথাও তারা ঘোষণা করে দিয়েছে।
ঠিক এরকম একটি মুহূর্ত যখন হচ্ছে সেই রাসূলগণ তাদের মেসেজ দিয়েই যাচ্ছেন বারবার তাদের কথাগুলোকে সুস্পষ্টভাবে তাদের সামনে বলে যাচ্ছেন কিন্তু পুরো জনপদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে বিরোধিতার ভাবী বেশি তারা বিরোধী ভূমিকার মধ্যে থেকে তাদের উপরে ফিজিক্যাল মেন্টাল টর্চার অপবাদ দেওয়া সমস্ত কিছুই তারা করে যাচ্ছিল এবং এই সময় যে ঘটনাটা ঘটে এই 20 নাম্বার আয়াতে সেটা সূচনা করা হয়েছে এবং সুবহানাল্লাহ সূরা ইয়াসিনের এর 20 নাম্বার আয়াতটা হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব পছন্দের একটি আয়াত।
কারণ একটি আয়াতের মধ্যেই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের জন্য এত শিক্ষা দিয়ে দিয়েছেন। আমরা যদি সঠিকভাবে এর গভীরে বুঝতে পারি তাহলে সেটা হতে পারে আমাদের জন্য জীবন পরিবর্তনকারী। 20 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেছেন আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম। আমিন আসাল মাদিনাতি রাজুলাইয়াতাবি আল মুরসালিন যে অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল সে বলল হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ করো।
তাহলে এখানে আমরা দেখি যে ঘটনাটার মধ্যে নতুনত্ব চলে এসেছে তিনজন মেসেঞ্জার যেখানে সে জনপদের লোকদেরকে বুঝাতে পারছে না তখন একজন লোকের কথা বলা হয়েছে যিনি হচ্ছেন দৌড়ে এসেছেন সেই জনপদের মানুষকে সতর্ক করার জন্য এই প্যাসেজটাই হচ্ছে বলা যায় যে সূরা ইয়াসিনের সেন্ট্রাল থিম যে মোস্ট পাওয়ারফুল মেসেজ আমরা দেখতে পাব এ 20 থেকে 25 নাম্বার আয়াতের মধ্যে এখানে আমরা দেখবো যে যে কনফ্রন্টেশন যে বিরোধিতা চলছিল জনপদের লোকজনের সাথে রাসূলগণের সেটা হচ্ছে একটা টপ লেভেলে ভেরি ক্রিটিক্যাল পয়েন্টে চলে গিয়েছে সেখানে সেই জনপদের লোকজন তাদেরকে বিভিন্নভাবে দোষারোপ করছিল স্লেন্ডারিং করছিল তারা ভায়োলেন্ট এবং এগ্রেসিভ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু মেসেঞ্জারদের অবস্থান আমরা দেখি যে তারা তারপরেও তাদেরকে বুঝিয়ে যাচ্ছিল সুন্দরভাবে নমনীয়ভাবে সুস্পষ্টভাবে তাদের মেসেজ গুলো দিয়ে যাচ্ছিল এবং তাদের যে দায়িত্ব সেই দায়িত্বের ব্যাপারে তারা সুধীয় ছিল অটল ছিল সেখান থেকে কিন্তু তারা দূরে সরে যায় নাই ঠিক এই মুহূর্তে আল্লাহ বলছেন মাদিনাজ এই পার্টটা এই আয়াতের এখানে আমাদের জন্য অনেকগুলো মেসেজ রয়েছে এখানে আমরা দেখি যেমিন আসাল মাদিনাতে রাজুন রাজুনটাই হচ্ছে এখানে মেন যে একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যিনি হচ্ছেন শহরের দূর প্রান্ত থেকে ইয়েস দৌড়ে এসেছেন।
সো এখানে আমরা দেখি রাজিউলুন বলে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সামনে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে একজন ব্যক্তি সে ব্যক্তিটা কে? সেটা আমরা কিন্তু জানি না। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার নাম আমাদের কাছে উল্লেখ করেন নাই। এর আগেও আমরা আলোচনা করেছি যে যে জিনিসটা আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় যে জিনিসটা আমাদের ফোকাস করা প্রয়োজন। আল্লাহ শুধুমাত্র সেই জিনিসটাই উল্লেখ করেছেন। এখানে আমরা দেখি যে একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে এবং পরের যে 20 থেকে 25 নাম্বার আয়াত পর্যন্ত আমরা পড়লে দেখবো যে এই ব্যক্তিকে কাজ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এত পছন্দ করেছেন যে তার নাম উল্লেখ করেন নাই কিন্তু তার কাজটা উল্লেখ করে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি একজন সফল কাম ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সাকসেসফুল হয়েছেন তার এজেন্ডাতে এবং আমাদের মেইন গোল কি? দুনিয়াতে আমরা যত কিছুই করছি আমাদের মেইন গোল হচ্ছে আখিরাতে যেয়ে আমরা যাতে জান্নাত পেতে পারি এবং সেই ব্যক্তির কথা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে বলেছেন যে তার মেইন টার্গেটে পৌঁছতে পেরেছিল এবং সে কারণেই একজন সাকসেসফুল ব্যক্তির ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু তার নাম বলা হয় নাই এখানে আমাদের জন্য যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা লেসন সেটা হচ্ছে যে আমাদের নামটা আসলে বড় ব্যাপার না যে আমার নামটা ফোকাস করা হলো কিনা আমার নামটা ব্যানারে দেওয়া হলো কিনা, আমার নামটা ঘোষণা করা হলো কিনা সেটা ব্যাপার না। আমার কাজটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই কাজ যদি আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে পছন্দনীয় হয় তাহলে যুগে যুগে মানুষ সেই কথা মনে রাখবে।
আমরা দেখি যে কিয়ামত পর্যন্ত যতবার আমরা সূরা ইয়াসিন পড়বো, বুঝবো সেটা নিয়ে আলোচনা করব এই ব্যক্তির কথা আমরা বলেই যাব কেয়ামত পর্যন্ত। অথচ সেই ব্যক্তির নামই আমরা জানি না। সো নাম কোন ব্যাপার না। আমাদের কাজটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটাই আমরা এই আয়াতের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। এবং কোন প্রেক্ষাপটে যে তিনজন রাসূল অলরেডি তাদেরকে দাওয়াত দিচ্ছে। তিনজন রাসূল হচ্ছে তাদের যত উপায় আছে সমস্ত উপায় তাদেরকে বুঝানোর জন্য চেষ্টা করছে কিন্তু কেউই তার কথা শুনছে না তারা এই জনপদের লোকদেরকে এই শহরের লোকদের উপরে ফোকাস করছে কিন্তু আমরা দেখি কি এই লোকটা এসেছে শহরের দূর প্রান্ত থেকে সো শহরের এত মানুষের মধ্যে বলার পরেও একজন ফলোয়ার তারা পাচ্ছে না কিন্তু দূর প্রান্তে ঠিকই তাদের মেসেজ চলে গিয়েছে সে তাদের কথা অনুসরণ করেছে মোটিভেটেড হয়েছে এবং সেখান থেকে দৌড়ে চলে এসেছে।
এখানে আরেকটা ব্যাপার যেটা আমরা দেখি যে এই মেসেঞ্জাররা এত কষ্ট করেছেন নিশ্চয়ই দিনের পর দিন রাতের পর রাত বছরের পর বছর তারা এই কাজ করে গিয়েছেন। তাদের দুইজনকে শক্তিশালী করার জন্য তৃতীয় রাসূলের আগমন ঘটেছে। কিন্তু তাদের ফলোয়ার নাই। তাদের অনুসরণকারী নাই। আজকের যুগে আমাদের সাকসেস আমরা দেখি যে সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের কতজন ফলোয়ার রয়েছে কতটি লাইক পড়েছে কতটি শেয়ার পড়েছে কয়টা কমেন্ট এসেছে কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে ইম্পর্টেন্ট কি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে ইম্পর্টেন্ট হচ্ছে আমার এফোর্ট সো তারা এত কষ্ট করার পরেও তিনজন রাসূলের চেষ্টার পরে তারা একজন ফলোয়ার এখানে পেয়েছে লুক ফর নাম্বার কতজন মানুষ আসলো কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটি সেটার উপরে আমাদেরকে ফোকাস করতে হবে। এ রাজুলন শব্দ দিয়ে সেই কথাটাও আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে বলে দিয়েছেন যে এটা কোন ব্যাপারই না যে একজন ফলো করছে না 100 জন ফলো করছে নাকি এক মিলিয়ন ফলো করছে। আমার যেটুকু এফোর্ট সেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছে কাউন্টেড হবে কোন ফলোয়ারও যদি না থাকে আমাদের।
আমরা জানি নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা। যে তিনি 950 বছর দাওয়াত দিয়েছেন কিন্তু কি হয়েছে? খুব কম সংক্ষক মানুষই হচ্ছে 950 বছর দাওয়াতের পরে ম্যাক্সিমাম তাফসীরকের মতে 80 জনের মত মানুষ হচ্ছে ইসলাম গ্রহণ করেছিল অথচ সেটা হচ্ছে জেনারেশন টু জেনারেশন টু জেনারেশন 900 বছর আমরা চিন্তা করতে পারি যে কয়টা জেনারেশন পার হয়েছিল সেখান থেকে খুব স্বল্প সংখ্যক মানুষ তাকে অনুসরণ করেছিল কিন্তু তার মানে নূহ আলাইহি সালাম ব্যর্থ হয়ে যান নাই এখানেও আমরা দেখতে পাই যে আমাদের এফর্টটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা বালাগাল মুবিন স্পষ্টভাবে হিকমার সাথে মানুষের কাছে কথাগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করছি কিনা সেখানে আমার ইনটেনশন কি আমি কতটুকু প্রচেষ্টা করেছি সেটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই কথাগুলো যদি আমরা মনে রাখি তাওতে কাজে কখনোই আমরা হতাশ হব না কারণ আমার এফর্টটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দেখবেন কে শুনছে কে শুনছে না সেটা কিন্তু আল্লাহ দেখবেন না স আমি যত বেশি আমার কোয়ালিটি ইমপ্রুভ করবো যত বেশি এফর্ট আমি দিব তত বেশি আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে পছন্দনীয় বান্দা হব আমাদের নাম হয়তোবা কোরআনে থাকবে না। কিন্তু আল্লাহ সুবহানা তাআলার খাতায় ফেরেশতাদের স্মরণের মধ্যে আমরা থেকে যাব।
এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রাজুন বলেছেন এবং এই লোকটার কথা আমরা দেখি যে সে শহরের দূর প্রান্তে থাকে তাহলে সরাসরি নিশ্চয়ই সে দাওয়াতটা পায় নাই। যেভাবে এই কথাগুলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে সো সে নিশ্চয়ই অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছে। সো একজন থেকে আরেকজন এই যে ওয়ার্ল্ড ট্রান্সমিশন হচ্ছে ওয়ার্ড অফ মাউথ তার দ্বীনের দাওয়াতের প্রচার হচ্ছে সেটাও কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। তো সে কারণে আমরা যখনই কোন সঠিক কোন কিছু দেখবো, ভালো কোন কিছু দেখবো সেটা যত মানুষের মাঝে পারি শেয়ার করার জন্য চেষ্টা করব। সুবহানাল্লাহ।
আমি ব্যক্তিগত একটা উদাহরণ এখানে দিতে চাচ্ছি যে এই যে সূরা ইয়াসিনের উপরে আলোচনা করছি এখানে অথবা যে সূরাগুলো বা কোরআনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করছি যে সেটার মেইন মেসেজটা যাতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেন সেটা করার জন্য আমরা দেখি যে একটা আয়াতের জন্য আমি যদি কমপক্ষেও এক ঘন্টা সময় ধরি এটা পড়াশোনা প্রিপারেশন স্লাইড প্রেজেন্টেশন সবকিছু ধরে 65 টা আয়াত সূরা ইয়াসিনে তার মধ্যে কমপক্ষে 65 ঘন্টা সেখানে দিতে হয়েছে। এই সময়টা দেওয়ার পিছনে একটাই উদ্দেশ্য সেটা হচ্ছে যে আমরা যাতে দিনকে সঠিকভাবে বুঝতে পারি। তো এই কথাগুলো আমরা যত বেশি মানুষের কাছে প্রচার করবো। এখানে নাম কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না। আমরা কথাগুলোকে প্রচার করার চেষ্টা করব। যেন হচ্ছে আমরা এই দ্বীনের প্রচারে আমাদের যে এফর্টটা সেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালাকে দেখাতে পারি। সো আমরা জানিনা আমরা যত বেশি শেয়ার করবো তত বেশি মানুষের কাছে এটা পৌঁছবে তত বেশি মানুষ এটা থেকে আলোকিত হতে পারবে। আমরা জানিনা কার অন্তর আলোকিত হবে। আমরা জানিনা কে এটাকে গ্রহণ করবে। কিন্তু যদি একজন মানুষও গ্রহণ করে তার জীবনের যে পরিবর্তন হবে সেটা সাদকায়ে জারিয়া জমা হয়ে যাবে আমার শেয়ারের কারণে।
তো সুবহানাল্লাহ আমরা আমাদের যে অফুরন্ত সুযোগ আল্লাহ সুবহানা তাআলা দিয়ে দিয়েছেন সেই সুযোগটুকুকে আমরা যদি কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমাদের যে আমলনামা সেটা এমনভাবে ভরপুর হয়ে উঠবে যে কেয়ামতের মাঠে কোন কোন বান্দা অবাক হয়ে বলবে যে এত ভারী কিভাবে হলো আমার আমলনামা আমি কখন এত কাজ করলাম সুবহানাল্লাহ আমরা সবাই এই কথাটা শুনতে চাই সে কিয়ামতের দিনে যখন আমাদের কোন বন্ধু কোন সহায়ক কোন সঙ্গী থাকবে না আমাদের আমল ছাড়া। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালার রহমতের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আমরা এই কাজগুলোকে করার চেষ্টা করব এবং আমরা দেখি যে যেখানে মেসেঞ্জাররা ব্যর্থ হয়েছেন সেখানে এই ব্যক্তি এগিয়ে এসেছেন। তো সেই ব্যক্তির এগিয়ে আসা সেটা এই কারণেই যে সে তার গুরুত্বটাকে বুঝতে পেরেছিল। তো এরকম আমরা যত বেশি শেয়ার করব, যত বেশি মানুষের কাছে এই কথাগুলো পৌঁছাতে পারবো, সেখানে যত বেশি মোটিভেটেড পার্সন তৈরি হবে, আমরা দেখব যে আমাদের সমাজের পরিবর্তন তত বেশি ঘটছে। আমাদের নিজেদের পরিবর্তন তত বেশি ঘটছে।
সো এই আয়াতগুলোর মধ্যে আমরা আরেকটা জিনিস দেখবো যে 20 থেকে 25 নাম্বার আয়াত পর্যন্ত শুধু এই ব্যক্তির কথাই বলা হয়েছে। তো তিনজন মেসেঞ্জারের কথা আমরা দেখি যে সংক্ষেপে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেছেন। কিন্তু এই ব্যক্তি এত বিশেষ ব্যক্তি যে তার কথাই বেশি আলোচিত হয়েছে। এই আয়াতগুলোর মধ্যে। তো এই আয়াতগুলোর মধ্যে সেলিব্রেটি হিসেবে আমরা কাকে দেখি? সেলিব্রেটি হিসেবে কিন্তু আমরা মেসেঞ্জারদেরকে দেখছি না। সেলিব্রেটি হিসেবে দেখছি এই এক ব্যক্তির কথা যার নামও আমরা জানি না। তো সুবহানাল্লাহ যে মেসেঞ্জাররা অবশ্যই আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ। মেসেঞ্জাররা আল্লাহর চোজেন পিপল। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার চেয়েও বেশি দিয়েছেন, গুরুত্ব দিয়েছেন এই ব্যক্তির কথা বলার জন্য। তা আমরা অনেক সময় বলে থাকি যে নবী রাসূল তারা তো আল্লাহ চোজন পিপল স তারা আল্লাহ পছন্দনীয় ব্যক্তি তাদের জন্য এগুলা হচ্ছে সহজ তারা এগুলা করতে পারে কিন্তু আমরা হচ্ছি এত নগণ্য বান্দা আমাদের পক্ষে এত কিছু করা সম্ভব না তা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদের জন্য এই এক্সাম্পলটা এখানে দিয়ে দিয়েছেন যে একজন সাধারণ ব্যক্তি আমরা আরেকটু ডিটেলস ব্যক্তি সম্পর্কে জানবো যে একজন সাধারণ ব্যক্তি তার কথা আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তার কাজ এত পছন্দ করেছেন যে তাকেই এখানে সেলিব্রেটি হিসেবে দেখিয়েছেন।
সো আল্লাহর নজরে আমরা যদি সেলিব্রেটি হতে চাই তাহলে মেসেঞ্জার হতে হবে এমন কোন কথা নাই। বরং সে মেসেঞ্জারদের দায়িত্ব আমরা যদি পালন করি বরং সাধারণ মানুষ হয়ে আমরা যখন সে দায়িত্বগুলো পালন করব সেটা আল্লাহ সুবহানা তায়ালার কাছে আরো বেশি পছন্দনীয় হবে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এজন্য আমাদের সামনে উদাহরণ দিয়েছেন যে নবী রাসূলদের কথা না সাহাবাদের কথা না একজন সাধারণ ব্যক্তির কথা এখানে উল্লেখ করেছেন যিনি হচ্ছেন আল্লাহর পছন্দনীয় বান্দায় পরিণত হয়েছেন এবং আনন্টিল কিয়ামা কিয়ামত পর্যন্ত তিনি হিস্ট্রিতে থাকবেন এই কোরআনের কথা যতদিন পর্যন্ত আলোচনা হবে কোরআন যতদিন পড়া হবে তার কথা বলা হবে সো ক্রিডেনশিয়াল কি সেটা নিয়ে আমাদের আসলে অবসেসড হওয়ার দরকার নাই যে আমার পদবী কি আমার সার্টিফিকেট কি আমার কাজ হচ্ছে আমি কোরআন বুঝেছি কোরআনের কথা মানুষের সামনে আমি উপস্থাপন করার চেষ্টা করব সুন্নাহর কথা আমি মানুষের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করব এটাই আমার দায়িত্ব উম্মতে মোহাম্মদী হিসাবে এবং এখানে তাফসীগণ বলেছেন যে ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে তিনি শহরের শেষ দূর প্রান্তে ছিলেন তার মানে একটু রুরাল এরিয়াতে ছিলেন।
তো আমরা দেখি যে আমরা যারা শহরে থাকি শহরে থাকার একটা বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে এখানে আমরা চরম ব্যস্ত থাকি। সারাক্ষণই হচ্ছে কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। দৌড়াতে হয় সব কাজের জন্য। কিন্তু যারা একটু গ্রামাঞ্চল বা শহরের বাইরে থাকে তাদের জীবনটা দেখা যায় অনেকটা নিরবিলি। তাদের সময় আছে রিফ্লেক্ট করার চিন্তাভাবনা করার। তা আমরা যত বেশি আল্লাহর সৃষ্টির কাছাকাছি থাকবো যত বেশি আল্লাহর সৃষ্টিকে দেখার যে আমাদের চারপাশে যে ন্যাচার রয়েছে সেটার উপরে আমরা রিফ্লেক্ট করব সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করব তত বেশি আল্লাহকে আমরা আসলে বুঝতে পারব এবং তাদের অন্তরও অনেক বেশি সুন্দর হয়ে থাকে কারণ তাদের অন্তরে হচ্ছে এই ব্যস্ততার চেয়ে আল্লাহ সুবহানা তাআলার সৃষ্টি নিয়ে চিন্তাভাবনার সুযোগ বেশি থাকে স এখানে আমরা দেখি যে এই ব্যক্তি শহরের এত লোকের মধ্যে বলার বলার পরেও কেউ তার অনুসরণ করলো না। তাদের অনুসরণ করলো না। কিন্তু এই ব্যক্তি ঠিকই অনুসরণ করল। কারণ তার মনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেটা করার সুযোগ দিয়ে দিয়েছিলেন। তো এটাও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে কিছুটা নির্বিলি লাইফ নেওয়া। কিছুটা হচ্ছে সৃষ্টির আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সময় কাটানো। আমাদের এই ব্যস্ত সময় থেকেও আমরা যদি কিছুটা সময় বের করে নিয়ে আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে বসতে পারি চিন্তাভাবনা করতে পারি তাহলে সেটাও আমাদের অন্তরকে প্রশস্ত করে দিবে প্রসারিত করে দিবে ইনশাআল্লাহ।