Transcription
এরপরে 19 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবহানাতালা বলছেন, "আউজুবিল্লাহ মিনাশ শাইতানির রাজিম।"
"আরকম রাসূলগণ বলল, তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথে। এটা কি এজন্য যে আমরা তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়েছি? প্রস্তুত, তোমরা সীমা লঙ্ঘনকারী সম্প্রদায় বই নয়।"
এখানে কালু, এই কালুকে এখানে আমরা দেখি যে এখানে বলা হচ্ছে তারা বললেন। তারা কে? তারা হচ্ছে সে মেসেঞ্জাররা। এটা হচ্ছে সে জনপদের লোকেরা যে কথা বলল তাদেরকে যে ধরনের হুমকি দিল সেটার রেসপন্সে রাসূলগণ কি বলছেন? তারা বলছেন যে, "তরুকুম মাকুম।" যে তোমরা যে কুসংস্কার বা খারাপ লক্ষণের কথা বলছো, সেগুলো আবার তাদের দিকেই তারা ছুড়ে মারল। এবং ত শব্দ আমরা আগেই জেনেছি যেটার অর্থ হচ্ছে পাখি। কিন্তু এখানে যেটা রেফার করা হচ্ছে সেটা হচ্ছে অভিশাপ অথবা খারাপ লক্ষণ ও শুভ লক্ষণের কথা।
এখানে "তরুকুম মাকুম" বলতে বুঝানো হয়েছে যে তোমাদের যে অভিশাপ, তোমাদের যে খারাপ লক্ষণ এটা তোমাদের সাথেই। "তরুকুম" শব্দটাই এখানে ইম্পর্টেন্ট। আবারো আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, "তৈরুকুম তোমাদের বার্ড।" তোমাদের পাখি। অর্থাৎ তোমাদের যে অভিশাপ, তোমাদের যে খারাপ লক্ষণ এগুলা তোমাদের জন্যই প্রযোজ্য।
সো এখানে মেসেঞ্জাররা হচ্ছে তারা যে বিশ্বাসটা করতো সেই জনপদের লোকেরা তাদেরকে তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী সেই জিনিসটা রেসপন্স দিলেন এবং তাদেরকে বলে দিচ্ছেন যে তারা যেই ক্ষতি বা অশুভ লক্ষণটা তারা দেখতে পাচ্ছে, পারসিভ করছে এটা এক্সটার্নাল না, এটা বাইরে থেকে দেখা যায় না বরং এটা তাদের যে এটিচিউড, তাদের যে কাজ সেটারই একটা রিফ্লেকশন হচ্ছে তারা দেখতে পাচ্ছে। এখানে এবং এখানে আমরা দেখি যে তাদের দুর্ভাগ্যের জন্য তারা সরাসরি হচ্ছে সে রাসূলদেরকে দায়ী করলো, যেমন করেছিল মুসা আলাইহিস সালাম, সালি আলাইহিস সালামের জাতিরা।
তারা এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আবারো এখানে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে এই লক্ষণগুলো হচ্ছে আল্লাহর ক্ষমতার মধ্যে। এগুলো মেসেঞ্জারদের ক্ষমতার মধ্যে নয়। সো এই যে ইভিলস বা খারাপ জিনিসগুলো তারা এখানে সেন্স করছে, ফিল করছে যেটার কারণে মেসেঞ্জারদেরকে তারা দায়ী করছে, সেখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলে দিচ্ছেন যে, "আইনুকতুম" এটা তাদের প্রবলেম, তাদের নিজস্ব প্রবলেম। এটা এই মেসেঞ্জাররা তাদের জন্য কোন ধরনের খারাপ লক্ষণ নিয়ে আসে নাই। বরং যদি তাদের প্রতি খারাপ কোন কিছু ঘটে, তাদের মধ্যে দুঃখ কষ্ট বিপর্যয় এসে থাকে তাহলে সেটা তাদের কাজের কারণেই এসেছে। সো তাদের আসলে উচিত হচ্ছে নিজের দিকে তাকানো, আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখা এবং সে অনুযায়ী রিফ্লেক্ট করা যে তাদের সমস্যা কোন জায়গায়।
এই যে তাদের কমপ্লেন, সে কমপ্লেন গুলো কোত থেকে এসেছে সেটা শুধুমাত্র এ কারণে যে তাদেরকে আল্লাহর পথে ডাকা হয়েছিল। তাদেরকে বলা হচ্ছে যে তোমাদেরকে যে মেসেজটা দেওয়া হচ্ছে সেটা ইন্টারনালাইজ না করে, সেটা বুঝার চেষ্টা না করে তারা হচ্ছে উল্টো হচ্ছে যারা তাদের ভালোর জন্য ডাকছে তাদেরকেই হচ্ছে নেগেটিভলি দেখছে, তাদেরকেই তারা হচ্ছে অপবাদ দিচ্ছে। এবং এখানে রাসূুল্লাহ সে কারণেই বলছেন যে, "তোমরা কি তাদের কথার অর্থটা হচ্ছে এরকম যেন তোমরা কি এই কথাগুলো এজন্য বলছো যে তোমাদেরকে সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে অথবা সত্যের পথে ডাকা হচ্ছে? সে কারণেই তোমরা আমাদের সাথে এরকম নেগেটিভ এটিচিউড করছো যে এক আল্লাহর ইবাদত করতে তোমরা এখানে অস্বীকার করছো।"
সূরা নামলে বলা হয়েছে, "তারা বলল, তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা আছে তাদেরকে আমরা অকল্যাণের প্রতীক মনে করি। সালেহ বললেন, তোমাদের মঙ্গল অমঙ্গল আল্লাহ কাছে। বরং তোমরা এমন সম্প্রদায় যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।"
তাহলে এখানেও আমরা দেখি যে তাদেরকে আসলে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এই কথাগুলো বলছেন এবং সে কারণেই মেসেঞ্জাররাও এখানে বলছে যে, "তোমাদের মঙ্গল অমঙ্গল হচ্ছে তোমাদের কাছে। এটা তোমাদেরই কাজের ফলাফল।"
গাদা রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে, এর অর্থ হচ্ছে আমরা তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এবং সে কারণেই তোমরা আমাদের মাঝে অশুভ লক্ষণ দেখতে পাচ্ছ। কিন্তু আসলে তোমরা হচ্ছে এমন জাতি যারা হচ্ছে সত্যকে অস্বীকার করে বা তাদের সীমাকে অতিক্রম করে যায়। সো এখানে তারা যেই খারাপ কাজগুলো করছে সেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আবার তাদেরকেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে তাদের ব্যাডলাক। এটা হচ্ছে তোমাদের নিজস্ব ইমাজিনেশন। তোমাদের ব্যাডলাক তোমাদের নিজস্ব অপরাধের জন্য।
সো এখানে ইবনে কাসীর এবং কুর্তুবী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন যে, "তর" শব্দটা আসলে বুঝানো হয় অশুভ লক্ষণ বা দুর্ভাগ্য বুঝানোর জন্য। আবার এটা কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যের যে ফলাফল তাদের কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে সেটাকেও বুঝানো হয়ে থাকে। এবং এইখানে যে "তয়রুকুম" বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে তারা যেই কাজটা করার জন্য ডিসিশন নিয়েছে যে রাসূলদের বিরোধিতা করার জন্য তার মানে আল্লাহর বিরোধিতা করার জন্য তাদের কাজের কনসিকুয়েন্সটাই এখানে বলা হচ্ছে "তয় রুকুম" বলে যে তাদের কাজের ফলাফলটা তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের কারণেই এটা হয়েছে।
"মুসরিফুন" কিন্তু তোমরা হচ্ছে কি? তোমরা হচ্ছে এমন একটা জাতি যারা হচ্ছে "মুসরিফুন"। মুসরিফ শব্দটা কি? মুসরিফ শব্দটা দিয়ে আসলে বুঝানো হচ্ছে যে যারা হচ্ছে এক্সট্রাভগ্যান্ট অথবা যারা হচ্ছে অতিরিক্ত কোন কিছু করে তাদেরকে বলা হয়ে থাকে। সো মুসলিফ শব্দটা দিয়ে আমরা দেখি যে তারা হচ্ছে এমন জিনিস তারা হচ্ছে অনেক দূর চলে যায় তাদের সীমা অতিক্রম করে চলে যায় এবং তাদের জন্য যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা সেই লাইনটা তারা ক্রস করে। সো এরা হচ্ছে এমন একটা জাতি গো বিয়ন্ড দেয়ার লিমিট এটাই হচ্ছে এখানে বুঝানো হচ্ছে।
"মুসলিম ফ মুসরিফুন" শব্দটা আসছে "সরাফ" শব্দ থেকে যেটার অর্থই হচ্ছে ক্রসিং দা লাইন, তাদের সীমা সীমা থেকে সীমাকে অতিক্রম করে চলে যাওয়া। এই লোকগুলো হচ্ছে সেই লোক যারা তাদের সীমা অতিক্রম করে চলে গিয়েছে এবং তারা শুধুমাত্র একটা সীমা অতিক্রম করে নাই, তারা সেভারেল লাইনস অনেকগুলো সীমা তারা অতিক্রম করেছে। কি ধরনের সীমা তারা অতিক্রম করেছে? একটা লাইন তাদের জন্য ছিল আল্লাহ আল্লাহকে বিশ্বাস করা। তারা সেই লাইনটা ক্রস করেছে। তারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করেছে।
তাদের আরেকটা কাজ ছিল হচ্ছে মেসেঞ্জারদের কথাকে মেনে নেওয়া। তাদের সেই সীমাকে অতিক্রম করে তাদেরকে রিজেক্ট করেছে। তাদের নামে অপবাদ দিয়েছে। তাদের কথা স্বীকার করেছে। তারা যেই কাজগুলো করছে সেটার জন্য বরং তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করছে। এবং তারপরে আরেকটা লাইন যেটা অতিক্রম করেছে সেটা তাদের নিজেদের ব্যাপারে। সো যখন তাদের উপরে কষ্ট এসেছে, ডিফিকাল্টিস এসেছে তখন তারা নিজেদের মধ্যে সেটা চিন্তাভাবনা না করে যে কেন এসেছে তারা তখন হচ্ছে তাদের অন্যদেরকেও সেখানে ব্লেম দেওয়া শুরু করল এবং সেটা নিজেদের মধ্যে চিন্তা করলো না।
এবং তাদের কাছে মেসেঞ্জাররা এসেছে যারা হচ্ছে সমস্ত কিছু স্যাক্রিফাইস করে সমস্ত কষ্টকে মেনে নিয়ে তাদেরকে সত্যের পথে ডাকার জন্য তাদের সীমাটা কি সেটা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছে। তারা সেটা না বুঝে সেটাকে এপ্রিশিয়েট না করে তাদের মেসেজটাকে এপ্রিশিয়েট না করে তাদের এফর্টটাকে এপ্রিশিয়েট না করে বরং তারা হচ্ছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে অপবাদ দেওয়া শুরু করল। স তাদের জীবনের সবচেয়ে ভালো জিনিস যদি বলা যায় তাহলে বলা যায় যে তাদের কাছে হচ্ছে সত্যের আহ্বান এসেছিল। কিন্তু তারা সর্ব সর্বাত্মকভাবে হচ্ছে সে সত্যকে অস্বীকার করেছে।
সো তাদের যেই টেন্ডেন্সি যে গো বিয়ন্ড বাউন্ডারি অফ রিজনস এন্ড রাইটিয়াসনেস এই সমস্ত কিছুই আমরা দেখতে পাচ্ছি তাদের এই কাজের মধ্যে। তারা শুধুমাত্র যে মেসেজটাকে রিজেক্ট করেছে তাই না, বরং তারা হচ্ছে এটা একসিভলি করেছে। কোন ধরনের সত্যিকার কারণ ছাড়া কোন ধরনের জাস্টিস ছাড়া তারা এই জিনিসটাকে করে গিয়েছে। সো আমরা জানি যে কোরআন খুব প্রেসালাইজলি খুব ছোটভাবে অনেক গুরু তথ্য আমাদেরকে দিয়ে দেয় এবং এখানে এই যে মেসেঞ্জারদের যে জবাবটা সে জবাবটা আসলে শুধু কথার পিঠে কথা বলা না বরং এটা হচ্ছে তাদের জন্য একটা আহ্বান সেলফ রিফ্লেকশনের জন্য।
তোমরা নিজেকে নিয়ে চিন্তা করো। তোমরা যে খারাপ জিনিসের কথা বলছো, অশুভ লক্ষণের কথা বলছো, এটা তোমাদের কাজের ফলাফল। সো তোমাদের কাজগুলো নিয়ে একটু চিন্তা করো তাহলেই তোমরা বুঝতে পারবে যে কোথায় তোমাদের ভুল হচ্ছে। সো আমাদের জন্য যেটা বেশি ইম্পর্টেন্ট সেটা হচ্ছে আমরা আমাদের কাজ নিয়ে হচ্ছে রিফ্লেক্ট করবো, চিন্তা করব যে আমার কোন কাজ আমার কোন কথা আমাকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা কথা কাজের ব্যাপারে আমরা যদি সচেতন হই তাহলে হচ্ছে আমরা এই ক্ষতি থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে পারব।
সো এই যে তারা মুশরিফন, তারা যে অতিরিক্ত, সে অতিরিক্ত কোন দিকে আমরা দেখি যে তারা কুসংস্কারের দিক থেকে অতিরিক্ত অতিরঞ্জিতভাবে কাজ করেছে। তারা খুব তাদেরকে যে থ্রেট করেছেন মেসেঞ্জারদেরকে সেটার ব্যাপারে তারা অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে। তাদেরকে হত্যা করার ব্যাপারে তারা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। সো এখানে বলা হচ্ছে যে তোমাদের যে ইন্টেলেক্ট তোমাদেরকে যে আকল দেওয়া হয়েছে, সে আকলটাকে তোমরা ব্যবহার করো। তোমরা যদি সেটা না করো তাহলে দেখা যাবে তোমরা ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত।
যারাই হচ্ছে নিজের লিমিট না বুঝে সে লিমিটকে অতিক্রম করে চলে যাবে তাদের সবার জন্যই এই কথাগুলো প্রযোজ্য। সো আমরাও আসলে চিন্তা করতে হবে যে আমরা কোন কাজ সেই অতিরঞ্জিতভাবে করছি কিনা বা অতিরিক্তভাবে কোন জিনিসকে ফলো করার জন্য চেষ্টা করছি কিনা। আমরা আমাদের উপরে যা কোরআন এবং সুন্নাহর মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি করার আশায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি কিনা। যেমন যে জিনিসগুলো আমরা নিজেদের উপরে অনেক সময় চাপিয়ে নেই কষ্ট করে যে কষ্ট করতেই হবে যেই জিকিরটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম আমাদেরকে বলে নাই সেটাই আমরা করি কি থাউজেন্ড টাইম মিলিয়ন টাইম জিকিরের মাধ্যমে নিজেদের একটা সেট লিমিট দিয়ে দেই। তো এগুলোই হচ্ছে এক্সেসিভনেস যেগুলোর জন্য আমরা রিজনিং ইউজ করি না বরং আমরা বাহ্যিক দিকটার উপরেই ফোকাস করছি।
ইসলামকে যদি আমরা যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে ফলো করি তাহলে এটা কখনোই ডিফিকাল্ট না আমাদের জন্য বরং আমরা হচ্ছে সেই জিনিস সেগুলো ফলো করার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানা তাআলা সন্তুষ্টি হাসিল করতে পারি। কিন্তু যখনই আমরা এই সীমাকে অতিক্রম করে যাই তখনই আমাদের নিজেদের জীবনে কষ্ট চলে আসে এবং আমরা ধর্মের মধ্যেও হচ্ছে নতুন জিনিসের সূচনা করলাম। সো এখানে মুসলিফুন বলতে এমন কাজ বুঝানো হয়েছে যেটা করা আসলে উচিত না। সো দেখা যায় যে আমাদের মধ্যেও আমরা কোন কাজ করতে বসলে সেটা একনাগারে একই কাজ করতে থাকি আমরা অন্য জিনিসের প্রতি ব্যালেন্স করতে আবার ভুলে যাই। খেলতে বসলে সে খেলতেই থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা এবং সেটার ক্ষতিকর প্রভাব আমরা দেখতে পাই পরবর্তীতে। হয়তোবা কোন নাটক দেখতে বসলেন সেই নাটক দেখার জন্য নাটক দেখা জায়েজ না না জায়েজ সেটার ব্যাপারে আমি কোন কথা বলছি না কিন্তু দেখা যায় যে এপিসোডের উপর এপিসোড চলতেই থাকে থামতে পারছে না। তো এই সমস্ত কিছুই হচ্ছে স্টাফ যে ক্রসিং দা লাইন।
আমরা আমাদেরকে নিজেদের বাউন্ডারি বুঝতে হবে চিন্তা করতে হবে এবং তারপরে হচ্ছে আমাদেরকে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আদারওয়াইজ আমরা মুসরিফনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব আল্লাহ মাফ করুন।
সূরা আরাফে বলা হয়েছে, "অতঃপর যখন শুভদিন ফিরে আসে তখন তারা বলতে আরম্ভ করে যে এটাই আমাদের জন্য উপযোগী। আর যদি অকল্যাণ এসে উপস্থিত হয় তবে তাতে মুসার এবং তার সঙ্গীদের অলক্ষণ বলে অভিহিত করে। শুনে রাখো, তাদের অলক্ষণ যে আল্লাহরই এলেমে রয়েছে, অথচ এরা জানে না।"
সো এখানে আমরা দেখি যে সে মুসা আলাইহিস সালামের জাতি যেভাবে মুসা আলাইহি সালামের উপরে বারবার হচ্ছে অপবাদ দিয়েছিল সেই কথাটাই হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে এখানে জানিয়ে দিচ্ছেন। সো তাদের যেই পরিণতি সেটা হচ্ছে তাদের নিজেদের কাজের কারণে তাদের নিজেদের উপরে এ কষ্টকে চাপিয়ে দেওয়ার কারণে তাদের কাছে সত্য আসার পরেও সে সত্যকে অস্বীকার করে। তারা নিজের কাজেই অতিরঞ্জিতভাবে এগিয়ে গিয়েছিল সে কারণেই হচ্ছে তাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পরবর্তীতে পানিশমেন্ট দিয়ে দিয়েছেন।
সো এখানে মেসেঞ্জাররা যে কথাটা বলছেন সেটা যেন এরকম যে, "তোমরা কি আমাদেরকে অশুভ লক্ষণ এজন্যই বলছ যে যে কারণে হচ্ছে তোমরা ক্ষতির মধ্যে চলে গিয়েছো? তোমরা কি এই কারণেই আমাদের উপরে পাথর নিক্ষেপ করছো? বিকজ তোমরা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের অবস্থায় সন্তুষ্ট না।" সো এখানে মেসেঞ্জাররা তাদেরকে বলছেন যে যদি এ ধরনের কাজই তোমরা করে থাকো তাহলে তোমরা হচ্ছ ওপেন ট্রান্সগ্রেসার যারা হচ্ছে সুস্পষ্টভাবে সীমা লঙ্ঘন করে থাকে এবং তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য করার ব্যাপারে এবং গুনাহ করার ব্যাপারে সমস্ত ধরনের সীমাকেই অতিক্রম করে গিয়েছো।
সূরা নিসাতে বলা হয়েছে, "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকরাও করবেই, যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গের ভিতরে অবস্থান করো তবুও। বস্তুত তাদের কোন কল্যাণ সাধিত হলে তারা বলে যে, এটা সাধিত হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয় তবে বলে, এটা হয়েছে তোমার পক্ষ থেকে। বলে দাও, এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। পক্ষান্তরে তাদের পরিণতি কি হবে যারা কখনো কোন কথা বুঝতে চেষ্টা করে না?"
সো এখানেও আরেকটা জিনিস আমরা দেখতে পাই যে অশুভ লক্ষণ মনে করা অথবা কোন জিনিসের জন্য কাউকে অপরাধী প্রমাণ করার চেয়ে আমরা আগে নিজেদেরকে রিফ্লেক্ট করব এবং বুঝার চেষ্টা করব। সো অন্যদেরকে অপবাদ না দিয়ে অন্যদের উপর দোষারোপ না করে আমার নিজেকে সংশোধন করার কোন উপায় থাকলে সেটা করার জন্য আমরা চেষ্টা করব।
সূরা তাওবায় বলা হয়েছে, "তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল। তোমাদের দুঃখ কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।"
এখানে আমরা দেখি আবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের সিচুয়েশনটা যদি আমরা বুঝার চেষ্টা করি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যখন সত্যের কথা বলছিলেন তখন তার উপরে বাধা বিপত্তি টর্চার সমস্ত কিছু নেমে আসলো তার উপর তার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া শুরু করল এবং সেই সময়ে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা তার জন্য এই আয়াতগুলোকে সামনে নিয়ে আসলেন যেন তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি একা না। এর আগেও হচ্ছে এ ধরনের কাজ হয়েছে এটা তার দোষ না বরং এটা হচ্ছে তাদেরই দোষ যাদের কাছে হচ্ছে মেসেজটা দেওয়া হয়েছে অথচ তারা সেই মেসেজটাকে গ্রহণ করে নাই বুঝার চেষ্টা করে নাই। স রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম তাদের মধ্য থেকেই এসেছেন যারা হচ্ছে তাদেরকে বুঝতে পারতো এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের প্রতি আল্লাহ সুবহানাতায়ালার এই সান্ত্বনার বাণী দেখ আমরা দেখতে পাচ্ছি এখানে যে তার মনের মধ্যে কি চলছিল সেটা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা জানেন এবং তিনিই তাকে হচ্ছে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। রাসূ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম দিনের পর দিন রাতের পর রাত তাদের উম্মার জন্য হচ্ছে কেঁদেছেন।
তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামকে আল্লাহ সুবহানাতালা এখানে বলছেন যে এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে এবং তারা নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য হচ্ছে এই চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছে। মুশরিফুনের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। এবং এখন কুরাইশদের জন্য হচ্ছে একটা উদাহরণ হিসেবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামকে দিয়েছেন যিনি হচ্ছেন তাদের জন্য অত্যন্ত মঙ্গলকামী। সো এখানে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের প্রতি আল্লাহর যে ভালোবাসা, তাকে যে সান্ত্বনা দান সেটাও এখানে দেখতে পাচ্ছি যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম তাদের মধ্য থেকে এসেছেন এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট তাদের যাতে পরবর্তীতে চরম শাস্তির দিকে যেতে না হয়, জাহান্নামের শাস্তির দিকে যেতে না হয় সেজন্যই হচ্ছে তিনি প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
"তোমাদের প্রতি তিনি স্নেহশীল, দয়াময়।" তারপরও তোমরা কেন তার কথা মানছো না? কেন তার সুন্নাহকে ফলো করছো না?