📱

Get Our Mobile App

Take your business learning on the go!

Download on the App StoreGet it on Google Play

চেরনোবিল: যে ভুলে একটি শহর হারিয়ে গেল | Nuclear Disaster Explained

জ্ঞানচিত্র14:48

Transcription

মস্কো বোধহয় এত বড় বিপদে আর কখনো করে নাই।

গভীর রাতে একটা বিস্ফোরণ। তাও আবার হাজার মাইল দূরে ইউক্রেনে। তাতেই একেবারে কাঁপিয়ে দিল সোভিয়েত সরকারের গদি। ব্যস্ত কেবিনেট। সবাই দফায় দফায় প্রেসিডেন্টের রুমে আসা যাওয়া করছে। অথচ যেখানে বিস্ফোরণ সেখানের সাধারণ বাসিন্দাদের কিছুই জানানো হয়নি। বাসিন্দারাও প্রথমে ভেবেছিল এটা কোন সাধারণ দুর্ঘটনা। কিন্তু এরপর এমন কি হলো যে 36 ঘন্টা পার না হওয়ার আগেই পুরো শহরকে খালি করে ফেলা হলো। যার প্রভাব পুরো ইউরোপের একটা বড় অংশে ছড়িয়ে পড়ল। প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষভাবে 35 লাখেরও বেশি মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হলো। চিরনবিল দুর্ঘটনাকে শুধু মানুষের মৃত্যু বা ক্ষতির হিসেবে নয় ধরা হয় পরিবেশ, স্বাস্থ্য, পারমাণবিক শক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের উদাহরণ হিসেবে। প্রায় 5 হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে এক রাতের ভেতর যার মাত্রা হিরোশিমা বোমার চেয়ে 400 গুণেরও বেশি। প্রায় 40 হাজার মানুষ গৃহহীন হয়। আর বাকিরা জ্ঞানচিত্রের আজকের ভিডিওতে চলুন জেনে নেয়া যাক আজকের পৃথিবীতে প্রিপিয়াত কেন ভুতুরের শহর বলে পরিচিত।

স্টেশন 1970 এর দশকে ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত একটা দেশ ছিল। সোভিয়েত সরকার বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য তখন বড় ধরনের উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করে। যার ফলাফল হিসেবে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলে প্রিপিয়াত নদীর তীরে চির্নোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এটি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েফ থেকে প্রায় 130 কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। চির্ণবিলের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। সোভিয়েত ইউনিয়ন বেসামরিক খাতের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে থাকে। এই কেন্দ্রে পারমাণবিক ফিউশন থেকে তাপ আর বিদ্যুৎ তৈরি করা হতো। যার অন্যতম উপাদান ছিল ইউরেনিয়াম 235। চেরনবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তখন ইউক্রেনের বড় একটা অংশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছিল। তবে অন্যরকম করেও ভাবেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কারো কারো মতে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নকারী দেশ হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। চেরনোবিল কেন্দ্র এই প্রযুক্তির ক্ষমতা আর উৎপাদন শক্তি প্রদর্শনের একটা উদাহরণ মাত্র। পাওয়ার গ্রিড ও বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্ক মজবুত করার জন্য চেরনোবিল কেন্দ্রে চারটি আরবিএম কে টাইপ পারমাণবিক চুল্লি বসানো হয়েছিল। একেকটা চুল্লি 1000 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। অর্থাৎ মোট 4000 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো একই সময়। এই আরবিএম কে চুল্লিগুলো ইউরেনিয়াম 235 ব্যবহার করে পারমাণবিক ফিউশন থেকে তাপ ও বিদ্যুৎ তৈরি করত। যদিও এই মডেলটা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। তবে এটাও ঠিক। চেরনোবিল কেন্দ্র 1977 সাল থেকে চালু হয়। আর 1986 সালের দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত এটি সফলভাবেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।

দুর্ঘটনার রাতেই কেবল বদলে যায় চেরনোবিলের ভাগ্য। 1986 সালের 26শে এপ্রিল রাতের শিফটে চেরনোবিলের চার নম্বর চুল্লিতে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। পরীক্ষাটা ছিল এরকম টারবাইন বন্ধ হয়ে গেলে চুল্লিটা কিভাবে শীতল করা হবে আর তাপ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থায় এই ধরনের পরীক্ষা মোটামুটি নিয়মিতই করা হয়।

কিন্তু চির্ণবিলের এই একটি এক্সপেরিমেন্ট সেদিন অভিশাপ বয়ে এনেছিল। কেন্দ্রের কর্মীরা টারবাইন বন্ধ করে রিএক্টর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করছিলেন। এই পরীক্ষার জন্য চুল্লির অনেকগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা সে সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল। যা সুস্পষ্ট সেফটি কোডের লঙ্ঘন। যেমন চুল্লির কন্ট্রোল রড নিয়ে ছেলে খেলা করা। মোট 211 টি কন্ট্রোল রড চার নম্বর চুল্লির রিএক্টরটি নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু সেই রাতে সেখান থেকে 206 টি রডকেই অপসারণ করা হয়। এই যে কন্ট্রোলের রডগুলো এগুলো কিন্তু সাধারণ রড নয়। এগুলো ছিল বোরনের তৈরি। যা দিয়ে রিএক্টরের বিক্রিয়াকে কমানো হতো। কিন্তু এই চির্ণবিলের রডের মাথায় আবার গ্রাফাইটও ছিল। এই গ্রাফাইট পরমাণুকে উল্টো অস্থির করে ফেলার ক্ষমতা রাখে। সেই কন্ট্রোল রড বের করে আবার চাপ দিয়ে ঢোকানোর সময় পরমাণুগুলো গ্রাফাইটের সংস্পর্শে আসে। এক্সপেরিমেন্টের জন্য পাওয়ার কমিয়ে একদম নিচে নামিয়ে ফেলা হয় প্রায় 30 মেগাওয়াট এর মত। তারপরে সেই পাওয়ার বাড়াতে গেলে অতিরিক্ত কন্ট্রোল রডগুলো তুলে ফেলায় রিএক্টরটি আর নিরাপদ থাকে না। কর্মীরা তাড়াহুড়ো করে টারবাইনকে গ্রিড থেকে আলাদা করে পানির প্রবাহ কমা করতে করতে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যায় স্টিম বেড়ে সাথে সাথে পাওয়ার বিস্ফোরণধর্মী হয়ে ওঠে। তখনই কর্মীদের আরেকটি ভুলে। চুল্লিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শীতল জল প্রবাহিত করে দেওয়া হয়। তাতে চুল্লির তাপমাত্রা আর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একেতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বন্ধ। আবারো চুল্লি অনুপযুক্ত অবস্থায় চালানো হচ্ছিল। যার ফলে এর ভেতর থেকে যে শক্তি নির্গমন হচ্ছিল তার পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে যায়। চুল্লির তাপমাত্রা ও চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। আর চুল্লি বিস্ফরিত হয়।

বিস্ফোরণের পর প্রথম কয়েক ঘন্টা সোভিয়েত প্রশাসন নিজেই পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেনি ঠিক কত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই প্রথমে এটিকে সাধারণ চুল্লি দুর্ঘটনা ভেবে গুরুত্ব দিলেন না। অবশ্য সোভিয়েত প্রশাসনিক ব্যবস্থা খুব জটিল ছিল সে সময়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি মস্কো কিয়েফ এই সব স্তরের মধ্যে বারবার অনুমতি লাগতো। এই যে আমলাতান্ত্রিক গড়িমসী আর ভেতরের এই দ্বিধাদ্বন্দ এর কারণেই জনগণকে সতর্ক করা আর সত্যি তথ্য দেওয়াটা কয়েকদিন পিছিয়ে যায়। প্রথম অবস্থাতেই তো দেশের জনগণ জানতোই না চেরনোবিলে কি হয়েছে। সোভিয়েত সরকার এক প্রকার সব তথ্য চেপে ধরে রেখেছিল। কারণ সে সময়কার সোভিয়েত শাসন ব্যবস্থায় গোপনীয়তা আর ভয়ের উপর অনেকটাই দাঁড়িয়ে। বড় দুর্ঘটনা আর ব্যর্থতা জনগণ ও বাইরের দুনিয়ার কাছে লুকিয়ে রাখা তাদের স্বাভাবিক প্রবণতা। 26 থেকে 27 এপ্রিলের মধ্যে সেনা ও বিশেষজ্ঞদের ছোট ছোট টিম পাঠিয়ে সেখানকার রেডিয়েশন ম্যাপে অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষকে তখনো কিছুই জানতে দেয়া হলো না। বিস্ফোরণের একদিন পর 27 এপ্রিল দুপুরে প্রিপিয়াত শহর থেকে প্রায় 49 থেকে 5 হাজার মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে বাসে করে সরকার সরিয়ে নিল। প্রথমে বলা হলো এটা কয়েকদিনের জন্য। কিন্তু সেই কয়েকদিন আর শেষ হলো না। দুর্ঘটনার পর এত বেশি রেডিয়েশন ছিল সে এলাকায় যে সরকার কাউকে একটা জিনিসও নিতে দেয়নি। পরে প্লান্টের চারপাশে প্রায় 30 কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটা এক্সক্লুশন জোন ঘোষণা করা হয়। এই এলাকায় বসবাস স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি সেই আদেশ বহাল আছে এখনো। কিন্তু ধর্মের কল্পতো বাতাসে নড়ে। আর চেরনোবিলে তখন রেডিয়েশন ছড়িয়েছে। এত এত সাবধানতা আর গোপনীয়তা। এরপরেও শেষ রক্ষা হয়নি সেই সোভিয়েত সরকারের।

চেরনোবিল দুর্ঘটনার দুইদিন পর। 1986 সালের 28শে এপ্রিল সুইডেনের আকাশে একমাত্রাতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়ে। সুইডেনের ফোর্সমার্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীরা ডেইলি রুটিন চেক করতে গেলে এই অস্বাভাবিক রেডিয়েশন দেখতে পায়। প্রথমে তারা ধারণা করে এটি সম্ভবত তাদের কেন্দ্র থেকেই হয়েছে। তাৎক্ষণিক তারা কর্তৃপক্ষকে জানায় ফোর্স মার্কের সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। তাহলে তাহলে এই রেডিয়েশনটা কোত থেকে এসেছে। অথরিটি চেক করে জানতে পারে এই রেডিয়েশনের উৎস চেরনোবেল। সাথে সাথে তলব করা হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের। সাথে সুইডেন অফিশিয়ালি মস্কোর কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে। সোভিয়েত সরকার প্রথমে তালবাহানা করলেও দুর্ঘটনার স্বীকারোক্তি দেয়। তবে পুরো ঘটনা বর্ণনা না করে। 28শে এপ্রিল 1986 সোভিয়েত রাষ্ট্রীয় টিভিতে ছোট্ট একটা সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি রিএক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞ কমিশন কাজ করছে। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন। রুশ সরকার কোথায় বিস্ফোরণ হয়েছে তা কিন্তু বলেনি। সাথে রেডিয়েশনের মাত্রা, মৃত্যু সংখ্যা বা দূষিত এলাকার আকার কিছুই নির্দিষ্ট করে না বলে এটাকে এমনভাবে ফ্রেম করে যেন এটি জাস্ট একটা টেকনিক্যাল সমস্যা যা তারা নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছে। কিন্তু সেইদিন বিশ্বের টনক নড়ে যায়। যুদ্ধ ছাড়াই একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ হয়ে গেছে ততক্ষণে। সারা বিশ্ব রুশ সরকারকে তীব্র নিন্দা জানায়। যদিও এসব কিছুই সোভিয়েতকে তাদের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে পারেনি।

যারা বাঁচিয়েছে এবার তাদের কথাই বলব। এই যে বড় দুর্ঘটনা এরপর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে বিপদ এখনো কাটেনি। কারণ রিএক্টরের নিচে এক বিশাল পরিমাণ পানি জমে গেছে। এমনিতে ইমারজেন্সি কুলিং সিস্টেমের জন্য পানি জমানো ছিল। তাতে ফায়ার ফাইটিং এর সময় আরো পানি জমে যায়। এবার বিজ্ঞানীরা আরো খেয়াল করলেন উপরে যে ধ্বংসপ্রাপ্ত কোর রয়েছে সেখান থেকে মোল্টেন কোর লাভা মত ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামছে। এই যে গলিত লাভা এটি যদি পানির সাথে সরাসরি রিএক্ট করে তাহলে সেখানে প্রচন্ড স্টিম বিস্ফোরণ হবে। তাতে উড়ে যাবে পারমাণবিক কেন্দ্রের আরো বড় একটি অংশ। প্রচুর রেডিওঅক্টিভ পদার্থ আবারো আকাশে উঠবে। এমনকি পরবর্তী কিছু বিশ্লেষণে বলা হয় যদি সেখানে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটতো তবে এর ভয়াবহতা ইউরোপের বড় একটি অংশকে বসবাসের অযোগ্য করে দিতে পারতো। তারা অনেক ভেবে চিনতে বের করল নিচের যে পানি জমে থাকা অংশ সেখান থেকে পানি ড্রেন করে দেয়া হবে। কিন্তু এই ছোট্ট সমাধানে একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। এই কাজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভাল খুলতে হবে। যা আছে জলের ভেতরে অন্ধকারে তীব্র রেডিয়েশন ওয়ালা এলাকায় মানে নিশ্চিত মৃত্যু আলেক্সি আনানেস্কো ভ্যালেরি বেসপালোভ আর বরিস বারানোভ এই তিনজনকে বলা হয়ে থাকে চেরনোবিলের সুইসাইড স্কোয়াড তারা কেউ আর্মি বা বিজ্ঞানী ছিলেন না তারা ছিলেন পারমাণবিক কেন্দ্রের সাধারণ কর্মচারী যদিও সরকার বলেছিল এই কাজের জন্য তাদের পরিবারের দায়িত্ব সরকার নেবে। কিন্তু তারা কোন সম্মান বা পুরস্কারের লোভ করেননি। ভেতরে দেশপ্রেম থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই এগিয়ে এলেন এই মারাত্মক বিপদজনক কাজে। তারা তিনজন সুট মাস্ক পড়ে আলো নিয়ে প্লান্টির নিচে ডুবে যাওয়া টানেলে নামে। প্রায় কোমর সমান পানির ভেতরে পাইপ আর ভাল্বভ খুঁজে বের করে। সঠিক ভাল্ভ পেয়ে সেই গেট খুলে দেয়া হলো যাতে পানিটা ড্রেন দিয়ে বের হয়ে যায়। এতে গলিত কোর সরাসরি পানির স্তরের উপর পড়ে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। তবে এই তিনজনের পাশাপাশি যাদের কথা ইতিহাস প্রায় ভুলেই গেছে তারা হল লিকুইডেটর। লিকুইডেটররাও এই সুইসাইড স্কোয়াডেরই অংশ ছিল। লাখ লাখ মানুষ। যারা সৈনিক, ফায়ারফাইটার, ড্রাইভার, অপারেটর, শ্রমিক। তারা রেডিয়েশনের ঝুঁকিতে কাজ করেছে। পরিচ্ছন্ন করেছে এই চেরনোবেল। আর এই তিনজন তাদের মধ্য থেকেই প্রতীকী উদাহরণ হয়ে আছে।

বর্তমানে চেরনোবিল এখনো বসবাসের অযোগ্য। 1986 সালের বিস্ফোরণের পর রিএক্টর ফোর এর কোর পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। ভেতরের সেই জ্বালানি, গলে যাওয়া ধাতু আর গ্রাফাইট সবকিছুই খোলা আকাশের নিচে ছিল। এর থেকে ক্রমাগত রেডিওঅক্টিভ গ্যাস আর ধুলকণ বাতাসে ছড়িয়ে যাচ্ছিল। তাই মস্কো জরুরি ভিত্তিতে এই ধ্বংসস্তূপটাকে একটা বিশাল কংক্রিট আর ইস্পাতের খোলস দিয়ে ঢেকে ফেলে। যাতে রেডিওঅক্টিভ ধুলো আর ছড়াতে না পারে। বৃষ্টি, হাওয়া ভেতরে কম ঢোকে। এই কাঠামোটাকে পরে বলা হয় সার্কোফেগাস। যার মানে দ্বারায় কবরের অলংকার বা কফেন। এখন আবার নতুন করে আরেকটা ইস্পাতের কাঠামো দিয়ে ঢাকা আছে জায়গাটি। যা নিরাপত্তা দেবে আরো 100 বছর।

চেরনোবিলের ঘটনাই আমাদেরকে জানিয়ে দেয় পারমাণবিক শক্তি শুধু আমাদের বন্ধু নয় মাঝে মাঝে ভীষণ শত্রু হয়ে যায়। হিরোশিমা, নাগাসাকি এরপর চেরনোবেল। ইতিহাসে এই বিপর্যয়গুলো সবসময় জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। দর্শক ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক এবং সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। কমেন্টে জানাবেন আপনার মূল্যবান মতামত। আগামী ভিডিওতে দেখা হচ্ছে। তার আগ পর্যন্ত ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।