Transcription
সূরা আল কদরের এক নাম্বার আয়াত। আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ইন্না আনজালনাহু ফি লাইলাতুল কদর। আমি একে নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। শাবে কদরে।
স এখানে আমরা দেখি আল্লাহ সুবহানা তায়ালা সূরা আল কদরে শুরু করেছেন ইন্না আনজালনা এই দুইটা শব্দ দিয়ে। যদিও এখানে দুইটা শব্দ আমি বলেছি। কিন্তু আমরা যখন ইন্না শব্দটা পড়বো তখনই দেখি যে এখানে আসলে দুইটা শব্দ অলরেডি এই একটা শব্দের মধ্যেই চলে এসেছে। ইন্না ইন্না শব্দটার অর্থ হচ্ছে নিশ্চিতভাবে যেখানে কোন ধরনের সন্দেহ নেই। এবং তখন যখন এটার সাথে আবার নুন আলিফ যুক্ত হয়েছে তার মানে হচ্ছে ইন্না এখানে আমরা শব্দটা চলে এসেছে।
স আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে আনজালনা শব্দটার মধ্যেও নুন আলিফ এসেছে সেখানেও আমরা শব্দটা নিয়ে এসেছেন। সো এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কথা শুরু করেছেন নিশ্চিতভাবে সমস্ত সন্দেহের অবসান ঘটিয়ে তিনি আমাদেরকে বলছেন যে আমরা আমরা নাযিল করেছি। আনজালনা এখানে আনজালা শব্দের অর্থ হচ্ছে সেন্ট ডাউন। কোন কিছু উপর থেকে নিচে যখন চলে আসে তখন সেটাকে আনজালা বলা হয়ে থাকে। আনজালনাহু হু বলতে ইট মানে হচ্ছে এটা।
তো এখানে খুব ইন্টারেস্টিং কিছু জিনিস রয়েছে যেটা আমরা দেখি যে প্রথমে ইন্না আনজালনা এর মধ্যে আমরা দেখি দুইবার আমরা শব্দটা বলা হয়েছে নিশ্চিতভাবে আমরা নাযিল করেছি এবং তারপরে আনজালা শব্দটা বলা হয়েছে। এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যখন আমরা শব্দ ব্যবহার করেন তখন সেটার একটা বিশেষত্ব রয়ে রয়েছে। এ আমরা দিয়ে আসলে আল্লাহ সুবহানা তায়ালার যে বিরাটত্ব সেই বিরাটত্বকে এখানে প্রকাশ করা হয়। এটাকে রয়েল উই বলা হয়ে থাকে। যে রাজাধিরাজরা যেভাবে নিজেদেরকে প্রকাশ করেন আল্লাহ হচ্ছেন সমস্ত রাজার উপরে রাজা এবং তিনি হচ্ছেন এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের মালিক এবং তিনি হচ্ছেন তাকে এমনভাবে প্রকাশ করছেন যে তিনি ওই আমরা বলছেন এখানে।
সো এই যে এখানে আমরা বলার এর মাধ্যমে আসলে আল্লাহ সুবহানা তায়ালার যেই রয়ালটি তার যে স্পেশাল পাওয়ার রয়েছে সেই জিনিসটাই এখানে প্রকাশ পাচ্ছে এবং এর মানে এটা না যে আল্লাহ সুবহানা তাআলার এই সৃষ্টি করার জন্য বা এই কাজগুলো করার জন্য মাল্টিপল শক্তির প্রয়োজন রয়েছে। বরং আমরা যখন নিজেদের আভিজাত্যকে প্রকাশ করতে চাই তখন আমরা শব্দটা ব্যবহার করি তেমনিভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার সে আভিজাত্যকে প্রকাশ করার জন্য আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে আমরা বলেছেন।
সো এখানে এই আমরা শব্দটা দুইবার ব্যবহার করার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সে অথরিটি সেই সর্বময় ক্ষমতার কথা আমরা দেখি যে বারবার আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সামনে নিয়ে এসেছেন যে এই কাজটা করার ক্ষমতা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ছাড়া আর কারো নাই এবং এই আল্লাহ সৃষ্টি এবং নাযিলের দিক থেকে তিনি যে কত বিশাল এবং বিরাট সেটা অনুধাবন করা এর মাধ্যমে আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়।
তারপরে আমরা দেখি এখানে বলা হয়েছে আনজালনা আনজালা শব্দের অর্থ হচ্ছে সেন্ট ডাউন। কোন জিনিসকে পাঠানো। এখানে আমরা দেখি যে কোথাও আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআন পাঠানোর ক্ষেত্রে বলেছেন নাজালা। আবার কোথাও তিনি বলেছেন আনজালা। তো এটাও একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার। এজন্য সেটা হচ্ছে যে যখন আনজাজেলা বলা হয় তখন বুঝানো হয় যে একবারে নাযিল করা হয়েছে। আর যে জায়গায় নাজ্জালা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে বুঝানো হয় যে ওভারটাইম ধীরে ধীরে একটু একটু করে নাযিল করা হয়েছে।
তো আমরা জানি যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই কোরআনকে যখন কোরআনকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা লিখে সংরক্ষণ করে রেখেছেন লাওহে মাহফুজে। যেটা আমরা সূরা আল বুরুজের মধ্যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যেই কোরআন মাজিদ হচ্ছে সুন্দরভাবে সংরক্ষিত আজকে লওহে মাহফুজে এটা এমন একটা জায়গা এটা একটা প্রিজার্ভড ট্যাবলেট যেখানে হচ্ছে কারো কোন অধিকার নাই এটাতে হস্তক্ষেপ করার যে এটা হচ্ছে সবদিক থেকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সেই করে রেখেছেন যেটার বিকৃত হবার কোন চান্স নাই এটাতে কোন পরিবর্তন আনার কোন সুযোগ কারো নেই।
সো তো এখানে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলছেন যে আনজালা সো এখান থেকে তাফসীকারগণ বলেছেন যে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনকে যে লিখে রেখেছেন এবং তারপরে সেই কোরআনকে এই লাওহে মাহফুজে যেটা হচ্ছে লোয়েস্ট হেবেন সেখানে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা পৌঁছে দিয়েছেন লাইলাতুল কদরে যে পুরো একটা কোরআনে নিম্নতম আসমানে এসে অবস্থান করছে লাওহে মাহফুজের মধ্যে যেন লাওহে মাহফুজ থেকে নিম্নতম আসমানে যেখান থেকে পরবর্তীতে 23 বছর ধরে ফেরেশতারা হচ্ছে একটু একটু করে জিব্রাইল আলাইহি সালাম হচ্ছে একটু একটু করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর কাছে এই কোরআনকে নিয়ে এসেছেন।
ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহ আলাইহে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে কোরআন হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের উপর 23 বছর ধরে নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ এটা একবারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লামের কাছে আসে নাই। কিন্তু যখন আমরা এই আনজালা শব্দটা দেখি তখন আমরা বুঝতে পারি যে এটা হচ্ছে আল্লাহর লাওহে মাহফুজ থেকে লোয়েস্ট হেভেনে চলে আসার যে প্রসেসটা সেটা এখানে বলা হয়েছে যে পুরো কোরআনটাই তখন একবারে আল্লাহ সুবহানা তাআলার বাইতুল ইজ্জা লোয়েস্ট হেভেনে যে বাইতুল ইজ্জা রয়েছে সেখানে এসেছে এবং সেখান থেকে গ্রেজুয়েলি হচ্ছে এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু সাললামের কাছে এসেছে যখন এই গ্রেজুয়াল প্রসেসটা বলা হয় তখন সেখানে নাজজালা শব্দটা ব্যবহার হার করা হয়েছে।
এখানে আরেকটি জিনিস যেটা আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে নাহনু অর্থাৎ আমরা শব্দটা ব্যবহার করেছেন এবং যখনই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নাহনু অথবা আমরা বলেন তখনই দেখা যায় যে রব শব্দটা এর মধ্যে চলে আসে। যে আল্লাহ অথবা রব শব্দটা সেখানে চলে আসে এবং এই শব্দগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানা তাআলার যেই বিশাল বিরাটত্ব সেটা আমরা দেখতে পাই যে কোরআনের দুইটা জায়গায় শুধুমাত্র আনা অর্থাৎ আমি বলে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন এবং যখন আনা বা আমি শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে স্পেসিফিকালি সেই শব্দটা তখনই ব্যবহার করা হয়েছে যখন আল্লাহ এক্সট্রেমলি অং্রি অথবা আল্লাহ সুবহানাতায়ালা যখন এক্সট্রেমলি মারসিফুল সেই সময়টা অর্থাৎ চূড়ান্ত অবস্থা বুঝানোর জন্য রাগ অথবা রহমতের সেই সময় আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আনা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু অন্য সম বাকি সময়গুলোতে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার ম্যাজিস্টিক স্পিচে তার ইমোশন যখন প্রকাশ পেয়েছে সেখানে তিনি নাহনু বলেছেন।
সো সেখানে আমরা দেখি যে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা এই নাহনু শব্দটি দিয়ে আল্লাহ সুবহানাতায়ালার জেনারেল যে অনুভূতি সেই অনুভূতিটা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি। এখানে আইনা আনজালনাহু নিশ্চয়ই আমরা একে নাযিল করেছি। এ বলতে হু বলতে এখানে কি বুঝানো হয়েছে? তো তখনই আসলে আমরা এ ধরনের প্রোনাউন বা সর্বনাম ব্যবহার করি। যখন জিনিসটা হচ্ছে একদম অবভিয়াস। একদম স্পষ্ট সবার কাছে কি সম্পর্কে বলা হয়েছে। এখান থেকে আমরা দেখি যে কোরআন হচ্ছে তখন টক অফ দা টাউন। যে সবার মুখে মুখে তখন কোরআনের কথা। এ কথা কিভাবে মোহাম্মদ পেল? মোহাম্মদ কার কাছ থেকে এই জিনিসগুলো শিখলো। সে কি নিজে নিজে এগুলো বানিয়ে বলছে? নাকি সে কবিতা লিখছে। এত বছর ধরে তো আমরা দেখি নাই যে সে এ ধরনের কাজ করেছে। তাহলে আজকে কিভাবে সে এগুলো বানাচ্ছে এবং এই কোরআনের কথাগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য তখন তারা উঠে পড়ে লেগেছে। অর্থাৎ সেই সময় তাদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ একটা কথাই চলছিল সে কথাটা হচ্ছে কোরআন এবং সে কারণে আল্লাহ সুবহানা তাআলা জানেন যে তারা এই নিয়ে আলাপ করছে এটাই তাদের মাথা ব্যথার বিষয় এটাই তাদের চিন্তার বিষয় এবং সেটাই আমরা এখানে দেখতে পাই এ আলোচনার মধ্যে যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আনজালনাহু বলে স্পেসিফিকালি কোরআনের কথা এখানে বুঝিয়েছেন এবং এর আগের সূরায় আমরা দেখি সূরা আল আলাকে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআন নাযিলের সময় কোরআন নাজিল কিভাবে হয়েছিল সেটা বলেছেন।
স সেটার পরস্পর অনুযায়ীও এখানে আমরা দেখতে পাই যে আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখনো সেই কোরআনের কথাই বলে যাচ্ছেন। এভাবে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সুরটা শুরুই করেছেন সুন্দরভাবে এমনভাবে যে যেই শুনবে তার মাঝে একটা চমক সৃষ্টি হবে। সেই শোনার জন্য আগ্রহী হয়ে যাবে। কেন এভাবে এত গুরুত্ব দিয়ে বলা হচ্ছে জিনিসটা? কেন? কোরআনের কথা কি বলছে? কি কথা আসছে এখানে? এবং এ ব্যাপারে আমরা দেখি যে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহ আনহু বলেছেন যে আল্লাহ কোরআনকে একবারেই হচ্ছে লাওহে মাহফুজ থেকে বায়তুল ইজ্জতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যেটা হচ্ছে পৃথিবীর কাছ থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী আসমান সেখানে। তারপরে সেটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর কাছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে 23 বছর ধরে নাযিল হয়েছে এবং এই লাইলাতুল কদর বলতে এই একবারে নাযিল হওয়ার কথাটাকেই এখানে বুঝানো হয়েছে।
স এরপরেই হচ্ছে তিনি এই সূরা আল কদরের কথা এখানে বর্ণনা করেছেন। তো আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে খুব সুন্দরভাবে আমাদের সামনে কোরআনের যে জার্নি সেই জার্নিটাকে এখানে তুলে ধরেছেন যে কাফেররা যে কমপ্লেন করতো বা প্রশ্ন করতো যে কোরআন কেন একবারে আসে নাই। তো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এখানে হচ্ছে আমাদেরকে জবাব দিচ্ছেন যে এরা একবারেই হচ্ছে লাহু মাহফুজ থেকে বাইতুল ইজ্জাতে এসেছে। কিন্তু তারপর আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ধাপে ধাপে কোরআনকে আমাদের কাছে দিয়েছেন যেন আমরা এ কোরআনকে সঠিকভাবে বুঝতে পারি। একেকটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যখন কোরআন নাযিল হয়েছে তখন আমরা এটার যে নেসেসিটি এটা কোন পরিপ্রেক্ষিতে কিভাবে কি জন্য এই আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে সেটা যখন আমরা বুঝতে পারি তখন কোরআনের যে শিক্ষা সে শিক্ষাকে আমরা আরো ভালোভাবে বুঝতে পারি।
সো এজন্য আমরা দেখি যে কোরআন আসলে একবারে পড়ে বুঝে যাওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব না। গত 1400 বছর ধরে এই কোরআনের উপরে রিসার্চ চলছে এখনো চলছে এবং এই কোরআন থেকে নতুন নতুন তথ্য মানুষ নিয়ে আসছে। যদিও কোরআন রয়ে গিয়েছে অপরিবর্তিত। সো আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কোরআনকে আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছেন ধীরে ধীরে একটু একটু করে আমরা যাতে কোরআন নিয়ে স্টাডি করি। কোরআন নিয়ে বুঝে এবং সেটাকে অনুধাবন করার জন্য আমরা চেষ্টা করি।